প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নেতৃত্বে আমরা অতীতের সেই ব্যর্থ নীতিগুলো থেকে সরে আসছি, যেগুলো অসামঞ্জস্যপূর্ণ বাণিজ্য সম্পর্ককে চলতে দিয়েছিল। যা অন্যায্য মুনাফা লাভ এবং অস্বচ্ছ বাজারকে উৎসাহিত করেছিল; এবং বর্তমানে এমন একটি মডেলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি, যা আমাদের দুই দেশের জনগণের জন্য সুফল বয়ে আনবে।
এমন একটি নীতি, যা অনুদানের চেয়ে বাণিজ্যকে, সহায়তার চেয়ে বিনিয়োগকে এবং এমন এক প্রকৃত অংশীদারত্বকে গুরুত্ব দেয়, যা আমাদের দুই দেশের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করে।
সেক্রেটারি অব স্টেট মার্কো রুবিও যেমন বলেছেন, আমরা সহায়তানির্ভর ধারা থেকে বিনিয়োগনির্ভর কৌশলের দিকে রূপান্তরিত হচ্ছি।
এ পদ্ধতির ভিত্তি হলো এমন উপলব্ধি যে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আসে এমন অংশীদারত্ব থেকে, যা ভালো চর্চাকে উৎসাহিত করে এবং সবার জন্য সুফল বয়ে আনে এমন বাণিজ্যিক সুযোগ তৈরি করে।
যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ বাণিজ্যের বিপুল সম্ভাবনা
এ মুহূর্তটি বাংলাদেশের জন্য এক অসাধারণ সুযোগ। ১৭ কোটিরও বেশি জনসংখ্যা, এ অঞ্চলের অন্যতম গতিশীল ও তরুণ কর্মশক্তি এবং দক্ষিণ এশিয়ায় কৌশলগত অবস্থানের কারণে বাংলাদেশের একবিংশ শতাব্দীতে একটি প্রধান উৎপাদন কেন্দ্র হয়ে ওঠার বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ সম্প্রতি পারস্পরিক বাণিজ্য সম্পর্কিত একটি চুক্তি সম্পন্ন করেছে, যাকে আমরা এগ্রিমেন্টস অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড বা ‘এআরটি’ বলি, এটি যদি পুরোপুরি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হয়, তবে শুধু আমাদের দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যই নয়, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকেও নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে।
এআরটি একটি চমৎকার চুক্তি, যা প্রতিযোগিতামূলক ১৯ শতাংশ শুল্কের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের প্রবেশাধিকার বজায় রাখে—চুক্তি না থাকলে যা ৩৫ শতাংশ হতো। একই সঙ্গে আমাদের বাণিজ্যে ভারসাম্য আনতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি উৎসাহিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশের শুল্ক ও অশুল্ক বাণিজ্য বাধায় পরিবর্তন আনে। আসলে এটি খুবই যুক্তিসংগত একটি পদক্ষেপ।
যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রফতানি করে, তারা যদি পরে প্রধানত অন্য দেশ থেকে আমদানি করে—যার ফলে বিশাল ও দীর্ঘস্থায়ী বাণিজ্য ঘাটতি তৈরি হয় এবং যে বাজারের ওপর তারা নির্ভর করে, সেই বাজারকেই দুর্বল করে তোলে—তাহলে স্থায়ী অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন সম্ভব নয়।
আপনি যদি আমাদের কাছে বিক্রি করতে চান, তাহলে আমাদের কাছ থেকে কেনারও চেষ্টা করতে হবে। অন্ততপক্ষে, আমাদের রফতানির ওপর ১৫০ শতাংশ পর্যন্ত মোট করভার আরোপের পাশাপাশি আমাদের গমের ওপর রেডিয়েশন পরীক্ষা এবং আমরা যে কীটনাশক ব্যবহার করি না তার পরীক্ষা—এ ধরনের অপ্রচলিত, এমনকি অযৌক্তিক অশুল্ক বাণিজ্য বাধা ও বিপুল শুল্ক আরোপ করা উচিত নয়।
বাংলাদেশ সাধারণভাবে যুক্তরাষ্ট্রের রফতানিপণ্যের জন্য আরো সহায়ক পরিবেশ তৈরি করার পাশাপাশি যেসব সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিতে অঙ্গীকার করেছে, সেগুলো আমি তুলে ধরছি: বাংলাদেশ ৩৫০ কোটি ডলারের যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিপণ্য—গম, সয়াবিন, তুলা ও ভুট্টা—ক্রয়ের অঙ্গীকার করেছে।
এগুলো যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চমানের পণ্য। বাংলাদেশ সরকার এবং বেসরকারি ক্রেতারা আমাদের আশ্বস্ত করেছেন যে এগুলোর মান অত্যন্ত উৎকৃষ্ট, যা এগুলোকে উচ্চ মূল্যসম্পন্ন ক্রয় হিসেবে বিবেচিত করে। সংবাদমাধ্যম ও বিশ্লেষকরা প্রায়ই দামের দিকে মনোযোগ দেন, কিন্তু বিশেষজ্ঞরা মান ও প্রোটিনের মাত্রার মতো বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেন। আপনি যে মানের জন্য অর্থ দেন, সেই মানই পান।
খাদ্য মন্ত্রণালয় অন্যান্য দেশ থেকে যে গম কিনেছিল, তার নষ্ট হওয়ার হার ছিল ২০ শতাংশ পর্যন্ত, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গমের ক্ষেত্রে নষ্ট হওয়ার হার মাত্র ২.৫ শতাংশ। প্রোটিনের পরিমাণ ১১.৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। আমি এটাকেই উচ্চ মূল্য বলি এবং আমি গর্বিত যে এ চুক্তির ফলে বাংলাদেশীরা যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ মানের কৃষিপণ্য উপভোগ করতে পারবেন।
এ চুক্তির আওতায় আগামী ১৫ বছরে বাংলাদেশ ১৫ বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি পণ্য ক্রয়েরও অঙ্গীকার করেছে, যা যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলপিজি আমদানির বর্তমান হার অব্যাহত রাখলেই পূরণ হয়ে যাবে।
বিশ্বে জ্বালানির অন্যতম বৃহৎ ও নির্ভরযোগ্য সরবরাহকারী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা বিবেচনায় এটি এমন একটি অঙ্গীকার বলে মনে হয় যা বাজারের স্বাভাবিক গতিশীলতার কারণেই সম্ভবত ছাড়িয়ে যাবে। একই সঙ্গে এটি বাংলাদেশজুড়ে জ্বালানির প্রাপ্যতা উন্নত করবে।
এগুলো কোনো সহায়তা প্যাকেজ নয়; এগুলো বাণিজ্যিক চুক্তি, যা আমাদের উভয় দেশে কর্মসংস্থান ও সুযোগ সৃষ্টি করে।
সরাসরি বাণিজ্যিক সুফলের বাইরে—যেমন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রফতানিপণ্যের জন্য কম শুল্ক এবং বাংলাদেশের বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের রফতানিপণ্যের আরো ভালো প্রবেশাধিকার—এসব সরাসরি ক্রয়চুক্তির পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকার এআরটিতে ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নত করারও অঙ্গীকার করেছে। এসব অঙ্গীকারকে বাংলাদেশের প্রত্যেক ব্যবসায়ী, রাজনীতিক ও ভোক্তার স্বাগত জানানো উচিত।
এটি বাংলাদেশের সম্ভাবনা উন্মোচনের বিষয়।
এটি কোনো গোপন কথা নয় যে বাংলাদেশে ব্যবসা করা দীর্ঘদিন ধরেই বেশ কঠিন। আপনারা প্রতিদিনই এ বাস্তবতার মুখোমুখি হন। আর আমি শুধু যুক্তরাষ্ট্রের বা বিদেশী কোম্পানির কথা বলছি না। স্থানীয় কোম্পানিগুলোও দীর্ঘদিন ধরে এআরটিতে উল্লিখিত সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছে। এআরটি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দাবির কোনো তালিকা নয়। এটি বাংলাদেশের ভবিষ্যতের প্রতি একটি যৌথ অঙ্গীকার। যুক্তরাষ্ট্র এ দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী এবং এআরটি আমাদের উভয় দেশের জন্য এক অসাধারণ ভবিষ্যতের রূপরেখা তুলে ধরে।
সফলতার জন্য যা প্রয়োজন: একসঙ্গে কাজ করা
এখন বাংলাদেশের পূর্ণ সম্ভাবনা উন্মোচন করতে এবং যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোকে দেখাতে যে বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য প্রস্তুত—আমাদের একসঙ্গে কোন বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করতে হবে, সে বিষয়ে আমি খোলাখুলি বলতে চাই।
প্রথম: পূর্বানুমানযোগ্যতা এবং চুক্তির নিশ্চয়তা
সফল বাণিজ্যিক সম্পর্কের ভিত্তি হলো আস্থা, আর আস্থার জন্য চুক্তির প্রতি সম্মান দেখানো জরুরি। যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর এ আস্থা থাকা দরকার যে বাংলাদেশের কোম্পানি ও সরকারের সঙ্গে করা চুক্তিগুলোকে সম্মান করা হবে এবং ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। চুক্তি রক্ষা করা হলে বিনিয়োগ আসে। আর তা না হলে বিনিয়োগকারীরা অন্যত্র সুযোগ খোঁজেন। বাংলাদেশে আস্থা ও ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নত করতে এটি এমন একটি বিষয়, যা নিয়ে আমরা একসঙ্গে কাজ করতে পারি।
দ্বিতীয়: স্থিতিশীল এবং স্বচ্ছ নীতিগত পরিবেশ
বিনিয়োগকারীদের পূর্বানুমেয়তা দরকার। আজ যে নিয়ম কার্যকর আছে, আগামীকালও সেই নিয়মই কার্যকর থাকবে—এ আস্থা তাদের থাকা প্রয়োজন। তারা অন্যায্য করভার কিংবা পুঁজি ও ডেটা চলাচলে বাধার মুখে পড়তে পারেন না। আমাদের বাণিজ্য চুক্তিতে বাংলাদেশ স্বচ্ছ, বৈষম্যহীন আমদানি লাইসেন্সিং ও নিয়ন্ত্রক চর্চা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেছে। বাংলাদেশ যে পদক্ষেপগুলো নিচ্ছে, তা আমাকে উৎসাহিত করছে এবং এ অগ্রগতি অব্যাহত রাখতে আমি সহায়তা করতে চাই।
তৃতীয়: ব্যবসায়িক চর্চার আধুনিকীকরণ
আমি খোলাখুলি বলছি: কিছু ব্যবসায়িক চর্চা—যেমন অনানুষ্ঠানিক ব্যবস্থা ও অস্বচ্ছ প্রক্রিয়া—বড় পরিসরের যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগের পথে বাধা তৈরি করে, যা সত্যিকার অর্থে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে রূপান্তরিত করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলো কঠোর কমপ্লায়েন্স বা নিয়ম-অনুবর্তিতার শর্তের অধীনে কাজ করে। তাদের স্বচ্ছ ক্রয়প্রক্রিয়া, সুস্পষ্ট নিয়ন্ত্রক কাঠামো এবং সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করে এমন ব্যবসায়িক পরিবেশ দরকার। এর অর্থ হলো:
ব্যবসা নিবন্ধন এবং লাইসেন্সিং সহজতর করা;
কাস্টমস প্রক্রিয়াগুলো ডিজিটালাইজ করা;
নিয়ন্ত্রক সিদ্ধান্তগুলো যেন বস্তুনিষ্ঠ মানদণ্ডের ভিত্তিতে হয়, তা নিশ্চিত করা;
মেধাস্বত্ব অধিকার সুরক্ষা করা;
আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণ করে এমন শ্রম ও পরিবেশগত মান প্রয়োগ করা।
আমাদের চুক্তি বাংলাদেশকে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ করে, যার মধ্যে রয়েছে জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধ করা এবং শ্রম আইন প্রয়োগ শক্তিশালী করা।
এগুলো শুধু যুক্তরাষ্ট্রের দাবি নয়; এগুলো এমন মানদণ্ড, যা বাংলাদেশকে বৈশ্বিক পর্যায়ে আরো প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে।
যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে আজ এখানে উপস্থিত দূতাবাস দল সঙ্গে নিয়ে, আমি যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ বাণিজ্যের প্রকৃত সম্ভাবনা উন্মোচনে এসব সংস্কার বাস্তবায়নে আপনাদের সঙ্গে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
কেন আমেরিকার সঙ্গে অংশীদারত্ব করবেন
বাংলাদেশের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দীর্ঘমেয়াদে সেরা বাণিজ্যিক অংশীদার করে তোলে কোন বিষয়গুলো—তা আমি সরাসরি বলতে চাই।
প্রথমত, আমরা স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতায় বিশ্বাস করি।
যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলো আইনের শাসনের অধীনে, সুস্পষ্ট চুক্তি এবং পূর্বানুমেয় ব্যবসায়িক চর্চা মেনে পরিচালিত হয়। আমরা পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা প্রকৃত অংশীদারত্বের প্রস্তাব দিই—গোপন সমঝোতা, বাস্তব ব্যবসায়িক ভিত্তিহীন প্রকল্প, অকার্যকর ব্যয়বহুল প্রকল্প বা ঋণ-ফাঁদের কূটনীতি নয়। আমরা আমাদের প্রকল্পগুলোর যথাযথ যাচাই-বাছাই করি এবং বাংলাদেশকে এমন কোনো বিলিয়ন ডলারের সুড়ঙ্গ প্রকল্পের দায়ে ফেলে রাখি না, যার বাস্তব কোনো গন্তব্য বা সুফল নেই।
দ্বিতীয়ত, আমরা অত্যাধুনিক প্রযুক্তি নিয়ে আসি।
উন্নত উৎপাদন থেকে ডিজিটাল অবকাঠামো পর্যন্ত, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পর্যন্ত, আমেরিকান কোম্পানিগুলো বৈশ্বিকভাবে উদ্ভাবনের অগ্রভাগে রয়েছে।
তৃতীয়ত, আমরা সক্ষমতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিই।
আমেরিকান বিনিয়োগ শুধু স্থাপনা নির্মাণ করে না; এটি কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেয়, দক্ষতা হস্তান্তর করে, এবং টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে, যা পরিবার ও জনগোষ্ঠীকে উন্নত করে। বাংলাদেশে আমেরিকান কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধি হিসেবে, আপনারা এটি অন্য যে কারো চেয়ে ভালো জানেন।
এখন আসুন সুযোগগুলো নিয়ে কথা বলি। আজ আমি কয়েকটি খাতের ওপর মনোযোগ দিতে চাই।
জ্বালানি: ভবিষ্যতের জন্য বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সক্ষমতা গড়ে তোলা
প্রথমত, জ্বালানি।
বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে শক্তি দিতে জ্বালানি খাতে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ প্রয়োজন—২০৫০ সালের মধ্যে আনুমানিক ১৮০ বিলিয়ন ডলার।
আমেরিকান জ্বালানি কোম্পানিগুলো এরই মধ্যে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অংশীদার। শেভরন বাংলাদেশের প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের অর্ধেক প্রদান করে—এবং আরো উৎপাদন করতে প্রস্তুত।
এক্সিলারেট এনার্জি এলএনজির মাধ্যমে অতিরিক্ত এক-তৃতীয়াংশ আমদানির সুবিধা করে দেয়—এবং আরো আনতে চায়।
আর জিই ভারনোভা কম্বাইন্ড-সাইকেল গ্যাস টারবাইন বাজারে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। জিই ভারনোভাসহ যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য কোম্পানি বিদ্যুৎ গ্রিড আধুনিকায়নসহ আরো জ্বালানি অবকাঠামো গড়ে তুলতে প্রস্তুত।
একসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এ কোম্পানিগুলো এরই মধ্যে বাংলাদেশের অর্ধেকেরও বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। কিন্তু আমরা একসঙ্গে আরো অনেক কিছু করতে পারি।
আমার দল বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে, যাতে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি কোম্পানিগুলোর সঙ্গে ব্যবসা করার জন্য উদ্ভাবনী ও নমনীয় ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারে। একই সঙ্গে বাংলাদেশে বিদ্যমান সুযোগ এবং জ্বালানির জরুরি প্রয়োজন সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর মধ্যে সচেতনতা বাড়াতেও আমরা সহায়তা করেছি। আমরা এরই মধ্যে ঘাটতি পূরণে সহায়তা করতে সক্ষম হয়েছি, যার মধ্যে এলপিজির উল্লেখযোগ্য নতুন আমদানিও রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র এখন বিশ্বের বৃহত্তম তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস রফতানিকারক এবং আমরা বাংলাদেশকে তার জ্বালানি উৎস আরো বৈচিত্র্যময় করতে, নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী জ্বালানি অবকাঠামো গড়ে তুলতে এবং উন্নত পারমাণবিক শক্তিসহ সব ধরনের জ্বালানিতে আমেরিকার অতুলনীয় প্রযুক্তি ও দক্ষতা প্রদান করতে সহায়তা করার জন্য প্রস্তুত।
যুক্তরাষ্ট্র আজকের জ্বালানি চাহিদা পূরণে বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারত্ব করছে এবং আগামী বহু বছর ধরে জ্বালানি নিরাপত্তা গড়ে তুলতে এবং বাংলাদেশের শিল্পভিত্তিক ভবিষ্যৎকে শক্তি জোগাতে সহায়তা করার জন্য আমরা প্রস্তুত।
প্রযুক্তি: বাংলাদেশকে বৈশ্বিক সুযোগের সঙ্গে সংযুক্ত করা
দ্বিতীয়ত, প্রযুক্তি।
১০ কোটিরও বেশি ইন্টারনেট ব্যবহারকারী, ১৬ কোটি মোবাইল ফোন গ্রাহক এবং সারা দেশে হাই-টেক পার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়ে, বাংলাদেশের ডিজিটাল অবকাঠামো ব্যাপকভাবে সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন।
এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর সঙ্গে বাস্তব সহযোগিতার সুযোগ তৈরি করে—যারা এ খাতে বৈশ্বিকভাবে নেতৃত্বস্থানীয়।
স্টারলিংক, গুগল পে, ওরাকল, মাইক্রোসফট এবং অগমেডিক্সের মতো যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো এরই মধ্যে বাংলাদেশে সেবা চালু করা শুরু করেছে।
বাংলাদেশের গ্রামীণ এলাকাগুলোকে বৈশ্বিক বাজারের সঙ্গে যুক্ত করতে, ই-কমার্সকে সক্ষম করতে এবং আপনাদের প্রযুক্তি স্টার্টআপ ও উদ্ভাবকদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করতে আমরা একসঙ্গে কাজ করতে পারি—বিশ্বস্ত ডিজিটাল অবকাঠামো গড়ে তোলার মাধ্যমে। এর ফলে আধুনিক অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং আপনাদের তরুণদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে সহায়ক উচ্চ আয়ের কর্মসংস্থান তৈরি হবে।
সঠিক অবকাঠামো এবং নিয়ন্ত্রক পরিবেশ থাকলে বাংলাদেশী উদ্যোক্তারা বৈশ্বিকভাবে প্রতিযোগিতা করতে পারেন, উচ্চ মূল্যের চাকরি সৃষ্টি করতে পারেন এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এগিয়ে নিতে পারেন।
আমাদের বাণিজ্য চুক্তিতে ডিজিটাল বাণিজ্যের বিধান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যাতে বাংলাদেশ বৈশ্বিক ডিজিটাল অর্থনীতিতে পূর্ণভাবে অংশগ্রহণ করতে পারে এবং আমরা চাই আমেরিকান জ্ঞান ও প্রযুক্তি আপনাদের জন্য বৃহত্তর সুযোগের পথ হয়ে উঠুক।
প্রধানমন্ত্রী প্রযুক্তি খাতে ১০ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির আহ্বান জানিয়েছেন—বিশ্বাসযোগ্য অবকাঠামো, নির্ভরযোগ্য ব্যবসায়িক পরিবেশ এবং চুক্তি রক্ষার নিশ্চয়তা থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো বিনিয়োগে আসবে; আর তাদের বড় ভূমিকা ছাড়া এ লক্ষ্য অর্জন কল্পনা করা কঠিন।
এর মধ্যে আর্থিক প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোও অন্তর্ভুক্ত।
এটি এমন একটি সুযোগ, যা সত্যিই আমাকে উৎসাহিত করে: বাংলাদেশে ৭০ শতাংশ আর্থিক লেনদেন এখনো নগদ টাকায় সম্পন্ন হয়। ৭০ শতাংশ। এটি শুধু দেশের আর্থিক খাতকে শক্তিশালী করার জন্য নয়, বরং দেশটিকেই রূপান্তর করার জন্যও এক বিশাল প্রবৃদ্ধির সুযোগ।
ভিসা ও মাস্টারকার্ডের মতো যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলো বাংলাদেশের আর্থিক সেবা খাতে বিপুল সম্ভাবনা দেখছে।
মানুষ যখন ডিজিটাল মাধ্যমে আর্থিক সেবা গ্রহণ করতে পারে, তখন ক্ষুদ্র ব্যবসাগুলো সীমান্তের বাইরেও সম্প্রসারিত হতে পারে, কৃষকরা ঋণ সুবিধা পেতে পারেন এবং পরিবারগুলো আরো কার্যকরভাবে সঞ্চয় ও বিনিয়োগ করতে পারে। একসঙ্গে আমরা বাংলাদেশকে তার ডিজিটাল আর্থিক সেবাগুলোকে আরো আধুনিক, আরো কার্যকর এবং আরো নিরাপদ করতে বিপ্লব ঘটাতে সহায়তা করতে পারি।
আধুনিক অবকাঠামোর মাধ্যমে প্রবৃদ্ধির গতি সঞ্চার
বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধির গল্প আধুনিক ও দক্ষ অবকাঠামোর নতুন চাহিদা তৈরি করছে—আর সেই চাহিদা পূরণে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বস্ত অংশীদার হিসেবে পাশে থাকতে প্রস্তুত। রেল খাতে, যাত্রী ও পণ্য আরো দক্ষতার সঙ্গে পরিবহনের লক্ষ্যে লোকোমোটিভ, সিগন্যালিং এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা আধুনিকায়নে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলো সহায়তা করতে পারে।
বন্দরগুলোতে লজিস্টিকস, অটোমেশন এবং কার্গো ব্যবস্থাপনায় আমেরিকান দক্ষতা যানজট কমাতে এবং আঞ্চলিক বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে সহায়তা করতে পারে। বেসামরিক বিমান চলাচল খাতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ও পরিচালনায় বিশ্বমানের সক্ষমতা প্রদান করে, যা খাতটির সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা, নির্ভরযোগ্যতা এবং কর্মশক্তি উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।
এসব খাতের বাইরেও মহাসড়ক, সেতু এবং নগর পরিবহন ব্যবস্থার প্রকৌশল, নকশা ও নির্মাণে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলো নেতৃত্বস্থানীয়—যারা মান, স্বচ্ছতা এবং দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা বিবেচনায় নির্মিত অবকাঠামো সরবরাহ করে।
আমাদের পদ্ধতি শুধু প্রকল্প বাস্তবায়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়—এটি দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারত্ব গড়ে তোলার বিষয়। বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার পরবর্তী অধ্যায়ে যে অবকাঠামো শক্তি জোগাবে, তা নির্মাণে যুক্তরাষ্ট্র একসঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী।
কাঠামো থেকে কার্যক্রমে: একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়া
আমরা এখন যে অবস্থানে আছি তা হলো: এআরটি-তে আমাদের একটি চমৎকার কাঠামো রয়েছে এবং এসব খাতসহ আরো অনেক ক্ষেত্রে অসাধারণ সুযোগ রয়েছে; এখন প্রয়োজন কার্যকর পদক্ষেপ। আর আমি আবারো জোর দিয়ে বলতে চাই—বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিটি ধাপে কাজ করতে আমরা প্রস্তুত।
যুক্তরাষ্ট্র তার অঙ্গীকারের প্রমাণ দিয়েছে। আমরা আন্তরিকভাবে আলোচনা করেছি। আমরা আমাদের বাজার খুলে দিয়েছি। আমরা বিনিয়োগে প্রস্তুত। এখন আমাদের এমন পদক্ষেপ নিতে হবে, যা অগ্রগতিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। এর অর্থ হলো:
আমাদের বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় আইন পাস করা;
যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর জন্য অপ্রয়োজনীয় বাধা সৃষ্টি করে এমন বিধিবিধান সংস্কার করা;
নতুন প্রক্রিয়া সম্পর্কে কাস্টমস কর্মকর্তা ও নিয়ন্ত্রকদের প্রশিক্ষণ দেয়া;
বিদেশী বিনিয়োগকারীদের জন্য ওয়ান-স্টপ সেবা কেন্দ্র তৈরি করা;
অনুমোদন ও পারমিট প্রদানের জন্য সুস্পষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা।
বাংলাদেশ যে চ্যালেঞ্জিং পরিবেশ ছিল, সেটি মোকাবেলা করে কাজ করা আমেরিকান কোম্পানি হিসেবে, আমি আপনাদের যোগাযোগ করতে, চ্যালেঞ্জগুলো ভাগ করে নিতে এবং সমাধান খুঁজে বের করা ও বাস্তবায়নে আমাদের সঙ্গে কাজ করতে উৎসাহিত করছি।
বাংলাদেশে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জপূর্ণ পরিবেশে কাজ করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলো যেসব বাস্তবতার মুখোমুখি হচ্ছে, সে প্রেক্ষাপটে আমি আপনাদের আহ্বান জানাই—আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন, চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরুন এবং সমাধান খুঁজে বের করা ও বাস্তবায়নে আমাদের সঙ্গে কাজ করুন।
এ বছর আমরা যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন করেছি। আপনাদের কেউ কেউ হয়তো এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসে টাঙানো বিশাল ব্যানারগুলো লক্ষ্য করেছেন। আরো অনেক কিছু আসছে, বিশেষ করে জুলাইয়ে আমেরিকা উইক এগিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের এ স্বর্ণালি মুহূর্ত উদযাপনে আমাদের সঙ্গে অংশীদার হতে আপনাদের সবাইকে আমন্ত্রণ জানাই।
আপনাদের অংশগ্রহণের অনেক উপায় রয়েছে। আর আপনারা যদি আমাদের কোনো অনুষ্ঠান স্পন্সর বা সমর্থন করতে আগ্রহী হন, তাহলে আমার দল আপনাদের সঙ্গে কথা বলতে সানন্দে প্রস্তুত।
যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের সম্পর্ক আগে কখনো এতটা শক্তিশালী ছিল না এবং আমাদের সামনে থাকা সুযোগগুলোও আগে কখনো এত বড় ছিল না। তবে সুযোগ কাজে লাগাতে প্রয়োজন দূরদৃষ্টি, অঙ্গীকার ও অংশীদারত্ব।
যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত। আমি প্রস্তুত। আর আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশও প্রস্তুত।
আসুন, এ মুহূর্তকে কাজে লাগিয়ে যৌথ সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাওয়ার রূপরেখা আমরা একসঙ্গে নির্ধারণ করি।
সূত্র: ঢাকার যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস










