বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের বর্তমান চিত্রটা আসলে কেমন? বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে ভারসাম্য আনার সুযোগ আছে কিনা, কোথায় আছে?
আমাদের মোট ৩ বিলিয়ন প্লাস বাণিজ্যের মধ্যে আমদানি প্রায় ১২ শতাংশ। আমাদের বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ অনেক বেশি। আমাদের রফতানি ঝুড়ি ছোট, তৈরি পোশাকের পাশাপাশি ছোট ছোট কিছু জিনিস। এখান থেকে আমাদের রফতানি প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন ডলারের মতো। আর আমরা যা আমদানি করি তার বড় অংশই ভোজ্যতেল, পেট্রোলিয়াম পণ্য, ভোগ্যপণ্য।
আমাদের রফতানি ঝুড়িটা বাড়ানোর জন্য একটা বড় দিক হলো, আমরা যদি শাকসবজি, ফলমূল এগুলো যুক্ত করতে পারি। এমনকি তৈরি পোশাকটাও খুব সংগঠিতভাবে আমাদের এখান থেকে যায় না। আমি এটা চেষ্টা করছি। কারণ আমরা অন্য দেশে যদি পারি, মালয়েশিয়াতেও চেষ্টা করলে আরেকটু বাড়ানোর সুযোগ আছে বলে আমি মনে করি।
এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ হলো মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি। এখন চূড়ান্ত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির জন্য আমরা যাচ্ছি। আমাদের সরকারপ্রধান যখন গেলেন, তিনি এখন কার্যপরিধি নিয়ে আলাপ করছেন। আমি শুনলাম ওদের ওখান থেকে যে প্রতিনিধি দল আসছে। এটা হলে আমাদের কিছুটা সুবিধা থাকবে। পেট্রোলিয়াম পণ্যগুলো হয়তো শুল্কমুক্ত চলে আসবে। পেট্রোলিয়াম পণ্য শুল্কমুক্ত বা শুল্কমুক্ত নয়, সেটা অন্য ব্যাপার। তবে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি অবশ্যই আমাদের সহায়তা করবে।
আরেকটা বড় বিষয়ে আমরা চেষ্টা করছি আর তা হলো এ হালাল পরিবেশটা যদি আমরা গড়ে তুলতে পারি। আমাদের দেশে যেহেতু ৯০ শতাংশ মুসলমান, আমাদের অভ্যন্তরীণ ভোক্তাদের কাছে এটা গ্রহণযোগ্য হবেই। আর আন্তর্জাতিকভাবে হালাল পণ্যের ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের বাজার। মালয়েশিয়া যে এক্ষেত্রে নেতৃস্থানীয়, তারাও কিন্তু বিলিয়ন ডলারের আমদানি করে। সেই বাজারটা আমরা ধরার চেষ্টা করতে পারব। হালাল নিয়ে আমরা এই ২১ সেপ্টেম্বর যাচ্ছি আন্তর্জাতিক মিহাসে। আপনি জানেন যে হালালের সবচেয়ে বড় আয়োজন—দুই হাজারের ওপর কোম্পানি হয় এ বছর।
নতুন পণ্য বা নতুন ক্রেতা তৈরিতে মালয়েশিয়ার বাজারে প্রধান বাধাটা কী?
এটা নিয়ে আমরা অনুসন্ধান করছি। কারণ মালয়েশিয়ায় আমাদের সবচেয়ে বড় বাধা হলো মনোযোগ পুরোপুরি জনশক্তি নিয়োগের ওপর। বাণিজ্যের দিকে মনোযোগটা আমাদের বাড়াতে হবে।
আমাদের শ্রমবাজার নিয়ে আমরা যে আলাপ করছি সেটা নিম্নস্তরের বাজার। আমরা যদি দক্ষ জনশক্তি পাঠাতে পারি, যে কারণে আমরা মালয়েশিয়ান চেম্বার থেকে ২০২৫-এ ওখানে সেমিকন্ডাক্টর নিয়ে কাজ করলাম। প্রধান উপদেষ্টা গেলেন। এখন সেমিকন্ডাক্টর নিয়ে বাণিজ্য সংগঠন হয়েছে বাংলাদেশে।
এই সেমিকন্ডাক্টর আমরা কিন্তু উৎপাদন করতে পারব না, এর জন্য আমরা ডিজাইনার তৈরি করতে পারব। একটা ডিজাইনার যদি তৈরি করেন, ১০ জন শ্রমিকের যে রেমিট্যান্স, সে ধরনের রেমিট্যান্স আসবে, পাশাপাশি ব্র্যান্ডিংও হবে। মালয়েশিয়ায় কত মিলিয়ন বাংলাদেশী বাস করে, আমরা তো রফতানি বাড়াতে পারি। মালয়েশিয়ায় সুযোগ আছে, মনোযোগ আমাদের এদিকে আনতে হবে।
বাংলাদেশের আমদানিতে মালয়েশিয়ার গুরুত্ব আসলে কতটা? এখন পর্যন্ত যা আমদানি হয়, কোন খাতে নির্ভরতা বেশি?
বড় বাল্ক পণ্যের মধ্যে ভোজ্যতেল ও পেট্রোলিয়াম। বাকিগুলো ছোট ছোট। আমদানি-রফতানির হিসাব প্রায় ৩ বিলিয়নের মতো। প্রায় ২ হাজার ৪০০ মিলিয়ন তারা রফতানি করে আর ৩৫০ মিলিয়নের মতো আমরা রফতানি করি।
আমি মনে করি, আমাদের মনোযোগ বাড়াতে হবে যে আমাদের কী কী করা যেতে পারে। কারণ বিপুল পরিমাণ বাঙালি ওখানে আছে, তাদের ভোগের বিষয়টা উল্লেখযোগ্য। আমাদের এখানে বাংলাদেশী কোম্পানি, যেমন প্রাণ, মুন্নু সিরামিকসের সিরামিকস রফতানি বা আকিজ গ্রুপের আছে সরাসরি বিনিয়োগ। এগুলোতে আমাদের মনোযোগ ও তৎপরতা বাড়াতে হবে।
শুল্ক ও অশুল্ক বাধা এবং ব্যবসায়িক যোগাযোগের ক্ষেত্রে কী ধরনের পরিবর্তন প্রয়োজন, যাতে আমরা বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে এবং প্রতিবন্ধকতা দূর করতে পারি?
আমাদের বাণিজ্য প্রতিনিধি দল নিয়ে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার ঘটনা কয়টা জানেন? বাণিজ্য প্রতিনিধি দল নিয়ে যেতে হবে। তাই মনোযোগ ও তৎপরতা—এ দুটি বিষয় সবচেয়ে জরুরি।
আগামী ৫-১০ বছরে আপনি দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে কোন পর্যায়ে নিয়ে যেতে চান?
আমি মনে করি, আমরা সঠিক পথে আছি। বিশেষ করে আমাদের সরকারপ্রধান যে মালয়েশিয়াকে প্রথম সফর হিসেবে নির্বাচন করেছিলেন, তাদের প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম যেভাবে স্বাগত জানিয়েছেন, তাতে আমার মনে হয় এটা আমাদের বেসরকারি খাতের সম্পৃক্ততা, আমদানি ও রফতানির বৃদ্ধিতে সহযোগিতা করবে।
আমাদের তৎপরতা বাড়াতে হবে, সুযোগ আছে। আমি মনে করি, আগামী ১০ বছরে আমরা যদি বেসরকারি খাতে যৌথ চেম্বার বা অন্যান্য মাধ্যমে মনোযোগ আরো বাড়াই, তাহলে আমরা এটার ভালো ফলাফল দেখব।










