বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়ার ট্রেড অপরচুনিটি বা বাণিজ্য সম্ভাবনা যা আছে, সেই সম্ভাবনার কতটুকু আমরা আসলে বাস্তবায়ন করতে পেরেছি?

বর্তমানে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারের মতো। তবে এই ৪ বিলিয়নের মধ্যে অস্ট্রেলিয়াই বাংলাদেশে রফতানি করে প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার। ফলে বাংলাদেশের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার বাণিজ্য ঘাটতি বেশ বড়। মূলত কৃষিপণ্য ও খনিজ দ্রব্য অস্ট্রেলিয়া থেকে বাংলাদেশে বেশি আসে। যেখানে অস্ট্রেলিয়া ৩ বিলিয়ন ডলারের পণ্য পাঠায়, সেখানে আমাদের রফতানির পরিমাণ মাত্র ১ বিলিয়ন ডলার। ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো অস্ট্রেলিয়ান সরকারের সঙ্গেও যদি বাংলাদেশ সরকারের শুল্কমুক্ত বাণিজ্যের ব্যবস্থা গড়ে ওঠে, তবেই অস্ট্রেলিয়াতে বাংলাদেশের রফতানি বাড়তে পারে। এ বিষয়ে উভয় সরকারের মধ্যে আলাপ-আলোচনা চলছে। এই সম্ভাবনাগুলো বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য আরো বাড়বে।

বাংলাদেশের কোন পণ্যগুলো বড় পরিসরে অস্ট্রেলিয়ায় জায়গা করে নিতে পারে?

অস্ট্রেলিয়ার বাজারে বাংলাদেশ থেকে উচ্চমানের পণ্য রফতানির সুযোগ রয়েছে। কারণ তারা এখন চীন থেকে অনেক পণ্য কেনা কমিয়ে দিয়েছে। এক্ষেত্রে আমাদের উচ্চমানের বস্ত্র ও তৈরি পোশাক, চামড়াজাত পণ্য এবং পাটজাত পণ্য বড় পরিসরে জায়গা করে নিতে পারে।

উচ্চমানের তৈরি পোশাক যেতে পারে, কিন্তু সেটা এখন পারছে না কেন? বাংলাদেশ তো বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রফতানিকারক?

অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের জাহাজ চলাচলের পরিস্থিতি খুব একটা অনুকূল নয়। সেখানে পরিবহন খরচ অনেক বেশি। এমনকি ইউরোপের তুলনায় অস্ট্রেলিয়াতে জাহাজের ভাড়া বেশি পড়ে। পাশাপাশি আকাশপথেও পরিবহন ব্যয় অনেক চড়া। এটি একটি বড় বাধা। এছাড়া অন্য কারণটি হলো, বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা ওই বাজারে নতুন সম্ভাবনা অনুসন্ধানে যথেষ্ট উদ্যোগী নন। যেমন অস্ট্রেলিয়াতে প্রচুর তুলা ও পশমি পণ্য রয়েছে। চীনারা যেভাবে সেসব কাঁচামাল এনে প্রক্রিয়াজাত করে আবার রফতানি করে, আমাদের ব্যবসায়ীরা সেটি করছেন না।

অস্ট্রেলিয়ার বাজারে পণ্য প্রবেশে বাধার কথা বললেন, সেই বড় বাধাটা আসলে কী? দেশটিতে কোন পথে পণ্য বেশি রফতানি হয়?

পণ্য মূলত সমুদ্রপথেই বেশি রফতানি হয়। তবে বাংলাদেশ থেকে অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার সরাসরি কোনো জাহাজ চলাচল নেই। সিঙ্গাপুর, কলম্বো বা মালয়েশিয়া হয়ে ট্রানজিটের মাধ্যমে পণ্য পাঠাতে হয়। ফলে রফতানি খরচ অনেক বেড়ে যায়। আর আমদানির ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়া থেকে বাংলাদেশে প্রচুর কৃষিপণ্য আসে। যেমন দেশে ব্যবহৃত ডালজাতীয় পণ্যের বড় একটি অংশই অস্ট্রেলিয়া থেকে আমদানি করা হয়।

দুই দেশের বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে এখন নতুন অংশীদারত্ব দরকার আছে কিনা?

বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে আগামী নভেম্বরে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া সরকারের মধ্যে একটি অংশীদারত্ব বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে বাংলাদেশে অস্ট্রেলীয় ব্যবসার কী কী বাধা রয়েছে এবং অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের কী সুযোগ-সুবিধা প্রয়োজন তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। এর ফলাফল কী হতে পারে, সেসব তখনই পরিষ্কার হবে। এছাড়া আগামী ১৬ তারিখেও তাদের একটি বৈঠক রয়েছে, যা থেকে দুই দেশের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বোঝা যাবে।

আগামী ৫-১০ বছরে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য বাড়াতে বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকারের বিষয়গুলো কী এবং সেগুলো কোন কোন খাতকেন্দ্রিক?

উচ্চপ্রযুক্তির নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে অস্ট্রেলিয়ার বিশেষ দক্ষতা রয়েছে। এই খাতটি ভবিষ্যতে বাংলাদেশের জন্য বড় অগ্রাধিকার হতে পারে। এই সম্ভাবনাকে কেন্দ্র করেই আগামী ২৫-২৬ অক্টোবরে অস্ট্রেলিয়া থেকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের একটি প্রতিনিধি দল ঢাকায় আসছে।

অস্ট্রেলিয়াতে পণ্য রফতানিকারক ও দেশটি থেকে পণ্য আমদানিকারক বড় প্রতিষ্ঠান কারা?

বাংলাদেশ থেকে রফতানি ঠিক কাদের মাধ্যমে যায়, তা নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন। কারণ বৈশ্বিক বিভিন্ন ব্র্যান্ড বাংলাদেশ থেকে পণ্য কিনে বিশ্বের নানা দেশে সরবরাহ করে। মার্ক্স অ্যান্ড স্পেন্সার বা ইউরোপীয় অন্যান্য বড় ব্র্যান্ডগুলো বাংলাদেশ থেকে কিনে তা কোথায় পাঠাচ্ছে, তা সরাসরি বলা সম্ভব নয়। তবে অস্ট্রেলিয়া থেকে যারা বিপুল পরিমাণে পণ্য আমদানি করে, তাদের মধ্যে আবুল খায়ের গ্রুপ, মেঘনা গ্রুপ ও সিটি গ্রুপের মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলো অন্যতম। তারা জাহাজ ভর্তি করে বিপুল পরিমাণ পণ্য আমদানি করে থাকে।