প্রথম গন্তব্য ছিল জাপান। তবে জাপানের বাজারে অপ্রত্যাশিত সংকটের পর ইউরোপে প্রবেশের প্রয়োজন দেখা দিলে এপেক্সের সামনে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে যায়। সেই পথেই ইতালির বড় জুতাবিক্রেতা প্রতিষ্ঠান অ্যাডেলকির সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি হয়। অ্যাডেলকির কারিগরি সহযোগিতা, উৎপাদন প্রক্রিয়ার জ্ঞান এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন পণ্য তৈরির অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের একটি নতুন শিল্পের সক্ষমতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এপেক্সের নিজস্ব তথ্যেও বলা হয়েছে, ১৯৯০ সালে বাংলাদেশে নিজস্ব ফুটওয়্যার উৎপাদন ইউনিট স্থাপনের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানটির নতুন যাত্রা শুরু হয়। সে সময় বাংলাদেশে তৈরি জুতা রফতানির ধারণাই ছিল নতুন। এপেক্সের প্রথম আন্তর্জাতিক চালান যায় বেলজিয়ামে। পরবর্তী সময়ে জাপান ও ইতালির অভিজ্ঞতা প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন ও নকশা সক্ষমতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করে।
চামড়া থেকে জুতায় মূল্য সংযোজন: এপেক্সের ফুটওয়্যার ব্যবসার ভিত্তি তৈরি হয়েছিল আরো আগে। সত্তরের দশকে উদ্যোক্তা সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী একটি ট্যানারি অধিগ্রহণের মাধ্যমে চামড়া প্রক্রিয়াজাত ব্যবসায় প্রবেশ করেন। পরবর্তী সময়ে এপেক্স ট্যানারি প্রক্রিয়াজাত চামড়া রফতানি শুরু করে। কোম্পানির নিজস্ব ইতিহাস অনুযায়ী, ১৯৭৬ সাল থেকে ট্যানারি ব্যবসার যাত্রা এবং ১৯৯০ সালে ফুটওয়্যার উৎপাদনে প্রবেশ এপেক্সের ব্যবসায়িক বিকাশের দুটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
চামড়া রফতানির সূত্র ধরেই এপেক্স ট্যানারির সঙ্গে ইউরোপীয় ক্রেতাদের যোগাযোগ তৈরি হয়েছিল। ইতালীয় ক্রেতারা ছিল প্রক্রিয়াজাত চামড়ার প্রথম দিককার ক্রেতাদের মধ্যে। অন্যদিকে জাপানি ক্রেতাদের সঙ্গে সম্পর্ক এপেক্সকে চামড়ার পরিবর্তে মূল্য সংযোজিত পণ্য তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে ভাবতে উৎসাহিত করে।
১৯৮৯ সালে হংকংয়ের একটি চামড়া প্রদর্শনীতে এপেক্স ট্যানারির অংশগ্রহণের সময় জাপানি ক্রেতাদের সঙ্গে সম্পর্ক আরো গভীর হয়। তাদের মাধ্যমে জাপানি জুতা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান মারুটোমির সঙ্গে সৈয়দ মঞ্জুর এলাহীর যোগাযোগ তৈরি হয়। সে সময় প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ১ হাজার ১০০টি খুচরা বিক্রয় কেন্দ্র ছিল।
বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ হওয়ায় এ দেশের পণ্য শুল্কমুক্তভাবে আমদানির সুবিধা পেতেন জাপানি ক্রেতারা। ফলে মারুটোমিসহ ক্রেতারা বাংলাদেশেই জুতা উৎপাদনের পরামর্শ দেন। এভাবেই চামড়া রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান থেকে জুতা উৎপাদন ও রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নেয় এপেক্স।
১৯৯০ সালে রফতানিমুখী ফুটওয়্যারের যাত্রা: ১৯৯০ সালে সফিপুরে এপেক্স ফুটওয়্যারের কারখানা স্থাপন করা হয়। বণিক বার্তাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রয়াত সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী জানিয়েছিলেন, তখন দেশে রফতানিমুখী জুতা উৎপাদনের কোনো কারখানা ছিল না। উৎপাদন ও বিপণনের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবলও দেশে পর্যাপ্ত ছিল না। জাপানি ক্রেতারা এক্ষেত্রে সহযোগিতা করেন এবং তারাই উৎপাদিত জুতা কিনবে বলে আশ্বাস দেন।
প্রথম দিকে কারখানাটির দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা ছিল এক হাজার জোড়া। উৎপাদন প্রক্রিয়া ও মাননিয়ন্ত্রণে সহযোগিতা করতে পাঁচ-ছয়জন জাপানি বাংলাদেশে এসে বসবাস শুরু করেন। জাপানি ক্রেতাদের কঠোর মাননিয়ন্ত্রণের ফলে এপেক্সের উৎপাদনমানও দ্রুত উন্নত হয়। জাপানে রফতানির মধ্য দিয়ে শুরু হয় বাংলাদেশের রফতানিমুখী ফুটওয়্যার শিল্পের নতুন অধ্যায়।
এপেক্সের নিজস্ব ইতিহাসও বলছে, ১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠানটির প্রথম ফুটওয়্যার উৎপাদন ইউনিট
স্থাপনের পর প্রথম আন্তর্জাতিক চালান বেলজিয়ামে পাঠানো হয়। কোম্পানির ভাষ্যে, সেই চালান বাংলাদেশের তৈরি ফুটওয়্যারের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় প্রবেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করেছিল।
জাপানের বাজার হারিয়ে ইউরোপের পথে
জাপানে প্রায় আড়াই বছর ভালো ব্যবসা করার পর ১৯৯৩-৯৪ সালে বড় ধাক্কা আসে। জাপানের অর্থনীতিতে মন্দার কারণে এপেক্সের একমাত্র ক্রেতা প্রতিষ্ঠানটি দেউলিয়া হয়ে যায়। বন্ধ হয়ে যায় তাদের প্রায় ১ হাজার ১০০টি বিক্রয় কেন্দ্র। হঠাৎ করেই এপেক্সের ক্রয়াদেশ বন্ধ হয়ে যায়।
এ সংকটই প্রতিষ্ঠানটিকে ইউরোপের দিকে তাকাতে বাধ্য করে। জাপানে রফতানি করা জুতার নমুনা নিয়ে ইউরোপের ক্রেতাদের কাছে যায় এপেক্স। কিন্তু জাপানি ও ইতালীয় বাজারের চাহিদার পার্থক্য তখন বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। জুতার নকশা, ব্যবহার এবং ক্রেতাদের পছন্দের মধ্যে পার্থক্যের কারণে ইতালীয় ক্রেতারা প্রথমদিকে এপেক্সকে কাজ দিতে আগ্রহী হননি। একাধিকবার নমুনা তৈরি করেও তাৎক্ষণিক সাড়া পাওয়া যায়নি।
অ্যাডেলকির সঙ্গে পরিচয়
এ পর্যায়েই এপেক্সের ইউরোপ অভিযানে নতুন মোড় আসে। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে সৈয়দ মঞ্জুর এলাহীর ছেলে সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর ব্যবসায় যোগ দেন। তার উৎসাহে এপেক্স ইতালির একটি জুতা প্রদর্শনীতে অংশ নেয়। সেখানেই পরিচয় হয় ইতালির বড় জুতা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান অ্যাডেলকির সঙ্গে।
প্রয়াত সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী বণিক বার্তাকে জানিয়েছিলেন, তখন অ্যাডেলকি ইতালিতে দৈনিক প্রায় ৫০ হাজার জোড়া জুতা উৎপাদন করত এবং তাদের কর্মী ছিল প্রায় ১২ হাজার। কিন্তু ইতালিতে উৎপাদন ব্যয় বেশি হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি উৎপাদন অন্য দেশে সরিয়ে নেয়ার কথা ভাবছিল। এপেক্সের সঙ্গে ব্যবসায়িক আলোচনায় আগ্রহ তৈরি হলেও বাংলাদেশের নাম শুনে প্রথমে অ্যাডেলকি চীনে কারখানা সরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানায়।
সৈয়দ মঞ্জুর এলাহীর উদ্যোগে অ্যাডেলকির মালিক বাংলাদেশে এসে এপেক্সের কারখানা পরিদর্শন করেন। চীনে কারখানা দেখে ফেরার পথে বাংলাদেশে আসা সেই প্রতিনিধি এপেক্সের কারখানার উৎপাদন সক্ষমতা ও ব্যবস্থাপনায় সন্তুষ্ট হন। এরপর অ্যাডেলকি প্রথমে মাত্র ৫০০ জোড়ার নমুনা ক্রয়াদেশ দেয়। এ ছোট ক্রয়াদেশই পরবর্তী সময়ে বড় একটি শিল্প-সম্পর্কের ভিত্তি তৈরি করে।
কারিগরি জ্ঞান পেল বাংলাদেশ
প্রথম ক্রয়াদেশ পাওয়ার পরই এপেক্সের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ দেখা দেয়। আন্তর্জাতিক মানের জুতা তৈরির জন্য দক্ষ কারিগরি জনবল প্রয়োজন ছিল। অ্যাডেলকি এক্ষেত্রে জনবল দিয়ে সহযোগিতা করে। শুধু কর্মী সরবরাহ নয়, মানসম্পন্ন রফতানিমুখী কারখানা পরিচালনার বিভিন্ন খুঁটিনাটি বিষয়ও এপেক্স অ্যাডেলকির কাছ থেকে শেখে।
সৈয়দ মঞ্জুর এলাহীর ভাষায়, অ্যাডেলকির কাছ থেকেই মানসম্পন্ন রফতানিমুখী কারখানা প্রতিষ্ঠার অনেক বিষয় শেখে এপেক্স। দৈনিক এক হাজার জোড়া উৎপাদন থেকে পরবর্তী সময়ে ১২ হাজার জোড়ায় পৌঁছানোর পথচলায় সেই সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। একপর্যায়ে এপেক্সের সর্বোচ্চ উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ১৬ হাজার জোড়ায় পৌঁছায়।

ছবি: এপেক্স ফুটওয়্যার
এখানেই অ্যাডেলকির সঙ্গে এপেক্সের সম্পর্কের গুরুত্ব। এটি শুধু একটি বিদেশী ক্রেতার কাছ থেকে ক্রয়াদেশ পাওয়ার ঘটনা ছিল না। ইতালীয় অংশীদারের মাধ্যমে বাংলাদেশের একটি নতুন শিল্প আন্তর্জাতিক উৎপাদনমান, নকশা ও কারিগরি দক্ষতার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হওয়ার সুযোগ পায়।
এপেক্সের বর্তমান নিজস্ব ওয়েবসাইটও তাদের বিকাশে ইতালির ভূমিকা আলাদাভাবে তুলে ধরেছে। কোম্পানির ভাষ্যে, জাপান থেকে তারা শিখেছে উৎপাদন প্রক্রিয়ার শৃঙ্খলা ও সূক্ষ্মতা, ইতালি থেকে পেয়েছে জুতা তৈরির নকশা, কারুশিল্প ও সৌন্দর্যবোধের শিক্ষা। চীনের কাছ থেকে পেয়েছে বৃহৎ পরিসরে উৎপাদন পরিচালনার দক্ষতা। এ তিন দেশের অভিজ্ঞতাকে এপেক্স তাদের উৎপাদন সংস্কৃতির তিনটি আন্তর্জাতিক ভিত্তি হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
ইউরোপ হয়ে ওঠে প্রধান বাজার
অ্যাডেলকির সঙ্গে সম্পর্ক তৈরির সময় এপেক্সের উৎপাদন সক্ষমতা ছিল দৈনিক এক হাজার জোড়ার পর্যায়ে। পরবর্তী সময়ে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১২ হাজার জোড়ায়। ইউরোপ ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান রফতানি বাজারে পরিণত হয়।
২০২১ সালে বণিক বার্তাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী জানিয়েছিলেন, তখন এপেক্সের মোট রফতানির ৩০-৩৫ শতাংশ জার্মানিতে যেত। অর্থাৎ ইতালির মাধ্যমে ইউরোপের বাজারে যে সম্পর্কের সূচনা হয়েছিল, তা পরবর্তী সময়ে ইউরোপের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বাজারেও বিস্তৃত হয়।
বর্তমানেও ইউরোপ এপেক্সের অন্যতম প্রধান আন্তর্জাতিক বাজার। কোম্পানির নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, এপেক্স ইউরোপীয় ইউনিয়ন, উত্তর আমেরিকা ও জাপানের প্রধান বাজারগুলোতে রফতানি করে। তাদের রফতানি ব্যবসা বর্তমানে বৈশ্বিক ব্র্যান্ডগুলোর জন্য পণ্য উন্নয়ন, উৎপাদন ও সরবরাহের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হচ্ছে।
ইতালির শিক্ষা থেকে নিজস্ব সক্ষমতায়
অ্যাডেলকির সঙ্গে সম্পর্কের সবচেয়ে বড় উত্তরাধিকার সম্ভবত বিদেশী ক্রেতার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কের চেয়েও বড়। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের একটি প্রতিষ্ঠান সরাসরি ইউরোপীয় জুতা শিল্পের উৎপাদন ও নকশার জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পায়।
আজ এপেক্স নিজস্ব গবেষণা ও উন্নয়ন, নকশা এবং পণ্য উন্নয়ন সক্ষমতার ওপর জোর দিচ্ছে। কোম্পানির নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, তাদের নকশা ও গবেষণা কার্যক্রমে ইতালীয় প্রভাব রয়েছে এবং বিশ্বমানের ব্র্যান্ডের জন্য নকশা ও যৌথ নকশা তৈরির সক্ষমতা গড়ে উঠেছে। প্রতি মৌসুমে ইতালির এক্সপো রিভা শুহসহ আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতেও এপেক্স তাদের নকশা ও পণ্য উপস্থাপন করে।
অর্থাৎ অ্যাডেলকির সঙ্গে যে সম্পর্ক শুরু হয়েছিল কয়েকশ জোড়ার একটি ক্রয়াদেশ দিয়ে, তার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের ফুটওয়্যার উৎপাদনের সক্ষমতা, মান, নকশা ও আন্তর্জাতিক বাজারে অবস্থানের ওপর।
এপেক্সের পর তৈরি হয় নতুন রফতানিকারক
এপেক্সের পথ ধরে পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের আরো কয়েকটি প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক ফুটওয়্যার বাজারে প্রবেশ করে। বে ফুটওয়্যার, এফবি ফুটওয়্যার, এবিসি ফুটওয়্যারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান রফতানি সক্ষমতা বাড়াতে ভূমিকা রাখে। ফলে ফুটওয়্যার ধীরে ধীরে বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় রফতানি পণ্যে পরিণত হয়।
এপেক্সের নিজস্ব বর্তমান তথ্যেও প্রতিষ্ঠানটিকে বাংলাদেশের ফুটওয়্যার শিল্পের পথিকৃৎ এবং দেশের অন্যতম প্রধান চামড়াজাত জুতা রফতানিকারক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কোম্পানিটি বলছে, বর্তমানে তাদের ১৩৫টি বৈশ্বিক ক্রেতা রয়েছে এবং ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা ও জাপানের বাজারে তারা সক্রিয়।
চামড়া থেকে বৈশ্বিক ফুটওয়্যার
বাংলাদেশের ফুটওয়্যার রফতানির গল্প তাই কেবল একটি কারখানা স্থাপনের গল্প নয়। এর শুরু হয়েছিল চামড়া রফতানি দিয়ে। এরপর চামড়ায় মূল্য সংযোজনের চিন্তা থেকে জুতা উৎপাদনে প্রবেশ। জাপানি ক্রেতার কাছ থেকে উৎপাদন ও মাননিয়ন্ত্রণ শেখা। জাপানের বাজারে সংকটের পর ইউরোপের দিকে যাত্রা। আর ইতালির অ্যাডেলকির সঙ্গে সম্পর্কের মাধ্যমে ইউরোপীয় উৎপাদনমান ও কারিগরি জ্ঞান অর্জন।
এ ধারাবাহিকতায় এপেক্সের যাত্রা বাংলাদেশের ফুটওয়্যার শিল্পের একটি বৃহত্তর পরিবর্তনের প্রতিচ্ছবি। একসময় বাংলাদেশ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে মূলত চামড়া রফতানি হতো। মূল্য সংযোজিত চামড়াজাত পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের অবস্থান ছিল সীমিত। ব্যক্তি খাতের উদ্যোক্তাদের উদ্যোগে সেই অবস্থার পরিবর্তন শুরু হয়।
এপেক্সের ক্ষেত্রে সেই পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হলো ইতালির অ্যাডেলকি। ইউরোপে প্রবেশের প্রথম চেষ্টা এ সম্পর্কের আগেই শুরু হয়েছিল, কিন্তু অ্যাডেলকির সঙ্গে অংশীদারত্ব ইউরোপীয় বাজারে এপেক্সের অবস্থান শক্ত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি করে।
আজ এপেক্স নিজেই বলছে, জাপান, ইতালি ও চীনের অভিজ্ঞতার সমন্বয়েই তাদের উৎপাদন সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। স্থানীয় উৎপাদন ভিত্তির সঙ্গে এ আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার সমন্বয়ই প্রতিষ্ঠানটিকে বৈশ্বিক ফুটওয়্যার সরবরাহ ব্যবস্থার অংশে পরিণত করেছে।
সেই অর্থে ইতালির অ্যাডেলকির সঙ্গে অংশীদারত্ব শুধু এপেক্সের ইউরোপ অভিযানের একটি ব্যবসায়িক ঘটনা ছিল না; এটি বাংলাদেশের ফুটওয়্যার শিল্পের আন্তর্জাতিক সক্ষমতা তৈরির ইতিহাসেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।









