আমার জন্ম মুন্সিগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান উপজেলার কুসুমপুর এলাকায়। শৈশব ও কৈশোর কেটেছে এখানেই। তাই অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র ও কৃষি উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর নিজের জন্মস্থানকে ঘিরে দায়বদ্ধতা বেড়েছে বহুগুণে। পাশাপাশি সারা দেশের মানুষের নিরাপত্তা, আইন-শৃঙ্খলা ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের দিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হচ্ছে আমাকে। সংক্ষিপ্ত সময়ে দায়িত্ব পালনকালে কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির অগ্রগতির জন্যও নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি।

মুন্সিগঞ্জ কৃষিভিত্তিক জেলা। এখানকার আর্থসামাজিক উন্নয়ন এবং মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের লক্ষ্যে বেশকিছু পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। যদিও অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ সংক্ষিপ্ত, তবুও উন্নয়ন প্রকল্পগুলো যাতে থেমে না যায় সে জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।

জেলার বিভিন্ন উন্নয়নবিষয়ক ও নানা সমস্যা নিয়ে একাধিকবার আলোচনা করেছি। সমস্যাগুলো কীভাবে সমাধান করা যায় সংশ্লিষ্ট বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছি আমি। বেতকা-তেঘরিয়া সড়কে মোল্লার হাট ব্রিজের কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য বলা হয়েছে।

সরকারি একটি মেডিকেল কলেজ স্থাপন মুন্সিগঞ্জবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি। সেটির নির্মাণকাজও শুরু হবে শিগগিরই, যা বর্তমান জেনারেল হাসপাতাল এবং আশপাশের জায়গায় বাস্তবায়িত হবে। এরই মধ্যে জেলায় বিভিন্ন সড়ক উন্নয়ন, কাঠাখালী খালের সংস্কার এবং নতুন অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। জুলাই-আগস্ট বিপ্লবে ক্ষতিগ্রস্ত মুন্সিগঞ্জ পৌরসভা ভবন ও জরাজীর্ণ শিল্পকলা একাডেমি সংস্কারেরও সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়া টঙ্গিবাড়ীতে বীজ আলু সংরক্ষণের জন্য হিমাগার, কুণ্ডের বাজারের সেতু নির্মাণ, মুন্সিগঞ্জ-শ্রীনগর সড়ককে চার লেনে উন্নীত করা এবং গজারিয়ায় ফুলদী নদীর ওপর সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা চলছে। জেলার ঐতিহাসিক ইদ্রাকপুর কেল্লা উন্নয়নেও অর্থ বরাদ্দ দেয়া হবে।

সমস্যা ও গুরুত্ব অনুযায়ী সার্বিক বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে, যাতে দায়িত্ব ছেড়ে দেয়ার পর জেলার মানুষ অভিযোগ করতে না পারে, যে এলাকার সন্তান হয়েও কোনো পদক্ষেপ নিইনি। সবচেয়ে বেশি জরুরি হচ্ছে, মুন্সিগঞ্জের মানুষের সংকটকালীন অবস্থা থেকে উত্তরণে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জনগণের কল্যাণে কাজ করা। অন্যদিকে মুন্সিগঞ্জে কমিউনিটি পুলিশিংয়ের বাস্তবতাকে আমরা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছি। কমিউনিটি পুলিশিংয়ের দর্শনকে যথার্থভাবে ব্যবহারের মাধ্যমে নিয়মিত অনুশীলন করতে পারলে সমাজ থেকে ছোটখাটো অনিয়ম ও অন্যায় প্রতিহত করা সম্ভব হবে। এ ব্যবস্থাপনায় সমাজের প্রতিটি অংশের মানুষের অংশগ্রহণ থাকায় পারস্পরিক হৃদ্যতার পরিবেশ সৃষ্টি হয়। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটে এবং মানুষের জীবনে শান্তি ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত হয়।