পদ্মা, মেঘনা ও ধলেশ্বরীর স্রোতের মতোই মুন্সিগঞ্জের জীবন বহমান। ইতিহাস ও ঐতিহ্যের এ জনপদে নিরাপত্তার দায়িত্বও তাই বহুমাত্রিক। এখানকার পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর আমার প্রথম ভাবনা ছিল জেলা পুলিশকে এমনভাবে মানুষের পাশে দাঁড় করানো, যাতে তারা পুলিশকে শুধু আইন প্রয়োগকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে না দেখে, বিপদে-আপদে নির্ভরতার আপন আশ্রয় হিসেবেও অনুভব করে।

প্রায় নয় মাসের পথচলায় উপলব্ধি করেছি, জেলা পুলিশের সবচেয়ে বড় শক্তি তার সদস্যরা। একজন কনস্টেবল থেকে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা—প্রত্যেকের সম্মিলিত শ্রমেই তৈরি হয় একটি নিরাপদ জনপদ। জাতীয় সংসদ নির্বাচন, গুরুতর অপরাধের তদন্ত, নৌপথের নিরাপত্তা কিংবা দৈনন্দিন আইন-শৃঙ্খলা—সব ক্ষেত্রেই আমাদের টিম ঐক্যবদ্ধভাবে দায়িত্ব পালন করেছে। তবে আমাদের পথচলা শুধু অভিযান ও গ্রেফতারে সীমাবদ্ধ নয়। ভবিষ্যতের পুলিশিং হবে তথ্য ও প্রযুক্তিনির্ভর। মুন্সিগঞ্জ শহরে সমন্বিত সিসিটিভি ব্যবস্থা, আরো কার্যকর কমিউনিটি ও বিট পুলিশিং এবং বিশেষায়িত প্রোটেকশন ইউনিট গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

নতুন একটি জেলায় দায়িত্ব নেয়ার চ্যালেঞ্জও কম নয়। প্রথমে জানতে হয় জনপদকে, বুঝতে হয় মানুষের জীবনযাত্রা, চিনতে হয় অপরাধের ধরন এবং এর পেছনের সামাজিক বাস্তবতা। কোন এলাকায় মাদকের ঝুঁকি বেশি, কোথায় পারিবারিক বা সম্পত্তিসংক্রান্ত বিরোধ থেকে অপরাধের আশঙ্কা তৈরি হয়, কোন স্থানে জনসমাগম বা যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন—এসব বিবেচনা করেই অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে হয়েছে।

তবে আমি বিশ্বাস করি, ইউনিফর্মের প্রকৃত মর্যাদা ক্ষমতায় নয়, মানুষের বিশ্বাসে। একটি শিশু যখন নিরাপদে ঘরে ফেরে, একজন ব্যবসায়ী নিশ্চিন্তে কাজ করেন কিংবা বিপদে পড়া মানুষ থানায় এসে আস্থা পান—সেখানেই পুলিশিংয়ের সার্থকতা। নিরাপদ মুন্সিগঞ্জ গড়ার এ পথচলায় তাই পুলিশ ও মানুষের পারস্পরিক আস্থাই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।