‘ট্রিপল এ’ রেটিং কোম্পানির একটি দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক শৃঙ্খলা, মজবুত অর্থনৈতিক ভিত্তি, বিনিয়োগের ওপর সর্বোচ্চ আয়ের রেকর্ড, দাবি পরিশোধের অনন্য সক্ষমতা, জনবান্ধব ও বাস্তবমুখী বিভিন্ন জীবন বীমা পরিকল্প, দক্ষ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, দক্ষ ও অভিজ্ঞ ব্যবস্থাপনা, সর্বাধুনিক তথ্য ও প্রযুক্তির সমন্বয়, সুশাসন এবং গ্রাহকের আস্থার সম্মিলিত স্বীকৃতি। আমরা সবসময় স্বচ্ছতা, নিয়ন্ত্রক নির্দেশনা প্রতিপালন এবং টেকসই ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দিয়েছি। একই সঙ্গে বিচক্ষণ বিনিয়োগের ওপর সর্বোচ্চ আয়ের রেকর্ড এবং কার্যকর অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাও এ অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
রেটিং অর্জনের পর ধরে রাখার বিষয়ে আপনার প্রতিষ্ঠানের কৌশল কী?
‘ট্রিপল এ’ রেটিং অর্জনের চেয়ে তা ধরে রাখা অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং। কারণ প্রতিনিয়ত আর্থিক সক্ষমতা, পরিচালন দক্ষতা এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার মান বজায় রাখতে হয়। এজন্য বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করা হয়, যেমন প্রিমিয়াম আয় প্রবৃদ্ধির স্থিতিশীল ধারাবাহিকতা রক্ষা, শক্তিশালী দাবি পরিশোধ ক্ষমতার সঙ্গে জীবন বীমা তহবিলের বৃদ্ধি, বিনিয়োগ আয় বৃদ্ধি, মূলধন পর্যাপ্ততা নিশ্চিত করা, সলভেন্সি মার্জিন শক্তিশালী রাখা, আন্ডাররাইটিং শৃঙ্খলা বজায় রাখা, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, প্রযুক্তিনির্ভর কার্যক্রম এবং নিয়মিত ঝুঁকি মূল্যায়নের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি। পাশাপাশি বাজার ও নিয়ন্ত্রক পরিবর্তনের সঙ্গে দ্রুত অভিযোজনও আমাদের অন্যতম কৌশল।
রেটিং এজেন্সি কোন কোন সূচক বিবেচনায় নিয়ে আপনাদের ‘ট্রিপল এ’ রেটিং দিয়েছে?
কোম্পানির ব্যবসা ও বীমা শিল্পে কোম্পানির অবস্থা বিশ্লেষণ, ব্যবসায়িক ঝুঁকি বিশ্লেষণ, আর্থিক ঝুঁকি বিশ্লেষণ, ব্যবস্থাপনা এবং অন্যান্য গুণগত দিক, মূলধন পর্যাপ্ততা, সলভেন্সি, তারল্য, বিনিয়োগ পোর্টফোলিওর গুণগত মান, জীবন বীমা তহবিল বৃদ্ধি, দাবি পরিশোধ সক্ষমতা, করপোরেট গভর্ন্যান্স, ব্যবস্থাপনার দক্ষতা এবং ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক সম্ভাবনা মূল্যায়ন করে। এছাড়া নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনা প্রতিপালন এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতাও গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হিসেবে মূল্যায়িত হয়।
কোনো প্রতিষ্ঠানের ‘ট্রিপল এ’ রেটিং পাওয়া সাধারণ পলিসিধারী ও বিনিয়োগকারীদের জন্য কী বার্তা বহন করে?
‘ট্রিপল এ’ রেটিং মূলত প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সক্ষমতা এবং দীর্ঘমেয়াদে প্রতিশ্রুতি পূরণের উচ্চ সক্ষমতার প্রতীক। এটি বীমা গ্রাহকদের জন্য আস্থা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং দাবি পরিশোধ ও সেবাদানে কোম্পানি অত্যন্ত সক্ষম তা প্রকাশ করে। একইভাবে বিনিয়োগকারীদের জন্য এটি নির্দেশ করে যে কোম্পানি আর্থিকভাবে সুদৃঢ়, সুশৃঙ্খল এবং তুলনামূলকভাবে ঝুঁকিমুক্ত। ফলে এই রেটিং বাজারে বিশ্বাসযোগ্যতা ও গ্রহণযোগ্যতা আরো বৃদ্ধি করে।
সলভেন্সি মার্জিন, মূলধন পর্যাপ্ততা ও তারল্য ব্যবস্থাপনায় আপনাদের প্রতিষ্ঠানের বর্তমান অবস্থান কী?
আমাদের লক্ষ্য শুধু নিয়ন্ত্রক ন্যূনতম মান পূরণ করা নয়, বরং তার চেয়েও শক্তিশালী আর্থিক ভিত্তি বজায় রাখা। আমরা পর্যাপ্ত মূলধন সংরক্ষণ, ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা, দায়-সম্পদ সমন্বয় এবং পর্যাপ্ত তারল্য নিশ্চিত করার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখছি। এর ফলে যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও পলিসি গ্রাহকদের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা যথাসময়ে পূরণ করার সক্ষমতা অক্ষুণ্ন থাকে।
দেশের বীমা খাতের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি কী বলে আপনি মনে করেন?
বর্তমান সময়ে বীমা খাতের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো গ্রাহকের আস্থা বৃদ্ধি, পরিবর্তিত অর্থনৈতিক পরিবেশ, জলবায়ুজনিত ঝুঁকি, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন ও সাইবার নিরাপত্তা। পাশাপাশি প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি, দক্ষ মানবসম্পদের অভাব এবং আর্থিক বাজারের অস্থিরতাও গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি। এসব মোকাবেলায় প্রিমিয়াম আয় প্রবৃদ্ধি, সর্বাধুনিক তথ্য ও প্রযুক্তির সমন্বয়, কার্যকর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, উদ্ভাবনী পণ্য উন্নয়ন, শক্তিশালী করপোরেট গভর্ন্যান্স এবং ব্যয় নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বীমা গ্রাহকদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য। আমাদের বিশ্বাস, টেকসই আর্থিক ভিত্তি, সুশাসন এবং ধারাবাহিক উদ্ভাবনের মাধ্যমে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ সফলভাবে মোকাবেলা করা সম্ভব।
ব্যবসা সম্প্রসারণ, করপোরেট গ্রাহক আকর্ষণ বা আন্তর্জাতিক অংশীদারত্বের ক্ষেত্রে ‘ট্রিপল এ’ রেটিং আপনাদের কী ধরনের সুবিধা দিচ্ছে?
উচ্চ ক্রেডিট রেটিং আমাদের করপোরেট ও কোম্পানির বীমা গ্রাহকদের কাছে অধিক গ্রহণযোগ্য করে তোলে। বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, বহুজাতিক কোম্পানি এবং আন্তর্জাতিক অংশীদাররা আর্থিকভাবে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করতে বেশি আগ্রহী থাকে। ফলে নতুন ব্যবসা অর্জন, কৌশলগত অংশীদারত্ব গঠন এবং দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক উন্নয়নে ‘ট্রিপল এ’ রেটিং গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা প্রদান করে।










