স্মার্ট কিচেনে সবকিছুতেই আধুনিকতার ছোঁয়া লাগানোর চেষ্টা করা হয়। সেখানে বাদ যাবে কেন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ। প্রত্যেকবার খাবার খাওয়ার পর রান্নাঘরে জমে যায় ময়লা থালাবাসনের স্তূপ। এগুলো পরিষ্কার করাটা মোটেও সহজ কাজ নয়। সেজন্য দ্বারস্থ হতে হবে কিছু পরিষ্কারক পণ্যের। আধুনিক রাঁধুনিদের কাজ আরো বেশি স্মার্ট করে নিতে বাজারে পাওয়া যাচ্ছে নানা ধরনের পরিষ্কারক। এসব দিয়ে যেসব সিংকে জমে থাকা বাসনকোসন সহজে পরিষ্কার করতে পারবেন। তেমনই সেগুলো করতে পারবেন জীবাণুমুক্ত।

আগে যেখানে বাসনকোসন পরিষ্কারে বার ব্যবহার করা হতো, এখন সেখানে ব্যবহার করা হচ্ছে লিকুইড। এতে ব্যবহার যেসন সহজ হচ্ছে, তেমন সাশ্রয়ীও হচ্ছে। এক্ষেত্রে ইউনিলিভারের ভিম ডিশওয়াশ লিকুইড দেশের অন্যতম জনপ্রিয় নাম। লেবুর সুগন্ধে ভরা এ লিকুইড ডিশ ওয়াশারের এক চামচে পুরো এক সিংক নোংরা বাসনকোসন পরিষ্কার করা যায়। লিকুইড ডিশ ওয়াশারের বড় একটি সুবিধা হলো ব্যবহারের সময় এর এক বিন্দুও অপচয় বা নষ্ট হয় না। জেনে নিন সহজে বাসনকোসন পরিষ্কারের কিছু টিপস।

তেল আর মসলাদার খাবার তো প্রায়ই খাওয়া হয়। সেদিনগুলোয় বাসনকোসন পরিষ্কার করার জন্য হালকা গরম পানি করে রাখুন। বাসনকোসন পরিষ্কারের সময় প্রথমেই হালকা গরম পানি ঢেলে নিন। এতে বাসনকোসনে লেগে থাকা তেল খুব দ্রুত পরিষ্কার হবে। তাছাড়া সিংকটাও খুব বেশি ময়লা হয়ে যাবে না।

খাবার শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চামচগুলো পরিষ্কার করে ফেলুন। অন্যগুলো যদি পরিষ্কার পুরোপুরি নাও করতে পারেন। একবার পানি দিয়ে ধুয়ে রাখুন। তাহলে তেল চর্বি শক্ত হয়ে বসে যাবে না। সেটাও সম্ভব না হলে প্লেট বাটির ওপর পানি ছিটিয়ে রাখেুন। তাতে পরে পরিষ্কার করতে গেলে সহজ হবে। 

বাসনকোসন থেকে যদি খাবারের দাগ না ওঠে, তাহলে লেবু দিয়ে ঘষে নিন। তবে কখনো ছাই ব্যবহার করা ঠিক হবে না। 

ধোয়ার পরপরই বাসন আলমারিতে উঠিয়ে না রেখে বরং কিছুক্ষণের জন্য কোথাও উপুড় করে রেখে দিন। এতে বাসনে লেগে থাকা পানি ঝরে যাবে। তারপর একটি সুতি ন্যাকড়া কাপড় দিয়ে ভালোভাবে মুছে নিন। এবার সেগুলো তুলে রাখুন। বাসনে দুই বা এক ফোঁটা পানি লেগে থাকলেও সেটার দাগ ফুটে থাকবে। তাই ভালো করে মুছে নিন।

কাচের তৈরি যেকোনো বাসন ধোয়ার সময় পাতলা নেটের কাপড় ব্যবহার করুন। কাঠের বাসন পরিষ্কার করতে হলেও প্লাস্টিকের নেট ব্যবহার করতে পারেন। তাতে সেগুলো সহজে পরিষ্কার হয়ে যাবে। যেসব পাত্রে রান্না করবেন, সেখানে গেড়ে বসতে পারে কঠিন তেল চর্বি। তাই সেসব পরিষ্কারের সময় স্টিলের মাজুনি ব্যবহার করুন।

সিরামিকের বাসনের ক্ষেত্রে খুব ভালোমতো ডিসওয়াশ বার কিংবা তরল পরিষ্কারক দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। কোনোভাবে যদি তেল-চর্বির হলদে দাগ থেকে যায়, তাহলে পরে এই দাগ উঠাতে বেশ বেগ পেতে হবে। স্টিলের বাসনকোসনের বেলাতেও ভেজা বাসন আগে শুকিয়ে নিয়ে তারপর মুছে নিন। 

বাসনকোসন পরিষ্কারের পর তা খাড়া করে এমনভাবে দাঁড় করিয়ে রাখুন, যাতে পানি না জমে। কারণ পানি জমে থাকলে বাসনকোসনে অনেক সময় দাগ পড়ে যায়।