ইলেকট্রনিকস হোম অ্যাপ্লায়েন্স এখন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অনুষঙ্গ। অবকাঠামোগত উন্নয়ন, দেশব্যাপী বিদ্যুৎ সংযোগ এবং মানুষের জীবনযাপনে পরিবর্তনের ফলে প্রতিনিয়ত গৃহস্থালির কাজে ব্যবহার হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের হোম অ্যাপ্লায়েন্স। গত এক দশকে ইলেকট্রনিকস হোম অ্যাপ্লায়েন্স শিল্প খাতে বিপুল অগ্রগতি হয়েছে। একসময় যেটি ছিল নিতান্তই শখের জিনিস, বর্তমানে সেটিই প্রয়োজনীয় উপকরণ।

যমুনা ফ্রিজে কোটি মানুষের আস্থা। একটা ভালো মানের রেফ্রিজারেটর শুধু খাবারের সতেজতা বা পুষ্টিমানই রক্ষা করে না, বরং জীবনযাপনেও অনেক স্বাচ্ছন্দ্য আনে। আধুনিক যন্ত্রপাতি, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষ জনবল, উন্নত কাঁচামাল, প্রতিনিয়ত উদ্ভাবনী ও উৎকর্ষ সাধনের ফলে যমুনা আজ দেশের ১ নম্বর কোয়ালিটি রেফ্রিজারেটর ব্র্যান্ড। যমুনা ফ্রিজ উৎপাদন প্রক্রিয়ার সর্বস্তরে ফুড গ্রেডেড ম্যাটেরিয়ালস এবং পরিবেশবান্ধব আর৬০০এ গ্যাস ব্যবহার করে। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে খাবারের মান ঠিক থাকে এবং ৭০ শতাংশ বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয়। 

ছোট একটি উদাহরণ তুলে ধরলেই ক্রেতাদের কাছে আমাদের স্বকীয় বিশেষত্বটি স্পষ্ট হয়ে যাবে। সম্প্রতি বুয়েট কর্তৃক পরীক্ষিত দেশের ১ নম্বর বেস্ট কুলিং পারফরম্যান্স রেফ্রিজারেটর যমুনা, যার অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা ৪ থেকে ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস যেখানে দেশের বেশির ভাগ ফ্রিজের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা ৪ থেকে সর্বোচ্চ ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও যমুনা ফ্রিজে রয়েছে ফাইভ ওয়েজ এয়ারফ্লো ও ইভাপোরেটিভ কুলিং সিস্টেম এবং উচ্চ ঘনত্বসম্পন্ন ৮৫ মিলিমিটার ইউনিফর্ম ফোমিং। ফলে যমুনা রেফ্রিজারেটর লোডশেডিংয়ের সময়ও বিদ্যুৎ ছাড়া টানা ৭২ ঘণ্টা ও যমুনা ফ্রিজার ১২০ ঘণ্টা পর্যন্ত খাবারকে রাখবে সজীব ও টাটকা এবং এটা আমাদের পাওয়ার কাট চ্যালেঞ্জও।

সময়ের পথপরিক্রমায় মানুষের চাহিদা ও জীবনযাপনে পরিবর্তনের ফলে দিন দিন স্মার্ট হোম অ্যাপ্লায়েন্সের চাহিদা বাড়ছে। ফলে নিত্যনতুন আর আধুনিক প্রযুক্তিপণ্যের সমাহার নিয়ে দেশসেরা ইলেকট্রনিকস ব্র্যান্ড যমুনা সদা তৎপর। দেশে উৎপাদিত রেফ্রিজারেটরের চাহিদা ক্রমাগত বাড়ছে। আশার কথা হচ্ছে ২০১০ সালে যেখানে ৮০ শতাংশ মার্কেট বিদেশী পণ্যের দখলে ছিল, ২০২০ সালের চিত্রটি পুরোপুরি উল্টো, এখন ৮০ শতাংশ মার্কেট শেয়ার দেশীয় ব্র্যান্ডগুলোর দখলে। সাশ্রয়ী মূল্য, গুণগত মান বজায় রাখার ফলে শহরের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দিনে দিনে মফস্বলেও রেফ্রিজারেটরের চাহিদা বাড়ছে। 

আমি আগেই বলেছি, আমরা দেশসেরা পণ্যটি উৎপাদন করছি। একদল দক্ষ ও নিবেদিতপ্রাণ কর্মী বাহিনী নিরলসভাবে কাজ করছেন সর্বোৎকৃষ্ট মানের পণ্যটি সাশ্রয়ী মূল্যে দেশের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে। আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত মানের ইনভার্টার কম্প্রেসর, সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী, দীর্ঘস্থায়ী, আকর্ষণীয় ডিজাইন আর দেশের আবহাওয়া উপযোগী যমুনা তার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যে অনন্য। 

জীবনের সব প্রয়োজন আয়োজনে পাশে থাকতে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী যমুনার অঙ্গপ্রতিষ্ঠান যমুনা ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড অটোমোবাইলস দেশের ১ নম্বর কোয়ালিটি হোম অ্যাপ্লায়েন্স উৎপাদন ও বাজারজাত করছে। আমাদের উৎপাদিত হোম অ্যাপ্লায়েন্সের মধ্যে রেফ্রিজারেটর, ফ্রিজার, এলইডি টিভি, এসি, ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওয়েভ ওভেন, ব্লেন্ডার, জুসার, ইলেকট্রিক কেটলি, আয়রন, গ্যাসস্টোভসহ অন্যান্য স্মল অ্যাপ্লায়েন্স। 

যমুনা রেফ্রিজারেটরগুলোর বিক্রয়োত্তর সার্ভিসের দরকার পড়ে না বললেই চলে। কারণ তাতে উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ত্রুটির পরিমাণ সর্বোচ্চ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ। তার পরও দেশব্যাপী ছড়িয়ে আছে যমুনা ইলেকট্রনিকসের সার্ভিস সেন্টার। প্রতি পাঁচ বছরে কম্প্রেসর পরিবর্তনের হার ১ শতাংশের নিচে, যা বাজারে প্রচলিত রেফ্রিজারেটরের তুলনায় অনেক কম। সাধারণত রেফ্রিজারেটর বা হোম অ্যাপ্লায়েন্স উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ৭ থেকে ১০ শতাংশ ত্রুটি থাকে। কিন্তু বাংলাদেশের একমাত্র রেফ্রিজারেটর ব্র্যান্ড যমুনা, যার উৎপাদন ত্রুটি বা প্রডাকশন এরর ১ শতাংশের নিচে।

দেশের সব জনগোষ্ঠীর ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনায় যমুনা রেফ্রিজারেটর বিভিন্ন সাইজ, ডিজাইন, ধারণক্ষমতা ও দামে পাওয়া যাচ্ছে। যমুনার রেগুলার রেফ্রিজারেটর ছাড়াও অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ইন্টেলিজেন্ট ইনভার্টার টেকনোলজির স্মার্ট ডাবল ডোর, ট্রি ডোর ও ক্রস ডোর রেফ্রিজারেটর, ডিপ ফ্রিজ এরই মধ্যে বাজারে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। সহজ কিস্তি, শূন্য শতাংশ ইন্টারেস্টে ইএমআই সুবিধায় ক্রেতা সহজেই যমুনার পণ্য কিনতে পারেন। ১০ বছরের ওয়ারেন্টি ও দেশব্যাপী প্রসারিত যমুনার সার্ভিস সেন্টারগুলোয় ক্রেতা সহজে বিক্রয়োত্তর সেবা নিতে পারবেন।

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে যমুনা ইলেকট্রনিকসে চলছে মিশন মিলিয়নেয়ার অফার। বাংলাদেশের যেকোনো যমুনা প্লাজা বা ডিলার থেকে যমুনার পণ্য কিনে জিতে নিতে পারেন স্বর্ণের চেইন, ফ্রিজ, টিভি, এসিসহ লাখ লাখ টাকার ঈদ উপহার! সঙ্গে নিশ্চিত ডিসকাউন্ট তো থাকছেই! ৩৬টি ব্যাংকে শূন্য শতাংশ ইন্টারেস্টে ইএমআই সুবিধা ছাড়াও রয়েছে সর্বনিম্ন ডাউন পেমেন্টে কিস্তির সুবিধা। শুধু তা-ই নয়, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতেও পণ্যের অতিরিক্ত দাম না বাড়িয়ে ক্রেতাদের কাছে সাশ্রয়ী মূল্যে সরবরাহ করছে প্রতিষ্ঠানটি। বাংলাদেশের যেকোনো এলাকা থেকে ক্রেতা অনলাইনে প্রডাক্ট অর্ডার করলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ফ্রি হোম ডেলিভারি দেয়া হয়। 

সরকারি ও নীতিনির্ধারক পর্যায়ে দেশীয় পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে সুযোগ ও গুরুত্ব দিতে হবে। ফলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রতিষ্ঠানগুলো অবদান রাখবে। রেফ্রিজারেটর উৎপাদনের আনুষঙ্গিক যন্ত্রাংশ ও সব ধরনের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্কহার হ্রাসসহ দেশীয় শিল্প বিকাশে সুযোগ দিতে হবে।