দিন বদলেছে, সঙ্গে বদলেছে মানুষের চিন্তাধারা। আগে নতুন বাড়ি করলে অনেকে বাস্তুশাস্ত্র মেনে তারপর রান্নাঘরের অবস্থান ঠিক করত, আর এখনকার সময়ে রান্নাঘর গোছানোর চিন্তা করা হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে। এভাবেই সেই গতানুগতিক দিন পেরিয়ে রান্নাঘর হয়ে উঠছে আধুনিক।

বর্তমানের জীবন পুরোটাই দৌড়ানোর জীবন। সকাল থেকে নানা কাজের পেছনে ছুটতে ছুটতে সে দৌড় গিয়ে শেষ হয় শোয়ার ঘরে। এ দৌড়ের একটি বড় অংশ যদি রান্নাঘর দখল করে ফেলে তাহলে চাপ পড়ে জীবনের বাকি অংশে। তাই রান্নাঘরেও এখন সবার গতি চাই। যেন সবজি কাটতে, মসলা বাটতে, খাবার গরম করতে বাড়তি সময় না যায়। এমন ভাবনা থেকেই মূলত স্মার্ট কিচেন তৈরির প্রবণতা দেখা দেয়। তার সঙ্গে রয়েছে রান্নাঘর স্বাস্থ্যসম্মত হওয়ার বিষয়টিও। 

বলা হয়, রান্না হলো মানসিক ও শারীরিক কাজের সমন্বয়। অনেকেই রান্নাকে শিল্পের সঙ্গেও তুলনা করে। সুতরাং যে কাজটি করতে গিয়ে শারীরিক ও মানসিক পরিশ্রম যাবে, সে কাজ করার জায়গাটি অবশ্যই আরামদায়ক ও সহজ হতে হবে। তাতে কাজটি করতে যেমন মানসিক কষ্ট হবে না, তেমন শারীরিক কষ্টও কম হবে।  আসলে স্মার্ট কিচেন বলতে যা বোঝায় তা পুরোপুরি মানুষের রুচির পরিবর্তনের ফসল। মসলা, গ্যাজেট ও অন্যান্য জিনিস নিয়মিত রান্নাঘরের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় স্থানান্তর হয়। তাই ব্যবহারের সুবিধার জন্য রান্নাঘরকে স্মার্টভাবে সাজানো খুব গুরুত্বপূর্ণ।

তাছাড়া আধুনিক জীবনে যেকোনো কিছু গোছানোর ক্ষেত্রে আরেকটি ভাবনার বিষয় হলো জায়গা। যেহেতু ব্যবহার করার মতো জায়গা কমে আসছে তাই কম পরিসরে কীভাবে অনেক কিছু গুছিয়ে রাখা যায় সেটা চিন্তা করা হচ্ছে বেশি। এমন অনেক বাসা দেখা যায়, যেখানে রান্নাঘরটা অনেক বেশি জায়গা নিয়ে গড়ে তোলা হলেও তার ম্যানেজমেন্ট ঠিকমতো হচ্ছে না। ফলে সেখানে বেশি জায়গা থাকলেও পণ্যগুলো এলোমেলো পড়ে থাকে বেশি। 

স্মার্ট কিচেনে চেষ্টা করা হয় স্বল্প পরিসরে অনেক কিছু সেট করতে। স্মার্ট কিচেনে যেসব যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয়, সেখানে স্পেস ম্যানেজমেন্টের জন্য দেখা হয় কোন পণ্যটি সবচেয়ে স্লিম। যেন একই সঙ্গে অনেক কিছু, যেমন ডিশওয়াশার, বিল্ডেড ফ্রিজ, মাইক্রোওয়েভ ওভেন সবই অল্প জায়গায় রাখা যায়। 

স্মার্ট কিচেন হবে পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন, স্বচ্ছ, যার প্রতিটি কর্নার থাকবে গৃহিণীর নাগালের মধ্যে। এমনকি রান্নাঘরের ওপরে হ্যাঙ্গিং যে অংশটা রয়েছে, সেটাও। এই কিচেনে পানির সদ্ব্যবহারের একটি বিষয় আছে, সেই সঙ্গে তা পরিবেশবান্ধব করার কথাও যথাযথভাবে ভাবেন ইন্টেরিয়র ডিজাইনাররা।

অন্দরসজ্জাবিদরা বলেন, আধুনিক সব প্রযুক্তির ছোঁয়া রাখার চেষ্টা করা হয় স্মার্ট কিচেনগুলোতে। সেদিক থেকে অটোমেশনের সর্বোচ্চ ব্যবহার হচ্ছে এখন। কিচেনের প্রতিটি জায়গায় সেন্সরের ব্যবহার নিশ্চিত করা হচ্ছে, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স যাকে বলে। প্যানেল খোলার সঙ্গে সঙ্গে লাইট জ্বলে উঠবে। স্পর্শ ছাড়াই বার্নার চালু হয়ে যাবে, ভ্যাকুয়ামটাও অটো চালু হবে। এসবই হবে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে। লেটেস্ট টেকনোলজির অনেক কিছু স্মার্ট কিচেন ক্যাবিনেটের সঙ্গে ব্যবহার করা হচ্ছে। এর অনেকগুলো আনটাচেবল, অনেকগুলোয় আছে সেন্সর। এমনকি ক্যাবিনেটগুলো কত কেজি লোড নিতে পারবে সেটাও উল্লেখ করা থাকে। 

এভাবেই নতুন নতুন যন্ত্রপাতি, প্রযুক্তি ও বিকল্প পণ্যের মিশেলে সাজানো রান্নাঘর মেটাচ্ছে আধুনিক জীবনের দৈনন্দিন প্রয়োজন।