বর্তমানে সরকারের ফাস্ট ট্র্যাক বা অগ্রাধিকারভুক্ত প্রকল্পের সংখ্যা আট। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে এ আট প্রকল্পের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পে। নির্মাণকাজ শুরুর পর থেকে প্রতি বছরের বাজেটেই সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ পেয়ে আসছে এ প্রকল্প। নতুন অর্থবছরে প্রকল্পটির জন্য ৯ হাজার ৭০৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। চলতি অর্থবছর রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প বরাদ্দ পায় ১৩ হাজার ৩৯৫ কোটি টাকা। তবে এ বরাদ্দ সংশোধন করে ১১ হাজার ১৩৯ কোটি নির্ধারণের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী।
রূপপুরে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মাণ করছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান রোসাটম। প্রকল্পের মোট খরচ ধরা হয়েছে ১ হাজার ২৬৫ কোটি ডলার বা ১ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা। এর ৯০ শতাংশই আসছে রাশিয়ার ঋণ হিসেবে, যা পরিশোধ করতে হবে ২৮ বছরে। ২০২৪ সালে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি চালু করার কথা রয়েছে।
ফাস্ট ট্র্যাকভুক্ত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রূপপুরের পর সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ পেতে যাচ্ছে মাতারবাড়ী আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কোল ফায়ার্ড বিদ্যুৎ প্রকল্প। এ প্রকল্পটিতে আগামী অর্থবছর ৮ হাজার ৯৪৭ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে প্রকল্পটির অনুকূলে বরাদ্দ রয়েছে ৬ হাজার ৫৫৪ কোটি টাকা।
এছাড়া ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের মাধ্যমে ঢাকার জন্য বর্তমানে তিনটি মেট্রোরেল নির্মাণ প্রকল্প চলমান। এর মধ্যে উত্তরা থেকে মতিঝিল হয়ে কমলাপুর পর্যন্ত নির্মাণাধীন এমআরটি লাইন-৬-এর জন্য নতুন অর্থবছরের বাজেটে ৩ হাজার ৪২৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। মেট্রোরেলের এ লাইনটির উত্তরা-আগারগাঁও অংশ গত বছর উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী। চলতি বছরের ডিসেম্বর নাগাদ মতিঝিল পর্যন্ত লাইনটি চালুর লক্ষ্য রয়েছে। গতকাল অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তৃতায় জানান, ২০২৫ সালের মধ্যে লাইনটি কমলাপুর পর্যন্ত সম্প্রসারিত হবে।
ঢাকার প্রথম পাতাল মেট্রোরেল (এমআরটি লাইন-১) গড়ে তোলা হচ্ছে বিমানবন্দর থেকে কমলাপুরের মধ্যে। নতুনবাজার থেকে পূর্বাচল পর্যন্ত একই মেট্রোরেলের জন্য উড়াল অংশও নির্মাণ করা হচ্ছে। গত ফেব্রুয়ারি মেট্রো লাইনটির নির্মাণকাজ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী। আসন্ন অর্থবছরের বাজেটে এ মেট্রোরেল লাইনটির জন্য ৩ হাজার ৯১০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী।
অন্যদিকে কাজ শুরুর অপেক্ষায় থাকা হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা মেট্রোরেলের (এমআরটি লাইন-৫, নর্দান রুট) জন্য ৮৮০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। ফাস্ট ট্র্যাকভুক্ত পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পে আগামী অর্থবছরের জন্য ৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকা এবং পায়রা সমুদ্রবন্দরের প্রথম টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পে ১ হাজার ৫৩১ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী।
ফাস্ট ট্র্যাকভুক্ত পদ্মা বহুমুখী সেতু ও রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র এরই মধ্যে চালু হয়েছে। শেষের পথে চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প।
আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে অগ্রাধিকারভুক্ত এসব প্রকল্প ছাড়াও চলমান বড় প্রকল্পগুলোর মধ্যে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পে ৫ হাজার ৮৭০ কোটি টাকা, কর্ণফুলী টানেল প্রকল্পে ৭৩৫ কোটি ১৮ লাখ টাকা, বড়পুকুরিয়া-বগুড়া-কালিয়াকৈর ৪০০ কেভি লাইন প্রকল্পে ১ হাজার ৫৪২ কোটি টাকা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতু প্রকল্পে ৩ হাজার ৭৭৮ কোটি টাকা, টাঙ্গাইল-রংপুর মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে ২ হাজার ৫৪ কোটি টাকা এবং ঢাকা-সিলেট সড়ক করিডোর উন্নয়ন প্রকল্পে ১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী।





