আগামী ২০২৩-২৪ অর্থবছরে হোটেল নির্মাণ খাতের বিদ্যমান শুল্ক সুবিধা তুলে দেয়ার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ফলে হোটেল নির্মাণের ক্ষেত্রে সাজসজ্জা উপকরণ এবং যন্ত্রপাতি আমদানিতে ১০ শতাংশের ক্ষেত্রে ১১০ শতাংশ শুল্ক পরিশোধ করতে হবে। এতে বিলাসী তারকা হোটেল নির্মাণ ব্যয় বৃদ্ধি পাবে।

এ বিষয়ে বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘‌বর্তমানে দেশে বৃহৎ আকারের এবং উন্নতমানের হোটেল গড়ে উঠেছে। হোটেল শিল্পকে রেয়াতি সুবিধা প্রদানের জন্য প্রায় এক দশক আগে হোটেল নির্মাণসংশ্লিষ্ট রেয়াতি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এ সুবিধায় এরই মধ্যে অনেক হোটেল গড়ে ওঠায় বর্তমান প্রেক্ষাপটে রাজস্ব সুরক্ষার স্বার্থে এ খাতে শুল্ক কর অব্যাহতি চলমান রাখা অপ্রয়োজনীয় মর্মে প্রতীয়মান। তাই বিদ্যমান প্রজ্ঞাপনটি বিলুপ্ত করার প্রস্তাব করছি।’

আর পর্যটন ও এভিয়েশন খাতে এবার ৬ হাজার ৫৯৭ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। যেখানে গত ২০২২-২৩ অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল ৭ হাজার ৪ কোটি টাকা।

পর্যটন খাতের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘‌পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের জন্য পঁচিশ বছর মেয়াদি একটি ‘‌পর্যটন মহাপরিকল্পনা’ প্রণয়ন করা হচ্ছে। জাতীয় শিল্পনীতি ২০২২-এ পর্যটনকে উল্লেখযোগ্য শিল্প হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। দেশের আর্থসামাজিক অগ্রগতি এবং দেশীয় ও বিদেশী জনগণের ক্রমবর্ধমান চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পর্যটন শিল্পকে পরিবেশবান্ধব, নিরাপদ ও টেকসই করে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’ 

অপরিকল্পিত পর্যটন নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে তিনি জানান, কক্সবাজার, সেন্টমার্টিন ইত্যাদি পর্যটন কেন্দ্রে অপরিকল্পিতভাবে হোটেল-মোটেল নির্মাণ বন্ধ করা, পর্যটকদের ভ্রমণ পর্যটন কেন্দ্রের ধারণক্ষমতার মধ্যে রাখার পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। তাছাড়া জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের স্বার্থে স্থানীয় জনগণ, ব্যবসায়ী ও অন্যান্য অংশীজনকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার জন্য উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পর্যটন খাতকে সমৃদ্ধ করতে আন্তর্জাতিক মানের আবাসন ও বিনোদন সুবিধা নিয়ে সাবরাং ট্যুরিজম পার্ক, নাফ ট্যুরিজম পার্ক এবং সোনাদিয়া ইকো ট্যুরিজম পার্ক তৈরি করা হচ্ছে।