কৃষি খাতে প্রস্তাবিত বাজেটে বরাদ্দ বেড়েছে ১ হাজার ৬৭৬ কোটি টাকা। তবে টাকার অংকে বাড়লেও খাতওয়ারির নিরিখে এবার এ খাতে বরাদ্দ কমেছে শতকরা দশমিক ৩৩ ভাগ। আগামী ২০২৩-২৪ অর্থবছরে কৃষি, খাদ্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ বিভাগে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩৫ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের শতকরা ৪ দশমিক ৬৪ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল ৩৩ হাজার ৬৯৮ কোটি টাকা বা মোট বাজেটের ৪ দশমিক ৯৭ শতাংশ।
জাতীয় সংসদে গতকাল বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ‘কৃষি উপকরণ সহায়তা কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের কৃষি উপকরণ ও ঋণসহায়তা দেয়া হচ্ছে। কার্ডধারী কৃষকের সংখ্যা বর্তমানে প্রায় দুই কোটিতে উন্নীত হয়েছে। সব কৃষককে স্মার্টকার্ড দেয়ার জন্য আমরা উদ্যোগ নিয়েছি। ফসলের উৎপাদন ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির জন্য সরকারের পক্ষ থেকে দেয়া হচ্ছে সাশ্রয়ী মূল্যে সার, বীজ ও অন্যান্য উপকরণ এবং সেচ সুবিধা। আর সেচকাজে ব্যবহৃত বিদ্যুৎ বিলে ২০ শতাংশ হারে রেয়াত প্রদান করা হচ্ছে। কৃষি যান্ত্রিকীকরণের জন্য হাওর ও উপকূলীয় এলাকায় ৭০ শতাংশ ও অন্যান্য এলাকায় ৫০ শতাংশ উন্নয়ন সহায়তায় ৫১ হাজার ৩০০টি কৃষি যন্ত্রপাতি সরবরাহের কার্যক্রম পরিচালনা করছি।’
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড়, পাহাড়ি ঢল ইত্যাদি প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে নিতে কৃষকদের ভর্তুকির পাশাপাশি প্রণোদনা ও পুনর্বাসন সুবিধা দেয়া হচ্ছে। কৃষি খাতে অবদানের জন্য সরকার কৃষি খাতে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি “এআইপি” সম্মাননা পদকের প্রবর্তন করেছে। ২০২২ সালে প্রথমবারের মতো এ পদক দেয়া হয়।
কৃষি যান্ত্রিকীকরণ ও উন্নত প্যাকেজিং ব্যবস্থার মাধ্যমে ফসল সংগ্রহোত্তর ক্ষতি কমিয়ে আনা হচ্ছে। সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে আধুনিক সংরক্ষণাগার, প্যাকেজিং হাউজ, কুল চেইনসহ অন্যান্য সুবিধা স্থাপনকে উৎসাহিত করা হচ্ছে সরকারের পক্ষ থেকে। কৃষিপণ্য রফতানি বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে কেন্দ্রীয় প্যাকিং হাউজে স্থাপিত উদ্ভিদ সঙ্গনিরোধ ল্যাবরেটরিকে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করা হচ্ছে। বর্তমানে ৭০টির বেশি সবজি ও ফল বিদেশে রফতানি হচ্ছে। কৃষিপণ্য রফতানিতে এরই মধ্যে ১০০ কোটি ডলার আয়ের মাইলফলক অতিক্রম করেছি আমরা।’
বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত বিচক্ষণতার সঙ্গে আমাদের নির্দেশনা দিয়েছেন যেন এক ইঞ্চি জমিও অনাবাদি না থাকে। তার নির্দেশনামতো সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ সারা দেশে পতিত ও অব্যবহৃত জমিতে চাষাবাদ শুরু হয়েছে। এছাড়া পেঁয়াজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, ভোজ্যতেলের আমদানি হ্রাস, আলু রফতানি বৃদ্ধি, কাজুবাদাম, কফিসহ রফতানিমুখী ফষলের উৎপাদন বৃদ্ধির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। খাদ্যশস্যের পাশাপাশি আম, পেয়ারা, কুল, কলা, পেঁপেসহ বিভিন্ন উদ্যানভিত্তিক ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি করা হচ্ছে। পারিবারিক পুষ্টি বাগান প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি ইউনিয়নে ১০০টি করে মোট ৪ লাখ ৮৮ হাজার ৪০০টি পারিবারিক সবজি বাগান স্থাপনের কাজ চলছে। এরই মধ্যে ২ লাখ ৫২ হাজার ৯৬টি বাগান স্থাপিত হয়েছে।’





