দেশের সিরামিক খাতের বর্তমান বাজার, সমস্যা, সম্ভাবনা এবং এ খাতের উন্নয়নে আগামী বাজাটে কী ধরনের সুবিধা প্রত্যাশা করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা— এসব বিষয় নিয়ে বণিক বার্তার সঙ্গে আলাপচারিতায় কথা বলেছেন মেঘনা সিরামিকস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের সিওও এ কে এম জিয়াউল ইসলাম
সিরামিক কারখানায় মেঘনা গ্রুপের বিনিয়োগ কত?
৫০০ কোটি
টাকা প্রায়।
মোট কতজনের কর্মসংস্থান হয়েছে?
প্রায় এক
হাজার জনের
কর্মসংস্থান হয়েছে।
কারখানাটি কোথায়
অবস্থিত?
আশারিয়ারচর, মেঘনাঘাট,
সোনারগাঁ, নারায়ণগঞ্জ।
অত্যাধুনিক এ
ফ্যাক্টরি কমপ্লেক্সে
কর্মরত জনবলের
বাসস্থানের সুব্যবস্থা
করা হয়েছে।
আরো আছে
মসজিদ ও
চিকিৎসার ব্যবস্থা।
কেন মেঘনা
গ্রুপ সিরামিকসে বিনিয়োগে আগ্রহী হলো?
বিল্ডিং ম্যাটেরিয়াল
খাতে মেঘনা
গ্রুপের বড়
বিনিয়োগ রয়েছে,
ফ্রেশ সিমেন্ট
বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয়
ব্র্যান্ডগুলোর একটি।
এছাড়া বাংলাদেশে
শহরায়ণ মাত্র
শুরু হয়েছে।
তাই ক্রমবর্ধমান
চাহিদাও মেঘনা
গ্রুপ অব
ইন্ডাস্ট্রিজের ডাইভারসিফিকেশনের
অংশ হিসেবে
এ খাতে
বিনিয়োগ করা
হয়েছে। ভোক্তাসাধারণকে
গুণগত মানসম্পন্ন
পণ্য এবং
নির্দিষ্ট সময়ে
সরবরাহের নিশ্চয়তা
নিয়ে আসছে
ফ্রেশ সিরামিকস।
কত সালে
এ বিনিয়োগ ও কারখানার কাজ শুরু
করেছে?
জানুয়ারি, ২০১৯
সালে ফ্যাক্টরির
কার্যক্রম শুরু
করা হয়।
ফ্রেশ সিরামিকের আলাদা বৈশিষ্ট্য কী থাকছে?
বিশ্বমানের মেশিনারিজ
এবং ৪
দশমিক শুন্য
প্লাস প্রযুক্তির
প্রতিশ্রুতি নিয়ে
এটি বাজারের
অন্যান্য সিরামিক
টাইলসের চেয়ে
উন্নত। এটি
হবে নান্দনিক
ও অনন্য।
প্রতি বর্গফুটের দাম কত?
মেঘনা গ্রুপ
অব ইন্ডাস্ট্রিজ
সব সময়ই
সাশ্রয়ী মূল্যে
সর্বোচ্চ মানের
পণ্য বাজারজাত
করে থাকে।
তাই বাজারের
সঙ্গে মিল
রেখে পণ্যের
মূল্য নির্ধারণ
করা হবে।
কোন এলাকায় বাজার ধরতে
চায়?
আমাদের সম্পূর্ণ
পরিসরে সব
ধরনের গ্রাহকের
কথা মাথায়
রেখে পণ্য
বাজারে আনা
হবে।
দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা কত?
৪০ হাজার
স্কয়ার মিটার।
কত ধরনের
সিরামিক তৈরি
করছে বর্তমানে?
দুই ধরনের।
সব ধরনের
ওয়াল ও
ফ্লোরের জন্য
সিরামিক টাইলস
তৈরি হবে।
দেশের সিরামিক ইন্ডাস্ট্রি পণ্য
উৎপাদনে কতটা
স্বয়ংসম্পূর্ণ?
বর্তমানে ৯
হাজার কোটি
টাকার মার্কেট
রয়েছে, যা
ভবিষ্যৎ চাহিদার
মাত্র ২০
শতাংশ।
সিরামিক ইন্ডাস্ট্রির পরিবেশগত প্রভাবের বিষয় আছে
কি? এক্ষেত্রে দেশের সিরামিক শিল্প প্রকল্পগুলো কতটা সচেতন?
পরিবেশের ওপর
তেমন কোনো
প্রভাব নেই।
দেশের বড়
করপোরেটরা এখন
সিরামিকসে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছে। এ খাতে
অতিরিক্ত বিনিয়োগ হচ্ছে, এমন
পরিস্থিতি হয়েছে
কি?
এমন পরিস্থিতি
এখনো তৈরি
হয়নি।
বিদেশ থেকে
তৈরি সিরামিক পণ্য আমদানিতে আন্ডার-ইনভয়েসিংজনিত কারণে শুল্ক
ফাঁকির ঘটনা
আছে, এতে
করে দেশীয়
শিল্পের প্রতিযোগিতায় কোনো প্রভাব আছে কি?
এমন পরিস্থিতি প্রতিরোধে করণীয়
কী?
তেমন কোনো
প্রভাব নেই।
বরং বিদেশী
পণ্যের কারণে
আমরা আমাদের
পণ্যের মান
প্রতিনিয়ত উন্নত
করে থাকি।
দেশীয় সিরামিক শিল্প খাতের
সুরক্ষায় দেশীয়
টাইলস ও
স্যানিটারি পণ্যের উৎপাদন পর্যায়ে সম্পূরক শুল্ক
আরোপ আছে।
এ বিষয়ে
বাজেটে কোনো
দিকনির্দেশনা আশা
করছেন?
আশা তো
অবশ্যই করছি।
সরকার যেটা
ভালো মনে
করবে সেটা
করবে।
কাঁচামাল ও
উপকরণের ওপর
থেকে আমদানি শুল্ক হ্রাসের প্রস্তাবনা আছে
বাংলাদেশ সিরামিক ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিএমএ) পক্ষ
থেকে। এ
বিষয়ে আপনার
মত কী?
হলে ভালো
হয়।
কাঁচামাল আমদানিতে পানি ও
ময়েশ্চার সমন্বয়ে বাজেটে কোনো
প্রত্যাশা আছে?
সামগ্রিকভাবে বাজেট
থেকে সিরামিক খাতের প্রত্যাশা কী?
হ্যাঁ আছে। কারণ এ ময়েশ্চারটার ওপর ট্যাক্স ডিউটি দিই যেটা আমাদের সম্পূর্ণরূপে লস হয়। সুতরাং সরকার যদি এ ব্যাপারে কিছুটা সমন্বয় করে, তাহলে সিরামিক খাতে কিছুটা কম ক্ষতির সম্মুখীন হবে।





