২০২০ সাল পর্যন্ত দেশের সিমেন্ট খাতে বিনিয়োগ ছিল ৩০ হাজার কোটি টাকারও বেশি, যা বর্তমানে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০ হাজার কোটি টাকার মতো। ২০২১ সালে বাংলাদেশের সিমেন্ট ইন্ডাস্ট্রিজের কার্যকরী উৎপাদনক্ষমতা ছিল প্রায় ৭ কোটি ৮০ লাখ টন। এ অবস্থায় দেশের সিমেন্ট খাতে চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের দাম ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং কভিড-পরবর্তী অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের বিষয়ে বণিক বার্তার সঙ্গে কথা বলেছেন ইউনিক সিমেন্ট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক মো. খোরশেদ আলম
দেশের সিমেন্ট খাতের সম্ভাবনা ও বর্তমানে সবচেয়ে বড় সংকট কী?
বাংলাদেশে সিমেন্ট খাতের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। এখন পর্যন্ত আমাদের দেশে জনপ্রতি সিমেন্ট ব্যবহারের পরিমাণ প্রায় ২২৭ কেজি, যেখানে বিশ্বে জনপ্রতি গড় ব্যবহার ৫০০ কেজির মতো। এছাড়া গত ছয় বছর সিমেন্ট খাতে গড় প্রবৃদ্ধি ১১ শতাংশেরও বেশি। বাংলাদেশে সিমেন্ট ইন্ডাস্ট্রির সম্ভাবনা যদিও অপরিসীম, কিন্তু এ খাতের উন্নয়নে কিছু বাধাও আছে। যেমন চাহিদার তুলনায় উৎপাদনক্ষমতা দ্বিগুণের বেশি। ফলে বাজারে অসম মূল্য প্রতিযোগিতার কারণে বিনিয়োগকারীরা কাঙ্ক্ষিত মুনাফা পাচ্ছেন না; বরং ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এছাড়া আপনারা জানেন, সিমেন্ট উৎপাদনের মূল উপাদান ক্লিংকারসহ অন্যান্য উপাদানের প্রায় শতভাগ আমদানি করা হয়। ক্লিংকারের ক্রমবর্ধমান দাম এবং ডলারের বিপরীতে টাকা দুর্বল হয়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ বেড়েছে বহুলাংশে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে জাহাজ ভাড়া দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে, যার প্রভাবে উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। এছাড়া সরকারের শুল্ক নীতিমালা এ খাতের বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করছে।
সংকট মোকাবেলায় বাজেটের ভূমিকা কী হতে পারে?
সংকট মোকাবেলায় কাঁচামালের ওপর বাড়তি শুল্ক ও অগ্রিম আয়করের হার কমানো, ফ্লাই অ্যাশের ওপর আরোপিত নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক প্রত্যাহার, সর্বোপরি অগ্রিম আয়কর ফেরতযোগ্য করা (রিফান্ডেবল) প্রয়োজন। এছাড়া আবাসন খাতে প্রণোদনার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
এবারের বাজেট থেকে সিমেন্ট খাতের প্রত্যাশা কী?
কাঁচামালের আমদানি শুল্ক কমানো দরকার। বিশেষত ক্লিংকারের ট্যারিফ ৫০০ থেকে কমিয়ে আগের মতো ৩০০ টাকায় ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন। জিপসাম, লাইমস্টোন, স্ল্যাগ ও ফ্লাই অ্যাশের অগ্রিম আয়কর ২ শতাংশ করা এবং আগের মতো ফেরতযোগ্য করা দরকার।
সিমেন্ট খাতের সর্বশেষ বিনিয়োগ, উৎপাদন ও চাহিদা সম্পর্কে জানতে চাই।
২০২০ সাল পর্যন্ত সিমেন্ট খাতে বিনিয়োগ ছিল ৩০ হাজার কোটি টাকারও বেশি, যা বর্তমানে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০ হাজার কোটি টাকার মতো। ২০২১ সালে বাংলাদেশের সিমেন্ট ইন্ডাস্ট্রিজের কার্যকরী উৎপাদনক্ষমতা ছিল প্রায় ৭ কোটি ৮০ লাখ টন। বাজারে চাহিদা ছিল প্রায় ৩ কোটি ৮৯ লাখ ৫০ হাজার টন।
চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রেক্ষাপটে সিমেন্ট খাতের ভবিষ্যৎ কী?
সরকারি মেগা কনস্ট্রাকশন প্রজেক্ট, বাণিজ্যিক কনস্ট্রাকশন ও ক্রমবর্ধমান বাসস্থান নির্মাণের জন্য বাংলাদেশে সিমেন্টের চাহিদা আগামী দিনগুলোয় আরো বাড়বে বলে আশা করা যায়। টেকসই উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও খাতটির ভূমিকা অপরিসীম। বাংলাদেশের সিমেন্ট শিল্প সর্বোপরি নতুন বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।





