কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে (এআই) নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রশ্নে তিনটি সংকট এখন একসঙ্গে ঘনীভূত হচ্ছে। প্রথম সংকট নিয়ন্ত্রক সক্ষমতার। উন্নত মডেল তৈরির কম্পিউটিং শক্তি, তথ্য ও দক্ষতা অল্প কয়েকটি প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানের হাতে কেন্দ্রীভূত। ফলে নিয়ন্ত্রক সংস্থা স্বাধীন হলেও কোম্পানিগুলোর তুলনায় কম জানতে পারে—কী মাপতে হবে, কী নিরীক্ষা করতে হবে বা কোথায় সীমা আরোপ জরুরি। দ্বিতীয় সংকট রাষ্ট্রগুলোর পারস্পরিক অবিশ্বাস। যুক্তরাষ্ট্র মনে করে, গতি কমালে চীন প্রযুক্তিগত বা সামরিক সুবিধা পেতে পারে; চীনও সন্দেহ করতে পারে, নিরাপত্তার আহ্বানের আড়ালে যুক্তরাষ্ট্র নিজের প্রযুক্তিগত আধিপত্য ধরে রাখতে চায়। ফলে একতরফা সংযম ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে এবং প্রতিযোগিতা বাড়ে।

তৃতীয় সংকট মানুষ ও এআইয়ের সম্পর্ক নিয়ে। স্বয়ংক্রিয়তা বাড়লে মানুষ হয়তো বুঝতে পারবে না, কোন ব্যবস্থায় কোন আচরণ করছে। কিন্তু বর্তমান ব্যবস্থা এখনো প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর্যায়ে পৌঁছেনি, তবে মূল্যায়ন বুঝে ফেলা, পুরস্কার ব্যবস্থার দুর্বলতা কাজে লাগানো এবং প্রতারণামূলক আউটপুট তৈরির আচরণ দেখা গেছে। এ তিন সংকট একে অন্যকে আরো জটিল করে তুলছে। তাই সমাধানও একসঙ্গে তিন ক্ষেত্রেই করতে হবে।

এআই বোঝার মতো কারিগরি সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং স্বাধীনভাবে মডেল পরীক্ষা ও গুরুতর ঘটনার রিপোর্ট নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর মধ্যে যোগাযোগ ও আস্থা বাড়াতে হবে, যাতে কোনো দুর্ঘটনা বা ভুল বোঝাবুঝি বড় সংঘাতে রূপ না নেয়। আর উন্নত এআই ব্যবস্থাকে এমনভাবে তৈরি ও পর্যবেক্ষণ করতে হবে, যাতে প্রয়োজন হলে মানুষ সেটিকে নিয়ন্ত্রণ, সীমিত বা বন্ধ করতে পারে।

[সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের এক নিবন্ধে] হাও নান: হেলসিংকি জিওইকোনমিকস সোসাইটির সুসান স্ট্রেঞ্জ অ্যাসোসিয়েট ফেলো