দূষণ প্রাণবায়ুতে যে বিষ ঢেলে দিচ্ছে, তা থেকে নিস্তার পেতে ঢাকার নগর কর্তৃপক্ষের প্রস্তুতি কী? চীনে বায়ুদূষণের ভয়াবহতা সম্পর্কে আমরা অবগত। দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আমাদের সচেতন হওয়ার তাগিদ দিচ্ছে। যদিও নির্ভারচিত্তে আমরা আমাদের ক্রিকেটারদের সেখানে খেলতে পাঠিয়ে দিয়েছি! দূষণের ফলে চীনের কিছু শহরের অবস্থা এমন হয়েছিল যে, কয়েকটি জায়গা সবসময় ধোঁয়াশায় আচ্ছন্ন থাকত। বায়ুদূষণের কারণে মহাসড়ক বন্ধ রাখা, ফ্লাইট বাতিলের মতো ঘটনাও ঘটেছে। এতে ভয়ংকর স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে পড়তে হয়েছে চীনের নাগরিকদের। পরবর্তী সময়ে দেশটির সরকারের নানা উদ্যোগ গ্রহণের ফলে পরিস্থিতির উন্নতির আভাস মেলে। এদিকে ঢাকার দূষণ পরিস্থিতির দিকে চোখ ফেরালে খুব একটা আশার চিত্র চোখে পড়ে না।

ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চলছে ঢাকাকে ঘিরে। সে কর্মযজ্ঞে পরিবেশ-প্রতিবেশ, মানুষের সমস্যা-সুবিধাগুলোকে কী আমলে নেয়া হচ্ছে? উত্তরটা না। অথচ দূষণ কাঙ্ক্ষিত টেকসই উন্নয়নের অন্তরায়। উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে যদি প্রকৃতি-পরিবেশ ও জনমানুষের সুবিধা-অসুবিধা আমলে না নেয়া হয়, তবে সেখানে দূষণ ঘটবে—এ কথা পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের। তাই যেকোনো উন্নয়নকাজে পরিবেশের বিষয়গুলোকে যদি সঠিকভাবে চিহ্নিত করা না হয়, তবে দূষণ বৃদ্ধি পায়। সবচেয়ে সহজ কথাটি হচ্ছে, পরিবেশের ওপর সবসময় মানুষসৃষ্ট কর্মকাণ্ডের প্রভাব সবসময়ই পড়ে। এ মুহূর্তে ঢাকায় বেশ কয়েকটি মেগা-মাঝারি-ছোট প্রকল্পের কাজ চলছে। যেসব স্থানে মেট্রোরেলের কাজ চলছে, সেখানকার বাতাসে ধুলা-বালির পরিমাণ স্বাভাবিকভাবেই বেশি।

উন্নত দেশগুলোয় কোনো প্রকল্পের কাজে নামার আগে প্রশমন পরিকল্পনা বিবেচনায় নেয়া হয়। প্রকল্প যখন বাস্তবায়ন হবে তখন এটি অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং পরিবেশগতভাবে কী ধরনের ইতিবাচক ও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে, তা নির্ণয় করা হয়। জনদুর্ভোগ কমানোর ব্যবস্থাগুলো সম্পর্কে উল্লেখ থাকে। ঢাকার চলমান প্রকল্পগুলোর ক্ষেত্রেও বোধকরি জনপরিবেশের ওপর প্রভাবের বিষয়টি মূল্যায়ন করা হয়েছে। তাহলে দূষণ না কমার কারণ কী? কারণ দূষণ নিয়ন্ত্রণমূলক প্রস্তুতিগুলোকে আমলে না নেয়া। বিগত বছরগুলোয় দেশের জিডিপি ও মাথাপিছু আয়ের পরিমাণও বেড়েছে। সংখ্যাতাত্ত্বিক বিচারে বাংলাদেশের উন্নয়ন ও উন্নয়ন সূচকগুলো স্পষ্ট হলেও পরিবেশগত ও সামাজিক দিকগুলো অগ্রাহ্য থেকেই যাচ্ছে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের দাবি, রাজধানীতে দূষণকারী প্রতিষ্ঠানের বেশির ভাগই সরকারি হওয়ায় তারা কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি। অর্থনৈতিক শ্রীবৃদ্ধির জন্য উন্নয়ন আবশ্যক। তবে উন্নয়ন যদি শুধু অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকেন্দ্রিক হয়, আর পরিবেশের বিষয়গুলো উপেক্ষা করা হয় সেক্ষেত্রে দূষণ বাড়ে।

ভারতের গণমাধ্যমের বরাতে, দিল্লির বেশ কয়েকটি স্থানে বাতাসের গুণমান সূচক ৫০০ ছাড়িয়েছে। বাতাসের গুণমান সূচক (একিউআই) ০ থেকে ৫০-এর মধ্যে থাকলে তা স্বাস্থ্যের পক্ষে গ্রহণযোগ্য। ৫০ থেকে ১০০-এর মধ্যে একিউআই থাকলে সন্তোষজনক। ১০০ থেকে একিউআই মন্দের ভালো। কিন্তু তা পেরিয়ে গেলে সেই বাতাস স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকারণ বলে মনে করা হয়। এ অবস্থায় কয়েক দিন দিল্লির সব স্কুল বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। তাছাড়া দূষণ কমাতে দিল্লির কয়েকটি স্থানে সব ধরনের নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

ঢাকার বাতাসে ধুলাবালির পরিমাণ বাড়ছে। শীত শুরু হওয়ার পর তা আরো বাড়বে বলেই অনুমেয়। দিল্লির বাতাস পরিশুদ্ধ করতে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করছে সেখানকার কর্তৃপক্ষ। বাতাসে বিষাক্ত কণার পরিমাণ কমাতে কৃত্রিম বৃষ্টির কথা ভাবা হচ্ছে, চলছে কৃত্রিম মেঘ তৈরির আয়োজন। বিপরীতে ঢাকার নগর কর্তৃপক্ষের প্রস্তুতি কী? এদিকে গত ৭ অক্টোবর সকাল ৮টায় বাতাসের গুণমান সূচক ঢাকার স্কোর ছিল ২২২, যা কিনা রীতিমতো শঙ্কার।

মাস ছয়েক আগের কথা। শহরের বায়ুদূষণ পরিস্থিতি