আমরা সেমিনারে এসে ভালো ভালো কথা বলি। কিন্তু ডেভেলপারদের উচিত তাদের চিন্তাভাবনা প্রস্তাব আকারে সরকারের কাছে জমা দেয়া। একটা গণতান্ত্রিক সরকার এখন ক্ষমতায় আছে। সরকারকে সহযোগিতা করার জন্য সুপারিশগুলো যদি পৌঁছে দিতে পারি, তাহলে সরকার সেগুলো বিবেচনা করতে পারে। এর বাইরে আমাদের আরো কিছু করা দরকার।
আমরা আগে মনে করতাম, গ্যাস ও বিদ্যুৎ পাব—এটা যেন আমাদের ন্যাচারাল রাইট (সহজাত অধিকার)। কিন্তু পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এ পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে অন্তর্ভুক্তিমূলক জ্বালানি ব্যবস্থাপনার জন্য, বিশেষ করে এক্ষেত্রে আমাদের গৃহায়নকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য কী করা প্রয়োজন।
আমরা জানি, এখন আমাদের বিভিন্ন শহরের উন্নয়ন হচ্ছে। এসব শহরে কীভাবে জ্বালানির সংযোগ দেয়া যায়, সেটি গুরুত্বপূর্ণ। একটা বাস্তবতা হচ্ছে, আমরা সরকারের কাছে সবসময় বলছি—গ্যাস দাও, জ্বালানি দাও। কিন্তু আমাদের বুঝতে হবে, গ্যাস আহরণ বা জ্বালানি সরবরাহ করা একটা কঠিন কাজ। এর অনেক সীমাবদ্ধতা আছে।
সেজন্য আমাদের উচিত হবে প্রত্যেকটি খাত গড়ে তোলার আগে সেখানে জ্বালানির একটা পরিকল্পনা করা। অর্থাৎ একটা শহরের প্রত্যেকটি খাতে কনক্লেভের মতো করে স্টোরেজের ব্যবস্থা করতে হবে। এলপিজি স্টোরেজ করা যেতে পারে। এলপিজি স্টোরেজ করা হলে সেখান থেকে বিভিন্ন বাসাবাড়িতে সংযোগ দেয়া সম্ভব। তখন সিলিন্ডার বহন করার প্রয়োজনই হবে না।
এটা অন্য অনেক জায়গায় হয়েছে। ঢাকায় আমরা অনেকগুলো এলপিজি কোম্পানিকে জ্বালানি সরবরাহ করতে দেখি। কিন্তু বাসায় বা কোনো জায়গায় দোতলা, তিনতলা, চারতলা বা পাঁচতলায় সিলিন্ডার ক্যারি করে নিয়ে যাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। এগুলো করার জন্য রাজউকের যে কাজটি করা উচিত, তা হলো প্রত্যেক সেক্টরে তাদের কিছু জায়গা রাখতে হবে। কারণ এখানে সেফটি ইস্যু আছে। ১৫ মিটার, ১০ মিটার—এ রকম নির্দিষ্ট দূরত্ব রেখে একটা স্টোরেজ ডেভেলপ করতে হবে এবং এটা যাতে সবার জন্য ম্যান্ডেটরি হয়, সেই ব্যবস্থা করা উচিত।

আরেকটা বিষয় আছে, যেটা বাধ্যতামূলক করা উচিত। যারা স্বাধীনভাবে বাড়ি করছেন, প্রত্যেকেরই হয়তো নিজস্ব সোলার সিস্টেমের জন্য বিশেষ কিছু ব্যবস্থা করা সম্ভব। যেমন ২৫ শতাংশ বা ১৫ শতাংশ বা ২০ শতাংশ—এ ধরনের একটা অংশ সোলার সিস্টেমের জন্য রাখা যেতে পারে। এগুলো আইনের ভেতরে ইনক্লুসিভ করা উচিত, যাতে আমরা সবাই বাসাবাড়ি করার সময় বিষয়টি খুব সুন্দরভাবে করতে পারি।
এখন যেমন হচ্ছে—একটা প্যানেল লাগিয়ে দেয়, কানেকশন দেখানোর জন্য বা পিডিবির লাইন নেয়ার জন্য একটা কানেকশন দেখিয়ে আমরা নিয়ে যাই। সেটা না করে সুন্দরভাবে কীভাবে প্রত্যেকটা ইনডিপেনডেন্ট বাড়িতে সোলার সিস্টেম করা যায়, সেটা নিশ্চিত করা দরকার।
আর যেগুলো অ্যাপার্টমেন্ট আছে, সেগুলোর ছাদে যদি সোলার সিস্টেম করা হয়, তাহলে সেটা ইকুয়ালি ডিস্ট্রিবিউশন করা যায়। এখন এ মিটারিং সিস্টেমের মাধ্যমে সরকার আপনাকে পেমেন্ট করছে। সুতরাং প্রত্যেকটা অ্যাপার্টমেন্টে যারা থাকবেন, সবাই এ সুবিধার ইকুয়াল বেনিফিশিয়ারি হবেন। আমার মনে হয়, এগুলো করা উচিত।
এটা যদি আমরা না করি, তাহলে প্রত্যেক বাসাবাড়ি বানিয়ে আপনারা কিন্তু জ্বালানি পাবেন না এবং এটা একটা বিরাট সমস্যা হবে।
এছাড়া আপনারা ফাইন্যান্সিংয়ের কথা বলছেন যে একটা মাত্র ফাইন্যান্সিং মোড আছে। কিন্তু আমার জানামতে, গ্রিন ফাইন্যান্সিংও কিন্তু এগুলোতে আছে। এই যে নতুন জ্বালানি ট্রান্সফরমেশন, সেগুলোর জন্য গ্রিন ফাইন্যান্সিং আছে। আপনারা বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে সেগুলো অ্যাভেইল করতে পারবেন।
আরেকটা জিনিস বলি, যেটা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ—আমাদের একটা ইনোভেশন দরকার। সারা পৃথিবীতে এখন ইনোভেশন হচ্ছে। ছোট একটা দুই হাজার টনের জাহাজে করে আমরা যেগুলোকে বার্জ বলি—সেগুলোর ওপর সোলার প্যানেল বসিয়ে হাইড্রোজেন তৈরি করছে এবং একই সঙ্গে ডিস্যালিনেশন করে ড্রিংকিং ওয়াটার তৈরি করছে। কিন্তু বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার এত বছর পরও আমরা ইনোভেশন করে ছোট এনার্জির বেনিফিট ইউজ করতে পারিনি। আমাদের এদিকেও এগোতে হবে।
আজম জে চৌধুরী: চেয়ারম্যান, ইস্ট কোস্ট গ্রুপ
[বণিক বার্তা আয়োজিত স্মার্ট সিটি কনক্লেভ-২০২৬-এ প্যানেল আলোচকের বক্তব্যে]









