কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) শ্রমবাজারে এমন বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে, যেখানে নতুন কর্মসংস্থান তৈরির চেয়ে চাকরি বিলুপ্ত হবে বেশি। এখনো ব্যাপক কর্মসংস্থান সংকটের লক্ষণ দেখা না গেলেও প্রযুক্তি খাতের নেতাদের উদ্বেগের মধ্য দিয়ে বোঝা যায়, চাকরি হারানো মানুষের জীবিকা, সুখ, মর্যাদা ও আত্মমর্যাদা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে তা নিয়ে ভাবার সময় এসেছে। অর্থনৈতিক বিপর্যয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় অ্যানথ্রপিকের শেয়ার বরাদ্দের পরিকল্পনা এ উদ্বেগেরই প্রতিফলন।
বেতন ছাড়াও কর্মসংস্থান মানুষের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ মনস্তাত্ত্বিক সুবিধা দেয়। গবেষক মেরি জাহোদার মতে, কাজ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে শৃঙ্খলা আনে, সামাজিক যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করে, সম্মিলিত লক্ষ্যের অনুভূতি জাগায়, সামাজিক মর্যাদা দেয় এবং সক্রিয় থাকতে উৎসাহিত করে। গবেষণায় এমন ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে, অবসর গ্রহণের বয়সের আগেই কর্মজীবন থেকে বিচ্ছিন্ন হলে জ্ঞানীয় সক্ষমতার অবক্ষয় ত্বরান্বিত হতে পারে।
অর্থনৈতিক নিরাপত্তা পেলেই কর্মহীন জীবন সুখের হবে—এ ধারণাও প্রশ্নবিদ্ধ। সুইডেনে লটারিতে বিপুল অর্থ জেতা ব্যক্তিদের অনেকে কাজের সময় কমালেও পুরোপুরি চাকরি ছেড়ে দেননি। স্বেচ্ছাসেবা ও পরিচর্যার মতো কাজ জীবনের সন্তুষ্টি ও উদ্দেশ্যবোধ বাড়াতে পারে, তবে এগুলো বেতনভুক্ত কর্মসংস্থানের পূর্ণ বিকল্প নয়।
জার্মানির এক গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘদিন বেকার থাকা ব্যক্তিরা অবসরে যাওয়ার পর জীবন নিয়ে বেশি সন্তুষ্টি অনুভব করেন। এর কারণ অবসরের সঙ্গে তাদের সামাজিক পরিচয় ও মর্যাদার পরিবর্তন ঘটে।
অতএব, এআইয়ের কারণে চাকরি হারানো মানুষের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের উদ্দেশ্যবোধ, সামাজিক সংযোগ ও আত্মমর্যাদা রক্ষাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে বেতনভুক্ত কাজের মতো এতগুলো সুবিধা একসঙ্গে দেয়—এমন বিকল্প খুব কম।
—দি ইকোনমিস্টের একটি সম্পাদকীয়তে










