বিশ্বব্যাপী ৫০ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে ক্যান্সারের হার বৃদ্ধির প্রবণতা উদ্বেগজনক। ওয়ার্ল্ড ক্যান্সার রিসার্চ ফান্ডের (ডব্লিউসিআরএফ) সাম্প্রতিক গবেষণায় ইংল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস ও যুক্তরাষ্ট্রে তরুণদের মধ্যে কোলোরেক্টাল বা অন্ত্রের ক্যান্সারের প্রকোপ বৃদ্ধির তথ্য উঠে এসেছে। ইংল্যান্ডে জরায়ু ও কিডনির ক্যান্সারও বেড়েছে। যদিও বয়স্কদের তুলনায় তরুণদের মধ্যে এসব ক্যান্সারের হার এখনো কম, তবু এ প্রবণতা জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের কারণ।
উন্নত রোগনির্ণয় ব্যবস্থা কিছু ক্ষেত্রে ক্যান্সার শনাক্তের সংখ্যা বাড়ালেও এটিই প্রধান কারণ নয়। গবেষণায় স্থূলতা ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে ক্যান্সারের সম্পর্কের প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। এ বিষয়ে আরো গবেষণা প্রয়োজন। যুক্তরাজ্যে পরিচালিত প্রসপেক্ট-ইউকে গবেষণায় ৫০ বছরের কম বয়সীদের অন্ত্রের ক্যান্সারের কারণ অনুসন্ধানে আড়াই লাখ অংশগ্রহণকারীর তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
ধূমপান নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ফুসফুসের ক্যান্সার কমানোর আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, কার্যকর আইন ও জনসচেতনতামূলক প্রচারণা আচরণ পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। অথচ স্থূলতা মোকাবেলায় তেমন সাফল্য আসেনি। খাদ্য শিল্পের বিরোধিতায় বিভিন্ন নীতিগত উদ্যোগ দুর্বল হয়ে পড়েছে।
ক্যান্সারের চিকিৎসায় অগ্রগতি সত্ত্বেও প্রতিরোধযোগ্য ঝুঁকি বাড়তে থাকলে সুফল সবার কাছে পৌঁছবে না। দারিদ্র্য ও খাদ্যাভ্যাসের সম্পর্ক বিবেচনায় সরকারকে স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক ব্যয়েও গুরুত্ব দিতে হবে। তামাক নিয়ন্ত্রণের মতোই স্থূলতা ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস মোকাবেলায় কার্যকর নীতি নেয়া প্রয়োজন।
[গার্ডিয়ানে প্রকাশিত সম্পাদকীয় থেকে অনূদিত]









