চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) ইউনাইটেড ফাইন্যান্স পিএলসির পরিচালন মুনাফা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৯ শতাংশ বেড়ে ৩১ কোটি ১৪ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির নিট মুনাফা বেড়েছে ৫৬ শতাংশ। সেপ্টেম্বর শেষে নিট মুনাফার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকায়। বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি নিম্ন পর্যায়ে থাকার মধ্যেও প্রতিষ্ঠানটির প্রধান আর্থিক সূচকগুলোয় এ প্রবৃদ্ধি এসেছে।
গতকাল অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের ২৫০তম সভায় চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদন করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত আর্থিক ফলাফল অনুযায়ী, জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর সময়ে ঋণ, অগ্রিম ও বিনিয়োগ পোর্টফোলিও আগের বছরের শেষের তুলনায় ১১ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ৫৪৭ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
এ সময়ে ঋণ বিতরণে টেকসই অর্থায়নের অংশও বেড়েছে। চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে প্রতিষ্ঠানটির মোট ঋণ বিতরণের ৮৩ শতাংশই ছিল সবুজ ও টেকসই অর্থায়ন। আগের বছরের একই সময়ে এ হার ছিল ৭৫ শতাংশ। পরিবেশবান্ধব ও সামাজিকভাবে অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যবসায় অর্থায়ন বাড়ানোর পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের টেকসই অর্থায়ন নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এ কার্যক্রম পরিচালনা করছে প্রতিষ্ঠানটি।
অন্যদিকে তহবিল সংগ্রহেও প্রবৃদ্ধি হয়েছে ইউনাইটেড ফাইন্যান্সের। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর শেষে প্রতিষ্ঠানটির গ্রাহক আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭২৯ কোটি টাকায়, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩১ শতাংশ বেশি। এ আমানত প্রবৃদ্ধি প্রতিষ্ঠানটির তহবিলের ভিত্তি সম্প্রসারণ ও ঋণ কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে।
প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবুল আহসান বলেন, ‘বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কম থাকা সত্ত্বেও ইউনাইটেড ফাইন্যান্স কুটির, মাইক্রো ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের পাশে রয়েছে। যথাযথ যাচাই-বাছাই ও সুশাসনের মাধ্যমে ঋণ কার্যক্রম সম্প্রসারণের পাশাপাশি পোর্টফোলিওর মান উন্নত করা হয়েছে। আমানতে ৩১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি গ্রাহকদের আস্থার প্রতিফলন। এ অগ্রযাত্রা ধরে রাখতে চায় প্রতিষ্ঠানটি।’
আর্থিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি মূলধন ও তারল্য পরিস্থিতিতেও নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি সক্ষমতা বজায় রেখেছে ইউনাইটেড ফাইন্যান্স। গত সেপ্টেম্বর শেষে প্রতিষ্ঠানটির মূলধন পর্যাপ্ততার হার (সিএআর) ছিল ১৬ দশমিক ৩৬ শতাংশ। নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্ধারিত ন্যূনতম হার ১০ শতাংশের চেয়ে এ হার বেশি।
এছাড়া নিয়ন্ত্রক সংস্থার চাহিদার অতিরিক্ত প্রভিশন সংরক্ষণ এবং প্রয়োজনের তুলনায় বেশি তারল্য বজায় রাখছে প্রতিষ্ঠানটি। এর মাধ্যমে আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষার পাশাপাশি গ্রাহকদের আর্থিক চাহিদা পূরণে সক্ষমতা ধরে রাখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে ইউনাইটেড ফাইন্যান্স।










