দুই সপ্তাহ আগে মুক্তি পেয়েছে রাজ অ্যান্ড ডিকে পরিচালিত ওয়েব সিরিজ ‘‌ফারজি’। আট পর্বের এ সিরিজে অভিনয় করেছেন শহীদ কাপুর, বিজয় সেতুপতি, কেকে মেনন, রাশি খান্না প্রমুখ। থ্রিলার ঘরানার এ সিরিজ নিয়ে দর্শকের মধ্যে আগ্রহ ছিল। প্রত্যাশার জায়গা থেকে অনেকটাই প্রাপ্তি ছিল দর্শকের। কিছু জায়গা বাদ দিলে সিরিজটি উপভোগ্য বলা যায়। দর্শক ভালোভাবেই গ্রহণ করেছে ‌ফারজিকে। ১৫ হাজারের বেশি দর্শকের ভোট নিয়ে সিরিজটির আইএমডিবি রেটিং এখন আট দশমিক ছয়। থ্রিলার হিসেবে এর গল্প পোক্ত না হলেও নির্মাণ ও অভিনয়ের কারণে সিরিজটি দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছে।

ফারজি শব্দের অর্থ নকল। এ সিরিজের গল্পটা নকল কারেন্সি নোট নিয়ে। সিরিজ শুরু হয় নকল নোট ধরার চেষ্টায় থাকা একজন অফিসারকে দিয়ে। এরপর জানা যায়, এ নোটের পেছনে আছে একটি বড় চক্র। পৃথিবীর সব দেশেই সাধারণত এ রকম হয়। কোনো ধরনের র‍্যাকেট চালানোর ক্ষেত্রে দেশের বাইরের একটি চক্র কাজ করে। এ সিনেমায় সে চক্রের হোতা কেকে মেনন। সে দুবাই থেকে ভারতের নকল নোটের কারবার পরিচালনা করে। কিন্তু সেখানে কাজটা চালাবে কে? মনসুর দালালের (কেকে মেনন) নিজস্ব লোককে নিরাপদ রেখে ভারতে সে একজনকে তার করে কাজ করাতে চায়। এর মধ্যে থাকে আরেক সমস্যা। মেঘা নামের একজন অফিসার নকল নোট নিয়ে আগ্রহী। সে এমন একটি সফটওয়্যার তৈরি করে যার মাধ্যমে নকল নোট শনাক্ত করা যাবে। প্রায় পারফেক্ট নোটকেও ধরে ফেলতে শুরু করে পুলিশ। তখনই মনসুরের নজর পড়ে এমন একটি নোটে, যাকে নকল বলে শনাক্ত করা অসম্ভব। কাজটি প্রায় শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গেছে ওই নকল নোটের কারিগর।

আর্টিস্ট নামে এ কারিগর ততদিনে পরিচিত হয়েছে এ নকলের কারবারে। আর্টিস্ট হিসেবে সানি চরিত্রে অভিনয় করেছেন শহীদ কাপুর। ছেলেবেলায় বাবা ছেড়ে যাওয়া সানিকে মানুষ করে তার নানা। সানির নানার একটি প্রেস রয়েছে, যেখান থেকে তিনি ক্রান্তি নামে পত্রিকা প্রকাশ করেন। সানি ছবি আঁকে, কিন্তু তার ছবি থেকে আয় নেই বললেই চলে। খেলাচ্ছলেই নকল নোট তৈরি করে সে। কিন্তু এরপর নোটের কারণেই সে যুক্ত হয় নকল নোটের কারবারে এবং একবার মনসুরের হাতে পড়ার পর তার পক্ষে বের হওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে।

মনসুরকে ধরার চেষ্টা বহুদিন ধরেই করছে মাইকেল। আর্টিস্টই নোটের কারিগর জানার পর মেঘার সঙ্গে মাইকেল খুঁজতে শুরু করে আর্টিস্টকে। এ গল্পের পাশাপাশি চলতে থাকে মাইকেল ও আর্টিস্টের ব্যক্তিগত জীবনের কাহিনী। সে জায়গাটিতে এসে সিরিজে যুক্ত হয় ইমোশন ও হাস্যরস। রাজ অ্যান্ড ডিকে পরিচালিত যেকোনো সিরিজের মতোই এখানে আছে সূক্ষ্ম হাস্যরস ও জীবনের বাস্তবতা। এ জায়গায় এসে সিরিজটির প্রতি দর্শকের আগ্রহ তৈরি হতে শুরু করে। মাইকেলের পারিবারিক জীবনের ঘটনা ও সানির ছেলেবেলার ঘটনা দর্শককে নাড়া দেবে। কখনো প্রশ্ন করতে বাধ্য করবে নিজেকে ও পরিস্থিতিকে। আর এ পর্যায়ে এসে রাজ অ্যান্ড ডিকে জুটির স্যাটায়ারের পরিচয় পাওয়া যায়।

নকল নোট বা যেকোনো ধরনের অনৈতিক কাজের বিরুদ্ধে কাজ করতে পুলিশের নানা বাধা পার করতে হয়। মন্ত্রীর সঙ্গে কথোপকথন ও নানা দরকষাকষি চলে। সে জায়গাগুলোয় বিজয় সেতুপতি ও জাকির হোসেনের কথোপকথন উপভোগ্য। এ কথোপকথনেই রাজ অ্যান্ড ডিকে তাদের নিজস্ব সিগনেচার রেখেছেন। এর বাইরে ফিরোজ-সানি চরিত্রের বন্ধুত্ব ও কথোপকথনেও বিষয়টি পাওয়া যায়। আর তা আরো স্পষ্ট হয়ে উঠেছে অভিনয়ের কারণে। শহীদ কাপুর অনেকদিন ধরেই নিজেকে নিয়ে নিরীক্ষা করছেন। এ সিরিজ তার মধ্যে একটি। বড় হতে চাওয়ার ইচ্ছা, নিয়মের বিরুদ্ধে যাওয়া সানির অভিনয় দারুণ। রাশি খান্নার সঙ্গে রোমান্সে আবার পুরনো শহীদকেও পাওয়া যায়।

তবে সিরিজের মূল আকর্ষণ বিজয় ও কেকে মেনন। বিজয় পুরোটা সময় তার দিকে মনোযোগ নিয়েছেন দর্শকের। কেকে মেননও দুর্দান্ত। আর সিরিজটি দর্শককে দিচ্ছে নতুন সংবাদ। দ্য ফ্যামিলি ম্যানের চেল্লামের উপস্থিতি ও মাইকেলের সঙ্গে তিওয়ারির কথোপকথন নতুন একটি ইউনিভার্সের আশা জাগাচ্ছে। অভিনয় ও হাস্যরসের পাশাপাশি ফারজি তাই হয়ে উঠেছে রাজ অ্যান্ড ডিকে ইউনিভার্সের ঘোষণা।