ইরানের প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা জাফর পানাহি। কিন্তু দেশ তার প্রতি নাখোশ। এরই মধ্যে তার বিরুদ্ধে এক বছরের কারাদণ্ডের আদেশ ছিল। নতুন করে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির তেহরানের বিপ্লবী আদালতের ২৬ নম্বর শাখা। একইসঙ্গে নির্মাতার সম্পত্তি ও অন্যান্য সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এই দণ্ডের অংশ হিসেবে আগামী দুই বছর পানাহির ওপর ভ্রমণ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করেছে ইরানি কর্তৃপক্ষ।

পানাহির আইনজীবী মোস্তফা নিলি সংবাদ সংস্থা এমতেদাদকে জানিয়েছেন, গত সপ্তাহে তার মক্কেলের ব্যাংক হিসাব জব্দ হওয়ার পরই জানতে পারেন, তাকে নিয়ে আদালতে শুনানি চলছে। এর পরে সংস্কৃতি ও গণমাধ্যমবিষয়ক সরকারি কৌঁসুলির কার্যালয়ের সাজা কার্যকর বিভাগে যান নিলি ও পানাহি। সেখানেই তারা জানতে পারেন, পানাহির অনুপস্থিতিতে তার বিরুদ্ধে পাঁচ বছর কারাবাসের রায় দেওয়া হয়েছে।

আইনজীবীর দাবি, অনুপস্থিতিতে সাজা ঘোষণা করা হলেও পানাহি গত ৩০ মার্চ থেকে ইরানেই রয়েছেন। এর কিছুদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত অস্কার অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। এর আগে, ২০২৬ সালের জুনে পৃথক একটি মামলায় পানাহির এক বছরের কারাদণ্ড বহাল রাখে ইরানের কর্তৃপক্ষ।

ইরানি শাসকগোষ্ঠীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধ চলছে এই নির্মাতার। সহকর্মী চলচ্চিত্র পরিচালক মোহাম্মদ রাসুলফের গ্রেফতারের প্রতিবাদ করেছিলেন। এরপর পানাহির বিষয়ে খোঁজখবর নেয়া হয়। ২০২২ সালে পানাহিকে তেহরানের এভিন কারাগারে বন্দী করা হয়েছিল।

এতসব আইনি জটিলতার মধ্যেও সরকারের সমালোচনায় সরব রয়েছেন পানাহি। চলতি বছরের জানুয়ারিতে তিনি বলেছিলেন, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র সম্পূর্ণভাবে তার বৈধতা হারিয়েছে। এখন এ নিয়ে আর কোনো সন্দেহ নেই।’

তিনি আরো বলেন, ‘মনে হচ্ছে, শাসকগোষ্ঠী একেবারে শেষ প্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে। এ বছরের বিক্ষোভগুলো গত কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হচ্ছে। কারণ, এবার প্রশ্নটি তাদের অস্তিত্ব থাকবে কি থাকবে না, তা নিয়ে। আর সে কারণেই ক্ষমতায় টিকে থাকতে তারা যেকোনো কিছু করতে পারে।’

সম্প্রতি পানাহির নতুন স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র সাউথ অব তেহরান নিউইয়র্ক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছে। ছবিটিতে উঠে এসেছে তেহরানে কয়েক দশক আগে শুরু হওয়া তার চলচ্চিত্রপ্রেমের গল্প। ছবিটিকে চার তারকা দিয়ে প্রশংসা করেছে চলচ্চিত্রবিষয়ক সাময়িকী ফার আউট। পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, ‘পানাহি এখনো সিনেমা হলে প্রবেশ করেন সেই একই বিস্ময় আর মুগ্ধতা নিয়ে, যা নিয়ে তিনি শৈশবে তেহরানের প্রেক্ষাগৃহে যেতেন।’

সূত্র: ফারআউট ম্যাগাজিন