ভারতের সিনেমায় ইমতিয়াজ আলী এক গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। সংযোজন বলার কারণ, তিনি পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার পর বলিউড তাকে গ্রহণ করেছে এবং ইমতিয়াজের সিনেমার ভাষা, টেক্সট, ভিজুয়াল ও গল্প বলার ধরন ভারতের সিনেমায় প্রভাব ফেলেছে। বলিউড ও অন্যান্য ইন্ডাস্ট্রি তার ধারাটি গ্রহণও করেছে। ইমতিয়াজের মিশন, ভিশন, বোঝাপড়া ও অন্যসব বিষয় নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন সাংবাদিক মিহির চিত্রে। স্ক্রলডটইনে প্রকাশিত সে কথোপকথনে উঠে এসেছে সিনেমা নিয়ে ইমতিয়াজের দর্শন।
জামশেদপুরে তিনি ইংরেজি থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সেখানে নানা রকম নিয়মনীতি ছিল। পরে তিনি সেখান থেকে দিল্লি যান এবং দিল্লি থেকে মুম্বাই। জামশেদপুরে থাকার সময় তিনি ইংলিশ থিয়েটারের নিয়ম অনুসারে গল্প লিখতেন। দিল্লিতে তিনি এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটারে কাজ শুরু করেন। ইমতিয়াজ আলী বলেন, ‘দিল্লিতে এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটারে যুক্ত হওয়ার পর আমি হিন্দিতে লেখা শুরু করি। মান্দি হাউজে আমি হিন্দির এক্সপেরিমেন্টাল নাটক লিখতাম। এ ঘরানা অনেক বেশি স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেয়। এমনকি সড়কে পারফর্ম করার নাটকও আমি সেখানেই করেছি।’
দিল্লি ইমতিয়াজের জীবনে বড় প্রভাব রেখেছে। তিনি মনে করেন, শহর হিসেবে দিল্লি বেশ রুক্ষ এবং তরুণ অবস্থায় এ রুক্ষতার জবাবও রুক্ষতার মাধ্যমেই দিতেন তারা। তবু দিল্লিকে তার কাজের জন্য কৃতিত্ব দেন ইমতিয়াজ। তিনি বলেন, ‘মুম্বাইয়ে আসার পরও আমার গল্পেরা মূলত দিল্লির। যেমন, ‘‘হাইওয়ে’’ দিল্লিতে লেখা গল্প। সিনেমা যেমন বানিয়েছি, মূল চিত্রনাট্যে গল্পটা এর চেয়েও রুক্ষতায় ভরা ছিল।’

জীবন থেকেই গল্প নিয়েছেন ইমতিয়াজ। লেখক হিসেবে তিনি এমন অনেক কিছুই লিখেছেন, যা তিনি নিজে দেখেছেন। এ নিয়ে ইমতিয়াজ বলেন, ‘আমার শুরুর কাজগুলোর বেশির ভাগই যাপন করা গল্প। তবে তার মানে এই নয় যে এসব আত্মজীবনী। বাস্তবতা থেকে গল্প তৈরি হয়, তবে পূর্ণতা দেয় কল্পনা। ‘‘জাব উই মেট’’-এর কথাই যদি চিন্তা করি। একটা ট্রেনে একা একটা মেয়ের গল্প, এটা অনেকের মাথায়ই কাজ করে। বিশেষত ছোট শহরের যারা নিয়মিত যাত্রা করে ট্রেনে। এর সঙ্গে একটা কল্পনা যুক্ত হলো, মেয়েটার সঙ্গে আমিও যদি একটা ট্রেন মিস করি তাহলে কেমন হবে? সে চিন্তা থেকেই গল্পের ডালপালা গজাতে থাকে।’
ইমতিয়াজ আলীকে সিনেমার জন্য চিনলেও একটা সময় তিনি টেলিভিশনে কাজ করেছেন। থিয়েটার করেছেন। থিয়েটারের কথা এখন মাঝে মাঝে আলাপে এলেও টেলিভিশনের কথা আসে না। ইমতিয়াজ স্টার প্লাসের ভিন্ন ধারার সিরিজ ‘স্টার বেস্টসেলারস’-এ একটি এপিসোড পরিচালনা করেছিলেন। সেটি স্মরণ করে ইমতিয়াজ বলেন, ‘এ রকম শো এখন আর তৈরি হয় না। এখন সবাই সিনেমা নির্মাণ করতে চায়। অবশ্য নব্বইয়ের দশকে সিনেমার গল্প আর টেলিভিশনের গল্পের পার্থক্য খুব বেশি স্পষ্ট ছিল না। তবে স্টার প্লাসের জন্য একটা ছোট ফিল্ম বানানোর সুযোগ আমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল।’
ইমতিয়াজ সিনেমায় এসেছিলেন টেলিভিশন থেকে। সেই সময় ওই টিম তার কাছে একটি সিনেমা চাইল টেলিভিশনের জন্যই। ইমতিয়াজের কাছে একটা গল্প ছিল এবং তিনি সেটা ওই টিমকে শোনান। মাত্র তিন রাতে গল্পটা লিখেছিলেন ইমতিয়াজ। কিন্তু ওই টিম পরে জানায় তারা কাজটি করছে না। সিনেমাটি নিয়ে ইমতিয়াজ গিয়েছিলেন সানি দেওলের কাছে। তিনি বলেন, ‘আমি সিমলা গেলাম তাকে চিত্রনাট্য শোনাতে। এখন ভাবলে অবাক লাগে যে রোমান্টিক সিনেমার চিত্রনাট্য নিয়ে গিয়েছিলাম একজন অ্যাকশন হিরোর কাছে। ২ ঘণ্টা চিত্রনাট্য শুনে তিনি খাবার খেতে আমন্ত্রণ করলেন। আমি বললাম, শেষ হতে বেশি বাকি নেই। সানি আমাকে তখন বললেন, ‘সিনেমা আমি করব। তবে এখন খুব ক্ষুধা লেগেছে।’
প্রথম সিনেমা এভাবেই হয়েছিল ইমতিয়াজের। ‘সোচা না থা’ প্রযোজনা করেছিলেন ধর্মেন্দ্র এবং এতে অভিনয় করেছিলেন অভয় দেওল ও আয়শা টাকিয়া। ২০০৫ সালে এ সিনেমার পর ২০০৭ সালে জাব উই মেট দিয়ে ভারতে শুরু হয় ইমতিয়াজের নতুন ঘরানা।










