ডায়ান কিটন, হলিউডের অন্যতম পরিচিত নাম। তিনি একজন ব্যতিক্রমী অভিনয়শিল্পী। সেই সঙ্গে নিজস্ব স্টাইল দিয়ে দর্শক ও ইন্ডাস্ট্রির নজর কেড়েছিলেন। গত শতকের সত্তরের দশকে তার সূচনা। সেই শুরু থেকে হলিউডের রুপালি পর্দায় তিনি নিজের জন্য গড়ে তুলেছিলেন এক শক্তিশালী অবস্থান। ক্যারিয়ারের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত, কিটন শুধু একজন অভিনেত্রী নন, বরং একজন সাংস্কৃতিক আইকন হিসেবেও বিবেচিত। গত শনিবার মারা গেলেন এ অভিনেত্রী। তার বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর। ওইদিন ক্যালিফোর্নিয়ায় তার মৃত্যু হয় বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে। বিবিসির ইউএস পার্টনার সিবিএস নিউজকে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন ডায়ান কিটনের বন্ধু ও প্রযোজক ডোরি র্যাথ।
ডায়ান কিটনের ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল মঞ্চনাটক দিয়ে। তবে বড় পর্দায় তার প্রথম বড় সুযোগ আসে ১৯৭২ সালে ফ্রান্সিস ফোর্ড কপোলার হাত ধরে। কালজয়ী চলচ্চিত্র ‘দ্য গডফাদার’-এ তিনি অভিনয় করেছিলেন। চরিত্রের নাম ‘কে অ্যাডামস’। মাইকেল করলিওনের প্রেমিকা ও পরে স্ত্রী হন অ্যাডামস। এ চরিত্রে তার সংবেদনশীল ও নিঃশব্দ প্রতিবাদী রূপ মন কেড়েছিল দর্শকের।
‘গডফাদার পার্ট টু’ ও ‘পার্ট থ্রি’তেও তিনি ছিলেন অনবদ্য। মাফিয়া দুনিয়ার নৃশংসতার পটভূমিতে তার চরিত্র মানবতার এক প্রতীক হয়ে ওঠে। এরপর উডি অ্যালেন পরিচালিত ‘অ্যানি হল’ সিনেমায় তিনি অনবদ্য অভিনয় করেন। ক্যারিয়ারে নতুন মোড় আসে এ সিনেমার মধ্য দিয়ে।
ডায়ান কিটনের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে আলোচিত ও সফল ছবি নিঃসন্দেহে অ্যানি হল (১৯৭৭)। এ রোমান্টিক কমেডিতে কিটনের সাবলীল ও স্বাভাবিক অভিনয় তাকে এনে দেয় অস্কারের সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার। অ্যানি হলে তার চরিত্র শুধু অভিনয়ের জন্য নয়, ফ্যাশন সেন্সের জন্যও বিখ্যাত। সাদা শার্ট, টাই ও ওভারসাইজ স্যুট, ডায়ান কিটনের সে লুক আজও অনেক অভিনেত্রীর অনুপ্রেরণা।
পাঁচ দশকের দীর্ঘ অভিনয় ক্যারিয়ারে ডায়ান কিটন নানাধর্মী চরিত্রে অভিনয় করেছেন। চরিত্র নির্বাচনে বৈচিত্র্য রাখতেন তিনি। ‘রেডস’ সিনেমায় ছিল রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট। মা হয়ে ওঠার লড়াইয়ে নেমেছেন ‘বেবি বুম’ সিনেমায়। আবার ‘সামথিংস গটা গিভ’ সিনেমায় প্রৌঢ় বয়সে ভালোবাসার খোঁজে বেরোতে দেখা যায় তাকে। আবার ‘মারভিনস রুম’ সিনেমায় অভিনয় করে আবারো প্রমাণ করেন, তিনি শুধু রোমান্টিক বা কমেডি চরিত্রেই নন, ড্রামায়ও সমান সাবলীল।
অভিনয়ের বাইরে ডায়ান কিটন একজন সফল পরিচালক ও প্রযোজকও। তিনি বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্র পরিচালনা করেছেন। এর মধ্যে ‘আনস্ট্রাং হিরোজ’ উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি তিনি একজন ফটোগ্রাফার, লেখক ও ইনটেরিয়র ডিজাইনার হিসেবেও খ্যাত।
ব্যক্তিজীবনে কিটন ছিলেন ব্যক্তিত্বপূর্ণ। হলিউড বা শোবিজের বাঁধা নিয়মে বদ্ধ থাকেননি তিনি। নিজস্ব নিয়মে পথ চলেছেন সবসময়। কখনো বিয়ে করেননি। তবে তিনি দুই সন্তান দত্তক নিয়েছিলেন—মেয়ে ডেক্সটার ও ছেলে ডিউক। নিজের আত্মজীবনী ‘দেন অ্যাগেইনে’ (২০১১) কিটন লিখেছিলেন, ‘আমার প্রিয়জনরা যখন খুশি থাকে, তখনই আমি সবচেয়ে সুখী। এমন ভালোবাসা অন্য কেউ পেতে পারে বলে আমি মনে করি না।’










