গত জানুয়ারিতে মুক্তি পাওয়া দক্ষিণী সিনেমার মধ্যে আলোড়ন তুলেছিল থুনিভু ও ভারিসু। প্রথমটি অজিত কুমারের, পরেরটি থালাপতি বিজয়ের। তামিল সিনেমাটি মুক্তির পর পরই বক্স অফিসে ভালো ব্যবসা করেছে। ২৫০ কোটি রুপি বাজেটের সিনেমাটি বক্স অফিসে ৩০০ কোটি আয় করেছে। এর বাইরে দর্শকের কাছ থেকেও পেয়েছে ইতিবাচক সাড়া। কিন্তু সিনেমা হিসেবে ভারিসু কেমন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। সেক্ষেত্রে বলতে হয় ভারিসু পুরোপুরি তামিল ঘরানার একটি সিনেমা, যেখানে বিজয়ই প্রধান। তাকে ও তার চরিত্রটিকে ঘিরেই গল্প আবর্তিত হয়। কিছু জায়গা বাদ দিলে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সিনেমাটি ছিল থালাপতির ওয়ান ম্যান শো।
ভারিসুর মূল গল্পটা একজন বড় ব্যবসায়ীর সন্তানকে নিয়ে। উত্তরাধিকার সূত্রে একটা সাম্রাজ্য পেয়ে সেটা ধরে রাখার যাত্রা কেমন হবে, এ নিয়ে শুরু সিনেমা। করপোরেট সংস্কৃতির মধ্য দিয়ে সিনেমা শুরু হয়ে তা কোনো কোনো পর্যায়ে বাবা-ছেলের সম্পর্কের দিকে চলে যায়। গল্পটা হিন্দি সিনেমার দর্শকদের পরিচিত। বড় ব্যবসায়ীর পরিবারে একাধিক উত্তরাধিকারী। ঘরে তাদের মধ্যে জটিলতা। অন্যদিকে বাইরে থাকে নীরব কিংবা সরব শত্রু। দুই দিকের নানা টানাপড়েনের মধ্য দিয়ে যেতে হয় পুরো পরিবারকে। আর সিনেমায় সাধারণত মূল চরিত্র বা নায়ককে এ সংকটের মধ্যবর্তী অংশে দেখানো হয়। অনেকটা সে-ই হয়ে ওঠে গল্পের পাওয়ার হাউজ। এ সিনেমায় বাবার ব্যবসা পাওয়ার পর বিজয়ের একটি সংলাপ—পাওয়ার কখনো চেয়ারে থাকে না, চেয়ারে যে বসে তার মধ্যে থাকে। আর এখন যে বসে আছে, সে পুরো একটা পাওয়ার হাউজ।
সংলাপটি বিশেষভাবে উল্লেখ করার কারণ হচ্ছে সিনেমায় বিজয় পাওয়ার হাউজের মতো করেই আছেন। এটি দেখতে শুরু করলে সেটা বোঝা যায়। বিজয়ের পরিচয় যেভাবে দেয়া হয়, পরিবারে তার যে পরিচিতি, সে বিষয়গুলো বুঝিয়ে দেয় ঝড় তুলতে আসছে কেউ। বিজয় রাজেন্দ্র নামে চরিত্রটি সত্যিই পুরো সিনেমায় তাণ্ডব চালায়। ভামসি পাইদিপলি পরিচালিত এ সিনেমায় আছে তুমুল নাচ ও অ্যাকশন। আর সেখানে বিজয়ই মুখ্য। প্রচুর এনার্জি নিয়ে তিনি নেচেছেন এবং ভিলেনদের পিটিয়ে বানিয়েছেন তক্তা। এর বাইরে সংলাপের এনার্জি তো ছিলই। সংলাপের মাধ্যমে শক্তির পরিচয় দেয়া তামিল সিনেমার অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
ভারিসু নিয়ে লিখতে গিয়ে দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বলেছে, ভামসির এ সিনেমা অন্যান্য তামিল সিনেমার একটি মিশ্রণ। খুঁজলে এর সঙ্গে সাম্প্রতিক অন্যান্য তামিল সিনেমার মিল পাওয়া যাবে। আল্লু অর্জুনের শ্রীমান্থুডু, আলা বৈকুণ্ঠপুরোমালো এমনকি বিজয়ের ভৈরবের সঙ্গেও মিল পাওয়া যায়। মহেশ বাবুর একাধিক সিনেমা আছে এ ধারার। সিনেমাটি নিয়ে লেখার ক্ষেত্রে তাই কিরুভাকর পুরুষোত্তম বলেছেন, ‘সিনেমাটি আসলে অন্যান্য তামিল অ্যাকশন সিনেমার মিশ্রণ। এখানে মূল প্লটে খুব একটা মনোযোগ দেয়া হয়নি।’ সিনেমা দেখতে বসেও তাই মনে হয়। পরিবার ও ব্যবসার পাশাপাশি একটা জটিলতার গল্প ছিল সিনেমায় কিন্তু সেটা কোনোভাবেই স্পষ্ট হলো না। পরিবারের প্রতি আবেগের বিষয়টিও যেন অ্যাকশনের মধ্যে হারিয়ে গেল।
আসলে দর্শকের বিনোদনের জন্য নির্মিত অ্যাকশন সিনেমা ভারিসু। তামিলে ভারিসু অর্থ উত্তরাধিকারী। সিনেমায় উত্তরাধিকারের সে বিষয়গুলো দেখাতে দেখাতে ভামসি বারবার চলে গেছেন অ্যাকশন ও গানে। বিজয় বা অন্য তামিল নায়কদের দুটো অস্ত্র—নাচ ও অ্যাকশন। দুটোই ভারিসুতে ভরপুর ছিল। রাশমিকা মানদানার সঙ্গে বিজয়ের নাচ দর্শকের ভালো লাগবে। কিন্তু এ সিনেমায় রাশমিকার চরিত্রটি কেন বা তার কাজ কী, এ প্রশ্নের হয়তো দরকার নেই। তামিল সিনেমায় নায়িকা থাকে আইটেম সংয়ের কারণে।
প্রকাশ রাজের সঙ্গে বিজয়ের মুখোমুখি সংঘর্ষটা আরো ভালো হতে পারত। প্রকাশ যেন এখানে পুরোপুরি প্রকাশিত হলেন না। অন্যা অভিনেতা-অভিনেত্রীর মধ্যে শাম ও শরৎকুমার ভালো করেছেন। জয়াসুধা বরাবরের মতোই মমতাময়ী। এভাবেই তাকে দেখে অভ্যস্ত দর্শকরা। সিনেমায় যোগী বাবুর মাধ্যমে কমেডি আমদানি করা হয়েছে, তবে সেটাও নতুন বোতলে পুরনো মদের মতো। কিন্তু সেসব আসলে কোনো বিষয় হয়ে ওঠে না, কেননা দর্শক মূলত তাদের থালাপতিকে দেখতে চায়। সেক্ষেত্রে পরিচালক ও থালাপতি উভয়েই সফল। ভারিসু এ বছরের প্রথম দক্ষিণী হিট।










