বহু সিনেমায় তাকে দেখা গেছে। এর মধ্যে বেশকিছু চরিত্র কালজয়ী হয়ে থাকবে। কিন্তু তাকে ঘরে ঘরে পরিচিত করা চরিত্রটিই বাণিজ্যিকভাবে ছিল ব্যর্থ। ইন্দ্রবদন সারাভাই হয়েই তিনি দর্শকের কাছে পরিচিতি পেয়েছিলেন। ‘সারাভাই ভার্সাস সারাভাই’ সিনেমায় তাকে এ চরিত্রে দেখা যায়। জনপ্রিয় হলেও সিরিজটি বাণিজ্যিক সাফল্য পায়নি। এর জন্য পারিশ্রমিকের ক্ষেত্রেও আপস করতে বাধ্য হয়েছিলেন সতীশ শাহ।

ভারতের ‘সিটকম’-এর ইতিহাসে সারাভাই ভার্সাস সারাভাই অন্যতম। সময়ের অনেক আগে তৈরি হলেও শোটি পরবর্তী সময়ে এক ‘কাল্ট ক্ল্যাসিক’-এ পরিণত হয়। তবে আশ্চর্যের বিষয়, প্রথম সম্প্রচারের সময় এটি খুবই কম টিআরপি পেয়েছিল এবং সতীশের ক্যারিয়ারের অন্যতম ব্যর্থ টেলিভিশন শো হিসেবে গণ্য হয়েছিল। ডিএনএ ইন্ডিয়ার সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে সতীশ বলেছিলেন, ‘এটি আমার টিভি ক্যারিয়ারের প্রথম ব্যর্থতা।’

এ সাক্ষাৎকারে সতীশ বলেন, ‘আমরা সিরিয়ালটা সাপ্তাহিকভাবে করেছিলাম। কিন্তু তখন এটি বেশি প্রচার পায়নি। যখন মানুষ বুঝতে শুরু করল যে এটি একটি ভালো সিরিয়াল এবং দেখা শুরু করল, তখনই টিআরপি না থাকার কারণে সেটি বন্ধ করে দেয়া হলো! এটি আমার টিভি ক্যারিয়ারের প্রথম ব্যর্থতা ছিল। খুব খারাপ লেগেছিল। পরে যখন সিরিয়ালটি দৈনিক হিসেবে পুনঃপ্রচার হয়, তখন মানুষ সত্যিই এর প্রেমে পড়ে।’

সারাভাই যখন প্রচার শুরু হয়, সে সময় ভারতের টেলিভিশন দর্শক সিটকম নিয়ে আগ্রহী ছিল না। আগ্রহ তৈরি হওয়ার আগেই শোটি বন্ধ করে দেয়া হয়। সতীশ মনে করতেন, আরো কিছুদিন চললে সারাভাই জনপ্রিয়তা পেত। অথচ এ সিরিজের জন্য তার পারিশ্রমিকের বিষয়ে আপস করতে হয়েছিল। তিনি বলেছিলেন, ‘ওই একটি শোর জন্যই আমি আমার পারিশ্রমিকেও সমঝোতা করেছিলাম। পারিশ্রমিক কমাতে হয়েছিল। কিন্তু তার পরও শোটি এগিয়ে নেয়া গেল না।’

এ শোয়ের একটা বড় পয়েন্ট ছিল মায়া ও সারাভাইয়ের রসায়ন। মায়া চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন রত্না পাঠক শাহ। তাদের এ রসায়ন সম্ভব হয়েছিল রত্নার সঙ্গে সতীশের পুরনো সম্পর্কের কারণে। রত্না পাঠকের মা ও সতীশের ছোট বোন ছিলেন ঘনিষ্ঠ বান্ধবী। রত্নাজির মায়ের বিয়ে হয়েছিল সতীশের ফুফুর বাড়িতে। তারা তাই আগে থেকেই পরিচিত ছিলেন। পরবর্তী সময়ে রত্নার স্বামী হন নাসিরুদ্দিন শাহ। সতীশ ও নাসিরুদ্দিন ভালো বন্ধু। ফলে রত্নার সঙ্গে সতীশের সম্পর্কও ছিল বন্ধুত্বের।

সিটকমটি কতটা জনপ্রিয়তা পায়, তা বোঝা যায় এর দর্শক প্রতিক্রিয়া দিয়ে। জানা যায়, নারীরা চাইতেন তাদের স্বামী যেন ইন্দ্রবদনের মতো না হয়। এ নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে সতীশ বলেছিলেন, ‘অনেক মেয়েকে দেখেছি যারা বলেছে, ‘‘আমি আপনার মতো শ্বশুর চাই।’’ অনেক ছেলেকে দেখেছি যারা বলেছে, ‘‘আমি আপনার মতো বাবা চাই।’’ কিন্তু অনেক নারী বলেছে, ‘‘আমি আপনার মতো স্বামী কখনো চাইব না’’।’

সারাভাই ব্যর্থ হলেও এটি সতীশের অন্যতম পছন্দের সিরিজ ও চরিত্র ছিল। এ নিয়েও আছে মজার ঘটনা। শো শুরু করার সময় সতীশ শর্ত দিয়েছিলেন যে তিনি সন্ধ্যা ৬টার পর কাজ করবেন না। কিন্তু পরে আরো বেশি সময় দিতে শুরু করেন। সতীশের সহঅভিনেতা দেবেন ভোজানি বলেন, ‘শুরুতে ও বলেছিল সন্ধ্যা ৬টার পর কাজ করবে না। কিন্তু শুট শুরু হওয়ার পর এত মজা পেয়ে যায় যে কখনো ৯টা অবধিও কাজ করেছে।’

এত কিছুর পরও সে সময় সারাভাই ব্যবসায়িক সাফল্য পায়নি। কিন্তু দর্শক আজও পুরনো ভিডিও ঘেটে এ সিরিজ দেখেন। অবশ্য সারাভাই ব্যর্থ হলেও বহু সিনেমায় সতীশের করা ছোট ছোট চরিত্রও দর্শক মনে রেখেছে এবং রাখবে।