বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে দারুণ লড়াই করেও ইংল্যান্ডের কাছে হেরে বিদায় নিয়েছে ডিআর কঙ্গো। ম্যাচ শেষে নিয়মমাফিক সংবাদ সম্মেলনে এসেছিলেন দলের প্রধান কোচ সেবাস্তিয়ান দেশাব্রে। কিন্তু বৈঠক চলাকালেই বাবার মৃত্যুসংবাদ পেয়ে কথা অসমাপ্ত রেখেই চলে যেতে হয় তাকে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছিলেন ফরাসি নাগরিক দেশাব্রে। হঠাৎ দলের মিডিয়া কর্মকর্তা সংবাদ সম্মেলন থামিয়ে ঘোষণা দেন, ‘সবাইকে ধন্যবাদ। তবে একটি দুঃখজনক খবর জানাতে হচ্ছে। কোচের বাবা মারা গেছেন। আমরা তার প্রতি সমবেদনা জানাই।’
ঘোষণাটি শুনে কয়েক সেকেন্ড স্তব্ধ হয়ে যান দেশাব্রে। এরপর নিজেকে সামলে নিয়ে শুধু বলেন, ‘আমাকে ক্ষমা করবেন।’
এতটুকু বলেই সংবাদ সম্মেলন ছেড়ে বেরিয়ে যান তিনি। সেখানেই শেষ হয়ে যায় পুরো সংবাদ সম্মেলন।
ঘটনাটি সরাসরি সম্প্রচার হচ্ছিল। মুহূর্তেই সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ফুটবলবিশ্বের অসংখ্য খেলোয়াড়, কোচ ও সমর্থক দেশাব্রের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
জানা গেছে, সংবাদ সম্মেলন শেষ করেই তিনি সরাসরি বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হন। অন্যদিকে কঙ্গো দলের খেলোয়াড় ও সাপোর্ট স্টাফরা নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী দেশে ফিরবেন।
দেশাব্রের অধীনেই বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়েছে ডিআর কঙ্গো। ১৯৭৪ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের মূলপর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে দলটি। শুধু তাই নয়, বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম গোল, প্রথম জয় এবং প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে ওঠার কীর্তিও আসে তার কোচিংয়ে। তবে দলের বিদায়ের বেদনাময় রাতেই ব্যক্তিগত জীবনের সবচেয়ে বড় শোকের মুখোমুখি হতে হলো তাকে।
আটলান্টায় শেষ ষোলোর লড়াইয়ে শুরুতেই গতকাল রাতে চমক দেখায় ডিআর কঙ্গো। সপ্তম মিনিটে ব্রায়ান সিপেঙ্গার গোলে এগিয়ে যায় আফ্রিকার দলটি। এরপর দীর্ঘ সময় কঙ্গোর শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষক লিওনেল এমপাসির দুর্দান্ত সব সেভে হতাশ হতে থাকে ইংল্যান্ড।
তবে শেষ পর্যন্ত অধিনায়ক হ্যারি কেইনই বদলে দেন ম্যাচের চিত্র। ৭৫ মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের ক্রস থেকে হেডে সমতা ফেরান তিনি। এরপর ৮৬ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত শটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে ইংল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে জিতিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেন।















