মিরপুর টেস্টে বুধবার প্রথম দিনের মতো দ্বিতীয় দিনও বৃষ্টি ও আলোকস্বল্পনায় পুরো সময় খেলা হয়নি। আজ বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দিন খেলা হয়েছে ৭১.৪ ওভারের। গতকাল হয়েছিল ৭৪ ওভার। খেলা শেষ হওয়ার সময় ক্যারিবীয়দের সংগ্রহ ছিল ৪ উইকেটে ১৩৪ রান। ত্যাগি নারায়ণ চন্দরপল ৪৩ ও জাস্টিন গ্রিভস ১৫ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন। বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৩৮ রানে পিছিয়ে রয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

বাংলাদেশের ২৭২ রানের জবাবে ক্যারিবীয়রা ব্র্যান্ডন কিংকে হারানোর পর ১ উইকেটে ৮৯ রান তুলে সংহত অবস্থানে ছিল। ফিফটি করা জন ক্যাম্পবেলকে আউট করে জুটি ভাঙেন মেহেদী হাসান মিরাজ। একটু পরেই টানা দুই বলে কাভেম হজ ও আমির জাঙ্গুকে সাজঘরে ফেরান তাইজুল। পরে দলকে টানেন চন্দরপল ও গ্রিভস।

এর আগে আজ সকালে প্রথম ইনিংসে ২৭২ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টেস্টের দ্বিতীয় দিন লাঞ্চের আগে স্বাগতিকদের ইনিংস গুটিয়ে যায়। ম্যাচে বাংলাদেশের হয়ে সেঞ্চুরি করেন ওপেনার সাদমান ইসলাম। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বাঁহাতি স্পিনার জোমেল ওয়ারিক্যান নিয়েছেন ৫ উইকেট।

গতকাল টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম দিন শেষে ৭৪ ওভারে ৩ উইকেটে ২১৩ রান করেছিল বাংলাদেশ। ৯৯ রানে অপরাজিত থাকা সাদমান ও ১০ রানে অপরাজিত থাকা লিটন দাস আজ দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করেন।

দিনের দ্বিতীয় বলেই ২ রান নিয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন সাদমান। ২২১ বলে শতরান পূর্ণ করা এ বাঁহাতি ওপেনার শেষ পর্যন্ত আউট হন ১০৫ রানে। ২৩৪ বলের ইনিংসে তিনি চার মারেন ১১টি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের অভিষিক্ত স্পিনার জশুয়া বিশপের বলে লেগ বিফোর উইকেটের ফাঁদে পড়ে সাজঘরে ফেরেন সাদমান। এতে চতুর্থ উইকেটের পতন হয় বাংলাদেশের।

এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে স্বাগতিকরা। শেষ পাঁচ উইকেট মাত্র ১৯ রানের মধ্যে হারিয়ে ২৭২ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। এক প্রান্ত আগলে রেখে ৮৮ বলে চারটি চারে ৩৪ রানে অপরাজিত থাকেন লিটন দাস।

সাদমানের পর বাংলাদেশের হয়ে উল্লেখযোগ্য রান করেন তাওহিদ হৃদয়। তিনি করেন ৪২ রান। এছাড়া মোমিনুল হক ২৮, অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ১৯, মেহেদি হাসান মিরাজ ১৫, তানজিদ হাসান ৭, হাসান মাহমুদ ৬, নাঈম হাসান ৫ ও তাইজুল ইসলাম ১ রান করেন। শেষ ব্যাটার শরিফুল ইসলাম কোনো রান না করেই আউট হন।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে ২৩ ওভার ৪ বল করে ৫৩ রান দিয়ে ৫ উইকেট নেন জোমেল ওয়ারিক্যান। টেস্ট ক্রিকেটে কোনো ইনিংসে এটি তার চতুর্থবারের মতো পাঁচ উইকেট শিকার। জেইডেন সিলস ১টি এবং আলজারি জোসেফ ও জশুয়া বিশপ ২টি করে উইকেট নেন।