জাঁ দিলিল্লে ও জুডিথ উডসওয়ার্থ

অনুবাদ: জি এইচ হাবীব

(তেত্রিশতম কিস্তি)

‘আফ্রিকার সাহিত্যে অনুবাদ এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়’ (শেষার্ধ)

আইজাক মৌমে এতিয়া (Isaac Moumé Etia, ১৮৮৯-১৯৩৯) ছিলেন ক্যামেরুনের অন্যতম আদি স্বদেশী অনুবাদক। জর্মন, ফরাসি, ইংরেজি ও হিস্পানি— চারটি ইউরোপীয় ভাষায় দক্ষ এই সংস্কৃতিবান ও বিদ্বান মানুষটি ক্যামেরুনের জর্মন ও ফরাসি উপনিবেশিক প্রশাসনে écrivain-interprète হিসেবে কাজ করতেন।

{écrivain-interprète হচ্ছে আজকের অনুবাদক এবং ইন্টাপ্রেটার বা ভাষ্যকারের পূর্বসূরি। সে-সময়ের সবচেয়ে শিক্ষিত দেশী নাগরিক ছিলেন তারা; ছিলেন যথেষ্ট ক্ষমতা ও মর্যাদার অধিকারী, সম্ভবত আজকের অনুবাদকদের চেয়েও বেশি। উপনিবেশিক যুগে écrivain -interprète-দের ভূমিকা কেবল অনুবাদক এবং ভাষ্যকারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তাদের ওপর প্রশাসনিক দায়িত্ব এবং আফ্রিকি ও ইউরোপীয় ভাষায় ‘মৌলিক’ বা ‘সৃজনশীল’ লেখালেখিরও দায়িত্ব বর্তাত। বিভিন্ন প্রেক্ষিতে ‘সচিব-ভাষ্যকার’ এবং ‘ভাষ্যকার-সচিব’ অভিধাও ব্যবহার করা হতো, তবে তা ক্যামেরুনে তেমন একটা প্রচলিত ছিল না।}

মৌমে এতিয়া ছিলেন অনুবাদক এবং বহুপ্রজ লেখক: তার প্রকাশনার তালিকা অনেক দীর্ঘ: লোককাহিনী, ভাষাবিষয়ক বইপত্তর এবং ইউরোপীয় সাহিত্যের অনুবাদ। এছাড়া তিনি অনুবাদ তত্ত্বের কিছু বিষয়ের ওপর তার নিজের দৃষ্টিভঙ্গির কথা ব্যক্ত করেছেন।

মৌমে এতিয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় কাজগুলোর একটি হচ্ছে Fables de Douala — বাচিক সাহিত্যের একটি দ্বিভাষিক (ফরাসি-দৌআলা) সংস্করণ, যা ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়েছিল। এই পথপ্রদর্শনকারী কাজটিতে তিনি ঐতিহ্যবাহী দৌআলা ধর্মীয় সাহিত্য, সাধারণ ছোট এবং দীর্ঘ গল্পগুলো বিশ্লেষণ করেছেন। এছাড়া তিনি পাশ্চাত্যের বিভিন্ন ভাষা থেকে বিখ্যাত কিছু ফিকশন অনুবাদ করেছেন, যেমন দ্য থাউজ্যান্ড অ্যান্ড ওয়ান নাইটস, যেটা তিনি আঁতোয়াঁ গ্যালান্ডকৃত ফরাসি সংস্করণ থেকে ইকোলা বুলু ইয়ো না বুলু নামে অনুবাদ করেছেন (১৯৩৮) এবং পরে অসংখ্য দৌআলা লেখক সেটার অ্যাডাপ্টেশন বা রূপান্তর করেছেন।

নিজের সৃজনশীল কাজের পাশাপাশি তিনি ব্যাকরণ বই এবং অভিধানও প্রণয়ন করেছেন, যাতে অন্যান্য লেখকের সুবিধা হয়। এ কাজগুলো আজো মূল্যবান, কারণ সেখানে দৌআলা ভাষায় কিছু মৌলিক বাগভঙ্গিমূলক অভিব্যক্তি এবং প্রবাদ রয়েছে, যেগুলো ভাষাগত হস্তক্ষেপ বা প্রতিবন্ধকতার (language interferene) কারণে হয়তো এতদিনে হারিয়ে যেত। মৌমে এতিয়ার অপ্রকাশিত রচনার মধ্যে রয়েছে— যে কাজ তিনি ১৯৩৯ সালের অক্টোবরে তার মৃত্যু আগে শেষ করেছিলেন— দৌআলা প্রবাদের একটি সংগ্রহ Le petit recueil de proverbs douala; তার দেশের মানুষের কাছে যাতে জ্ঞান ও প্রজ্ঞার ঐতিহ্য পৌঁছে দেয়া যায় সে উদ্দেশ্যে তিনি এ সংকলন তৈরি করেছিলেন। বইটিতে অবশ্য কিছু বিদেশী প্রবাদের দৌআলা অনুবাদও রয়েছে, যা লক্ষ্য-সংস্কৃতিভিত্তিক-সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছে।

পণ্ডিতরা যখন উত্তর উপনিবেশিকতার সুবিধাজনক অবস্থান থেকে এ ঘটনাগুলোকে দেখেন, তখন মিশনারি, প্রাচ্যবাদী, নৃবিজ্ঞানীদের অনুবাদকে ‘উপনিবেশস্থাপনকারীর সাংস্কৃতিক শক্তির একটি অভিব্যক্তি’ হিসেবে দেখারও প্রবণতা তাদের মধ্যে দেখা যায়। অনুবাদকে ‘জবরদস্তির অংশ হিসেবে দেখা হয়েছে, যার ভেতর দিয়ে উপনিবেশিক বিষয়বস্তুকে নির্মাণ করা হয়েছে।’ মৌমে এতিয়া যখন ‘বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিবেশ থেকে আসা মানুষের মধ্যকার দূরত্ব মোচন করেছেন, তখন বাচিক সাহিত্য সংগ্রহ, দৌআলা ভাষা থেকে উপনিবেশিক শাসকের ভাষায় তা প্রতিলিপি এবং অনুবাদ করার কাজটিকে তার সময়ের দেশী মানুষজন ‘ভালোভাবে নেয়নি’; তারা তাকে ‘একজন বিশ্বাসঘাতক হিসেবে দেখেছে, যিনি কেবল তাদের সংস্কৃতিকে সাদাদের কাছে উন্মুক্ত করেই দিচ্ছিলেন না, বরং তাদের সঙ্গে হাতও মিলিয়েছিলেন।’ অন্যদিকে মৌমে এতিয়া— ‘যিনি কিছু প্রশাসনিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও কূটনৈতিক ক্রিয়াকলাপের মাধ্যমে দুপক্ষের মধ্যে যোগাযোগ সম্ভবপর করেছিলেন’— তিনি écrivain-interprète হিসেবে তার উচ্চ মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানের সুবাদেই চার্লস নামা নামে এক স্বদেশী ভদ্রলোকের কাছে ক্যামেরুনের ইতিহাসে একজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব বলে মূল্যায়িত হয়েছিলেন। তিনি কেবল রেনেসাঁ যুগের ইউরোপীয় বুদ্ধিজীবীদের সমপর্যায়ের ‘ভাষাতাত্ত্বিক জাতীয়তাবাদী পুরোধাদের’ অন্যতম হিসেবেই বিবেচিত নন, সেই সঙ্গে একজন লেখক ও অনুবাদক হিসেবেও বিবেচিত, যিনি দৌআলা সাহিত্যের ভবিষ্যৎ গড়ে দিয়েছিলেন।

জাতীয় ভাষায় লিখেছেন এবং সেই সঙ্গে বিদেশী সাহিত্য অনুবাদ করেছেন এমন সাহিত্যিকরা তাঞ্জানিয়া, কেনিয়া ও উগান্ডার মতো পূর্ব আফ্রিকার দেশগুলোর সাহিত্যকেও নতুন পথনির্দেশ দিয়েছেন। স্বাধীনতা-পরবর্তী যুগে সাহিত্য অনুবাদের পুরোধা ছিলেন মোয়ালিমু জুলিয়াস কাম্বারাযে নাইয়ার (১৯২২-৯৯), যিনি একসময় তাঞ্জানিয়ার প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তিনি শেক্সপিয়ারের জুলিয়াস সিজার সোয়াহিলি ভাষায় অনুবাদ করেছিলেন। তার অনুবাদকর্মের কারণে জুলিয়াস নায়ার পূর্ব আফ্রিকায় — যেখানে সোয়াহিলি ব্যাপকভাবে চর্চিত হয় — উল্লেখযোগ্য খ্যাতির অধিকারী হয়েছিলেন।

{সোয়াহিলি তাঞ্জানিয়া ও কেনিয়ার দাপ্তরিক ভাষা। ২০ লাখেরও কম দেশী মানুষ এ ভাষাটি ব্যবহার করলেও একটি লিঙ্গুয়া ফ্রাংকা হিসেবে পাঁচ কোটিরও বেশি মানুষ ভাষাটি ব্যবহার করে। আরবির পর সোয়াহিলিই আফ্রিকায় সবচেয়ে বহুল ব্যবহূত ভাষা, যেখানে সেটি এলাকাটির অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, যে-কারণে সেখানে ইংরেজির আধিপত্য অনেকটাই ক্ষুণ্ন হয়েছে।}

নগুগি ওয়া থিওং-ও এবং ওকোত পি’বিতেকের মতো প্রধান লেখকদের অবদানের কারণে কেনিয়া ও উগান্ডার গিকুইউ (বা, কিকুইউ) এবং আচোলি ভাষার সাহিত্য পূর্ব আফ্রিকায় প্রসার লাভ করেছে।

 অ্যাঙ্গোলার জোয়াকিম দায়াস করদেইরো দা মাত্তা, ক্যামেরুনের এনো বেলিঙ্গা, নাইজেরিয়ার ওলে সোয়িংকা ও কেনিয়ার নগুগি ওয়া থিওং-র মতো উগান্ডার লেখক ওকোত পি’বিতেকও আফ্রিকি ভাষা থেকে ইউরোপীয় নানা ভাষায় এবং ইউরোপীয় ভাষা থেকে আফ্রিকি ভাষায় অনুবাদে তার অবদানের জন্য উল্লেখযোগ্য। গ্রেট ব্রিটেনে আইনশাস্ত্র ও সামাজিক নৃবিজ্ঞান অধ্যয়নের পর তিনি উগান্ডার ম্যাকেরেরে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক পদে যোগ দেন। পরে উগান্ডা সরকারের বিরাগভাজন হলে তিনি দেশের বাইরে চাকরি নেন এবং ইদি আমিন সরকারের পতনের পর আবার ম্যাকেরেরেতে ফিরে যান।

 ওকোত পি’বিতেক, ক্যামেরুনের মৌমে এতিয়ার মতো তার দেশে সাহিত্যের পুরোধা ছিলেন। তার প্রথম উপন্যাস লাক তার (১৯৫৩) আফ্রিকি ভাষার অন্যতম সেরা কাজ হিসেবে স্বীকৃত। পরে তিনি তার দেশী আচোলি ভাষায় বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ কবিতা রচনা করেন এবং পরে সেগুলো ইংরেজিতে অনুবাদ করেন। ১৯৬৬ সালে প্রকাশিত তার Song of Lawino: A Lament আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়। এরপর প্রকাশিত হয় ঐতিহ্যমণ্ডিত বাচিক পদাবলির অনুবাদ Song of Ocol (১৯৭০), Horn of My Love (১৯৭৪) এবং আরো কিছু রচনা। এ কাজগুলো বিশেষ করে আচোলি ভাষার এবং সাধারণভাবে আফ্রিকি সাহিত্যের বিকাশ ও সমৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে। পি’বিতেকের কবিতাগুলো প্রকাশিত হওয়ার পর আফ্রিকার অন্যান্য সাহিত্যিক তাকে অনুকরণ করতে শুরু করেন এবং বিভিন্ন জাতীয় ভাষায় মহাকাব্য রচনায় প্রবৃত্ত হন। তাছাড়া তার রচনা ফরাসি, হিস্পানি ও জর্মন ভাষায় অনূদিত হয়।

এখানে পি’বিতেকের অনুবাদ পদ্ধতি বিশেষ উল্লেখের দাবি রাখে। Horn of My Love-এর ভূমিকায় তিনি লিখেছিলেন: এ হচ্ছে আচোলি (Acholi) জনগোষ্ঠীর কবিতা; তাদের ঘুমপাড়ানি গান, তাদের ব্যাঙ্গাত্মক কবিতা, তাদের ধর্মীয় সংগীত আর স্তোত্র বা মন্ত্রোচ্চারণ, তাদের সমর সংগীত, তাদের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার শোকগাথা।’

{পি’বিতেক ‘Acoli’ বানানটি ব্যবহার করলেও ‘Acholi’ বানানটিই বহুল ব্যবহূত।}

এরপর তিনি বইটির বিন্যাস কাঠামো বর্ণনা করেছেন: গানগুলো বিভিন্ন যেসব উপলক্ষে রচিত হয়েছে, সেসবের কথা তিনি প্রথম পর্বে আলোচনা করেছেন; দ্বিতীয় পর্বে টেক্সটগুলো আচোলি আর ইংরেজিতে পাশাপাশি রাখা হয়েছে। তৃতীয় পর্বে পি’বিতেক খোদ গানগুলোর বিষয়বস্তু নিয়েই আলোচনা করেছেন, ঐতিহাসিক হিসেবে কবিদের ভূমিকার খানা-তল্লাশ করেছেন এবং শেষে ‘প্রশংসাসূচক নামগুলো’ (praise names) ব্যাখ্যা করেছেন ও যোদ্ধাদের উপাধিগুলোর একটা কোষ সরবরাহ করেছেন।

{উদাহরণস্বরূপ, ‘যিনি মাত্র একটি বর্শা ছোড়েন এবং তাতেই শত্রুরা লেজ গুটোতে থাকে’ তাকে বলা হতো ‘বোয়াঙ্গা-মোই’; আবার আবেল মোই তিনি, ‘যিনি শত্রুকে পালাতে বাধ্য করেন ’।}

 পি’বিতেক এ বিষয়টির ওপর জোর দেন যে অনুবাদগুলো তার নিজস্ব, এবং সম্ভাব্য আরো অনেক সংস্করণের মধ্যে একটি। এ কারণেই তিনি খাঁটি দেশী ভাষাকে (অরিজিনাল ভার্নাকুলার) অন্তর্ভুক্ত করেছেন, যাতে অন্য অনুবাদকরা সমালোচনা করতে পারেন এবং সেই সঙ্গে তারা নিজেরাও অনুবাদের চেষ্টা করতে পারেন। Horn of My Love -এ অনুবাদ বহুমাত্রিক; পি’বিতেক একটি বাচিক ঐতিহ্য থেকে লিখিত ভাষায় অনুবাদ করেন (তিনি ভার্নাকুলার শব্দটি ব্যবহার করেন); একটি আফ্রিকি ভাষা থেকে একটি ইউরোপীয় ভাষায় অনুবাদ করেন এবং তিনি পড়েন, ব্যাখ্যা করেন, এবং এক অর্থে তার নিজের সংস্কৃতিকে বৃহত্তর অডিয়েন্সের জন্য ‘অনুবাদ’ করেন। এই ‘ব্যাখ্যামূলক’ পদ্ধতির বৈশিষ্ট্য হলো এটি আরো কিছু অনুবাদের বা পুনঃঅনুবাদের পথ তৈরি করে, আর তার ফলে আচোলি সাহিত্য এবং সংস্কৃতি ছড়িয়ে পড়ে। এই নিরন্তর ট্রান্সমিশন বা স্থানান্তরের সম্ভাবনা জাতীয় সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করে এবং সেটার প্রচার ও প্রসার ঘটায়।

আফ্রিকার একজন লেখক কী করে উপনিবেশ স্থাপনকারীর ভাষায় লেখা অথবা তার দেশী ভার্নাকুলারে লেখা— এই দুইয়ের মধ্যে একটিকে বেছে নেয়ার কঠিন সমস্যা নিরসন করেন এটা তার একটি উদাহরণ। এভাবে পল বানিদয়া বলছেন, আফ্রিকি সাহিত্য উত্তর-উপনিবেশিক অনুবাদ তত্ত্বে একটি আলোকসম্পাতি (এনলাইটেনিং) কেস স্টাডি উপস্থাপন করতে পারে। লিখিত সাহিত্যে বাচিক ঐতিহ্যের একীকরণ বা সমাকলন (ইন্টিগ্রেশন) আসলে এক ধরনের অনুবাদ, যেটা পি’বিতেকের ক্ষেত্রে সম্পূরক হিসেবে কাজ করেছে, একটি ইউরোপীয় বা উপনিবেশিক ভাষায় অনুবাদের মাধ্যমে। ‘একটি বাচিক ঐতিহ্য থেকে লিখিত সংস্কৃতিতে এবং একটি প্রান্তস্থিত উপনিবেশিত ভাষা থেকে একটি ইম্পেরিয়াল বা উপনিবেশিক ভাষায় এই দ্বিমুখী চলাচল’ গতানুগতিক অনুবাদ তত্ত্বের ‘বাইনারি অপোজিশন’কে ছাড়িয়ে যায় এবং হোমি ভাবাকৃত তত্ত্বরূপদানকারী বর্ণসংকরতা (হাইব্রিডিটি) ও অন্তঃমধ্যস্থতাকে (ইন-বিটুইননেস) মর্যাদা দান করে। বান্দিয়া এই বলে উপসংহার টানেন যে, ‘এই কর্মপদ্ধতিটি বিশেষ করে বর্তমান পৃথিবীর জন্য প্রাসঙ্গিক, যেখানে নিরন্তর স্থানান্তর, স্থানচ্যুতি এবং আভিবাসন সাংস্কৃতিক সীমানাকে সেকেলে বা বাতিল কিংবা অচল বানিয়ে ছেড়ে দিয়ে বর্ণসংকর পরিচয় এবং সীমান্ত সংস্কৃতির জন্ম দিয়েছে।’

কাজেই কোনো জাতি বা দেশ তৈরির প্রেক্ষিতে অনুবাদকে দেখা কম প্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছে। বৈশ্বিক মানদণ্ডে বিনিময়ের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক নেটওয়ার্কগুলো একটি উত্তরজাতীয়তার বিন্যাসে প্রবেশ করেছে, যে প্রেক্ষিতে ‘জাতি বা দেশ’ এখন আর পরিচয়ের কোনো প্রাথমিক নির্ধারক নয়। কসমোপলিটানিজমের এক নতুন যুগে ‘অনুষ্ঠিত’ হয়ে অনুবাদ এখন একটি ‘সংকরায়ণ ঘটানোর পদ্ধতি বা প্রক্রিয়া’য়, বিস্তৃত সাংস্কৃতিক অভিঘাতসম্পন্ন ‘সমালোচনা ও হস্তক্ষেপের একটি কাজে’ পরিণত হয়েছে, যার একটি সুপারিশ এই যে, ‘অনুবাদবিদ্যা/অধ্যয়ন শাস্ত্র যেন নতুন ডিসিপ্লিনারি ফ্রেমওয়ার্ক হয়, যার মাধ্যমে সাহিত্যিক বিনিময়কে বিচার-বিশ্লেষণ করা যায়।’

৩য় অধ্যায় সমাপ্ত

পরবর্তী অধ্যায়: ‘অনুবাদকগণ এবং জ্ঞানের পরিব্যাপ্তি’