১১ তারিখ বিকালে দোয়ারসান্নি নামক একটি ছোট গ্রামে জরিপ শুরু করি। গ্রামটি মেঘনা ও ইছামতী নদীর সঙ্গমস্থলের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত। এর বিপরীতে একটি অত্যন্ত বড় বালুচর রয়েছে, যা নদীটিকে দুটি অসমান প্রবাহপথে বিভক্ত করেছে। এর মধ্যে উত্তর দিকের প্রবাহপথটি অধিক নিরাপদ ও উত্তম। এ অঞ্চলের অধিকাংশই জঙ্গলে আচ্ছাদিত।
১১ থেকে ১৪ তারিখ পর্যন্ত দোয়ারসান্নি থেকে আল্লিনিয়া পর্যন্ত প্রায় নয় মাইল দূরত্ব জরিপে ব্যস্ত থাকি; এখানে নদীর প্রবাহপথ প্রায় পশ্চিম-দক্ষিণ-পশ্চিম অভিমুখে।
আল্লিনিয়ায় মেঘনার একটি শাখা দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বিচ্ছিন্ন হয়ে প্রায় ২৪ মাইল পথ অতিক্রম করে চাঁদপুরে গিয়ে পুনরায় বৃহৎ মেঘনায় মিলিত হয়েছে। শাখাটির নাম পাংঘিয়া নদী এবং এটিতে সারা বছর বৃহত্তম নৌযান চলাচল করতে পারে। আল্লিনিয়া থেকে দুই মাইল উজানে পূর্ব তীরে একটি বড় খাল বা নদী মেঘনায় এসে মিশেছে; একে সাধারণত ছোট মেঘনা বলা হয়। এটি সিলেট ও আজমিরীগঞ্জে (হবিগঞ্জ) যাওয়ার সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত নৌপথ।
১৩ থেকে ১৭ তারিখ পর্যন্ত আল্লিনিয়া ও নাউলদীর মধ্যবর্তী অংশ জরিপে ব্যস্ত থাকি। ওই দুই স্থানের মধ্যে নদীটি অত্যন্ত আঁকাবাঁকা। উভয় তীরবর্তী অঞ্চল খুব অল্প চাষাবাদ হয় ও জনবসতিহীন; বহু মাইল পর্যন্ত প্রায় কোনো গাছপালা দেখা যায় না। এ সময়ে বাতাস ও আবহাওয়া পরিবর্তনশীল ছিল।
এ নদী সাধারণত (বিশেষত ইউরোপীয়দের দ্বারা) ভিন্ন নামে অভিহিত হলেও দেশীয় লোকেরা একে মেঘনা নামেই ডাকে। ইছামতীর সঙ্গে সঙ্গমস্থল থেকে প্রায় ৫০ মাইল উজান পর্যন্ত এ নামই বহাল আছে। এরপর নদীটি ব্রহ্মপুত্র বা বাররাম-পিউত নামে পরিচিত হয়।
১৭ তারিখ থেকে ২৩ তারিখের মধ্যে উল্লেখযোগ্য তেমন কোনো কাজ হয়নি। এ সময় অত্যন্ত ঝড়ো আবহাওয়া ও প্রচুর বৃষ্টি হয়েছিল। ২১ তারিখে দক্ষিণ দিক থেকে প্রবল ঝড় বয়ে যায়। এ সময় আমরা নাউলদী থেকে নরসিংদী পর্যন্ত নদীর পশ্চিম তীর জরিপে নিয়োজিত ছিলাম। এই অংশে নদীটি অত্যন্ত প্রশস্ত, প্রবল স্রোতযুক্ত ও বিপজ্জনক। কারণ এতে বহু দ্বীপ ও চর রয়েছে। বহু স্থানে নদীর প্রস্থ আড়াই মাইল পর্যন্ত। এর সাধারণ প্রবাহদিক দক্ষিণ-পশ্চিম-দক্ষিণ।
সুলতান সুফির মাজারটি পশ্চিম তীর থেকে প্রায় দেড় মাইল ভেতরে অবস্থিত এবং ঢাকা থেকে প্রায় সাড়ে ষোলো মাইল পূর্ব-উত্তর-পূর্ব দিকে অবস্থিত। এ অঞ্চলের জমিতে প্রধানত ধান চাষ করা হয়।
নরসিংদী একটি বাজারগ্রাম, যা মেঘনার পশ্চিম তীরে অবস্থিত। এটি ঢাকা থেকে প্রায় ২৩ মাইল পূর্ব-উত্তর-পূর্ব দিকে। এ গ্রামের নিকটে ব্রহ্মপুত্রের একটি বড় শাখা মেঘনায় এসে মিশেছে। শাখাটি (ব্রহ্মপুত্রের মূল স্রোতের সহায়তায়) প্রায় ১৮ মাইল দীর্ঘ ও সাত মাইল প্রশস্ত একটি দ্বীপ সৃষ্টি করেছে।
চিলমারী ও গোয়ালপাড়ায় যাওয়ার সবচেয়ে কাছের পথ ছিল এই পশ্চিমের শাখা নদীটি। তাই আমি আগে এটিই ভালোভাবে জরিপ করা সঠিক মনে করি। পূর্ব দিকের নদীটি তখনো জরিপ করিনি, কারণ তার পথঘাট সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাইনি। এমনকি স্থানীয় লোকেরাও এর সব শাখা সম্পর্কে ঠিকমতো জানত না। আর ব্যবসায়িক নৌকাও সেখানে খুব কম চলাচল করত।
নরসিংদীতেই আরো একটি ছোট নদী বা খাল মেঘনায় এসে মিশেছে। জানা গেছে, খালটি লাকিয়া নদীতে যাওয়ার একটি সংক্ষিপ্ত পথ প্রদান করে। কিন্তু আমার নির্দেশ ছিল মূল বৃহৎ নদী জরিপ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত পশ্চিম শাখাগুলো জরিপ না করা। ফলে এটি সারা বছর বড় নৌকার জন্য চলাচলযোগ্য কিনা সে বিষয়ে আমি নিশ্চিত করে বলতে পারছি না। যদিও আমার সন্দেহ হয় যে তা সম্ভবত চলাচলযোগ্য। এ স্থানে জোয়ার-ভাটা প্রায় অদৃশ্য বা খুবই সামান্য।
২৩ মে থেকে ২ জুন পর্যন্ত আমরা পশ্চিম নদী—ব্রহ্মপুত্র জরিপে নিয়োজিত ছিলাম। এটি ছোট ব্রহ্মপুত্র বা পাগলা নদী নামে পরিচিত। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৪০ মাইল (বাঁক ও মোড়সহ)। নদীটি প্রায়ই ছোট ছোট শাখায় বিভক্ত হয়ে বহু মনোরম দ্বীপ সৃষ্টি করেছে। দ্বীপগুলোতে খুব ভালো ফসল চাষাবাদ হয়। পশ্চিম তীরের মাটি লালচে বর্ণের ও অত্যন্ত দৃঢ়, অনেক স্থানে নদীতীরে খাড়া উঁচু পাড় বা প্রস্তরময় ঢাল রয়েছে।
এ অঞ্চলেও বনভূমি রয়েছে, তবে কোনো গাছই কাঠ হিসেবে ব্যবহারযোগ্য নয়। এখানে বহু গ্রাম আছে, যেগুলোর অবস্থান মানচিত্রে বিস্তারিতভাবে দেখানো হয়েছে। নদীর স্রোত অত্যন্ত প্রবল। পাইকারচর নামক স্থানে জোয়ারের পানি প্রায় ৮-৯ ইঞ্চি পর্যন্ত ওঠে, কিন্তু এর উজানে আমি আর জোয়ারের কোনো লক্ষণ দেখিনি। এই নদীর পশ্চিম তীরে প্রচুর সাপের বাস, যার মধ্যে কিছু অত্যন্ত বৃহৎ আকৃতির।
৩ জুন আমরা বৃহৎ ব্রহ্মপুত্র নদে প্রবেশ করি, যার প্রবাহদিক পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম। পূর্ব দিকের নদীটি আমি তখনো জরিপ করিনি। কারণ এর বিভিন্ন শাখাপথের সঠিক দিকনির্দেশ দিতে সক্ষম এমন উপযুক্ত কোনো ব্যক্তিকে তখনো পাইনি।
৩ থেকে ৯ জুন পর্যন্ত আমরা পশ্চিম নদীর উৎসস্থল থেকে লাক্ষ্যা (শীতলক্ষ্যা) নদীর উৎস পর্যন্ত জরিপকাজে নিয়োজিত ছিলাম। এই অংশে নদীর প্রবাহদিক প্রায় দক্ষিণ-পূর্ব থেকে দক্ষিণে। বহু দ্বীপের বিস্তৃত সমষ্টির কারণে নদীটি নানা শাখায় বিভক্ত হয়েছে। উভয় তীরবর্তী অঞ্চলে বিশেষ উল্লেখযোগ্য কিছু নেই; ভূমি অত্যন্ত সমতল এবং নদীতীরবর্তী অংশ অধিকাংশই জঙ্গলে আচ্ছাদিত। আদমপুর ও শীতলক্ষ্যা নদীর উৎসের নিকটবর্তী এলাকায় প্রচুর পান বা সুপারিগাছ জন্মে। দ্বীপগুলোর অধিকাংশই জনশূন্য।
শীতলক্ষ্যা নদী ব্রহ্মপুত্রের সর্বপশ্চিম শাখা, যা ঢাকা থেকে কয়েক মাইল নিচে ইছামতীতে গিয়ে মিশেছে। এর আগে এটি একটি নৌ-চলাচলযোগ্য খাল বের করেছে, যা সরাসরি ঢাকায় গিয়ে পৌঁছেছে। ফলে ঢাকা থেকে চিলমারী ও গোয়ালপাড়ায় (সম্ভবত গোয়ালন্দ হতে পারে) যাওয়ার পথ মেঘনার অন্যান্য শাখার তুলনায় অনেক সংক্ষিপ্ত হয়।
৯ জুন মেঘনার জন্য একজন পথপ্রদর্শক সংগ্রহ করে আমি নরসিংদী ও পশ্চিম নদীর উৎসের মধ্যবর্তী অংশের একটি প্রাথমিক জরিপ শুরু করি। ৯ থেকে ১৬ জুন পর্যন্ত এ কাজে নিয়োজিত ছিলাম। এই অংশে মেঘনা কিছু স্থানে তিন মাইলেরও বেশি প্রশস্ত। এখানে নদীর ২৫ মাইলের মধ্যে প্রায় ২১টি দ্বীপ রয়েছে। সবগুলোই জঙ্গলে আচ্ছাদিত ও সম্পূর্ণ জনশূন্য। নদীতীরও প্রায় সর্বত্র জঙ্গলে ঢাকা; উল্লিখিত দূরত্বের মধ্যে মাত্র তিনটি গ্রাম আছে।
নরসিংদী থেকে প্রায় ৮ মাইল উজানে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে একটি বড় খাল বের হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, এটি সেই একই খাল যা আল্লিনিয়ার কাছে মেঘনায় মিশেছে এবং মি. প্লেইস্টেডের সিলেট নদীগুলোর জরিপে অন্তর্ভুক্ত আছে। আরো তিন মাইল উজানে উত্তর-পূর্ব দিক থেকে সিলেটে নদী মেঘনায় এসে মিশেছে। এ নদীটির প্রস্থ আধা মাইলের বেশি এবং শোনা যায় এর উৎস আসাম প্রদেশের নিকটে। এটিও প্লেইস্টেডের জরিপভুক্ত। এ নদীর পানি মেঘনার তুলনায় স্বচ্ছ।
পরাগড়াহান্ডি গ্রামের বিপরীতে পূর্ব তীরে আরেকটি নদী বা বড় খাল মেঘনায় এসে মিশেছে। এর প্রবাহপথ সম্পর্কে স্থানীয়দের কাছ থেকে নির্দিষ্ট তথ্য পাইনি। তখন এর প্রস্থ প্রায় আধা মাইল ছিল, তবে পার্শ্ববর্তী ভূমি অত্যন্ত সমতল হওয়ায় শুষ্ক মৌসুমে এটি অনেক সরু হয়ে যায় বলে ধারণা করি। অনুমান করি, এটি ব্রহ্মপুত্রের উত্তর দিকের কোনো শাখা হতে পারে।
১৬ জুন শীতলক্ষ্যা নদীর উৎস থেকে উত্তর দিকে ব্রহ্মপুত্রের জরিপ পুনরায় শুরু করি। এখানে ব্রহ্মপুত্রের প্রস্থ আধা মাইলেরও কম, কিন্তু গভীরতা ও স্রোত অত্যন্ত প্রবল। বর্ষায় নদী ফুলেফেঁপে উঠেছিল, অনেক স্থানে পানি তীরের সমান হয়ে গিয়েছিল। শীতলক্ষ্যার উৎসের কয়েক মাইল উজানে উত্তর দিকে পাহাড় দেখতে পাই, যা তখন আমাদের থেকে প্রায় ৭০ মাইল দূরে ছিল।
২২ জুন ওসুনপুর গ্রামে পৌঁছি, যেখানে একটি পর্তুগিজ গির্জার ধ্বংসাবশেষ আছে। এটি ঢাকা থেকে প্রায় ৫০ মাইল উত্তর-উত্তর-পূর্বে। গ্রামের নিচে পূর্বদিকে একটি নৌ-চলাচলযোগ্য খাল ব্রহ্মপুত্র থেকে বের হয়ে সিলেট নদীর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। এ এলাকায় প্রচুর সুপারিগাছ জন্মে।
২৩ জুন উত্তর-পশ্চিম দিকে অন্তত ৮০ মাইল দূরে আরেকটি পর্বতমালা দেখতে পাই, যা বাংলা রাজ্যের সীমানা বলে জানা যায়।
২২ জুন থেকে ১৪ জুলাই পর্যন্ত ওসুনপুর থেকে কৌস্তিয়া (পশ্চিম তীরের একটি ছোট গ্রাম) পর্যন্ত জরিপ করি। হঠাৎ নদীর পানি উপচে তীর ভেঙে পড়ায় জরিপ বন্ধ করতে বাধ্য হই। এ অংশে ব্রহ্মপুত্রের প্রবাহদিক প্রায় দক্ষিণ-পূর্ব-দক্ষিণ, যদিও পুরনো মানচিত্রে এটিকে প্রায় দক্ষিণমুখী দেখানো হয়েছে। প্রস্থ আধা মাইল থেকে তিন মাইল পর্যন্ত পরিবর্তিত। উভয় তীরেই বহু গ্রাম, প্রচুর ধানখেত ও সুপারি বাগান রয়েছে। কাঠের উপযোগী কোনো গাছ নেই—গাছের কাণ্ড ছোট ও বাঁকানো।
বাগানবাড়ি একটি বড় বাজারগ্রাম, এটি নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থিত। বর্ষাকালে এখান থেকে একটি ছোট খাল শীতলক্ষ্যায় গিয়ে মেশে, যা বড় নদীর তুলনায় নৌযানের জন্য নিরাপদ পথ। বাগানবাড়ি থেকে চিলমারী স্বল্প দূরত্ব হওয়ায় কয়েকদিন সময় ব্যয় করে সেখানে পর্যন্ত নদীপথ অনুসরণ ও একটি প্রাথমিক জরিপ করি, যাতে মানচিত্র পূর্ণাঙ্গ হয় এবং গোয়ালপাড়ার অবস্থান ও ব্রহ্মপুত্র থেকে মুকসেদাবাদমুখী খালগুলোর বিষয়ে তথ্য পাওয়া যায়।
১৪ থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত বাগানবাড়ি থেকে চিলমারী পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্র অনুসরণ করি। প্রবাহদিক প্রায় একই (দক্ষিণ-পূর্ব-দক্ষিণ)। আনুমানিক দূরত্ব প্রায় ৭০ মাইল। পাহাড়ের দিকনির্দেশ ও চিলমারীর অক্ষাংশ নির্ণয়ের মাধ্যমে এটি নিশ্চিত করা হয়। হ্যাডলির কোয়াড্রান্ট দ্বারা নেয়া পর্যবেক্ষণে চিলমারীর অক্ষাংশ ছিল প্রায় ২৫°-২৭′ উত্তর।
বাগানবাড়ি থেকে চিলমারী পর্যন্ত পশ্চিম তীর সম্পূর্ণ সমতল ও ধানখেতে ভরা। পূর্ব তীরও সমতল, তবে চিলমারী থেকে প্রায় ২০ মাইল দূরে পাহাড়ি অঞ্চল শুরু হয়েছে। কিছু পাহাড় নদীতীরের খুব কাছে এবং মাঝারি উচ্চতার, জঙ্গলে আচ্ছাদিত। বাংলাদেশের পূর্ব সীমান্ত হিসেবে পরিচিত উচ্চ পর্বতমালা প্রায় ২৫°-১০′ উত্তর অক্ষাংশ থেকে উত্তর-পশ্চিমে বাঁক নিয়ে বিস্তৃত হয়েছে। এর একটি অংশ চিলমারী থেকে ৩০ মাইলের মধ্যে পড়েছে। অনুমান করা হয়, এগুলোর উচ্চতা প্রায় দেড় মাইল।
চিলমারী ও ঢাকার মধ্যবর্তী ব্রহ্মপুত্র থেকে জলঙ্গী নদীর দিকে কোনো খাল নেই। তবে চিলমারী ও গোয়ালপাড়ার মধ্যে একটি খাল আছে, যা সারা বছর ছোট নৌকার চলাচলযোগ্য এবং সুরদা ও জাফরগঞ্জে পৌঁছে। রংপুর ও গড়ীগাট এই খালের তীরে অবস্থিত। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী গোয়ালপাড়া প্রায় ২৬° উত্তর অক্ষাংশে এবং চিলমারী থেকে প্রায় ৭০ মাইল উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত।
ব্রহ্মপুত্রের স্রোত অত্যন্ত প্রবল, চিলমারীর কাছে কোথাও কোথাও ঘণ্টায় ৬ মাইল বেগে প্রবাহিত হয়।
১৯ থেকে ২৫ জুলাই পর্যন্ত চিলমারীতে অবস্থান করি। এ সময় অক্ষাংশ নির্ণয়, স্থানীয়দের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ এবং মানচিত্র প্রণয়নে ব্যস্ত ছিলাম। ২৫ জুলাই চিলমারী ত্যাগ করি এবং ২৯ জুলাই রাতে শীতলক্ষ্যা নদীতে প্রবেশ করি। ঘন ঘন ঝড়ো হাওয়ার কারণে আমাদের যাত্রার গতি কমে যায়। শীতলক্ষ্যা নদীপথে নামতে নামতে একটি খসড়া মানচিত্র তৈরি করি। ১ আগস্ট ঢাকায় পৌঁছি।
[টি এইচ ডি লা টাচ সম্পাদিত, এশিয়াটিক সোসাইটি কলকাতা থেকে ১৯১০ সালে প্রকাশিত ‘দ্য জার্নাল অব মেজর জেমস রেনেল, ফার্স্ট সার্ভেয়ার জেনারেল অব ইন্ডিয়া (১৭৬৪-১৭৬৭)’ শীর্ষক গ্রন্থের অংশবিশেষ।]
ভাষান্তর: বাশার খান









