প্রথম আকাশবালিকা এলেন চার্চ
এলেন চার্চের জন্ম যুক্তরাষ্ট্রের আয়ওয়া অঙ্গরাজ্যের ক্রেসকোতে ২২ সেপ্টেম্বর ১৯০৪। ক্রেসকো হাইস্কুল থেকে স্কুল ফাইনাল পাস করে তিনি নার্সিংয়ের ওপর পড়াশোনা করলেন এবং প্রশিক্ষণ নিলেন। চাকরি শুরু করলেন সানফ্রান্সিসকো হাসপাতালে। তিনি কাজের ফাঁকে ফাঁকে উড়োজাহাজ চালনা প্রশিক্ষণ নিয়ে পাইলট হলেন। এলেন বোয়িং এয়ার ট্রান্সপোর্টের পাইলট হতে চাইলেন। কিন্তু বোয়িংয়ের সানফ্রান্সিসকো অফিসের ম্যানেজার স্টিভ স্টিমটন একজন মহিলাকে পাইলট হিসেবে গ্রহণ করতে রাজি নন। তবে উড়োজাহাজে চড়া যাত্রীদের ভয় কাটিয়ে তাদের শান্ত করার জন্য তাকে নার্স হিসেবে নিতে তার আপত্তি নেই।
১৯৩০-এ বোয়িং এয়ার ট্রান্সপোর্ট এলেন চার্চকে হেড স্টিউয়ার্ডেস হিসেবে নিয়োগ দেয়। আর তিনি পরীক্ষামূলকভাবে তিন মাসের জন্য সাতজনকে নিয়োগ দেন। বোয়িং এয়ার ট্রান্সপোর্টের স্টিউয়ার্ডেস হওয়ার যোগ্যতা: অবশ্যই রেজিস্টার্ড নার্স হতে হবে। অবিবাহিত, বয়স পঁচিশের নিচে, ওজন ১১৫ পাউন্ডের কম এবং উচ্চতা ৫ ফুট ৪ ইঞ্চির নিচে। যাত্রীদের সেবা করা ছাড়াও যাত্রীদের লাগেজ টানাটানি, উড়োজাহাজে জ্বালানি ভরা এবং উড়োজাহাজ ঠেলে হ্যাঙ্গারে নিতে সাহায্য করার জন্য তৈরি থাকতে হবে।
বেতনটা বেশ ভালো, মাসে ১২৫ মার্কিন ডলার। এলেন চার্চই হলেন ইতিহাসের প্রথম ফ্লাইট স্টিউয়ার্ডেস।
১৫ মে ১৯৩০ তিনি বোয়িং ৮০এ উড়োজাহাজে অকল্যান্ড শিকাগো— ২০ ঘণ্টার সফরে বের হলেন। ১৪ জন যাত্রী এবং ১৩ জায়গায় যাত্রাবিরতি দিয়ে সফরটি সম্পন্ন হয়েছে। কোনো কোনো সূত্রমতে এ জাহাজের পাইলট ছিলেন উড্ডয়নের অন্যতম অগ্রদূত আর্লে জেপেসেন।
বোয়িংয়ের অসাধারণ সাফল্য দেখে অন্যরাও তা অনুসরণ করতে শুরু করে। ১৮ মাস কর্মরত থাকার পর এক সড়ক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু না ঘটলেও আকাশজীবনের সমাপ্তি ঘটে।
তিনি দ্রুত নার্সিংয়ে গ্র্যাজুয়েট হওয়ার জন্য ইউনিভার্সিটি অব মিনেসোটায় ভর্তি হলেন। পাস করে আবার নার্সিং পেশায় ফিরে এলেন। ১৯৩৬ সালে মিলওয়াকি কাউন্টি হাসপাতালে শিশুচিকিত্সা বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক নিযুক্ত হলেন। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় ক্যাপ্টেন হিসেবে আর্মি নার্সিং কোরে কর্মরত ছিলেন। ফ্লাইট নার্স হিসেবে তিনি বিমানবাহিনী পদক পেলেন। শেষে তিনি ইন্ডিয়ানা ইউনিয়ন হাসপাতালের পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। ৬০ বছর বয়সে সেখানকার ফার্স্ট ন্যাশনাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান লিওনার্দ ব্রিগস মার্শালকে বিয়ে করেন। পরের বছরই অশ্বারোহী হিসেবে একটি দুর্ঘটনায় তিনি প্রাণ হারান।
ক্রেসকো মিউনিসিপ্যাল এয়ারপোর্টের এখনকার নাম এলেন চার্চ ফিল্ড।
আকাশবালিকা থেকে প্রধানমন্ত্রী
১৯৬০ সালে আইসল্যান্ড এয়ারের ১৮ বছর বয়সী আকাশবালিকা ইউহানা সেগুরাতোতির ২০০৯-১২ পর্যন্ত আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।
আইসল্যান্ড এয়ারের পূর্বসূরি লোফটলে এয়ারের ফ্লাইট অ্যাটেনন্ডেন্ট হিসেবে একসময় কাজ করেছেন ইউহানা।
তার জন্ম ৪ অক্টোবর ১৯৪২, রাজধানী রিকইয়াভিক শহরে। পড়াশোনা ভোকেশনাল ইনস্টিউটে, হাতে কলমে কাজ করার শিক্ষা নিয়েছেন। চটপটে স্বভাব এবং শারীরিক সৌন্দর্য তাকে উড়োজাহাজের কেবিন ক্রু বানিয়ে দেয়। তার পর যোগ দেন শ্রমিকের কাজে, ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলনে নিজেকে জড়িয়ে ফেলেন। ১৯৬৬ থেকে ১৯৬৯ তিনি কেবিন ক্রু অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৬ থেকে ১৯৮৩ পর্যন্ত তিনি বাণিজ্যিক শ্রমিক ইউনিয়ন বোর্ডের সদস্য ছিলেন।
সোস্যাল ডেমোক্র্যাট ইউহানা ১৯৭৮-এ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং ১৯৭৯ ও ১৯৮৩-৮৪তে ডেপুটি স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি সোস্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টির ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং চারটি ভিন্ন ভিন্ন মন্ত্রিসভায় সমাজকল্যাণ-বিষয়ক মন্ত্রী ছিলেন।
১০ মে ২০০৯ তিনি আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। সে সময় দেশে চরম আর্থিক সংকট বিরাজ করছিল। তিনি দক্ষতার সঙ্গে এ সংকট মোকাবেলা করতে থাকেন। ২০১২ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী পদে বহাল ছিলেন।
২০১০ সালে তিনি স্ট্রিপটিজ ক্লাবগুলো বন্ধ করে দেন এবং নগ্নতাকে পুঁজি করে হোটেলে-ক্লাবে ব্যবসা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। পশ্চিমের গণতান্ত্রিক কোনো দেশে এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা ওটাই প্রথম।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি স্টেইনার ইউহানসনের স্ত্রী, ১৯৭০ থেকে ১৯৮৭ পর্যন্ত একসঙ্গে ঘরসংসার করেন এবং দুই পুত্রসন্তানের জন্ম দেন।
তিনি এর পর জোনিনা লিওদোতির নামক এক নারী নাট্যকারের সঙ্গে বসবাস করতে থাকেন। ২০১০ সালে সমলৈঙ্গিক বিয়ে বৈধ ঘোষিত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী অবস্থায় তিনি জোনিনাকে বিয়ে করেন।
এটিই আইসল্যান্ডের প্রথম সমকামী বিয়ে। কোনো প্রেসিডেন্টের বেলায়ও এটাই প্রথম। জোনিনাও গর্ব করে বলেছেন, ‘আমিই পৃথিবীর প্রথম লেসবিয়ান ফার্স্টলেডি।’
গিনেস রেকর্ড বুকে ভেসনা ভুলোভিক
প্যারাসুট ছাড়া সবচেয়ে বেশি উচ্চতা থেকে লাফিয়ে পড়ার বিশ্বরেকর্ডটি (নারী ও পুরুষ নির্বিশেষে) সার্বিয়ান ফ্লাইট অ্যাটেন্ডেন্ট ভেসনা ভুলোভিকের। তিনি ১০ হাজার ১৬০ মিটার মানে ৩৩ হাজার ৩৩৩ ফুট ওপর থেকে লাফিয়ে পড়ে বেঁচে ছিলেন।
ভেসনার জন্ম ১৯৫০ সালে, সার্বিয়ায়। সুন্দরী ও সুদক্ষ ভেসনা যুগোস্লাভ এয়ারলাইনসের ফ্লাইট অ্যাটেন্ডেন্ট।
২৬ জানুয়ারি ১৯৭২ সালে ২২ বছর বয়সী ভেসনার কোনো ডিউটি থাকার কথা নয়। একই নামের অন্য একজনের কেবিন ডিউটি JAT Flight ৩৬৭-এ; কিন্তু অফিস থেকে ভুলবশত যোগাযোগ করা হয় তার সঙ্গে এবং তাকে ডিউটি করতে বলা হয়। উড়োজাহাজটি ম্যাকডোনেল ডগলাসের ডিসি-৯; স্টকহোম থেকে যুগোস্লাভিয়ার রাজধানী বেলগ্রেড যাবে। উড়োজাহাজে ২৩ জন যাত্রী ও পাঁচজন ক্রু। ভেসনা তিনজন ফ্লাইট অ্যাটেন্ডেন্টের একজন। একজন পাইলট ও একজন কো-পাইলট। মাঝখানে দুটো বিরতি কোপেনহেগেন ও জাগরেব। কোপেনহেগেন থেকে ওঠা পাঁচজন সুইডেন থেকে আসা এই পাঁচজন ক্রুর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। ভেসনার জন্য এ দায়িত্ব বেশ মজার। কারণ ডেনমার্ক তার প্রিয় একটি দেশ আর রাজধানী কোপেনহেগেনের শেরাটন হোটেলে ঘুমানোটাও তার জন্য অনেক আনন্দের।
এ পর্যন্ত ফ্লাইটটি তেমন ঘটনাবহুল নয়। স্বাভাবিক উচ্চতায়, স্বাভাবিক ক্রুজ স্পিডে ডিসি-৯ এগিয়ে যাচ্ছে। বেলা ৩টা ৫৯ মিনিটে VOLMET (মেটেওরোলজিক্যাল ইনফরমেশন ফর এয়ারক্রাফট ইন ফ্লাইট) থেকে আবহাওয়ার পূর্বাভাষ জেনে নিলেন— আবহাওয়ায় কোনো অস্বাভাবিকতা নেই। ঠিক ২ মিনিট পর বিকাল ৪টা ১ মিনিটে উড়োজাহাজ যখন তত্কালীন পূর্ব জার্মানির হার্মসডর্ফের ওপর দিয়ে যাচ্ছে, হঠাত্ এটি রাডার স্ক্রিনের বাইরে চলে যায় এবং রাডারের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
ঠিক তখনই ১০ হাজার ১৬০ মিটার উচ্চতায় উড়োজাহাজের কার্গো এলাকার সামনের অংশে প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ঘটে। জাহাজ নিয়ন্ত্রণ হারায় এবং দুই টুকরো হয়ে চেকস্লোভাকিয়ার (বর্তমান চেক রিপাবলিক) ছোট্ট গ্রাম স্রাবস্কা কেমেনিসের কাছে বরফাচ্ছাদিত পাহাড়ের সঙ্গে ধাক্কা লেগে সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়। জাহাজের ধ্বংসাবশেষের মধ্য থেকে ২৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বিস্ময়কর হলেও সত্য, মরদেহের ভিড়ে জীবিত একজনও ছিলেন। তিনি ফ্লাইট অ্যাটেনন্ডেন্ট ভেসনা। যাত্রী ও ক্রুদের মধ্যে আর কেউই বেঁচে ছিলেন না।
দুর্ঘটনার খবর প্রচার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চেকস্লোভাক সিক্রেট সার্ভিস পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে, ভেতরে গণমাধ্যমের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়। পরদিন ২৭ জানুয়ারি ভোরবেলা একটি সুইডিশ জাতীয় দৈনিক একটি ফোন পায়। ভাঙা ভাঙা সুইডিশে একজন নিজেকে ক্রোয়েশিয়ান ন্যাশনালিস্ট গ্রুপের সদস্য দাবি করে জানান, তারাই উড়োজাহাজে বিস্ফোরক স্থাপন করেছে। সরকারও কয়েক দিন পর দাবি করে, এটি বিদ্রোহী ক্রোয়েশিয়ান রেভলুশনারি মুভমেন্ট— ওস্তাসার নাশকতামূলক কাজ।
ব্রুনো হেঙ্ক নামের একজন প্রথম দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছেন। তিনি ধ্বংসস্তূপের ভেতর নারীর চিত্কার শুনতে পেয়ে জাহাজের মাঝামাঝি ডানার খানিকটা উপরিভাগ থেকে দেখতে পান, একজন কেবিন ক্রুর শরীরের নিচের অংশ জাহাজের ভেতরে এবং উপরের অংশ জাহাজের খোলের বাইরের দিকে ঝুলে পড়েছে। ব্রুনো দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় চিকিত্সক হিসেবে কাজ করেছেন। কাজেই ভেসনাকে টেনে বের করে প্রাথমিক চিকিত্সার দায়িত্ব তিনি নিজেই পালন করেছেন। ভেসনার অবস্থা সংকটাপন্ন, মাথার খুলিতে চিড় ধরেছে। পাঁজরের তিনটি হাড় পুরো গুঁড়িয়ে গেছে, পায়ে মাল্টিপল ফ্র্যাকচার, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণও হয়েছে। হাসপাতালে আনার পর ভেসনা চিকিত্সকের কাছে একটি সিগারেট চাইলেন এবং পরক্ষণে অজ্ঞান হয়ে গেলেন। জ্ঞান ফিরল দুই সপ্তাহ পর। তখন তিনি দুর্ঘটনার কথা শুনলেন। কিন্তু নিজ থেকে কিছুই মনে করতে পারলেন না।
কোমর থেকে নিচের দিকে প্যারালাইজড হয়ে গেল। বেশ ক’টি অপারেশনের পর দুর্ঘটনার ১০ মাস পরে তিনি দুই পা ব্যবহার করে একটু একটু হাঁটতে পারলেন।
সুস্থ হয়ে তিনি যুগোস্লাভ এয়ারলাইনসের গ্রাউন্ড সার্ভিস বিভাগে কাজ করতে শুরু করলেন। একসময় তিনি আবার কেবিন ক্রু হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে চাইলেন। তার আতঙ্কিত থাকার কথা, কিন্তু এত বড় দুর্ঘটনার কোনো স্মৃতিই তার মস্তিষ্ক ধারণ করে রাখেনি বলে তার মধ্যে ট্রমা কাজ করেনি। কেবিন ক্রু হিসেবে আবার কাজ শুরু করার আবেদন কর্তৃপক্ষ প্রত্যাখ্যান করে তাকে সদর দপ্তরে ডেস্কে বসা কাজের দায়িত্ব দেয়।
তার বিস্ময়কর বেঁচে থাকা তাকে ‘ন্যাশনাল হিরোইন’-এ পরিণত করে। কেবল বলকান অঞ্চলে নয়, সারা পৃথিবীতেই তিনি সেলিব্রিটি হয়ে ওঠেন।
গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস ১৯৮৫ সালে তাকে ‘হাইয়েস্ট ফল সারভাইভাল উইদাউট এ প্যারাসুট’ পুরস্কার প্রদান করে। লন্ডনে একটি অনুষ্ঠানে তার হাতে পুরস্কার তুলে দেন ভেসনার প্রিয়তম শিল্পী পল ম্যাককার্টনি।
ভেসনা শেষ পর্যন্ত চাকরিটা ধরে রাখতে পারেননি। যুগোস্লাভ শাসনকর্তা স্লোবোদান মিলোসেভিচের সমালোচনা করায় তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়। তিনি সরকারবিরোধী আন্দোলনে আরো সক্রিয় হন। মিলোসেভিচকে হটানোর আন্দোলন বুলডোজার রেভলুশনে অংশ নেন। তখন থেকে তিনি রাজনীতিতে সক্রিয়।
২০০৯ সালে এই ডিসি-৯ উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হওয়া নিয়ে নতুন এক ষড়যন্ত্রতত্ত্বে জানানো হয়, চেকস্লোভাক এয়ারফোর্স এটিকে শত্রুর উড়োজাহাজ মনে করে সমতল থেকে কয়েকশ মিটার ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময় গুলি করে ভূপাতিত করে।
এই তত্ত্বটি অবশ্য হালে পানি পায়নি। যখন সবাই তাকে ভাগ্যবতী বলতেন, তিনি অপরাধী বোধ করতেন। বাকিদের একজনও তো জীবিত নেই।
ভেসনা তার উদ্ধারকারী হেঙ্কের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেছেন। দুর্ঘটনার ২৫ বছর পূর্তিতে তিনি তার সঙ্গে দেখা করেছেন।
উড়োজাহাজটি যেখানে বিধ্বস্ত হয়, তার কাছের একটি হোটেল ভেসনার নামে নামকরণ করা হয়।
তার কাছে মুখ্য বিষয় হচ্ছে, তার দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যত্। কেবল তিনি মৃত্যু থেকে বেঁচেছেন এমন নয়— ‘আমরা সার্বিয়ানরা মহাযুদ্ধ, কমিউনিজম, মার্শাল টিটো, দারিদ্র্য, ন্যাটোর বোমাবর্ষণ, মিলোসেভিচের অবরোধ— সব ঠেলে বেঁচে আছি। আমরা স্বাভাবিক জীবন চাই।’





