সৈয়দ মুজতবা
আলী রসিক
মানুষ ছিলেন।
তাঁর সরেস
ভাষায় তিনি
প্যারিসের বর্ণনা
দিতে গিয়ে
এক জায়গায়
লিখেছেন, ফ্রান্সের
মানুষের গোসলে
কিঞ্চিৎ অনীহা
এবং আলী
সাহেবের কথা
অনুসারে ফরাসি
সুগন্ধির বিকাশে
এই অনীহা
একটি বড়
ভূমিকা রেখেছে।
মুজতবা আলীর
বক্তব্যের ঐতিহাসিক
ভিত্তি নিয়ে
আলোচনা আমাদের
আপাতত প্রয়োজন
নেই, কিন্তু
পারী সম্পর্কে
তার লেখায়
ফ্রান্সের অনেক
বিষয়ের সঙ্গে
সেখানকার সুগন্ধির
কথা উঠে
আসা থেকে
আমরা আরেকবার
নিশ্চিত হতে
পারি যে
ফ্রান্স আর
সুগন্ধি অবিচ্ছেদ্য
দুই নাম।
ফ্রান্স নিয়ে
কথা বলতে
গেলে সুগন্ধিকে
আলাদা রাখা
যাবে না।
বরং আরেকটু
এগিয়ে বলা
যায়, ফরাসি
সুগন্ধির ইতিহাস
থেকে ফ্রান্সকে
চেনার চেষ্টা
করা যায়।
ফ্রান্সের দিকে
নজর দেয়ার
আগে মানুষের
সুগন্ধি ব্যবহারের
প্রাথমিক ইতিহাসের
দিকে লক্ষ
করলে বলা
যায়, খ্রিস্টপূর্ব
প্রায় ৭০০০
অব্দে প্রথম
সুগন্ধির ব্যবহার
দেখা যায়।
অর্থাৎ সে
সময়েই প্রথম
কোনো বস্তুর
সুগন্ধি ব্যবহারিক
প্রয়োজনে প্রয়োগ
করা হয়।
প্রথমে রজন
জাতীয় পদার্থই
সুগন্ধি হিসেবে
ব্যবহূত হতো
এবং তা
ধর্মীয় নানা
কাজ যেমন
পূজা বা
স্রষ্টার উদ্দেশে
নিবেদনেই প্রধানত
এর ব্যবহার
দেখা যেত।
আনুমানিক ষষ্ঠ
খ্রিস্টপূর্বাব্দে সুগন্ধির
ব্যবহারের জনপ্রিয়তা
লক্ষ করা
যায়। এরপর
এশিয়া, মধ্য
এশিয়া, মিসর,
আরব নানা
স্থানে সুগন্ধি
নিয়ে বিভিন্ন
পরীক্ষা-নিরীক্ষা
চলতে থাকে।
এ সময়ের
বহু বহু
পরে সুগন্ধি
উৎপাদনে ফ্রান্স
এগিয়ে যায়
এবং নানা
ঘটনার মধ্য
দিয়ে সুগন্ধির
ক্ষেত্রে ফ্রান্স
পরিণত হয়
কিংবদন্তিতে।
ফরাসি সুগন্ধি
নিয়ে আলোচনা
করতে গেলে
প্রথমেই আসে
প্রভেন্স আর
ফ্রান্সের উপকূলীয়
অঞ্চলের কথা।
এই দুটো
অঞ্চল ছাড়া
আসলে ফরাসি
সুগন্ধির বিকাশ
বোঝা সম্ভব
নয়। সুগন্ধি
তৈরিতে ব্যবহূত
নানা উদ্ভিদ
এবং প্রয়োজনীয়
উপকরণের ভান্ডার
এ অঞ্চল।
বিশেষত ফ্রান্সের
উপকূলীয় অঞ্চল
ঘাহাস ফরাসি
সুগন্ধি তৈরির
কাঁচামালের মূল
কেন্দ্র। ঘাহাসকে
সুগন্ধি দুনিয়ার
রাজধানী বলা
হয়। বিখ্যাত
উপন্যাস ‘পারফিউম:
দ্য স্টোরি
অব আ
মার্ডারার’ এ
অঞ্চলকে অমর
করে রেখেছে।
ইতিহাসের হাত
ধরে দ্বাদশ
শতাব্দীতে হাজির
হলে দেখা
যায়, প্রভেন্স-আল্পস
এলাকা তখন
চামড়া শিল্পের
পীঠস্থান। সুগন্ধির
বিকাশ নিয়ে
কথা বলতে
গিয়ে কেউ
কেউ রসিকতা
করে বলেন,
‘যেসব
স্থান একসময়
দুর্গন্ধময় ছিল,
পরবর্তী সময়ে
সেখানেই সুগন্ধির
বিকাশ সবচেয়ে
বেশি হয়।’
ঘাহাস অঞ্চল
ট্যানারির কারণে
এতই দুর্গন্ধে
ভরে ওঠে
যে তা
দূরীকরণের লক্ষ্যে
ষোড়শ শতাব্দীতে
এখানে সুগন্ধি
শিল্প চালু
করার চিন্তা
করা হয়।
এ সময়
দেখা গেল
এ অঞ্চলের
আবহাওয়া সুগন্ধি
তৈরি করতে
প্রয়োজনীয় নানা
ধরনের উদ্ভিদের
চাষাবাদের উপযোগী।
ফলে ধীরে
ধীরে ঘাহাসের
জমিতে এসব
উদ্ভিদ লাগানোর
প্রকল্প শুরু
হয় এবং
ট্যানারির স্থানে
সুগন্ধি তৈরির
কারখানা স্থাপিত
হতে শুরু
করে।
ঘাহাস অঞ্চলটি
এখনো এর
বিস্তীর্ণ ভূমির
জন্য বিখ্যাত
যেখানে জুঁই,
গোলাপ, লজ্জাবতী
লতা এবং
অরেঞ্জ ব্লসমের
চাষ হয়।
এখানে যখন
ল্যাভেন্ডার ফোটে
তখন এ
অঞ্চল রীতিমতো
পর্যটন কেন্দ্রে
পরিণত হয়।
পুরো এলাকা
বেগুনি রঙে
আচ্ছাদিত হয়ে
থাকে আর
তখনই বোঝা
যায় কেন
এ অঞ্চলকে
সুগন্ধির রাজধানী
বলা হয়।
এ ছিল
মোটামুটি একটি
অঞ্চলের গল্প,
যেখানে সুগন্ধি
তৈরির কাঁচামাল
উৎপাদিত হয়।
কিন্তু কাঁচামাল
থেকে সুগন্ধি
তৈরি আরেকটি
পর্যায়। প্রাথমিকভাবে
রজন, তেল
এমনকি চর্বি
থেকেও সুগন্ধি
আহরণের চেষ্টা
হতো। ‘পারফিউম:
দ্য স্টোরি
অব আ
মার্ডারার’ উপন্যাস
কিংবা সিনেমায়
এ প্রক্রিয়াসংক্রান্ত
কিছু বিষয়ের
উল্লেখ বা
দেখা পাওয়া
যায়। গাছগাছড়া,
শিকড়, ফুল
পিষে মণ্ড
তৈরি করে
তার সঙ্গে
তেল, কখনো
পানি মিশিয়ে
সুগন্ধি তৈরি
করা হতো।
কিন্তু এ
ধরনের সুগন্ধি
সংরক্ষণ ও
দীর্ঘদিন ব্যবহারের
সুযোগ ছিল
না। পরবর্তী
সময়ে রসায়নশাস্ত্রের
বিকাশের মাধ্যমে
পাতন প্রক্রিয়া
জনপ্রিয় হওয়ার
সঙ্গে সঙ্গে
সুগন্ধি তৈরির
শিল্পে নতুন
মোড় আসে।
যদিও ধরে
নেয়া যায়
মুজতবা আলী
রসিকতা করেছিলেন
কিন্তু ইতিহাসের
দিকে লক্ষ
করলে দেখা
যায় এ
রসিকতার মধ্যেও
তিনি একটি
সূত্র রেখেছেন।
ফরাসিরা, বলা
ভালো ইউরোপীয়রা,
একটা সময়ে
সত্যিই গোসলে
অনীহা দেখিয়েছিল।
ব্ল্যাক ডেথ
বা প্লেগ
মহামারীর পরবর্তী
সময়ে তাদের
ভয় ছিল
পানির মাধ্যমে
তারা আক্রান্ত
হবে। ফলে
পানি ব্যবহারে
যথাসম্ভব সতর্কতা
অবলম্বনের পাশাপাশি
গোসল ও
শরীর মার্জনে
তাদের মধ্যে
অনীহা সৃষ্টি
হয়। এ
অবস্থা চলতে
থাকলে তারা
একসময় সুগন্ধির
প্রয়োজন অনুভব
করেছিল এবং
যেমনটা বলা
হয়েছে সে
সময়ে সুগন্ধি
প্রস্তুত করার
দক্ষ ব্যবস্থা
আবিষ্কৃত হয়নি।
তবু প্রয়োজনের
খাতিরে নানা
উপাদান থেকে
সুগন্ধি আহরণের
চেষ্টা চলেছে।
সুগন্ধি সম্পর্কে
এক নিবন্ধে
সুজানা ফ্রাঙ্কেল
এ সময়ের
ফরাসি সুগন্ধি
এবং তার
প্রস্তুত প্রণালিকে
রীতিমতো ‘পাশব’
বলেছেন। কেননা
সে সময়ে
শিভে বিড়ালের
মলদ্বার, তিমি
মাছের অন্ত্র,
ক্যাস্টর বিভার
নামক বীবর
প্রজাতির জননাঙ্গ
প্রভৃতি স্থান
থেকে প্রাণিজ
পদার্থ নিঃসরণ
করে সুগন্ধি
তৈরি করা
হতো। এশিয়ায়
আমরা মৃগনাভি
সম্পর্কে সবাই
জানি, কস্তুরীর
সুগন্ধ রীতিমতো
কিংবদন্তি। আজকের
দিনে এসব
পাশব মনে
হতে পারে
কিন্তু তত্কালীন
সময়ে সুগন্ধির
জন্য এ
ধরনের উপাদান
ব্যবহার স্বাভাবিক
বলেই ধরা
হতো। কেননা
যদিও তখন
ফুল, উদ্ভিদ
প্রভৃতির সুগন্ধ
সম্পর্কে ধারণা
হয়েছিল কিন্তু
তার বিস্তৃত
প্রস্তুত প্রণালি
সৃষ্টি হয়নি।
আলকেমি সে
সুযোগ করে
দিয়েছিল।
এক্ষেত্রে ইতিহাসবিদরা
কখনো কখনো
স্পেনের (তত্কালীন
আন্দালুসিয়া) অবদানের
কথা বলেন।
কেননা তারা
আরব বিশ্বের
রসায়ন জ্ঞান
ব্যবহার করেছিলেন।
দ্বাদশ শতাব্দীতে
নেপলসের ‘স্কুল
অব সেলেরনো’তে
আরবের রসায়নবিদ্যার
কিছু লেখা
অনূদিত হয়।
পরবর্তী সময়ে
ত্রয়োদশ শতাব্দীতে
আন্দালুসিয়ার ব্যবহূত
পাতন প্রক্রিয়া
জনপ্রিয় হতে
থাকে। এদিকে
দ্বাদশ শতাব্দীতেই
সেলেরনোতে অ্যালকোহল
আবিষ্কৃত হয়,
যা আজ
সুগন্ধি তৈরিতে
বহুল ব্যবহূত
কিন্তু পঞ্চদশ
শতাব্দী পর্যন্ত
অ্যালকোহল কেবল
চিকিৎসা ক্ষেত্রেই
ব্যবহারের অনুমতি
ছিল। ষোড়শ
শতাব্দী থেকে
সুগন্ধি তৈরিতে
অ্যালকোহল ব্যবহার
শুরু হয়।
এখানে একটি
ঘটনা উল্লেখ
করা যায়,
যা ইতিহাসের
জন্য খুব
একটা গুরুত্বপূর্ণ
না হলেও
ফরাসি সুগন্ধির
ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ।
পঞ্চদশ শতাব্দীতে
জন্ম নেয়া
প্রথম ফ্রান্সিস
পরবর্তী সময়ে
ষোড়শ শতাব্দীতে
ফ্রান্সের রাজা
হন এবং
এ সময়ে
তিনি একটি
কূটনৈতিক চাল
চালেন। ইতালির
সঙ্গে মৈত্রীর
উদ্দেশ্যে আর্বিনোর
ডিউকের কন্যা
ক্যাথরিন দ্য
মেডিসির সঙ্গে
তার পুত্র
দ্বিতীয় হেনরির
বিয়ে ঠিক
করলেন। পিতার
গৃহ থেকে
ক্যাথরিনের সঙ্গে
এসেছিল তার
ব্যক্তিগত ‘সুগন্ধি
বিশেষজ্ঞ’ রেনাতো
বিয়ানকো, যিনি
রেনে দ্য
ফ্লোরেন্টিন নামে
অধিক পরিচিত।
এ ব্যক্তি
পরবর্তী সময়ে
ফ্রান্সে নিজের
তৈরি সুগন্ধিকে
প্রতিষ্ঠিত করেন
এবং তার
দেখাদেখি অনেক
‘গন্ধবণিক’
অর্থাৎ সুগন্ধি
ব্যবসায়ী ফ্রান্সে
এসে জুটেছিল।
ফরাসি সুগন্ধি
এরপর রেনেসাঁর
সময়ে আরো
বিকশিত হয়।
কিন্তু মড়কের
ভয় তখনো
ফ্রান্সের মানুষের
মধ্য থেকে
যায়নি। সুগন্ধিকে
তাই তারা
একটা মুখোশের
মতো করে
নিয়েছিল। অর্থাৎ
যে শরীরী
দুর্গন্ধ তারা
বয়ে বেড়াত,
বাহ্যিকভাবে সুগন্ধি
ধারণ করে
সেই দুর্গন্ধের
ওপর একটা
প্রলেপ লাগিয়ে
নিয়েছিল। এ
সময় একটা
মজার ব্যাপার
ঘটে। সুগন্ধিকে
একদিকে ভূতপ্রেতের
বিরুদ্ধে, অন্যদিকে
ডাক্তারি কাজে
ব্যবহার করা
শুরু হয়।
মানুষের ধারণা
ছিল কোনো
কোনো সুগন্ধি
ব্যবহারে তারা
পিশাচ-আত্মা
থেকে রক্ষা
পাবে। পানিতে
সুগন্ধি-রস
গুলে তা
পান করার
মাধ্যমে রক্ত
পরিষ্কার এবং
জীবাণু নাশ
করার ধারণাও
সমান জনপ্রিয়
হয়। তত্কালীন
রাজার চিকিৎসক
তো রীতিমতো
শিকড়-বাঁকড়সমৃদ্ধ
একটা বাথটাব
বানিয়ে ফেললেন।
সহজ করে
বলা যায়
ভেষজ চিকিৎসা
ও সুগন্ধির
ব্যবহার তখন
পাশাপাশি চলছিল।
অষ্টাদশ শতকের
মধ্যভাগ পর্যন্ত
তীব্র সুগন্ধি
ব্যবহূত হতো।
তখন পর্যন্ত
প্রাণিজ ও
অ্যালকোহলসমৃদ্ধ সুগন্ধি
বেশি ব্যবহূত
হতো, যা
ধীরে ধীরে
পরিবর্তিত হয়ে
উদ্ভিজ্জ সুগন্ধির
দিকে মোড়
নেয়। এমনকি
সপ্তদশ শতাব্দী
পর্যন্ত সুগন্ধির
ব্যবহার মূলত
পানির সঙ্গে
সম্পর্কযুক্ত ছিল,
যা কখনো
কখনো পোশাক
ও শরীরে
ব্যবহার করা
হতো। কিন্তু
অষ্টাদশ শতকে
এসে সাবান,
মদ এমনকি
খাবারের ক্ষেত্রেও
সুগন্ধির ব্যবহার
জনপ্রিয় হতে
থাকে। সুগন্ধি
যখন এত
জনপ্রিয়তা পায়
তখন স্বাভাবিকভাবেই
ফ্রান্সে এটি
শিল্পে রূপ
নেয়। অবশ্য
সুগন্ধি শুরু
থেকেই শিল্প,
এ পর্যায়ে
নির্দিষ্ট করে
বললে সুগন্ধি
‘ইন্ডাস্ট্রি’তে
পরিণত হয়।
বাণিজ্যের দিক
থেকে চিন্তা
করতে গেলে
একটা সময়
পর্যন্ত পারস্যের
সুগন্ধি বিশ্ববাজারে
সমাদৃত ছিল।
ইউরোপিয়ানরা বরাবরই
তাদের সঙ্গে
প্রতিযোগিতা করতে
চাইত। ফ্রান্স
প্রথমে তার
নিজের বাজারের
জন্য সুগন্ধি
তৈরি করে
এবং পরবর্তী
সময়ে সেখানে
এর জনপ্রিয়তা
বাড়ার সঙ্গে
সঙ্গে আশপাশের
দেশগুলোও আগ্রহভরে
ফরাসি সুগন্ধ
নিতে শুরু
করে। এক্ষেত্রে
নদীপথ একটা
বড় ভূমিকা
পালন করেছিল।
ঘাহাস থেকে
সুগন্ধি তৈরি
হয়ে নদীপথে
ছড়িয়ে গেছে
ফ্রান্সের বাইরে
আর ধীরে
ধীরে জনপ্রিয়
হতে শুরু
করেছে বিশ্ববাজারে।
পরবর্তী সময়ে
ঘাহাস যখন
‘সুগন্ধির
কারখানা’, তখন
প্যারিস হয়ে
ওঠে সুগন্ধির
প্রদর্শনী ও
বিপণনকেন্দ্র।
পরিসংখ্যানের দিকে
যদি একটু
নজর দেয়া
হয়, দেখা
যাবে ১৮১০
খ্রিস্টাব্দে সুগন্ধি
থেকে ফ্রান্সের
রোজগার ছিল
দুই মিলিয়ন
ফ্রাঙ্কের কিছু
কম। একশ
বছরের ব্যবধানে
১৯১২ খ্রিস্টাব্দে
এর পরিমাণ
১০০ মিলিয়ন
ফ্রাঙ্কে গিয়ে
দাঁড়ায়। ১৭৮৯
খ্রিস্টাব্দে অর্থাৎ
ফরাসি বিপ্লবের
সময় সুগন্ধি
উৎপাদন এবং
বিপণনে মন্দা
এলেও উনবিংশ
শতাব্দীতে দেশটি
তা কাটিয়ে
ওঠে। এই
সময়ে প্যারিসিয়ান
সুগন্ধি প্রস্তুতকারকের
সংখ্যা বাড়তে
থাকে। ১৮০৭
খ্রিস্টাব্দের ‘আলমানাক
দ্য কমার্স’
অনুসারে ১৩৯টি
‘পারফিউম
হাউজ’ সুগন্ধি
তৈরি ও
বিপণন করত।
১৮৩০ খ্রিস্টাব্দ
পর্যন্ত এ
সংখ্যা ১৩০-এর
আশপাশেই ছিল।
কিন্তু ১৮৪০
খ্রিস্টাব্দের হিসাবে
এ সংখ্যা
১৫১টি, ১৮৫০-এ
২০৬টি এবং
১৯১৪ খ্রিস্টাব্দে
গিয়ে ৩৫৬টিতে
গিয়ে দাঁড়ায়।
১৮৫৫ খ্রিস্টাব্দের
পর থেকে
সুগন্ধির সঙ্গে
যুক্ত ব্যবসায়ীদের
দুই ভাগে
বিভক্ত করা
হয়—উৎপাদনকারী
ও সরবরাহকারী
এবং পরবর্তী
সময়ে কাঁচামাল
সরবরাহকারীদেরও যুক্ত
করা হয়।
ফরাসি সংস্কৃতিতে
সুগন্ধির স্থান
বিশেষ। ফ্রান্সের
নাম নিলেই
সেখানে ফ্রেঞ্চ
পারফিউমের কথা
চলে আসে।
ঘাহাসে স্থাপিত
খামার এবং
সুগন্ধি প্রস্তুতকারকদের
মাঝে কিছু
দক্ষ মানুষ
আছে, যাদের
একমাত্র কাজ
নানা সুগন্ধি
নিরীক্ষা করা।
তাদের অনেক
সময় ‘দ্য
নোজ’ অর্থাৎ
এ বিশেষ
কাজের জন্য
সবার নাক
বলে অভিহিত
করা হয়।
এদের হাত
ধরেই শ্যানেল,
ডিয়ো, ক্লোয়ি
প্রভৃতি সুগন্ধি
এখন পৃথিবী
বিখ্যাত। কোনো
ফরাসি অনুষ্ঠানে
সুগন্ধি নিয়ে
আলোচনা হবে
না এমন
হয় না।
সুগন্ধি কখনো
আভিজাত্যের পরিচায়ক,
কখনো সজ্জার
অদৃশ্য অংশ।
সুগন্ধি নিয়ে
জ্ঞান রাখা
মানুষদের আলাদা
মর্যাদার সঙ্গে
দেখা হয়।
ফরাসি সাহিত্যে,
সিনেমায়ও সুগন্ধির
কথা উঠে
এসেছে। জার্মান
লেখক তো
রীতিমতো একটা
উপন্যাস লিখে
ফেলেছেন, যে
নামটা এই
লেখায়ও কয়েকবার
উল্লেখ করা
হয়েছে।
অবশ্য বর্তমান
পুঁজিবাদী পৃথিবীতে
এ উপাদান
এখন সুকুমার
বৃত্তি, আভিজাত্য
বা সংস্কৃতির
চেয়ে ব্যবসায়
বেশি ব্যবহূত
হয়। কেননা
সময় যতই
এগিয়ে গেছে
বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতার
কারণে সুগন্ধি
স্রেফ একটি
বিক্রয়যোগ্য পণ্য
হয়ে উঠেছে।
সে কারণে
বিলবোর্ডে স্বল্পবসনাদের
দেখা যায়
সুগন্ধির বিজ্ঞাপনে।
এমনকি সুগন্ধি
ব্যবহারের সঙ্গে
যৌনতা মিলিয়ে
বিজ্ঞাপন দেয়ার
কারণে একাধিক
প্রতিষ্ঠানকে মামলা-মোকদ্দমায়
পড়তে হয়েছে।
অথচ একটা
সময়ে সুগন্ধি
ছিল শিল্প।
সুগন্ধি প্রস্তুতের
পাশাপাশি সুগন্ধি
রাখার পাত্র
তৈরি ও
উপস্থাপনে পর্যন্ত
শৈল্পিক দৃষ্টি
পরিলক্ষিত হয়।
যে সময়
থেকে প্রস্তুতকারকরা
আবিষ্কার করলেন
যে কাচের
পাত্র তরল
সুগন্ধি রাখার
জন্য উপযুক্ত
তখন থেকেই
তারা নানা
নকশা কাটা
পাত্র প্রস্তুতে
মনোযোগ দেন।
সুগন্ধির পাশাপাশি
তৈরি হয়
পাত্র তৈরির
শিল্প। সেদিকে
আরবরা এগিয়ে
থাকলেও ফ্রান্স
খুব পিছিয়ে
থাকেনি।
তুমুল জনপ্রিয়তার
পর বাণিজ্যিকভাবেও
ফরাসি সুগন্ধি
এখন কিংবদন্তি।
ফ্রান্স থেকে
নানা ব্র্যান্ডের
সুগন্ধি এখন
ছড়িয়ে যায়
সারা পৃথিবীতে।
শ্যানেল, ক্লোয়ি,
ল আর্টিসান,
গার্লেইন, ডিয়ো,
সেন্ট লরেন
ব্র্যান্ডের পারফিউম
পৌঁছে যায়
নানা দেশে।
ফরাসি সুগন্ধির
কথা যেমন
আলী সাহেবের
বয়ান থেকে
শুরু করেছিলাম,
তেমনি আরেক
কিংবদন্তির গল্প
দিয়ে শেষ
করি। মেরিলিন
মনরোকে এক
সাংবাদিক একবার
প্রশ্ন করেছিলেন,
‘আপনি
রাতে কী
পরে ঘুমান?’
মনরো উত্তর
দিয়েছিলেন, ‘কেন?
শ্যানেল নাম্বার
ফাইভ!’
মাহমুদুর রহমান: লেখক





