এ যুগে আমরা টেলিভিশনে ‘কমেডি’ নাটক, সিনেমা দেখি। ‘সঙ’ শব্দটি পরিচিত হলেও সত্যিকার সঙ দেখার সৌভাগ্য আমাদের হয়নি। তবে নিত্যদিনের কথাবার্তায় এখনো দরকারমতো বলে ফেলি, ‘সঙ সাজার দরকার নেই!’ পণ্ডিতদের মতে, মানুষের নাটকীয় ভাব প্রকাশের সবচেয়ে প্রাচীন ও সর্বজনীন মাধ্যম হলো সঙ। তারপর একসময় এই সঙ নাট্যকলায় যুক্ত হয়ে পড়ে। ভারতীয় ও মিসরীয় সভ্যতায় প্রাচীনকালেই সঙের প্রচলন ছিল। প্রাচীন গ্রিসেও ছিল, তবে গ্রিসের বিশেষত্ব ছিল সেখানে সঙদের অভিনয় ছিল দেবতা ও বীরদের জীবন সম্পর্কে। গ্রিকদের এ চর্চা রোমানরাও গ্রহণ করেছিল। তবে রোমকরা সেখানে কিছু নতুনত্ব এনেছিল। রোমান সঙরা তত্কালীন রীতিনীতি ও সামাজিক আচার অনুষ্ঠানকে ব্যঙ্গবিদ্রূপ করতেন। রোমান সাম্রাজ্যে সঙদের চর্চা জনপ্রিয়তা পেয়েছিল, তাই সঙবিদ্যা শেখানোর জন্য বিদ্যায়তনও স্থাপিত হয়েছিল।
এশিয়ায় সঙের প্রচলন প্রসঙ্গে তিব্বতের কথা আলোচনা করা যায়, সেখানে চৈত্র মাসে মানুষ দেবতা ও দানবদের বেশ ধরে নাচ, গান, অভিনয় করত। স্বামী অভেদানন্দ লিখেছেন, ‘তাহারা পিশাচাশ্রিত বৃক্ষ, প্রস্তর, সর্প প্রভৃতি পূজা করিত এবং ভূতের বিকট মূর্তির মুখোশ পরিয়া দানাই নৃত্য করা এই পূজার প্রধান অঙ্গ ছিল।’ অন্যদিকে বাংলায় সঙ নিয়ে মাতামাতি হতো মূলত পূজার উৎসবকে কেন্দ্র করে। এ সময় সঙ বের হতো, উদ্দেশ্য ছিল মূলত মানুষকে বিনোদন দেয়া। চৈত্রসংক্রান্তিতে গাজনের দল পথে নামত ঢাক ও কাঁসি নিয়ে, বাদ্য বাজিয়ে তারা পরিবেশ মাতিয়ে তুলত, সঙ্গে থাকত সঙ। বাংলাদেশের সঙ প্রসঙ্গে গ্রন্থের লেখক সঙ সংস্কৃতির বিশিষ্ট গবেষক বীরেশ্বর বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের বিভিন্ন পূজা-পার্বণে সঙ বের করার প্রথা বহুদিন থেকে চলে আসছে। সকলকে আনন্দ দেবার জন্যেই সেকালের মানুষ পূজা-পার্বণে সঙ বের করতেন। মুখ্যত চিত্তবিনোদনের জন্যেই সঙের সৃষ্টি হয়েছিল।’ আচার্য সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় বলেছেন, গৌড়-বঙ্গের প্রাচীন সংস্কৃতির এক অভিনব বিকাশ হইতেছে গত কয়েক শত বৎসর ধরিয়া প্রচলিত চিত্তবিনোদনের ধারা— ‘সঙ্(সং)’। চৈত্রই শুধু নয়, বাংলায় বছরের বিভিন্ন সময়ই সঙদের দেখা যেত। পূজা-পার্বণ কিংবা বিয়েবাড়ি, নানা আমোদ-প্রমোদে সঙদের দেখা যেত। সেকালে ধনী ব্যক্তিদের বাড়িতে উৎসব-অনুষ্ঠানে গান-বাজনা, বাই নাচ প্রভৃতি আমোদ-প্রমোদ হতো, সেই সঙ্গে হাস্য-কৌতুকের জন্য থাকত সঙের আয়োজন। ১৮২৩ সালের ২০ ডিসেম্বরে সংবাদপত্রে প্রকাশিত এক সংবাদ এ রকম—
‘নতুন গ্রহ সঞ্চয়। মোং কলিকাতা ১১ দিসেম্বর ২৭ অগ্রহায়ণ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পরে শ্রীযুক্তবাবু দ্বারিকানাথ ঠাকুর স্বীয় নবীন বাটীতে অনেক দুই ভাগ্যবান সাহেব ও বিবীরদিগকে নিমন্ত্রণ করিয়া আনাইয়া চতুর্ব্বিধ ভোজনীয় দ্রব্য ভোজন করাইয়া পরিতৃপ্ত করিয়াছেন এবং ভোজনাবসানে ঐ ভবনে উত্তম গানে ও ইংগ্লণ্ডীয় বাদ্য শ্রবণে ও নৃত্য দর্শনে সাহেবগণে অত্যন্ত আমোদ করিয়াছিলেন। পরে ভাঁড়েরা নানা শং করিয়াছিল কিন্তু তাহার মধ্যে গো বেশ ধারণপূর্ব্বক ঘাস চর্ব্বণাদি করিল।’
সঙ নানা ধরনের বিচিত্র অঙ্গভঙ্গি করে, কৌতুকপূর্ণ গান গেয়ে, ছড়া কেটে মানুষকে হাসাত। যাত্রার আসরেও সঙদের দেখা যেত। নাটকেও তাদের উপস্থিতি দেখা যেত। নাটকে সঙদের উপস্থিতি প্রসঙ্গে হেমেন্দ্রপ্রসাদ ঘোষ বলেছেন, “বাঙ্গালা নাটক রচিত হইবার পূর্ব্বে যে যাত্রা প্রচলিত ছিল, তাহাতে রঙ্গমঞ্চের প্রয়োজন হইত না— ভূমিতেই ‘আসর’ রচনা করা হইত এবং দৃশ্যপটের ব্যবহার ছিল না। সাধারণত পৌরাণিক ঘটনাবলম্বনেই অভিনয়ের ‘পালা’ রচিত হইত। কিন্তু সকল শ্রেণীর লোকের মনোরঞ্জনের জন্য যাত্রা গাহনা হইত বলিয়া সময় সময় অকারণ হাস্যোদ্দীপন জন্য সং আনিতে হইত। সং আসরে আসিয়া যে অভিনয় করিত তাহা সকল সময় সুরুচিসম্মত হইত না এবং সে সময় সময় অবান্তর উক্তি করিত।”
যাত্রাপালা জমে না উঠলে আয়োজকরা দর্শকদের আকর্ষণ করতে মঞ্চে সঙ নামাতেন। এ সঙরা নানা অশালীন গান গাইত, অশ্লীল অঙ্গভঙ্গিও করত। আঠারো কিংবা উনিশ শতকে কলকাতা শহর ও আশপাশে যেসব গান গাওয়া হতো, সেগুলো আজকের নৈতিকতার মানদণ্ডে অশ্লীলই শোনায়। এ নৈতিকতা, শ্লীলতার মানদণ্ড এ উপমহাদেশে আমদানি হয়েছিল ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ রাজশক্তির হাত ধরে। বাইজি নাচ মূল মিশনারি পাদ্রি ও ইংরেজি শিক্ষায় শিক্ষিতদের বিরোধিতায়ই বিলুপ্ত হয়। তত্কালীন ইংরেজ সাহেব ও মেমদের লেখা বিবরণী পড়লেই দেখা যাবে, তারা হিন্দু সমাজে প্রচলিত নাচ-গান-কথাকে অশ্লীল হিসেবে দেখছেন। ভিক্টোরিয়ান মোরালিটি স্থানীয় চর্চাকে নেতিবাচক হিসেবে উপস্থাপন করে। বহু অঞ্চলেই ঔপনিবেশিক শাসনের প্রভাবে স্থানীয় নীতিনৈতিকতা ধ্বংস হয়ে প্রভুদের দেখানো আদর্শ প্রতিষ্ঠিত হয়। ঔপনিবেশিক ভারতবর্ষও এর ব্যতিক্রম নয়। এক ব্যাপটিস্ট মিশনারি ডব্লিউ ওয়ার্ড ১৮১৮ সালে লিখেছিলেন, ‘The songs of the Hindoos, sung at religious festivals, and even by individuals on boats and in the streets are intolerably offensive to a modest person.’
যাত্রায় সঙদের প্রভাব সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায় গিরিশচন্দ্র ঘোষের লেখায়, “থিয়েটারের প্রাদুর্ভাবের পূর্ব্বে কবি, হাফ্-আক্ড়া, পাঁচালী ও যাত্রার প্রাদুর্ভাব ছিল। হাফ-আকড়া, কবি ও পাঁচালীতে গালি-গালাজ চলিত এবং ঐ সকল গালি-গালাজ লইয়া সমাজে সকলে বিশেষ আনন্দ করিত। যাত্রায় বড় একটা কথাবার্তা ছিল না, দু-একটা কথার পর ‘তবে প্রকাশ করে বল দেখি?’ বলিয়া গান আরম্ভ হইত। সেই গানের কতক আদর ছিল, কিন্তু বিশেষ আদর সঙের। সঙ হালকা সুরে গাইত, অপেক্ষাকৃত ভারি অঙ্গের পালার সুর হইতে সঙের সুরের আদর অনেকের নিকট হইত। সঙ গালাগালি দিত। তাহা লোকের বিশেষ প্রিয় হইত। গালাগালির এত আদর ছিল যে, সংবাদপত্রের সম্পাদকে সম্পাদকে অতি অবক্তব্য ভাষায় গালি চলিত এবং ঐ সকল সংবাদপত্রেরই গ্রাহক অধিক হইত, যিনি গালাগালি দিতে সুনিপুণ হইতেন, আদর তাঁহার বেশী ছিল।”
কলকাতার জেলেপাড়ার সঙরা বেশ বিখ্যাত ছিল। জেলেপাড়ার সঙদের নিয়ে ১৯২৭ সালে অমৃত বাজার পত্রিকায় একটি প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়েছিল। প্রতিবেদনটির কিছু অংশ—
“Ring out the old
New year’s Procession Passed off Peacefully
The passing of the Bengalee New year in Calcutta on wednesday was marked by the annual pantomime procession popularly known as the `Jeliapara Sang’ and the `Charak Mela’ in the suburbs.
সঙের মিছিলের দিন কলকাতা উৎসবের নগরী হয়ে উঠত। অতিথির জন্য ঘরে ঘরে তৈরি হতো শরবত। সঙ্গে থাকত পান-তামাকের ব্যবস্থা। দর্শকের জন্য পথের ওপর শামিয়ানা টানানো হতো। নাট্যকার অভিনেতা রসরাজ অমৃতলাল বসু জেলেপাড়ার সঙের দলের জন্য গান রচনা করতেন। অমৃতলাল বসু মারা যাওয়ার পরে ১৩৩৬ বঙ্গাব্দে রচনা হয়েছিল সঙের গান—
‘এ বছরে কপাল পোড়া
ভেঙে গেল রসের ঘড়া
তাই তো এবার সঙের ছড়া
হয়নি তেমন মিঠে কড়া।’
সেকালে কলকাতায় বসবাসরত বিদেশীদের বিনোদনের জন্যও সঙের মঞ্চাভিনয়ের আয়োজন হতো। বিদেশীদেরও সঙের কার্যকলাপ উপভোগের প্রমাণ রয়েছে। ১৭৯২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি কলকাতায় অনুষ্ঠিত এমন এক অনুষ্ঠানের বিজ্ঞপ্তি ছাপা হয়েছিল—
‘The 9th February 1792’
Calcutta Theatre, the evening, the 9th of February 1792, will be performed a new pantomime called Mungo in Freedom, or Harlequin Fortunate, with amendment. Boxes 1 gold Mohur, Pit 12 Rupees, and gallery Six Rupees.
কলকাতার নাট্য গবেষক শম্পা ভট্টাচার্য সঙের মিছিলের রূপ, গঠন ও চরিত্র সম্পর্কে লিখেছেন— “সঙের মিছিল বার করত জেলে, কাঁসারি, মুচি, শ্রমজীবী মানুষের দল। ভোরবেলা শুরু হয়ে সায়াহ্নে শেষ হতো শোভাযাত্রা। সে শোভাযাত্রায় থাকত মিলিটারি ব্যান্ডের নকল, দ্রাবিড় ব্রাহ্মণের দল, ধোবার কাপড় কাচা, ঘানিতে শর্ষের ঘুরপাক, মোসাহেবসর্বস্ব বাবুদের নানা ভড়ং, কৃষ্ণ আর গোয়ালিনীদের প্রেম। ভণ্ড সাধু ভক্তদের কাঁধে চেপে মন্ত্র জপে আর ইতিউতি চায়। সামাজিক প্রথা রীতিনীতি এসব নিয়ে ব্যঙ্গ হতো সঙের গানে। কখনো নব্য আইনে বিয়ের প্রথা নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক শ্লেষ, সে মিছিলে বর প্যান্টালুন আর চাপকান পরা। হিন্দুস্থান নর্তকীর সাজে বুট পরা বউ-এর হাতে ধরা মস্ত বড় বই। পুরোহিতের সামনে বর ঘোষণা করে সে হিন্দু, মুসলমান, খ্রিস্টান, জৈন, বৌদ্ধ কিছুই নয়, কন্যাও তা শপথ নেয়। তারপর ‘আমেন’ উচ্চারণে বিবাহ শেষ।”
কলকাতার বিভিন্ন এলাকা থেকেই সঙের মিছিল বের হতো। উত্তর কলকাতার বারানসি ঘোষ স্ট্রিট থেকে যে সঙ বের হতো তার নাম ছিল ‘কাঁসারি পাড়ার সঙ’। কাঁসারি পাড়ার অধিবাসীরা নিজস্ব উদ্যোগ ও অর্থ ব্যয়ে সঙের মিছিল বের করত। সঙের মিছিল ছিল এক এলাহী কাণ্ড। মিছিলের মধ্যে হাস্যরসের নাটিকা পরিবেশন করা হতো। আর হতো নাচ-গান। পুরো চিত্রটি কল্পনা করে নিলে আধুনিক কার্নিভালের একটা আমেজ পাওয়া যায়। বোঝা যায় বাংলায়ও তার নিজস্ব কার্নিভালের প্রচলন ছিল। কাঁসারি পাড়ার সঙ বের হওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় উদ্যোগটি ছিল তারকনাথ প্রামাণিকের। আরো একজনের নাম পাওয়া যায়, হিন্দু পেট্রিয়টের সম্পাদক কৃষ্ণদাস পাল। পঞ্চানন রায় কাব্যতীর্থ লিখেছেন, ‘সেকালে— কলিকাতার জেলেপাড়ার সংযাত্রা-উত্পত্তির বহু পূর্ব্বে,- প্রতি চৈত্র-সংক্রান্তির দিন কাঁসারীপাড়ার প্রসিদ্ধ সংযাত্রা বাহির হইত; এই সংযাত্রা-সমবায়ের প্রধান পরিচালক ছিলেন তারকনাথ [প্রামাণিক] ও কৃষ্ণদাস পাল মহাশয়। সংযাত্রা দেখিবার নিমিত্ত সাধারণের এরূপ আগ্রহ ছিল যে, সং বাহির হইবার বহু পূর্ব্ব হইতেই রাজপথের সম্মুখস্থ বারান্দাগুলি, দর্শনার্থী-জনসংঘ কর্ত্তৃক অধিকৃত হইয়া যাইত; ঐ সকল ভাড়া দিয়া গৃহের মালিকগণ প্রচুর অর্থ লাভ করিতেন। জনসমুদ্র উদগ্রীব হইয়া কৌতুক দেখিবার নিমিত্ত পথের উভয় পার্শ্বে অবস্থান করিত।’
কাঁসারি পাড়ার সঙ পথ চলত বিশেষভাবে নির্মিত ঘোড়ার গাড়িতে, এ গাড়ি ‘কাটরা গাড়ি’ নামে পরিচিত ছিল। এই ঘোড়ার গাড়িতেই নাটিকা অনুষ্ঠিত হতো। কাঁসারি পাড়ার সঙ মিছিলেও আঘাত হেনেছিল ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক নৈতিকতার দণ্ড। নব্যভারত পত্রিকায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে সে বিবরণী জানা যায়— ‘প্রায় ত্রিশ বৎসর পূর্ব্বে যদিও তখন বাণ ফোঁড়া প্রচলিত ছিল না, তত্রাচ কাঁসারী-পাড়ার বাবু তারকনাথ প্রামাণিকের উৎসাহে কাঁসারীরা মহাউৎসাহে সঙের মিছিল বাহির করিত। সেই সময় মহাত্মা বাবু কেশবচন্দ্র সেনের যত্নে কলিকাতার অনেকগুলি কৃতবিদ্য লোক ও খ্রীস্টান পাদরী একটি অশ্লীলতা নিবারণী সভা প্রতিষ্ঠিত করেন; এই সভার অনুরোধে গভর্ণমেন্ট প্রকাশ্য পথে অশ্লীল সঙ্গীতাদি নিবারণোদ্দেশে দণ্ডবিধির প্রচার করায় ঐ মিছিল বন্ধ হইয়া যায়।’
এ অশ্লীলতার বিতর্ক নিয়ে তখন কলকাতা সরব হয়ে উঠেছিল। অশ্লীলতার অজুহাতে সঙের মিছিল বন্ধ করার আরো তত্পরতার হদিস পাওয়া যায়। ১৮৭২-৭৩ সালের বসন্তকে লেখা হয়েছিল— ‘এক্ষণে সামান্য লোকের আমোদ-আহলাদ ও উৎসব তো সকলি একে একে শেষ হইতেছে। এক্ষণে যাত্রা নাই, পাঁচালী নাই, কবির তো কথাই নাই। সামান্য লোকেরা কি লইয়া থাকিবেন। কেবল ধান্যেশ্বরী। আর ছোবড়া টেনে কি দিনপাত হয়?
সামান্য লোকের মাথায় কাঁঠাল ভেঙ্গে এ সভ্যতা দেখান কেন?’
উপরের মন্তব্যটিতে স্থানীয় সাধারণ মানুষের সঙ্গে ঔপনিবেশিক সভ্যতার দ্বন্দ্বের চিত্রটি উন্মুক্ত হয়ে পড়ে। স্থানীয় ধনীরা বাবু সংস্কৃতিতে গা ভাসালেও নিম্নবর্গের জন্য হাজির হচ্ছিল নৈতিকতার নতুন নিষেধাজ্ঞা। বসন্তকে ক্ষুব্ধ স্বরেই প্রশ্ন তোলা হয়েছে, ‘কাঁসারী পাড়া দিয়া তো কাঁসারীদের সং বাহির হয়, সেখানে তো বাবু কৃষ্ণদাস পাল থাকেন, তিনি অসভ্য আর অশ্লীল?’
রসরাজ অমৃতলাল বসু লিখেছিলেন, ‘ছোট, মন্দ, অশ্লীল প্রভৃতি বলিয়া আমরা আমাদের কত জিনিসই না হারাইয়াছি ও হারাইতে বসিয়াছি। ছোটকে বড়, মন্দকে ভাল, অশ্লীলকে শ্লীল করিয়া লইতে যদি আমরা চেষ্টা করি, তাহা হইলে আমাদের অনেক জিনিস নিজস্ব থাকিয়া যায় এবং জগতের দৃষ্টিতে এত ক্ষুদ্র - এত হেয় হই না।’ তিনি আরো লেখেন, ‘সং ছোট নয়, হীন নয়, অশ্লীল নয়। সকল দেশে সকল সময়ই কোন-না-কোন রূপে সং লোক-সমাজে আত্মপ্রকাশ করে। তবে বাঙ্গালাদেশে কতকগুলি অশিক্ষিত, অমার্জ্জিত রুচি লোকের হস্তে পড়িয়া এবং সঙ্গে শিক্ষিত সুধীগণের সহানুভূতি না পাইয়া সং দিন দিন অবনত হইতেছিল।’ ঔপনিবেশিক শিক্ষা স্থানীয় শিক্ষিতদের রুচি বদলে দিয়েছিল। তারা আর স্থানীয় শিল্প নিয়ে আগ্রহী ছিলেন না। পরিণতিতে সঙের নেতি যাত্রা শুরু হয়েছিল। অমৃতলালের কথায় চিত্রটি পরিষ্কার দেখা যায়। প্রসঙ্গত বলা যায়, সঙের সেই পরিণতির সঙ্গে কেউ আজকের বাংলাদেশের যাত্রাপালার কিংবা পুতুলনাচের অবস্থা মিলিয়ে নিতে পারেন। বাংলার এ দুই শিল্প এখন অনেক জায়গায় অশ্লীল নাচ-গানের আসরে পরিণত হয়েছে।
ঢাকার জন্মাষ্টমীর মিছিল এখনো বেশ জাঁকের সঙ্গেই অনুষ্ঠিত হয়। এ মিছিলে একসময় সঙদের দেখা যেত। বৈষ্ণব উৎসবের মিছিলেও ঢাকার রাস্তায় সঙদের দেখা যেত। এসব মিছিলে হাতির উপস্থিতি দেখা যেত। বৈষ্ণব ভক্তদের মিছিলে দেখা যেত সোনা-রুপার চৌকি। এসব চৌকিতে উপবিষ্ট দেখা যেত দেব-দেবীদের। মিছিলের সঙ্গে সঙরা নেচে-গেয়ে ঢাকার বিভিন্ন রাস্তা অতিক্রম করত। সঙরা বন্দুক, তলোয়ার, বর্শা, নিশান, বল্লমধারী পদাতিক ও অন্যান্য সাজসজ্জা পরিধান করে মিছিলে যোগ দিত।
স্বদেশী আন্দোলনের সময় ঢাকার সঙরা ভারতীয় সেনাদের উদ্দেশে প্রেরণামূলক গান গাইত। ইসলামপুরে মিছিলের সঙ্গে সঙদের একটি গান ছিল এ রকম—
‘চলে যায় দিন ভেবে দেখ,
এমন দিন আর পাব কোথায়।
সাধের বেড়ি পরবো পায়,
যাব সাধের জেলখানায়।’
সঙরা কেবল স্বদেশীদের প্রেরণা দিয়েই দায়িত্ব শেষ করেনি, তারা আন্দোলনকে ব্যর্থ করার জন্য ব্রিটিশ সরকারের তল্পিবাহক দেশীয়দের ভর্ত্সনা করেও গান গাইত। ইংরেজদের দালালদের উদ্দেশ সঙরা ঢাকার ইসলামপুরে গেয়েছিল—
“কতকগুলি পাষণ্ড
গোলামগিরি বোঝে না,
ঘরে গেলে পড়ে থাকে,
মনের ধান্দা ছোটে না।
তাতে বলে হিতবাণী,
বলতে গেলে শোনে না,
দণ্ডধারী গাধা পিটলে,
ঘোড়া কভু হয় না।
ধরে যখন কান মলা দেয়,
তখন বাঁকা থাকতে পারে না।”
সঙরা যে কেবল লোক হাসানোতেই ব্যস্ত থাকত তা নয়। উপরের উদাহরণ থেকে সেটা স্পষ্ট। তাদের সামাজিক-রাজনৈতিক সচেতনতা ছিল। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সময় সাম্প্রদায়িক উসকানির বিরুদ্ধেও এ সঙরা সক্রিয় ছিল। অনেক নেতার কার্যক্রমের বিরুদ্ধে মানুষদের সচেতন করতে সঙরা প্রচারণা চালাত। অনেক জায়গায় স্থানীয়রাই হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতি বজায় রাখতে সঙদের এনে গান গাওয়াতেন। সঙদের এসব গান শোনার জন্য সমাজের নিম্নবর্গের মানুষ জড়ো হতো।
সে আমলে কলকাতা শহরে ঘোড়ার গাড়ির বেশির ভাগ চালক ও কোচোয়ান ছিল মুসলমান। সঙদের মিছিলে এরা ছিল অন্যতম দর্শক। সঙদের মিছিল ছিল নানা ধর্ম-বর্ণের মানুষের মিলনের এক উপলক্ষ। তাই সঙদের মিছিল বন্ধ করতে অনেক সাম্প্রদায়িক নেতাই তত্পর ছিলেন। অনেক জায়গায় সঙদের মিছিলে মুসলিম গায়ক ও বাদকরা যোগ দিতেন। খিদিরপুরের সঙদের সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী একটি গান ছিল এ রকম—
“ও ভাই হিন্দু, ও ভাই মুসলমান,
বিদেশীকে দূর করে আগে বাঁচা প্রাণ।
স্বরাজ কেউ পাঠিয়ে দেবে নাকো জাহাজে ভরে,
আনতে হবে হেঁচকা টানে সবার হাত ধরে।
সবারে ডাকো— ভাই বলো, সবাই মোদের দেশবাসী,
স্বরাজ এলে দুঃখ যাবে, ফুটবে মুখের হাসি।
খিদিরপুরের সঙদের মুখে ছিল নিচের গানটি—
এবার হাত পড়েছে পকেটে।
ও ভাই হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে সিঁধেল বোম্বেটে।।
বিদেশী মাল হলো পয়মাল, বিকায় না প্রায় আর হাটে।
বিদেশী নুন, চিনি , বসন, দূর কর ঝাঁটার চোটে।
গোরার পায়ে তেল না দিয়ে, আপন বশে খাও খেটে।
হিঁদু-মুসলমান, সব মিলে কোমরটা ভাই বাঁধো এঁটে।।
দেশের মাতৃসেবক যারা, মোদের জন্যে জেল খাটে।
এবার মরণ কামড় দিয়ে সবাই চেপে ধরো বয়কটে।।”
ঢাকার ইসলামপুরে সঙরা গেয়েছিল—
“হিন্দু-মুসলমান জাগ রে সমান, প্রাণে প্রাণে বেঁধে রাখ কষিয়া,
ঘুম ভাঙ্গ দেশবাসী মিলিয়া,
দেখ দেশের ধন কাহারা যাইতেছে লুটিয়া।”
গবেষকদের বিবরণী থেকে জানা যায়, বাংলার সঙরা মূলত ছিল খেটে খাওয়া নিম্নবর্গের মানুষ। তাদের কেউ উচ্চশিক্ষিত ছিল এমনও না। কিন্তু তার পরও উপরের গানগুলো তাদের রাজনৈতিক ও সামাজিক সচেতনতার সাক্ষ্য দেয়। শিক্ষিত সম্প্রদায়ের একটি অংশ সাম্প্রদায়িক বিভাজনে উসকানি দিলেও এ সঙরা পথে, ঘাটে তাদের গানে, ঢঙে মানুষকে সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে সচেতন করেছে। বাংলার নিম্নবর্গের মানুষের রাজনৈতিক চেতনার ইতিহাসে এ সঙরা অবশ্যই বিশিষ্ট স্থান দখল করে থাকবে।
ভাষা ব্যবহারে সঙরা ছিল স্বাধীন, সৃষ্টিশীল। রঙ, রস, ব্যঙ্গের তীব্রতা বৃদ্ধি করতে সঙরা বাংলার সঙ্গে বিদেশী ভাষা মিশিয়ে গান তৈরি করত। ১৮৭০-এর দশকে এমন একটি গান ছিল—
লেট মি গো ওরে দ্বারী, আই ভিজিট টু বংশীধারী।
এসেছি ব্রজ হতে, আমি ব্রজের ব্রজনারী।।
বেগ ইউ ডোর কিপর, লেট মি গেট,
আই ওয়ান্ট দি ব্লক হেড,
ফর হুম আওয়ার রাধে ডেড,
আমি তারে সার্চ্চ করি।
শ্রীমতী রাধার কেনা সারভেন্ট,
এই দেখ আছে দাসখত এগ্রিমেন্ট,
এখন করিব প্রেজেন্ট, ব্রজপুরে লব ধরি।
যাত্রাগানেও বিভিন্ন ভাষার মিশ্রণ দেখা যেত। সঙ ও যাত্রাপালার গানে বাংলা-ইংরেজির মতো বাংলা-হিন্দি শব্দের মিশ্রণে তৈরি বাক্যও দেখা যেত। নিচের গানটিতে বাংলা, হিন্দি ও ইংরেজি ভাষার মিলন দেখা যায়। গানটি সঙরা ব্যবহার করত—
“কাদের মল, তাদের লালা একদম মাটিমে মিল জানাজি।
তুম বি জাগা, হাম বি জাগা, জাগা মল মল খাসা,
রামনগর কি বসতি জাগা, জঙ্গল হোগা বাসা।।
হরিনাম বুলি, শিক্ষাঝুলি, গোঁড়া হিন্দুয়ানি,
গঙ্গাস্নান মে জেনানা দেখকে আড়ে আড়ে নজর হানি।
ম্যারেজ কি বাজার, হুয়া বহুত ডিয়ার, রুপিয়া লেকে জুুলুম,
লিস্ট দেখকে লেড়কিওয়ালার হোতা আক্কেলগুড়ুম।।”
ঢাকার মিছিলের একটি গান ছিল এ রকম—
“নাচাও ভাইয়া জানি
নাচাও ভাইয়া জানি
গাঁজা-সরাব পিও
পিছু খাইও খয়নি,
কমর হিলাকে নাচো,
মুঁহসে কহো বাণী,
মুঁহসে কহো বাণী।”
ইংরেজি-বাংলা মিশিয়ে তৈরি গানে সঙরা সেকালের নব্য ইংরেজি বাবুদের ব্যঙ্গ করতেন। সেই ইঙ্গবঙ্গ যুবকদের নিয়ে লেখা সঙের গান—
‘এখন ছেলেরা এক নতুন টাইপ
চোদ্দ না পেরতে পাকা রাইপ
মুখে আগুন ঢুকিয়ে পাইপ
একমাত্র life ধারণ wife এর চরণ কর্ত্তে ধ্যান
এরা নতুন অর্থ করেন গীতার
ভুল ধরেন পরম পিতার
নৈলে কি তার trial বিনা in হয়।’
এতক্ষণ কথা হলো সঙ নামের জীবন্ত অভিনেতাদের নিয়ে। এদের পাশাপাশি ‘বসা সঙ’ নামে একটি বিষয় ছিল বাংলায়। ‘বসা সঙ’ মানে মাটির পুতুল। বিশেষত পশ্চিমবঙ্গে এ বসা সঙ বা পুতুলের বিরাট জনপ্রিয়তা ছিল। বিশেষত কলকাতায় জন্মাষ্টমী, ঝুলনযাত্রা, রাসযাত্রা ও চৈত্রসংক্রান্তিতে অনেক জায়গায় বসা সঙ বা পুতুল সাজানোর সাজ সাজ রব পড়ে যেত। মফস্বলে ধনী ও জমিদারদের বাড়ি রাস উৎসব বা পূজা উপলক্ষে পুতুল দিয়ে সাজানো হতো। ঢাকার রাস্তায় জন্মাষ্টমীর মিছিলে জীবন্ত সঙদের কথা আগেই আলোচনা করা হয়েছে। সেই মিছিলগুলোয় একটি বিশেষ আকর্ষণ থাকত চৌকি। এসব চৌকি প্রায় তিন তলার সমান উঁচু হতো। বাঁশ, কাগজ ও অন্যান্য জিনিস দিয়ে এ চৌকি তৈরি করা হতো। এ চৌকি প্রসঙ্গে যতীন্দ্রমোহন রায় লিখেছিলেন, ‘ইহার বিভিন্ন অংশগুলি খণ্ডিতাকারে সহরের নানা স্থানে বিভিন্ন কারিকরগণ দ্বারা নির্মিত হইলেও মিসিলের প্রায় ৪/৫ ঘণ্টা পূর্ব্বে একত্র করা হয় এবং সংযোজিত করা হইলে, উহা যে পৃথক পৃথক ব্যক্তিগণ দ্বারা নির্মিত হইয়াছে তাহা বুঝা যায় না।’ ঢাকা শহরে ঝুলনযাত্রা, রাসযাত্রা প্রভৃতি উপলক্ষে বিভিন্ন এলাকায় বসা সঙ বা পুতুল দিয়ে সাজানো হতো।
সঙদের চাচাতো ভাই বলা চলে ভাঁড়দের। ভাঁড় মানে আমাদের আজকের দুনিয়ার কমেডিয়ান। যে যুগে টেলিভিশন, রেডিও ছিল না, তখন মানুষকে হাসাত ভাঁড়। রাজা, জমিদার, ধনী পরিবারগুলোর সভা কিংবা বৈঠকখানায় ভাঁড়রা তাদের কেরামতি দেখাত। নানা ধরনের কিম্ভূত অঙ্গভঙ্গি, রসালো কথা, কৌতুক, হাস্যরসের গান গেয়ে ভাঁড়রা তাদের মালিকদের মনোরঞ্জন করত। রানী রাসমণি প্রসঙ্গে গোপালচন্দ্র রায় লিখেছেন, ‘রানী রাসমণি প্রতি বছরই মহা আড়ম্বরের সঙ্গে রথযাত্রা উৎসব করতেন। রথযাত্রার দিন রানী ঢাক, ঢোল, সানাই, কাড়া, নাকাড়া, বাঁশী, জগঝম্প প্রভৃতি কত রকমেরই না বাজনা আনাতেন। শুধু কি তাই, কীর্তন, বাউল, ভাঁড়ের দল প্রভৃতিও আনাতেন।’ মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের দরবারে গোপাল ভাঁড়ের কীর্তি তো বাংলায় কিংবদন্তি হয়ে আছে। ভাঁড় প্রসঙ্গে নগন্দ্রেনাথ বসু ‘বিশ্বকোষ’-এ লিখেছেন, “মুসলমান রাজাগণের সময়েও ভাঁড়ের আদর ছিল। এরূপ কথিত আছে যে, মোগলপতি তৈমুরলঙ্গ পুত্রশোকে বিহবল হইয়া দ্বাদশবর্ষকাল নিয়ত বিলাপ করিয়াছিলেন। সৈয়দ হোসেন নামক তাঁহার জনৈক পারিষদ আরবী ভাষায় একখানি সুললিত হাস্যোদ্দীপক গ্রন্থ রচনা করিয়া তাঁহার শোকাপনোদন করেন। তজ্জন্য তিনি মোগলরাজ কর্ত্তৃক ‘ভাঁড়’ উপাধিতে ভূষিত হইয়াছিলেন। এই সৈয়দ হোসেনই ভাঁড় সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠাতা। ক্রমে এই ভাঁড়গণ স্বতন্ত্র ব্যবসা করায় শাখা-জাতিরূপে পরিগণিত হয়। হোসেন সৈয়দ বংশীয় হইলেও, বর্ত্তমান মুসলমান ভাঁড়গণ সেখ বা মোগলবংশ সম্ভূত। শিয়া ও সুন্নি সম্প্রদায় ভেদে ইহাদের বিবাহ দিয়া থাকে। আচার ও ব্যবহারে ইহারা প্রায়ই মুসলমানের ন্যায়, তবে ইহাদের মধ্যে হিন্দু-আচারও দৃষ্ট হইয়া থাকে। ভাঁড় জাতি ঢেঁড় ও কাশ্মীরি এই দুই শাখায় বিভক্ত। অযোধ্যার নবাব নাসিরুদ্দিন কাশ্মীরি ভাঁড়দিগকে আনয়ন করেন।”
ভাঁড়দের শ্রেণী নিয়ে নগন্দ্রেনাথ বসু বিশদ লিখেছেন, ‘বর্ত্তমান সময়ে হিন্দু ভাঁড়গণ কৈথেলা (কাপিষ্ঠলী), ব্রাহ্মণিয়া কামার, উজহার, বন্থেলা, গুজর, নোনিয়া, কড়া, পিতরহঙ্গর, বরহা, নখটিয়া ও শাহপুরী এবং মুসলমান ভাঁড়গণ বরষা, ভন্দেলা, বুড়দিয়া, দেশী গাওবাণী, হমলপুরী, হর্থাজরেহা, জবোয়া, কৈথলা, কায়স্থ, কাশীবালা, কশ্মীরি, কাঠিয়া, কতিলা, কব্বাল, খাখারিয়া, ক্ষত্রী, ক্ষেতি, মোথরা, মুসলমানি, নকল, নৌমসালিক, পাঠান, পাটুয়া, পুরবিয়া, রাবত, সাদিকি, সেখ, তারাকিয়া প্রভৃতি শ্রেণীতে বিভক্ত।”
তবে এখন প্রকৃত সঙদের দেখা পাওয়া প্রায় দুস্কর হয়ে পড়েছে, এখন চারপাশে যাদের সঙ বলে ভ্রম হয় তারা আসলে ছদ্মবেশী সঙ। মতলববাজ সঙ।





