গোপনতা ওগো গোপনতা
আলিঙ্গনে ছুরি বসিয়েছ, গোপনতা ওগো
গোপনতা, বলতে পারিনি কোনোদিন
ক্ষত সাইরা গেছে বটে, ইনবক্সে হিমবাহ দাগ
আবরণহীন; এই ফতেপুর, এই সিক্রি
আকবর-অনুরাগ-বীরবল-তানসেন-আবুল ফজল
চিরচেনা রাজপথ, বিশ্বাস যদি ঠেলে
দেয় ভুল পথে রাজনীতি বোঝাইবে কে আমাকে?
গোপনতা ওগো গোপনতা বলতে পারিনি
কোনোদিন। কারো নাম লেখা থাকে স্কুল গেটে
কারো নাম লেখা থাকে খুনির পকেটে
কারো বা খোদাই করা থাকে সেমেট্রি বা কবরে
কারো নাম মুছে যায় পদ্মার জলে
কারো নাম লেখা হয় স্যেন নদীর তলে
এই রোজার দিন, এই শবে কদরের রাইত শোনো,
আকবর বাদশার সেক্যুলার নাম লেখা ইলাহি দলিলে
আমার নাম লেখা আছে প্রেমের সলীলে
গোপনতা ওগো গোপনতা সে কথা বলতে পারিনি কোনোদিন।
রাধারগুল যাবার বাসনা
রাধারগুল যাবার বাসনা ছিল না কার
পাসওয়ার্ড ভুইলা যাওয়া আমি কি
যেতে চাইনি একটি বার।
ভুলে যাওয়া পথে হেঁটে দেখেছি
ও পথে দুঃখ নেই সুখ নেই
আছে কিছু স্মৃতির আভাস।
স্মৃতিসেতু ভাইঙ্গা গেছে সেই কবে
আপন বিষাদে পইড়া আছি
আকালের নিরুৎসবে।
সব ঝরা ফুলে মালা হয় না নারী
তবুও মৃত্যুগন্ধা মন বেদনার সাথী খোঁজে
ফেরি করে জীবনের বাড়ি।
শাহজাদি রুশবাই
বলো দেখা হবে কবে?
বলি, ঝিলাম নদীতে ঝড় উঠলে তবে।
ততদিন চারারা গোলাপ দেবে
পৃথিবীতে কত সন্ধ্যা সকাল হবে
কাত কাত কিশোরীরা পদ্মিনী হবে যৌবনে
কত শত কুমার কৌমার্য হারাবে ফাল্গুনে
বলো, আবার কি দেখা হবে?
ভালোবাসার আগুন নদী সাঁতরে গেছ কবে
নীলপদ্ম পাবে না জেনে
চক্ষু দানের নিয়ত কইরাছ সবে!
প্রতীকী নাম ভাবছ বুঝি তাই?
ইনবক্সে জানিয়েছ গুডবাই
নাগো-জানি, তুমিই তো শাহজাদি রুশবাই।
কোষে কোষে মৃদঙ্গ সুর দোলে
সব বীজ রোপণের আগে সন্ধ্যা জোনাকি জ্বলে
নিস্তব্ধতার শুরু সঙ্গরাগে
আসলে কি আর দেখা হবে?
আততায়ী নদীতীরে
মৃত ঈশ্বরের কায়া
ভালোবাসা ফুরিয়ে যায়নি একেবারে
তাই তো দেখি জলের কিনারে ছায়া
খুঁইজা ফিরি অভিভূত কৈশোরে
তোমার আমার অলিখিত কিছু মায়া।
চোখে দেশ নেই, ঘরে দোর নেই মাটি পরদেশী
দেহে মন নেই, মনে খুন খোঁজে খুনি প্রতিবেশী
জন্মে দেখে খুন-রাহাজানি, মৃত্যুর আগুন
দাসজাহাজের খোলে তাজা রক্তের উষ্ণতা দোলে
কুমারী নদীর দেহ ছিবড়ে খাচ্ছে বর্মি হায়েনা শকুন
শাহপরীর দ্বীপ বলতে পারো কি? ঝাউসারি স্মরণিকা হয় কবে
মংডু নাকি নাফ নদীতে রহিঙ্গাদের মরণ উৎসবে?
০১/১০/২০১৭ শাহপরীর দ্বীপ থেকে ফেরার পথে, বাসস্ট্যান্ড, চট্টগ্রাম





