দীপেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের (১০ নভেম্বর ১৯৩৩— ১৪ জানুয়ারি ১৯৭৯) সাহিত্যিক পরিচয়ের তুলনায় তার রাজনৈতিক কর্মী ও অন্য বিষয়ই আমাদের মনে থাকে। কখনো তার পঞ্চাশের দশকের বিখ্যাত বন্ধুবৃত্তের কারণে অথবা কংগ্রেসের মন্ত্রী পরিবারের সন্তান, কিন্তু তিনি কমিউনিস্ট পার্টির সার্বক্ষণিক কর্মী, আর তার খর্বাকৃতি শরীর নিয়ে কখনো অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার মতো বিষয়ও জানা যায়। এর পাশে কখনো সংবাদপত্রের জন্য রচিত বিখ্যাত সব রিপোর্টাজ কিংবা কোনো বন্ধু বা স্বজনের এটি ভালো লেখা প্রকাশের জন্য তার অক্লান্ত চেষ্টা। পাশাপাশি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সহায়তায় তার সাংগঠনিক ভূমিকা। আর বিখ্যাত পরিচয় পত্রিকার সম্পাদক। ইত্যাদিই কথাসাহিত্যিক দীপেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রায়ই পাশে সরিয়ে রাখে। বিবাহবার্ষিকী আর শোক মিছিলের মতো ছোট আকৃতির উপন্যাস কিংবা ‘জটায়ু’, ‘অশ্বমেধের ঘোড়া’ বা ‘চর্যাপদের হরিণী’র মতো অসাধারণ গল্পও দীপেন বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাহিত্যিক পরিচয়কে সবসময় সামনে আনে না।
এ যেন বাংলাভাষী অঞ্চলের এক অলিখিত আখ্যান, একজনের পরিচয়ে মাত্রা একটু বহুমুখী হলেই তকমা কিংবা লেবেল সাঁটানো আপাত দুরূহই হয়ে পড়ে। হয় কোনো একটি পরিচয় দগদগে সামনে এসে পথ আগলে দরজা আটকে রাখে, বাকিগুলোর দিকে তখন আর যেন কোনোভাবেই চোখ ফেরানো সম্ভব হয়ে ওঠে না। ফলে একসময় তার কোনো কাজই যেন আর স্মরণে থাকে না। পাশ থেকে সরে যায় কিংবা স্মৃতি থেকে পেছনে যায়, স্বাভাবিকভাবেই অথবা এ এক অস্বাভাবিক অবস্থাও।
দীপেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মোটা দাগের সংক্ষিপ্ত পরিচয়ের পর আমাদের স্বাভাবিক প্রবণতা নিয়ে এ কথাগুলো যেন নিজের কাছেই ভেসে আসে। অথবা এ এক প্রস্তাবনা নিজের কাছে, নিজেদের কাছে। এ অর্থে যে, দীপেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সাহিত্যিক হিসেবে খ্যাতিমান কিনা সেটা পরের প্রশ্ন, কেননা তিনি শুধুই সাহিত্যিক ছিলেনও না আর প্রচুর লেখেননি, এমনকি তার অনেক বন্ধুর মতো লেখাই তার একমাত্র কাজও ছিল না। অথবা এও তো হতে পারে, জীবনের একটি নির্দিষ্ট সময়ে একজন লেখক অনেক কিংবা প্রায় নিয়মিতই লিখলেন, তারপর আর লিখলেন না, লেখা তাকে ছেড়ে যেতে পারে কিংবা তিনিও লেখাকে ছেড়ে দিতে পারেন। আর মানুষের আয়ুর সীমারও তো কমবেশি থাকে। দীপেন বন্দ্যোপাধ্যায় মধ্য চল্লিশের আয়ু নিয়ে এসেছিলেন, বহুবার নাজুক শরীর তাকে ভুগিয়েছে। কিন্তু এ কথাগুলো কোনোটাই সাধারণত কথাসাহিত্যিক হিসেবে তাকে ভুলে থাকার সাফাই নয় কোনোভাবেই। বরং উল্টো ‘জটায়ু’ কিংবা ‘চর্যাপদের হরিণী’ গল্পের লেখককে যে গল্পকার হিসেবে আমরা মনে রাখি না, এ প্রবণতা আমাদের স্বাভাবিক বিস্মরণ প্রতিভারই নামান্তর।
গল্প হিসেবে ‘অশ্বমেধের ঘোড়া’র (১৩৬৭/১৯৬১) কোনো জুড়ি নেই বাংলা ভাষায়। না, এ কথা এ গল্পের ভাষার কারিগরি দিক মনে রেখে নয়; যেমন— প্রেমেন্দ্রে মিত্রের ‘তেলেনাপোতা আবিষ্কার’ কিংবা কাহিনীর দিক থেকেও নয় (যেমন— মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘প্রাগৈতিহাসিক’) কিংবা ঘটনার সামাজিক রাজনৈতিকীকরণের জন্যও নয়; যেমন— সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর ‘একটি তুলসী গাছের কাহিনী’। জুড়ি নেই বলেও যখন একটানে কোনো কার্যকারণে স্থাপন করা যাচ্ছে না, তাহলে আর জুড়ি নেই বলা কেন? সে ব্যাপারটা ঘটে গল্পটা পড়ার পর।
খুব সহজ ও সাধারণ একটি ঘটনা। দুজন সদ্যবিবাহিত নারী-পুরুষ। পারিবারিক সংকটের কারণ হয়তো জানাতে পারছে না যে, তারা বিয়ে করেছে। তাই তাদের একসঙ্গে থাকা হচ্ছে না। বিয়েটা হয়েছে একেবারেই সাধারণভাবে। একান্ত আপনার দু-একজন বন্ধু উপস্থিত ছিল। তাদের একজন সিঁদুরের একটি পোঁটলা এনেছিল। ম্যারেজ রেজিস্ট্রারের অফিসে স্বাক্ষরের পর সেই সিঁদুর ছুঁইয়েছিল ছেলেটি মেয়েটির কপালে। আর বন্ধুদের কিনে আনা মালা আর বদল করা হয়নি। একটু পরে বন্ধুরা যার যার কাজে চলে গেল। তাদের দুজনকেও বাড়ি যেতে হবে। মেয়েটি ঘষে ঘষে সিঁদুরের দাগ তুলে ফেলে, জায়গাটায় একটা শিরা ফুলে প্রায় নীল হয়ে যায়। ছেলেটার হাতেই থাকে মালা দুটো। তারা একই দিকের বাস ধরে বাড়ি চলে যায়। এমন সাধারণ বিয়ে। ছেলেমেয়ে দুজনের বাড়িতে তখন হয়তো নানা সংকট। এখনই জানানো যাবে না সেখানে। হয়তো মেয়েটির যেন অন্যত্র বিয়ে না হয়, সেজন্যে বিয়ে করল তারা। রেজিস্ট্রির কাগজটা ছেলেটির পকেটে।
এটি কাহিনীর প্রথম অংশ। এদিন তারা শুনেছিল, কলকাতা শহরজুড়ে বিসমিল্লা খাঁর সানাই বাজছে। অথবা অন্য কোনো দিন, এ গল্পে বিয়ের দিন কি তার পরে তাদের আবার দেখা হওয়ার আর বিবাহবার্ষিকী সবটাই প্রায় একটানে, এই যে সময়ের হেরফের, দীপেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় মিলিয়ে মিশিয়ে দিয়েছেন। এর ভেতরে তাদের অর্থনৈতিক সামর্থ্য, পারিবারিক দায়িত্ব তার চাকরি সবই বোঝা যায়। ছেলেটি একটি কলেজে পড়ায়, মেয়েটি একটি অফিসে কেরানির চাকুরে। আজ তাদের বিবাহবার্ষিকী। আজ তারা একটু ঘুরবে। গল্পটার শেষাংশে এখানে এসে তারা দাঁড়িয়েছে।
গঙ্গার কূলে গিয়ে তারা বসবে। সেখানে অটোরিকশায় যাবে না, ট্যাক্সিতেও নয়। ট্যাক্সি খুব দ্রুত তাদের সেখানে পৌঁছে দেবে। তার চেয়ে এ অপেক্ষমাণতা, শুধু নিজেদের ভেতরে একটু বেশিক্ষণ কথা বলা ও কাটানোর জন্য। এই এক বছরে তাদের কদিনই বা দেখা হয়েছে। দেখা হলেও নিজেদের সময় তারা সেখানে কাটাতে পারেনি। তাদের একান্ততা বলে প্রায় কিছুই নেই। সেটি তাদের কাছে এ মুহূর্তে যেন প্রত্যাশিতও নয়। হয়তো সুযোগ নেই, তাই অপ্রত্যাশিতও। তবু আজ তাদের বিবাহবার্ষিকী। এমন ঘোড়ার গাড়িতে চারদিক দেখতে দেখতে যদি যাওয়া যায়, তাই উদ্্যাপন!
একটা ঘোড়ার গাড়ি তাদের কাছে এসে দাঁড়াল। ভাড়া ঠিক হলে তারা উঠল। মেয়েটির হাতে একটু আগে কেনা একটা ফুলের মালা। এক ফাঁকে সে ছেলেটিকে বলেছিল মালাটা তার খোঁপায় পরিয়ে দেয়ার জন্য। তার আগে বাসযাত্রীরা তাদের দেখে। তাদের মনে হয়, গোটা শহরই যেন আজ তাদের দেখছে। হঠাৎ বৃষ্টি পড়ে। গাড়োয়ান দুই পাশের পর্দা নামিয়ে দেয়। মুহূর্তে এখানে গোটা পৃথিবী শুধু তাদের হয়ে যায়। তখন কাঞ্চন নামের ছেলেটি রেখা নামের তার বউকে ডাকল, বউ। আর রেখাকে অনুরোধ করল, ‘একবার আমাকে স্বামীন্ বলে ডাকবে?’ মেয়েটির তাতে লজ্জা করে। তবু সে একবার স্পষ্ট করে স্বামীন্ ডেকে লজ্জায় দুই হাতে মুখ ঢেকে ঝির ঝির করে হেসে উঠল।
তখন কাঞ্চন ভাবছে, ‘ছুঁতে ইচ্ছে করছে। খোঁপাটা খুলে একমুঠো ফুলের মতো চুলগুলো যদি রেখার মুখে বুকে ছড়িয়ে দি। হাতটা ধরব? কান পেতে রেখার হূিপণ্ডের শব্দ যদি শুনতে পেতাম? আমার রক্ত, আমার মন বৃষ্টি হতে চায়। একটা কথা ধ্রুব বুঝেছি। বৈষ্ণব কবিরা যৌবন সম্পর্কে যে উল্লাস প্রকাশ করেছেন, তা মিথ্যা। আসলে যৌবন আমাদের লজ্জা, আমাদের যন্ত্রণা। আমি পারি না। আমি পারি না এখন রেখাকে অপমান করতে।’
এ স্বাভাবিক যেন তখন রেখা আর কাঞ্চনের জন্য। একজন অন্যজনকে লক্ষ করে। অনেক কথা অব্যক্ত থেকে যায়। গত এক বছরে নিজেদের তো ভালো করে দেখাই হয়নি। এ মুহূর্তটা তাদের খুব ভালো লাগছে।
কাঞ্চন ভাবছে :
ভালো লাগছে রেখার। কী অমোঘ এ ভালো লাগা। আমি জানি রেখা কী চায়। আমি জানি আমি কী চাইছি। অশ্বক্ষুরের ধ্বনি চেতনা অবশ করছে। এই আমার শরীর গির্জার উজ্জ্বল মোমবাতি, বিন্দু বিন্দু ঘাম ঝরে পড়ছে। অশ্বমেধ যজ্ঞের গর্বিত ঘোড়াটি ঘাড় চেঁচিয়ে আগুনের নিঃশ্বাস ফেলে চলে গেল। আর দ্রাবিড় কন্যা আর্য ঘোড়সওয়ারের পায়ের তলায় হা হা করে কেঁদে উঠল। তারপর চেঙ্গিজ খাঁর অশ্বারোহী দল শেকল বেঁধে দাসদের টেনে নিল। তারপর লরেন্স ফস্টর ধুলো উড়িয়ে দিল্লিতে পতাকা ওড়াল। আর পতাকার রঙ পালটায়।
স্বর্গের উচ্চৈঃশ্রবা এখন ধর্মনিরপেক্ষ কলকাতার মাঠে পাটোয়ারী বুদ্ধিতে বাজি দৌড়োয়। আর যে যজ্ঞের অশ্বকে ফিরিয়ে আনতে ভগীরথ মর্ত্যে গঙ্গা এনেছিল, মাত্র আড়াই টাকার বিনিময়ে সে আমাদের খিদিরপুর পৌঁছে দেব। কাঞ্চন চোখ বন্ধ করে ক্ষুর এবং হ্রেষাধ্বনি শুনতে লাগল। সত্য যে, দিগ্বিজয়ী অশ্বের শোণিতে যজ্ঞের আহুতি পূর্ণ হয়।
কাঞ্চনের ভাবনার এ জায়গাটুকু মনে হতে পারে এখন গল্পের এ জায়গায় যেন প্রায় অপ্রয়োজনীয়। আসলে এ ঘোড়ার গাড়িতে সওয়ার এক নারী-পুরুষের সমস্ত অব্যক্ততা দীপেন্দ্রনাথ এখানে মহাকালের সঙ্গে মিলিয়ে দিলেন। যখন গল্পের আর বেশি বাকি নেই। খিদিরপুর প্রায় এসে গেছে। যখন রেখা এ কল্পনায় যেন দূরে চলে যাওয়া কাঞ্চনকে বলছে:
‘কি গো, ঘুমিয়ে পড়লে নাকি?’
কাঞ্চন চোখ বুজে জবাব দিল, ‘হুঁ।’ তাকাব না, আমার নিজেকে ভয় করছে। আমার নিজেকে বড় দীন, বড় অসহায় মনে হলো।
‘শোনো?’
‘কী?’
হঠাৎ রেখা দুই হাতে কাঞ্চনের ডান হাতটা ধরে বলল, ‘শোনো?’
কাঞ্চন অস্ফুট বলল, ‘কী?’
‘এ মালাটা আমায় পরিয়ে দেবে?’
গাড়িটা দাঁড়িয়ে পড়ল। গাড়োয়ান ডাকল, ‘বাবু?’
‘কী?’
‘খিদিরপুর।’
রেখা প্রায় আর্তনাদ করে উঠে বল, ‘দাও, পরিয়ে দাও।’
কাঞ্চন মূঢ়ের মতো রেখাকে মালা পরিয়ে দিচ্ছিল, সে সময় পরদা উঠে আবার নেমে গেল। ঘাড় হেঁট করে দুজনে তাড়াতাড়ি নেমে পড়ল! কাজেই ট্রাম-স্টপ। চৌরাস্তায় একটা পুলিশ। তাছাড়া জায়গা নির্জন।
এর পরই দীপেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় এই গল্পের এ দুই তরুণ-তরুণীর মতো আমাদেরও বিমূঢ় করে দেন। যখন রেখা ব্যাগ থেকে ২ টাকা আর কাঞ্চন পকেট থকে একটা আধুলি গাড়োয়ানকে দেয়। গাড়োয়ান জানায়, ৫ টাকার কমে হবে না। কাঞ্চন অবাক, আড়াই টাকায় তো ভাড়া ঠিক হয়েছিল।
গাড়োয়ান বলল, ‘ফুর্তি করবেন, হোটেল ভাড়াভি দিবেন না?’
প্রায় ফিসফিস করে কাঞ্চন বলল, ‘কী বললে?’ জিভে তার কথা জড়িয়ে গেল। আর রেখা চমকে দুই হাতে নিজের কান চেপে ধরতে যাওয়ায় মালাটা হাত থেকে রাস্তায় পড়ে গেল।
তারপর সম্পূর্ণ অপরিচিতের মতো দাঁত দিয়ে ঠোঁটে কামড়ে দ্রুত পায়ে তারা খানিকটা হাঁটছিল। কিন্তু কাঁদেনি। কারণ একান্তে কাঁদার মতো কোনো আশ্রয় তাদের জানা ছিল না।
‘অশ্বমেধের ঘোড়া’ শেষ। কেন অশ্বমেধের ঘোড়া, সে কথা জানিয়েছেন দীপেন বন্দ্যোপাধ্যায়। এ গল্পে, দেশভাগ-পরবর্তী, এর এক যুগ পর যে কলকাতা নগরী, যেখানকার তরুণ-তরুণী, তাদের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংকটকে, মধ্যবিত্তপনার অবগুণ্ঠনকে তিনি চোখে আঙুল দিয়ে রেখা আর কাঞ্চনের ভেতর দিয়ে দেখিয়ে দিলেন। জানিয়ে দিলেন, তাদের হয়তো বাড়িতে জানানোর উপায় নেই। কোথাও একটু সময় কাটানোর উপায় নেই। সেই সঙ্গতিও নেই। যে টানাপড়নের ভেতর দিয়ে তাদের যেতে হয়! হয়তো রেখার বড় বোনের বিয়ে হয়নি, তাই বাড়িতে জানানোর সুযোগ নেই। কাঞ্চনের এখন বাড়িতে বউ তোলার উপায় নেই। দু-তিনটে বোন এখনো অবিবাহিত। উদ্বাস্তু পরিবার, এখনো এ কলকাতা নগরীতে তারা ঠিকঠাক কুলিয়ে উঠতে পারেনি। ওদিকে কাঞ্চনের রুচিবোধ, রেখার সংস্কার— সব মিলে এ ঘোড়ার গাড়িতেও তাদের কাছাকাছি হতে বাধে। একটু সাবধানে তাই রেখার খোঁপায় যে মালাটা পরিয়ে দেবে, কি গলায়, কেননা বিয়ের দিন তারা মালাবদল করেনি। কত প্রকার ইচ্ছে তাদের হতে পারে, তাই স্বাভাবিক। কিন্তু সংকটেরও তো শেষ নেই। গাড়োয়ানের তা বোঝার কথা নয়। সে শুধু ‘ফুর্তি’টাই দেখে এসেছে। কিন্তু ফুর্তি তো তাদের নেই। আর স্বামী-স্ত্রী সেই ‘ফুর্তি’ করতে আসবে কেন? তেমন মানুষও তো তারা নয়। কিন্তু সবটাই মুহূর্তে উল্টে গেল, উল্টে দিলেন দীপেন বাডুজ্জে। দুজন অসহায় নারী-পুরুষের সঙ্গে আমাদের অসহায়ত্বও তখন আর নির্ণয় করার উপায় নেই। বরং রেখা আর কাঞ্চনের জন্য দীপেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আমরাও বিমূঢ় হতে পারি।





