আমি খাইবার গিরিপথে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে। তাকিয়ে আছি বড় ইটের ঢিবির দিকে, যা এখন ভগ্নদশায়। এখানে একজন অজানা বৌদ্ধ সাধু বা পবিত্র ব্যক্তির দেহাবশেষ রয়েছে। এ সমাধি, বৌদ্ধ স্তূপটি আনুমানিক ১০০ খ্রিস্টাব্দের এবং এটি খাইবার গিরিপথের ঐতিহাসিক গুরুত্বকে নির্দেশে করে। এ পথ দিয়ে বৌদ্ধ ধর্ম তার ভারতীয় মাতৃভূমি থেকে মধ্য এশিয়া এবং সেখান থেকে চীন ও দূরপ্রাচ্যে বিস্তৃত হয়েছিল। এটি অবস্থিত রাস্তার ওপরে, জারাইয়ের বিক্ষিপ্ত গ্রামের কাছে, পাহাড়ের গিরিপথের গভীরে।
আমার জন্য খাইবার গিরিপথের ভ্রমণটা ছিল অনেক বছরের লালিত লক্ষ্য অর্জনের মতো এবং এখন আমি শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানে, উত্তর- পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ ঘুরে দেখছিলাম। আমার ক্রমবর্ধমান দাড়ি, চিত্রালি টুপি ও শালওয়ার কামিজে (পাকিস্তানি পুরুষদের ঐতিহ্যবাগী লম্বা জামা ও ঢোলা পায়জামা) আমাকে গর্বিত পাঠান হিসেবে অনেকে ভুল বোঝেন, কিন্তু বেশির ভাগ সময় এটা স্পষ্ট যে আমি একজন বহিরাগত। মাঝে মাঝে আমাকে গুপ্তচর বা ভাড়াটে সেনা হিসেবে ঠাহর করা হয়, তখন আমি প্রতিবাদ করে বলি যে আমি একটি বই নিয়ে গবেষণা করছি, তখন আমার দাবিটি তাদের কাছে সামান্য গুরুত্বই পায়। ২০০১ সালে আফগান তালেবান শাসনের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক পদক্ষেপ এ অঞ্চলে পশ্চিমা বিরোধী মনোভাব বৃদ্ধি করেছিল, বিশেষত লড়াইটি যুক্তরাজ্য এবং অন্যান্য ন্যাটো দেশের সৈন্যদের সহযোগে একটি দীর্ঘ গেরিলা অভিযানে পরিণত হয়েছে। অনেক আফগান ও পাকিস্তানি আমাকে আমেরিকানদের পলিসি নিয়ে তাদের ক্ষোভের কথা শুনিয়েছেন। বেশির ভাগ জায়গায় আতিথেয়তা পেলেও অনেক জায়গায় আমার প্রতি শত্রু ভাব তারা লুকিয়ে রাখতে পারেননি।
আমি অনুভব করেছি যে এটি খাইবার অঞ্চলের একটি প্রাচীন সত্যকে প্রতিফলিত করে। জীবন এখানে কঠিন এবং বেঁচে থাকার জন্য স্থানীয়দের অন্যদের প্রতি সন্দেহের দৃষ্টি রাখতে হয়। খাইবার পাস সবসময় একটি অস্থির ও বিপজ্জনক জায়গা ছিল। যে কয়েকজন পশ্চিমারা আজ খাইবারে প্রবেশ করেছেন তাদের অপহরণ বা হত্যার হাত থেকে বাঁচতে নিজেদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয়। আমার সশস্ত্র প্রহরী একে৪৭ নিয়ে জিপে বসে আছে। সে স্থানীয় মিলিশিয়া খাইবার খাসাদার ফোর্সের সদস্য।
অনেক ইটের গাঁথুনি সত্ত্বেও খাইবার স্তূপটি ছোট। খাইবার স্তূপ কার জন্য নির্মিত হয়েছিল তা আমরা জানি না। তবে এর অবস্থান ও তারিখ থেকে আমরা অনুমান করতে পারি এখানে একজন ধর্মপ্রচারক বা পবিত্র ব্যক্তির দেহাবশেষ রয়েছে। যিনি খাইবার ছাড়িয়ে নতুন ভূমিতে ধর্মপ্রচারের জন্য যাচ্ছিলেন। যখন আমি এ স্মৃতিস্তম্ভের দিকে তাকিয়ে ছিলাম, মাঝে মাঝে ট্রাকগুলো আফগানিস্তানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল, সে পুরুষদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে যারা বৌদ্ধ ধর্মকে তার জন্মভূমির বাইরে নিয়ে গিয়েছিল।
লেখকের খাইবার পাস: আ হিস্ট্রি অব এম্পায়ার অ্যান্ড ইনভেশন গ্রন্থ থেকে অনূদিত





