স্টিফেন হকিং । ভাষান্তর: আবুল বাসার
হুইলচেয়ারে নিশ্চল বন্দি থেকেও একজন মানুষ কীভাবে এ সময়ের অন্যতম সেরা পদার্থবিজ্ঞানী হতে পারেন কিংবা আ ব্রিফ হিস্ট্রি অব টাইমের মতো বিজ্ঞানের সর্বকালের সেরা বেস্টসেলার বই লিখতে পারেন, তা কয়েক দশক ধরেই সাধারণ মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। সাধারণের এ তীব্র কৌতূহল মেটাতে তাই স্টিফেন হকিং ২০১৩ সালে লিখেছিলেন মাই ব্রিফ হিস্ট্রি শিরোনামের এক আত্মজীবনী। বইটিতে তার বিজ্ঞানী জীবন আর ব্যক্তিজীবন একাকার হয়ে রয়েছে। সে বইটির একটি অধ্যায় এখানে ছাপা হলো—
স্নাতক শিক্ষার্থী হিসেবে ১৯৬২ সালের অক্টোবরে ক্যামব্রিজে এসেছিলাম আমি। সে সময়ের সবচেয়ে বিখ্যাত ব্রিটিশ জ্যোতির্বিদ ফ্রেড হয়েলের সঙ্গে গবেষণার জন্য সেখানে আবেদন করলাম। তিনি ছিলেন স্থিতিশীল মহাবিশ্ব তত্ত্বের প্রধান সমর্থক। তাকে জ্যোতির্বিদ বললাম, কারণ কসমোলজি বা বিশ্বসৃষ্টিতত্ত্ব তখনো কোনো গ্রহণযোগ্য ক্ষেত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। কিন্তু এ বিষয়েই গবেষণা করতে চাচ্ছিলাম আমি। ফ্রেড হয়েলের ছাত্র জয়ন্ত নারলিকারের সঙ্গে এক সামার কোর্সে অংশ নিয়ে এ ব্যাপারে আমার আগ্রহ বেড়ে গিয়েছিল। তখন হয়েলের অধীনে যথেষ্ট শিক্ষার্থী ছিল। কাজেই অত্যন্ত হতাশ করে ডেনিস সায়ামার অধীনে দেয়া হয়েছিল আমাকে। অথচ তার নাম আমি আগে কখনো শুনিনি।
তাতে একদিক দিয়ে হয়তো ভালোই হয়েছিল। কারণ হয়েলের সঙ্গে কাজ করলে তিনি সবসময় দূরে দূরেই থাকতেন। আবার তার খুব একটা নজরেও পড়তাম না আমি। অন্যদিকে সায়ামাকে সবসময় কাছেই পাওয়া যেত এবং তার সঙ্গে কথাও বলা যেত সহজেই। তবে তার অনেক ধারণার সঙ্গেই আমি একমত ছিলাম না। বিশেষ করে ম্যাকের নীতি বিষয়ে। এ নীতি অনুযায়ী, বস্তুর জড়তার পেছনে মহাবিশ্বের অন্যান্য সব বস্তুর প্রভাব দায়ী। কিন্তু এ বিষয়ে ভিন্নমতই আমার নিজস্ব ধারণা বিকাশে উদ্দীপনা জুগিয়েছিল।
আমি যখন গবেষণা শুরু করি, তখন আমার কাছে দুটি ক্ষেত্রকে সবচেয়ে রোমাঞ্চকর বলে মনে হয়েছিল। সেগুলো হলো বিশ্বসৃষ্টিতত্ত্ব ও মৌলিক কণা পদার্থবিদ্যা। দ্বিতীয়টি ছিল বেশ সক্রিয় আর দ্রুতবেগে পরিবর্তনশীল এক ক্ষেত্র, যা আমার মনকে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করেছিল। অন্যদিকে বিশ্বসৃষ্টিতত্ত্ব ও সাধারণ আপেক্ষিকতা সেই ১৯৩০-এর দশকেই আটকে গিয়েছিল। এ বিষয়ে বিশ শতকের অন্যতম সেরা পদার্থবিদ নোবেল বিজয়ী রিচার্ড ফাইনম্যানের একটি কথা স্মরণ করা যেতে পারে। ১৯৬২ সালে ওয়ারশয় সাধারণ আপেক্ষিকতা ও মহাকর্ষবিষয়ক এক সম্মেলনে অংশ নিয়ে চমত্কার কিছু মন্তব্য করেছিলেন তিনি। তার স্ত্রীকে লেখা এক চিঠিতে তিনি বলেছিলেন, ‘এ আলোচনা থেকে আমি কিছুই নিতে পারলাম না। কিছু শিখতেও পারলাম না। অল্প কিছু মেধাবী মানুষ এখন এ ক্ষেত্রটিতে কাজ করছে। তাই এ বিষয়ে তেমন গবেষণাও হচ্ছে না, এটি আর সক্রিয় নেই। ফলে এখানে মূর্খরাই (১২৬ জন) এর পৃষ্ঠপোষক। আমার রক্তচাপের জন্য এটা মোটেও ভালো ঠেকছে না।... এর পরেরবার মহাকর্ষবিষয়ক কোনো সম্মেলনে যাতে না আসি, আমাকে সে কথা মনে করিয়ে দিও!’
গবেষণা শুরুর সময় এসব বিষয়ে আমি একটুও সচেতন ছিলাম না। কিন্তু আমার কাছে সে সময় মৌলিক কণাবিষয়ক গবেষণাটা উদ্ভিদবিদ্যা নিয়ে গবেষণা করার মতো মনে হয়েছিল। কোয়ান্টাম ইলেকট্রোডাইনামিকস বা কণাবাদী বিদ্যুৎ, অর্থাৎ আলো ও ইলেকট্রনের তত্ত্ব, যা রসায়ন ও পরমাণুর কাঠামো নিয়ে কাজ করে, তা নিয়ে গবেষণা ১৯৪০ থেকে ১৯৫০-এর দশকেই পুরোপুরি শেষ হয়ে গিয়েছিল। তখন সবার নজর গিয়ে পড়ল পরমাণুর নিউক্লিয়াসে কণাগুলোর মধ্যকার দুর্বল আর সবল পারমাণবিক বলগুলোয়। কিন্তু অন্য বলগুলোর জন্য প্রযোজ্য একই ধরনের ফিল্ড থিওরি বা ক্ষেত্রতত্ত্ব এ বলগুলোকে ব্যাখ্যা করতে পারছিল না। আসলে বিশেষ করে ক্যামব্রিজ স্কুলের ধারণা ছিল, এ বলগুলোর জন্য কোনো ক্ষেত্রতত্ত্ব নেই। বরং তাদের ধারণায়, সবকিছুই নির্ধারিত হয় অনিশ্চয়তা দিয়ে। অর্থাৎ সম্ভাবনার নিত্যতা ও কণাদের বিক্ষেপের নির্দিষ্ট চারিত্রিক বিন্যাসের মাধ্যমেই সবকিছু নির্ধারিত হয়। এখন ভাবতে মজাই লাগে যে, তখন এ দৃষ্টিভঙ্গি কার্যকর হবে বলেই ধরে নেয়া হয়েছিল। আমার মনে আছে, দুর্বল পারমাণবিক বলের জন্য একীভূত ক্ষেত্রতত্ত্বের প্রথম প্রচেষ্টাকে কীভাবে তাচ্ছিল্য করা হয়েছিল। অথচ পরে সেটিই প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। অন্যদিকে বিশ্লেষণী এস-ম্যাট্রিক্স নিয়ে গবেষণার কথা তো এখন বিস্মৃতপ্রায়। আমি খুবই খুশি যে, মৌলিক কণা নিয়ে আমি তখন গবেষণা করিনি। তাহলে আমার তখনকার কোনো কাজই এখন আর টিকে থাকত না।
অন্যদিকে বিশ্বসৃষ্টিতত্ত্ব ও মহাকর্ষ ছিল তখন অবহেলিত এক ক্ষেত্র। সে সময় এটি বিকশিত হওয়ার জন্য বেশ পরিপক্ব হয়ে উঠেছিল। মৌলিক কণার সঙ্গে তুলনা করলে এ ক্ষেত্রটির জন্যও একটি সুসংজ্ঞায়িত তত্ত্ব ছিল। সে তত্ত্বটি হলো আপেক্ষিকতার সাধারণ তত্ত্ব। কিন্তু একে অসম্ভব রকমের জটিল বলে ভাবা হতো। আইনস্টাইনের ক্ষেত্র সমীকরণের যেকোনো সমাধান পেলেই তখন লোকজন একেবারে বর্তে যেত। এ সমাধান তত্ত্বটিকে ব্যাখ্যা করত বটে, কিন্তু এ সমাধানের কোনো ভৌত তাত্পর্য আছে কি নেই, তা নিয়ে তাদের মাথাব্যথা ছিল না। সাধারণ আপেক্ষিকতার এই সেকেলে দলের সঙ্গেই ওয়ারশর সম্মেলনে মুখোমুখি হয়েছিলেন ফাইনম্যান। হাস্যকর ব্যাপার হচ্ছে, ওয়ারশর ওই সম্মেলনটি ফাইনম্যানের স্বীকৃতি না পেলেও সাধারণ আপেক্ষিকতার রেনেসাঁ হিসেবে একেই চিহ্নিত করা হয়েছে। সেজন্য ফাইনম্যানকে হয়তো ক্ষমা করা যেতে পারে।
একসময় নতুন প্রজন্ম এ ক্ষেত্রটিতে আসতে শুরু করল এবং সাধারণ আপেক্ষিকতা নিয়ে গবেষণার নতুন কিছু কেন্দ্রের জন্ম হতে দেখা গেল। এর মধ্যে দুটি কেন্দ্র আমার জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এর একটির অবস্থান ছিল জার্মানির হামবুর্গে প্যাসকাল জর্ডানের অধীনে। সেখানে আমি কখনো যাইনি। তবে সেখানে জন্ম নেয়া রুচিশীল গবেষণাপত্রগুলো দেখে আমি মুগ্ধ হয়েছিলাম। সাধারণ আপেক্ষিকতা নিয়ে আগের বিশ্রী কাজের তুলনায় এগুলো ছিল একেবারেই বিপরীত চরিত্রের। আরেকটি কেন্দ্র ছিল হারমান বন্ডির অধীনে লন্ডনের কিংস কলেজ।
সেন্ট অ্যালবানসে আমি গণিত নিয়ে তেমন চর্চা করিনি। আবার অক্সফোর্ডেও পদার্থবিদ্যার খুবই সহজ কোর্স নিয়েছিলাম। সে কারণে সায়ামা আমাকে জ্যোতিঃপদার্থবিদ্যা নিয়ে গবেষণার পরামর্শ দিলেন। কিন্তু ফ্রেড হয়েলের সঙ্গে কাজ করতে ব্যর্থ হয়ে অন্য কোনো বিরক্তিকর বা ফ্যারাডের ঘূর্ণনের মতো ভূমিকেন্দ্রিক কোনো বিষয়ে গবেষণায় আমার আগ্রহ ছিল না। বিশ্বসৃষ্টিতত্ত্ব নিয়ে কাজ করতেই আমি ক্যামব্রিজে গিয়েছিলাম। তাই শেষমেশ বিশ্বসৃষ্টিতত্ত্ব নিয়েই কাজ করব বলে স্থির করে ফেললাম। সাধারণ আপেক্ষিকতা নিয়ে লেখা পুরনো পাঠ্যবইগুলো পড়তে শুরু করলাম। পাশাপাশি সায়ামার অন্য তিন ছাত্রের সঙ্গে প্রতি সপ্তাহে লন্ডনের কিংস কলেজে লেকচার শুনতে যেতে লাগলাম। এভাবে আমি এ-সংক্রান্ত শব্দ ও সমীকরণগুলো বুঝতে পারলাম, কিন্তু বিষয়টিতে সত্যিকারের কোনো অনুভূতি পেতাম না।
আমাকে হুইলার-ফাইনম্যানের তথাকথিত বিদ্যুৎ তত্ত্বের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন সায়ামা। এ তত্ত্বের ভাষ্য হলো, বিদ্যুৎ ও চুম্বক সময় প্রতিসাম্য। কোনো ল্যাম্পে সুইচ অন করা হলে তা মহাবিশ্বের অন্য সব বস্তুর প্রভাবের ফল। এ কারণে অসীম থেকে ল্যাম্পের ভেতরে আসা এবং তার ভেতর শেষ হওয়ার বদলে ল্যাম্প থেকে আলোকতরঙ্গ বাইরে ছড়িয়ে পড়ে। হুইলার-ফাইনম্যানের বিদ্যুৎ তত্ত্ব কার্যকর হতে ল্যাম্পের বাইরে থেকে আসা সব আলো মহাবিশ্বের অন্য বস্তুতে শোষিত হওয়া দরকার। এটি কেবল বস্তুর ঘনত্ব সর্বদা ধ্রুব থাকা কোনো স্থিতিশীল মহাবিশ্বেই ঘটা সম্ভব। কিন্তু মহাবিস্ফোরণের মাধ্যমে সৃষ্ট একটি মহাবিশ্বে এটি ঘটা সম্ভব নয়। কারণ মহাবিশ্ব যতই প্রসারিত হতে থাকবে, তার ঘনত্ব ততই কমতে থাকবে। কাজেই কোনো প্রমাণের প্রয়োজন হলে দাবি করা হতো যে, আমরা যে একটি স্থিতিশীল মহাবিশ্বে বাস করি, এটা তার আরেকটি প্রমাণ।
এটি সময়ের তীরের ব্যাখ্যা করতে পারে বলে মনে করা হতো। এ মতের কারণ বিশৃঙ্খলা ক্রমেই বাড়ছে এবং আমরা কেন ভবিষ্যৎ নয়, অতীত মনে করতে পারি। কর্নেল ইউনিভার্সিটিতে ১৯৬৩ সালে হুইলার-ফাইনম্যানের বিদ্যুৎ ও সময়ের তীরবিষয়ক একটি সম্মেলন আয়োজিত হয়েছিল। সময়ের তীর সম্পর্কে কিছু আজগুবি প্রস্তাব ফাইনম্যানের কাছে এতই বিরক্তিকর মনে হয়েছিল যে, ওই সভার কার্যবিবরণীতে নিজের নাম রাখতেও অস্বীকার করেন তিনি। তাই তাকে মি. এক্স হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। তবুও মি. এক্সের পরিচয় সবাই জানত।
আমি আবিষ্কার করলাম, হয়েল ও নারলিকার ততদিনে প্রসারণশীল মহাবিশ্বের জন্য হুইলার-ফাইনম্যানের বিদ্যুৎ তত্ত্ব নিয়ে কাজ করেছেন। মহাকর্ষের সময় প্রতিসাম্যতাবিষয়ক একটা নতুন তত্ত্বও সূত্রবদ্ধ করতে শুরু করেছেন তারা। তত্ত্বটি ১৯৬৪ সালে রয়্যাল সোসাইটির এক সভায় প্রকাশ করলেন হয়েল। সেই লেকচারে আমিও উপস্থিত ছিলাম। প্রশ্নোত্তর পর্বে আমি বললাম, কোনো স্থিতিশীল মহাবিশ্বে সব বস্তুর প্রভাবের ভর অসীম হয়ে যাবে। হয়েল প্রশ্ন করলেন, আমি এ কথা বলছি কেন। উত্তরে জানালাম, হিসাব করে বের করেছি। কিন্তু সবাই ভেবে বসল, আমি হয়তো বুঝিয়েছি যে, ওই লেকচার চলাকালেই হিসাবটি আমি মাথার মধ্যে করে ফেলেছি। আসলে নারলিকারের সঙ্গে এক অফিস ভাগাভাগি করতাম আমি। সেখানে সময়সংক্রান্ত একটি গবেষণাপত্রের খসড়া দেখে এ সভার আগেই হিসাবটা করতে পেরেছিলাম।
অবশ্য এতে হয়েল অগ্নিশর্মা হয়ে উঠলেন। কারণ সে সময় তিনি নিজের একটি ইনস্টিটিউট খোলার চেষ্টা করছিলেন। সেজন্য কোনো অর্থের জোগান না পেলে আমেরিকা চলে যাওয়ারও হুমকি দিয়ে রেখেছিলেন। তিনি ভেবেছিলেন, আমি তার পরিকল্পনা ভেস্তে দেয়ার ষড়যন্ত্র করেছি। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি তার ইনস্টিটিউট পেয়েছিলেন এবং পরে সেখানে আমাকে একটি চাকরিও দিয়েছিলেন। কাজেই আমার সম্পর্কে তার কোনো বিদ্বেষ ছিল না বলেই মনে হয়।
অক্সফোর্ডের শেষ বর্ষে খেয়াল করেছিলাম, আমার দৈহিক জড়তা ক্রমেই বাড়ছে। একবার সিঁড়ি থেকে পড়ে গিয়ে চিকিৎসকের কাছে গেলাম। কিন্তু তিনি শুধু বললেন, ‘বিয়ার ছেড়ে দাও।’
কিন্তু ক্যামব্রিজে আসার পর আমার জড়তা বাড়তেই লাগল। এক বড়দিনে সেন্ট অ্যালবানসে হ্রদে স্কেট করতে গিয়ে নিচে পড়ে আর উঠতে পারলাম না। সমস্যাগুলো খেয়াল করে আমাকে পারিবারিক ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলেন আমার মা। তিনি এক বিশেষজ্ঞকে দেখাতে বললেন। আমার ২১তম জন্মদিনের কিছুদিন পরই পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য হাসপাতালে যেতে হলো আমাকে। বিভিন্ন রকম পরীক্ষার জন্য সেখানে প্রায় দুই সপ্তাহ থাকতে হলো। তারা ইলেকট্রোড ঢুকিয়ে আমার হাতের পেশির নমুনাও নিল, আমার মেরুদণ্ডে কিছু তেজস্ক্রিয় তরলও ঢুকিয়ে বিছানা এপাশ-ওপাশ করে এক্স-রের মাধ্যমে সেগুলোর ওঠানামা দেখল। অবশ্য সব পরীক্ষা শেষে আমার কী হয়েছে, আমাকে তার কিছুই বলল না তারা। শুধু এটুকুই জানানো হলো, আমার মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস হয়নি এবং বিরল কোনো রোগে ভুগছি আমি। বুঝতে পারলাম, তারা এটা আরো ভয়াবহ কোনো পর্যায়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছে। আর তখন আমাকে ভিটামিন দেয়া ছাড়া তাদের আর কিছুই করার থাকবে না। স্পষ্ট বুঝতে পারছিলাম, একসময় ভিটামিনেও কোনো কাজ হবে না বলেই তারা আশঙ্কা করছে। এ বিষয়ে আমি বিস্তারিত আর কিছুই জিজ্ঞাসা করিনি। কারণ নিশ্চিত ছিলাম, তাদের কাছে বলার মতো কোনো সুসংবাদ ছিল না।
আমার এক অনিরাময়যোগ্য অসুখ হয়েছে, যেটি আমাকে কয়েক বছরের মধ্যে মেরে ফেলতে পারে বুঝতে পেরে বেশ আঘাত পেয়েছিলাম। আমার ভাগ্যে এমন ঘটনা কীভাবে ঘটল? হাসপাতালে থাকতে আমার উল্টো পাশে এক ছেলেকে লিউকেমিয়ায় মারা যেতে দেখলাম। চোখের সামনে এমন ঘটনা মোটেও সুখকর ছিল না। সত্যিই আমার চেয়েও অনেকের অবস্থা আরো খারাপ। অথচ এ অবস্থায় আমি তো অন্তত অসুস্থ বোধ করিনি। নিজের ব্যাপারে কখনো দুঃখ হলেও আমি ওই ছেলেটির কথা ভাবতাম।
আমার কী হবে বা অসুখটা কতটা দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে, তা না জেনেই আমি হাল ছেড়ে দিয়েছিলাম। তবে চিকিৎসক আমাকে ক্যামব্রিজে ফিরে গবেষণা চালিয়ে যেতে বললেন। আমি তখন কেবল সাধারণ আপেক্ষিকতা আর বিশ্বসৃষ্টিতত্ত্ব নিয়ে গবেষণা শুরু করেছি। কিন্তু এগোতে পারছিলাম না। কারণ গণিতে আমার ভিত্তি তেমন ভালো ছিল না। পাশাপাশি পিএইচডি শেষ করার জন্য আমি যথেষ্ট সময় বেঁচে থাকব কিনা সে অনিশ্চয়তার মধ্যে কাজে মনোযোগ দেয়াও কঠিন। নিজেকে কোনো বিয়োগান্তক চরিত্রের মতো মনে হচ্ছিল।
আমি ভাগনারের সংগীত শুনতে লাগলাম। তবে সে সময় আমি প্রচুর মদ্যপান করতাম বলে ম্যাগাজিনে কিছু লেখা ছাপা হয়েছিল। সেগুলো আসলে অতিরঞ্জিত। একবার একটি লেখায় কথাটি ছাপা হয়েছিল। লেখাটি বেশ ভালো হওয়ার কারণে পরেরগুলোয় সেটা থেকেই কপি করা হতে লাগল। আর কোনোকিছু ছাপার অক্ষরে বারবার দেখা গেলে একসময় সবাই সেটাকেই নিশ্চিত সত্য বলে বিশ্বাস করে বসে।
তবে আমার স্বপ্নগুলো সে সময় কিছুটা বিশৃঙ্খল হয়ে গিয়েছিল। রোগটা ধরা পড়ার আগে জীবন নিয়ে আমি খুবই বিষণ্ন ছিলাম। কোনো কিছুই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হতো না। কিন্তু হাসপাতাল থেকে ফেরার কিছুদিন পরই স্বপ্ন দেখলাম, আমার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হচ্ছে। হঠাৎ বুঝতে পারলাম, আমার শাস্তি রদ করা হলে অনেক মূল্যবান কাজ করার আছে। আরেকটি স্বপ্ন বেশ কয়েকবার দেখেছি। সেটা হলো অন্যদের বাঁচাতে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছি আমি। মোট কথা, আমাকে যদি কোনোভাবে মরতেই হয়, তাহলে ভালো কিছু করে যাওয়া দরকার।
কিন্তু আমি মরিনি। আসলে আমার ভবিষ্যৎ জীবন মেঘাচ্ছন্ন হলেও একসময় অবাক হয়ে দেখলাম, জীবনকে বেশ উপভোগ করতে শুরু করেছি আমি। সত্যিকার পরিবর্তনটা হয়েছিল জেন ওয়াইল্ড নামের এক তরুণীর সঙ্গে সম্পর্কের পর। হাসপাতালে আমার এএলএস (অ্যামিওট্রফিক লেটারাল স্ক্লেরোসিস) সংক্রান্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময়ে তার সঙ্গে প্রথম দেখা হয়েছিল। এটিই আমাকে বেঁচে থাকার অবলম্বন জুগিয়েছিল।
আমাদের বিয়ের জন্য আমার একটা চাকরি দরকার। কিন্তু চাকরির জন্য আমাকে অবশ্যই পিএইচডি শেষ করতে হবে। কাজেই জীবনে প্রথমবার আমি সত্যিকার কাজ করতে শুরু করলাম। একসময় অবাক হয়ে দেখলাম, এটা করতে আমার ভালো লাগছে। অবশ্য একে হয়তো কাজ বলাও ঠিক হবে না। কে যেন একবার বলেছিল, বিজ্ঞানী আর পতিতারা কাজের বিনিময়ে অর্থ পান, একই সঙ্গে তারা কাজটাও উপভোগ করেন।
পড়ালেখার সময় নিজের সহায়তা হবে ভেবে আমি রিচার্স ফেলোশিপ হিসেবে গনভিলে অ্যান্ড কিস কলেজে আবেদন করলাম। কলেজটি ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের লাগোয়া। ক্রমবর্ধমান দৈহিক জড়তার কারণে লেখা বা টাইপ করা আমার জন্য কষ্টকর হয়ে উঠছিল। তাই ভাবলাম, আমার আবেদনপত্রটি জেন টাইপ করে দেবে। কিন্তু সে যখন ক্যামব্রিজে আমাকে দেখতে এল, তখন তার হাতে প্লাস্টার, ওর হাতটা ভেঙে গেছে। স্বীকার করছি, সে সময় আমার যতটা সমব্যথী হওয়া উচিত ছিল, ততটা আমি হতে পারিনি। তবে আমার নির্দেশনা অনুযায়ী বাম হাত দিয়েই সে আবেদনপত্রটা লিখতে পেরেছিল। পরে সেটা টাইপ করার জন্য আরেকজনকে পেয়েও গিয়েছিলাম।
আবেদনপত্রে এমন দুজনের নাম দেয়ার দরকার ছিল, যারা আমার গবেষণা সম্পর্কে সুপারিশ করতে পারবেন। আমার সুপারভাইজর পরামর্শ দিলেন, আমি যেন হারমান বন্ডির সঙ্গে কথা বলে তার নাম দিই। বন্ডি তখন লন্ডনের কিংস কলেজে গণিতের অধ্যাপক এবং সাধারণ আপেক্ষিকতা বিষয়ে একজন বিশেষজ্ঞ। তার সঙ্গে আমার বেশ কয়েকবার দেখা হয়েছিল। আমার একটা গবেষণাপত্র প্রসিডিংস অব দ্য রয়্যাল সোসাইটি জার্নালে প্রকাশের জন্য জমা দিলেন তিনি। ক্যামব্রিজে এক বক্তৃতা দেয়ার পর আমি তাকে সুপারিশকারী হিসেবে থাকার কথা জিজ্ঞেস করলাম। তিনি আমার দিকে একবার ঘোলাটে চোখে তাকিয়ে রাজি হয়ে গেলেন। তবে ওই কলেজ থেকে তাকে যখন সুপারিশের জন্য লেখা হলো, তখন আমার কথা তার মনে ছিল না। তিনি জবাব দিয়েছিলেন, আমার কথা নাকি কখনো শোনেননি। বর্তমানে এত মানুষ কলেজে রিসার্চ ফেলোশিপের জন্য আবেদন করছে যে, কোনো সুপারিশকারী যদি একবার বলে বসেন, তিনি আবেদনকারীকে চেনেন না, তাহলে তার সুযোগ ওখানেই শেষ। কিন্তু তখন সময়টা বেশ শান্তই ছিল বলা যায়। কলেজ কর্তৃপক্ষ আমার সুপারিশকারীর তরফ থেকে বিব্রতকর জবাবের কথা আমাকে লিখে জানাল। এ কথা শুনে বন্ডির সঙ্গে আমার সুপারভাইজার দেখা করে তার স্মৃতি চাঙ্গা করতে সক্ষম হন। বন্ডি পরে আমার জন্য সুপারিশ করে যা লিখেছিলেন, আমি তার যোগ্য নই। যা-ই হোক, আমি রিসার্চ ফেলোশিপ পেয়ে গেলাম এবং তখন থেকেই কিস কলেজের আজীবন ফেলো আমি।
এ ফেলোশিপের মানে জেন আর আমি এখন বিয়ে করতে পারব। ১৯৬৫ সালের জুলাইয়ে আমরা সেটা সেরেও ফেললাম। সাফোকে এক সপ্তাহ মধুচন্দ্রিমা কাটালাম আমরা, সে সময় ওটুকুই করার সামর্থ্য ছিল আমার। পরে সাধারণ আপেক্ষিকতার এক সামার স্কুলে যোগ দিতে আমরা কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে গেলাম।
অবশ্য এ কাজটি করা ঠিক হয়নি। আমরা একটা ডরমিটরিতে ছিলাম। জায়গাটা তখন একগাদা দম্পতি আর তাদের ছোট ছোট বাচ্চাকাচ্চার ভয়াবহ হইচইয়ে ভরপুর ছিল। আমাদের নবদম্পতির জন্য এটা এক অত্যাচার বলেই মনে হয়েছিল। তবে অন্যদিক দিয়ে দেখলে, ওই সামার স্কুলটি আমার জন্য বেশ উপকারী ছিল। কারণ এ ক্ষেত্রটির নেতৃত্বস্থানীয় অনেকের সঙ্গে আমার দেখা হয়েছিল সেখানে।
আমাদের বিয়ের সময় জেন লন্ডনের ওয়েস্টফিল্ড কলেজে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট পড়ছিল। তাই ডিগ্রি সম্পন্ন করতে তাকে ক্যামব্রিজ থেকে সপ্তাহান্তে লন্ডনে যেতে হতো। অসুখের কারণে আমার মাংসপেশির দুর্বলতা বাড়তে লাগল। এর মানে হলো, হাঁটাও আমার জন্য কঠিন হয়ে উঠল। কাজেই আমাদের এমন কোনো জায়গা খুঁজে বের করতে হলো, যেখান থেকে আমি নিজেই সবকিছু করতে পারব। এ ব্যাপারে কলেজের সহায়তা চাইলাম। কোষাধ্যক্ষের মাধ্যমে জানানো হলো, কলেজের নীতি অনুযায়ী কোনো ফেলোকে বাসস্থানের জন্য সহায়তা করা হয় না। তাই মার্কেটের কাছে নির্মাণাধীন একগুচ্ছ নতুন ফ্ল্যাটের মধ্যে একটা ভাড়া নিতে আমরা নাম জমা দিলাম। জায়গাটা আমাদের জন্য বেশ সুবিধাজনক। (অনেক বছর পর আমি আবিষ্কার করলাম, ওই ফ্ল্যাটগুলোর মালিক ছিল কলেজ কর্তৃপক্ষ। কিন্তু তারা আমাদের সে কথা বলেনি।) আমেরিকায় গ্রীষ্মকাল কাটিয়ে আমরা ক্যামব্রিজে ফিরে দেখলাম, ফ্ল্যাটগুলো তখনো ব্যবহারোপযোগী হয়নি।
এদিকে বিশাল কোনো ছাড় দিচ্ছেন, এমন ভঙ্গিতে গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থীদের হোস্টেলে আমাদের জন্য একটা রুম ভাড়া দেয়ার প্রস্তাব দিলেন কলেজের সেই কোষাধ্যক্ষ। তিনি জানালেন, ‘সাধারণত এক রাতের জন্য এ রুমের ভাড়া ১২ শিলিং ৬ পেন্স। কিন্তু আপনারা যেহেতু রুমে দুজন থাকবেন, তাই আপনাদের কাছে আমরা মাত্র ২৫ শিলিং ভাড়া নেব।’ আমরা কোনোমতে তিন রাত ছিলাম সেখানে। পরে আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপার্টমেন্ট থেকে মাত্র ১০০ গজ দূরে একটা ছোট্ট বাসা পেয়ে গেলাম। ওটা আবার আরেকটি কলেজের মালিকানায়, যা তাদের এক ফেলোর জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু সম্প্রতি তিনি উপশহরে এক বাসায় চলে গেছেন। তার বরাদ্দের মেয়াদ তখনো তিন মাস বাকি ছিল। তাই আমাদের কাছে বাড়িটি তিন মাসের জন্য সাবলেট দিচ্ছেন তিনি।
এ তিন মাসে একই রাস্তায় আমরা আরেকটি খালি বাড়ি দেখতে পেলাম। এক প্রতিবেশী বাড়িটির মালিককে ডরসেট থেকে ডেকে পাঠিয়ে বললেন, তরুণরা যখন থাকার জায়গা খুঁজে পাচ্ছে না, তখন বাড়ি খালি রাখা রীতিমতো অন্যায়। কাজেই বাড়িওয়ালা ভদ্রমহিলা আমাদের কাছে বাড়িটি ভাড়া দিলেন। কয়েক বছর সেখানে থাকার পর বাড়িটি আমরা কিনে সংস্কার করতে চাইলাম। সেজন্য কলেজে একটা বন্ধকি ঋণের আবেদন করলাম। কলেজ কর্তৃপক্ষ সবকিছু দেখে কোনো ঝুঁকি না নেয়ার সিদ্ধান্ত নিল। কাজেই শেষ পর্যন্ত আমার অন্য এক জায়গা থেকে ঋণ নিতে হলো। এদিকে বাড়িটি সংস্কারের জন্য আমার মা-বাবা টাকা দিয়েছিলেন।
সে সময় কিস কলেজের পরিস্থিতিটা ছিল সিপি স্নোর উপন্যাস থেকে উঠে আসা কোনো স্মৃতিচিহ্নের মতো। তথাকথিত কৃষক বিদ্রোহের পর থেকে সেখানে ফেলোশিপদের মধ্যে একটা তিক্ত বিভাজন চলছিল। তাতে অনেক জুনিয়র ফেলো একত্র হয়ে সিনিয়রদের অফিস থেকে হটাতে ভোট দিয়েছিল। সেখানে দুটি শিবিরে বিভক্ত ছিল: একদিকে পরিচালক আর কোষাধ্যক্ষের দল, আর অন্যদিকে প্রগতিশীল দল। প্রগতিশীল দল একাডেমিক লক্ষ্য পূরণে কলেজের বিপুল সম্পদ থেকে অর্থ বরাদ্দ বাড়ানোর পক্ষে ছিল। প্রগতিশীল দলটি কলেজ কাউন্সিলের এক মিটিং থেকে সুবিধা নিতে পেরেছিল। সেই মিটিংয়ে আমাকেসহ ছয়জন রিসার্চ ফেলো নির্বাচনের সময় পরিচালক আর কোষাধ্যক্ষ অনুপস্থিত ছিলেন।
আমার প্রথম কলেজ মিটিংয়ে কলেজ কাউন্সিলের নির্বাচন চলছিল। অন্য নতুন ফেলোদের আগেই বলা হয়েছিল, কাকে ভোট দিতে হবে। কিন্তু এ ব্যাপারে আমি পুরোপুরি নির্দোষ ছিলাম। তাই আমি দুই দলের প্রার্থীকেই ভোট দিয়েছিলাম। সেবার কলেজ কাউন্সিলে প্রগতিশীল দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছিল এবং পরিচালক স্যার নেভিল মট (যিনি পরে ঘনীভূত বস্তুর পদার্থবিজ্ঞানের জন্য নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন) রেগে পদত্যাগ করেন। তবে পরের পরিচালক জোসেফ নিদহেম (চীনে বিজ্ঞানের ইতিহাস নিয়ে বেশ কয়েক ভলিউম বইয়ের লেখক) সেই ক্ষত সারিয়ে তোলেন। তার পর থেকে কলেজটি তুলনামূলকভাবে শান্তিপূর্ণ ছিল।
বিয়ের প্রায় দুই বছর পর আমাদের প্রথম সন্তান রবার্টের জন্ম। তার জন্মের কিছুদিন পর তাকে সিয়াটলে এক বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে নিয়ে গিয়েছিলাম আমরা। এটা ছিল আমাদের আরেকটা ভুল। আমার ক্রমবর্ধমান দৈহিক অক্ষমতার কারণে বাচ্চাটিকে আমি প্রায় কোনো সাহায্য করতে পারতাম না। জেনকে একাই বাচ্চাটি সামলাতে হচ্ছিল এবং তাতে সে খুব ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল। সিয়াটলের পর যুক্তরাষ্ট্রের আরো অনেক জায়গায় ভ্রমণের কারণে তার ক্লান্তি জটিল এক আকার ধারণ করেছিল। রবার্ট এখন তার স্ত্রী কার্টিনা ও তাদের সন্তান জর্জ ও রোজকে নিয়ে সিয়াটলেই থাকে। তাতে বেশ বোঝা যায়, সে সময়ের সে অভিজ্ঞতা তাকে ক্ষতবিক্ষত করতে পারেনি।
প্রায় তিন বছর পর ম্যাটার্নিটি হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহূত এক পুরনো ওয়ার্কহাউজে আমাদের দ্বিতীয় সন্তান লুসির জন্ম হয়। লুসি গর্ভে আসার পর আমাদের বাড়ির সংস্কারকাজ চলছিল। তাই সে সময় শুকনো খড়ে ছাওয়া এক বন্ধুর কটেজে উঠেছিলাম আমরা। তার জন্মের মাত্র কয়েক দিন আগে নিজেদের বাড়িতে ফিরে এসেছিলাম আমরা।





