এক বিশেষ সাক্ষাত্কারে চিলির ঔপন্যাসিক ইসাবেল আয়েন্দে পরলোকগত লেখক গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেসের স্মৃতিচারণ করছেন। মার্কেস কীভাবে লাতিন আমেরিকা ও সারা বিশ্বের প্রজন্মান্তরের চিন্তাবিদ ও লেখকদের প্রভাবিত করে আসছেন, সেই আলোচনা করেছেন তিনি। ‘তিনি সেরাদের সেরা’ বলছেন আয়েন্দে। ‘এক অর্থে পাঠক ও দুনিয়াকে তিনি জয় করে নিয়েছেন এবং আমাদের কথা, লাতিন আমেরিকার কথা জানিয়েছেন বিশ্বকে। বলেছেন আমরা কারা। তার লেখা পাতাগুলোয় এক অর্থে আয়নায় আমরা নিজেদেরই দেখি।’ প্রথম ওয়ান হান্ড্রেড ইয়ার্স অব সলিচ্যুড পাঠ এবং সেটা কীভাবে তাকে প্রভাবিত করেছিল, তা বলেছেন আয়েন্দে— ‘কেউ যেন আমাকে আমার নিজের গল্পই বলছিল।’ আয়েন্দের সাক্ষাত্কারটি নিয়েছেন এমি গোল্ডম্যান ও হুয়ান গনসালেস।
এমি গোল্ডম্যান: আমরা আপনাকে কেবল লাতিন আমেরিকার সাহিত্যকেই নয়—
ইসাবেল আয়েন্দে: সারা দুনিয়া।
এমি গোল্ডম্যান: বরং গোটা দুনিয়ার সাহিত্যে বিপুল প্রভাব সৃষ্টিকারী একজন মানুষ সম্পর্কে আলোচনা করতে আমাদের কাছে পেয়ে সম্মান বোধ করছি। গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস নিয়ে কিছু বলুন, ইসাবেল।
ইসাবেল আয়েন্দে: তাকে নিয়ে বলা কঠিন। ব্যাপারটা খুবই আবেগময়। তিনি সেরাদের সেরা। মারিও বার্গাস ইয়োসা নামে এক অচেনা লেখকের একটি উপন্যাস দিয়ে শতাব্দীর মাঝামাঝি দুনিয়াকে আঘাত হানা লাতিন আমেরিকার সাহিত্যিক বিস্ফোরণের শুরু হয়েছিল। তখনই দুনিয়া খেয়াল করে যে আমাদেরও মহান লেখক আছে। বহু কণ্ঠস্বরের কাজ ছিল সেটা। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে কণ্ঠটি, যে কণ্ঠটি সত্যিকার অর্থেই আন্দোলনের স্তম্ভ ছিল, তিনি হলেন ওয়ান হান্ড্রেড ইয়ার্স অব সলিচ্যুড নিয়ে গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস। এর পর থেকে তার লেখা প্রতিটি উপন্যাস কেবল সমালোচকদের কাছে প্রশংসিত এবং অনূদিতই হয়নি, অগুনতি পুরস্কার পেয়েছে এবং সেগুলো জনপ্রিয়ও ছিল। ডিকেন্স বা বালজাক পড়ার মতো ছিল ব্যাপারটা। রাস্তার লোকজন গার্সিয়া মার্কেস পড়েছে। তাঁর লেখা প্রতিটি বই-ই জননন্দিত হয়েছে। তো, এক অর্থে পাঠক ও বিশ্বকে জয় করে নিয়েছেন তিনি এবং দুনিয়াকে আমাদের কথা, লাতিন আমেরিকার কথা জানিয়েছেন এবং আমাদের বলেছেন আমরা কারা। তার লেখা পাতাগুলোয় এক অর্থে আয়নায় আমরা নিজেদেরই দেখি।
এমি গোল্ডম্যান: প্রথম কবে ওয়ান হান্ড্রেড ইয়ার্স অব সলিচ্যুড পড়েছিলেন মনে আছে কি?
ইসাবেল আয়েন্দে: হ্যাঁ। উপন্যাসটি বেরোয় ১৯৬৭ সালে। আমি সেটা পড়ি এক বছর বাদে। আমার ছেলে নিকোলাসের জন্ম ১৯৬৬ সালে। কাজে ফিরে গিয়েছিলাম আমি। একটা মেয়েদের ম্যাগাজিনে কাজ করতাম। মনে আছে বইটি পড়তে শুরু করার পর আর কাজে যাইনি। শেষ না করা পর্যন্ত বইটি নিয়ে স্রেফ বসেছিলাম। এ যেন কেউ আমাকে আমার নিজের গল্পই বলছিল। আমার দাদি ছিল সেটা। আমিও তার মতো দাদা-দাদির বাড়িতে বড় হয়েছি।
কুলোতে পারবেন না বলে দুই কিস্তিতে পাণ্ডুলিপি পাঠানো সম্পর্কে এইমাত্র যে কাহিনী শুনলাম, অনেক বছর পরে দ্য হাউস অভ স্পিরিটের বেলায়ও একই ঘটনা ঘটেছিল। ভেনিজুয়েলায় ছিলাম, গোটা পাণ্ডুলিপি পাঠানোর মতো টাকা ছিল না, দুই কিস্তিতে গিয়েছিল সেটা। সুতরাং, বহু মিল রয়ে গেছে। একই এজেন্ট ছিল আমাদের— কার্মেন বালসেলস, প্রায়ই সে বলত আমি নাকি তার মতোই প্রতিক্রিয়া দেখাই। যেমন, কোনো একটা চুক্তি হাতে পাওয়ার পর আমরা বিষয়বস্তু না পড়েই সই দিয়ে দিতাম। এবং বিশেষ কোনো কারণ ছাড়াই সহসা সেটা পড়ে বলতাম, ‘নাহ, আমি এটাতে সই দিচ্ছি না।’ তো, এসব ব্যাপার জানা আছে আপনার—
এমি গোল্ডম্যান: স্পেনে ছিলেন তিনি?’
ইসাবেল আয়েন্দে: ছিলেন। যে ধরনের যুদ্ধে আপনি পুরোপুরি তার কথা, তার কাজ, তার ব্যক্তিত্বের সঙ্গে একাত্ম বোধ করেন। কঠিন মানুষ ছিলেন তিনি, তবে দারুণ সৃজনশীল, সাড়া দেয়ার বেলায় ক্ষিপ্র ছিলেন। এক বিস্ময়কর মানুষ ছিলেন।
হুয়ান গনসালেস: কিন্তু কোন জিনিসটা ওয়ান হান্ড্রেড ইয়ার্স অব সলিচ্যুডকে কেবল লাতিন আমেরিকা নয় বরং সারা বিশ্বে এমন শক্তিশালী বইতে পরিণত করেছে? মানে, এই যে বইটি, মূলত কলম্বিয়ার বিস্মৃত সীমান্ত অঞ্চলের একটা পরিবারের কয়েক প্রজন্মের কাহিনী, একটি ছোট গ্রাম—
ইসাবেল আয়েন্দে: একটি কাল্পনিক জায়গা।
হুয়ান গনসালেস: কাল্পনিক, ঠিক। কিন্তু এই বইয়ের কোন জিনিসটা একে এমন গুরুত্বপূর্ণ ও যুগান্তকারী কাজে পরিণত করেছে?
ইসাবেল আয়েন্দে: আমার ধারণা জাদুবাস্তবতার বেলায় যেটা ঘটেছে এবং সারা দুনিয়ার মানুষের এর সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ার কারণ জগত্ ও জীবন দারুণ রহস্যময়। আমরা কিছুই নিয়ন্ত্রণ করি না। আমাদের কাছে সবকিছুর ব্যাখ্যা নেই। নিরাপদ বোধ করি বলে আমরা একটা নিয়ন্ত্রিত দুনিয়ায় থাকার চেষ্টা করি। এই বইতে এবং পরের বইগুলোতেও সারাক্ষণই আমাদের ঘিরে রাখা অবিশ্বাস্যের এই বিস্ফোরণ রয়েছে। এবং আমরা যেকোনো কিছুই নিয়ন্ত্রণ করি না, কোনো ব্যাখ্যা নেই, একটা কিছুর আস্তিত্ব আছে— আত্মা আছে— তারই স্বীকারোক্তি। কাকতাল, ভাববাদী স্বপ্ন, আমরা ব্যাখ্যা জোগাতে পারি না বলে জাদুময় সব ঘটনা রয়েছে। আমার ধারণা কয়েকশ বছর আগে বিদ্যুত্ শক্তির মতো যেকোনো ঘটনাকেই জাদুময় ভাবা হতো। হয়তো টু হান্ড্রেড ইয়ার্স অব সলিচ্যুডে এখন আমাদের চোখে জাদুময় ব্যাপারগুলো ব্যাখ্যা করতে পারব।
এমি গোল্ডম্যান: ১৯৯৮ সালের প্রামাণ্যচিত্র গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস: আ উইচ রাইটিং লিটারেচার থেকে নেয়া এক ক্লিপে কিশোর বেলায় তার জীবনে যেসব নারী ভূমিকা রেখেছেন, তাদের কথা বলেছেন গার্সিয়া মার্কেস।
গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস: মেয়ে ভর্তি একটি বাড়িতে আমরা ছেলে ছিলাম মাত্র দুজন। আমার দাদির শাসনে থাকা মেয়েরা একটা অলৌকিক বিশ্বে, একটা কাল্পনিক বিশ্বে বাস করত বলে আমার জীবন ছিল অদ্ভুত ধরনের। যেখানে সবই সম্ভব ছিল। দৈনন্দিন জীবনের অংশগুলোই ছিল সবচেয়ে অবিশ্বাস্য। আমি ওই রকম চিন্তাধারায় অভ্যস্ত হয়ে গেছি। কিন্তু আমার দাদা ছিলেন আমার দেখা সবচেয়ে ভূমি সংলগ্ন মানুষ। আমাকে গৃহযুদ্ধ ও রাজনৈতিক কূটকৌশলের কথা বলতেন তিনি। আমার সঙ্গে বড় মানুষের মতো কথা বলতেন। তো দুটো দুনিয়ায় ভাগ হয়ে গিয়েছিলাম আমি— দাদার দুনিয়া, আমাকে প্রচুর সময় দিতেন বলে তার সঙ্গে দিন কাটাতাম আর দাদার দুনিয়ার সমান্তরাল মেয়েদের যে দুনিয়ায় রাতে একলা থাকতাম।
এমি গোল্ডম্যান: ছোটবেলায় এবং লেখক হিসেবে বেড়া ওঠার সময় তার ওপর দাদির প্রভাবের কথা বিস্তারিত বলেছেন গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস। এটা স্পেনীয় ব্রডকাস্টার আরটিভিইতে দেয়া একটা সাক্ষাত্কারের অংশ।
গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস: আমার কাছে দাদি মায়ের মতো ছিল। দারুণ কুসংস্কারাচ্ছন্ন মানুষ। আমার সবসময় মনে হতো দাদির বোধ হয় বিশেষ কোনো অতিপ্রাকৃত শক্তির সঙ্গে যোগাযোগ আছে, কারণ ছোটবেলায় তাকে বারবার সবকিছু জেনে ফেলার, আগাম আঁচ করার এবং ফলে যাওয়া ভবিষ্যদ্বাণী করতে দেখে অবাক মানতাম। ভীরু স্বভাবের ছিল সে। বার্ধক্যে পৌঁছেই মারা গিয়েছে এবং বেশ বিকারগ্রস্ত তো বটেই। আর যে জিনিসটির কথা মনে করতে পারি, সেটা হলো এক অসাধারণ অপ্রচলিত মনোমুগ্ধকর ছবি ফুটিয়ে তোলা স্প্যানিশে কথা বলত সে। লেখক হিসেবে আমার সূচনা বিন্দু ছিল এটা। আমি এখন তার সব বুলি, ধুয়া, শব্দ নিয়ে গবেষণা করেছি। এখন সচেতনভাবেই সেগুলো জানি। তবে কথাবার্তায় এসে এই ভাষাই ব্যবহার করত বলে এমনভাবে ওইসব বুলি ও বিন্যাসের সঙ্গে বেড়ে উঠেছিলাম যেন লোকজনের সাধারণ ভাষা ওটাই। ওই ভাষাতেই আমার বইগুলো লিখেছি।
এমি গোল্ডম্যান: জাদুবাস্তবতা কথাটি কীভাবে এল? লেখক হিসেবে আপনার এবং বিশ্বময় সাধারণ মানুষের ওপর এর প্রভাব?
ইসাবেল আয়েন্দে: বেশ, আমি যেটা বুঝি এটা— প্রথমত, গার্সিয়া মার্কেস এটা আবিষ্কার করেননি। তিনি সেরা ছিলেন— এমন অসাধারণ কায়দায় তুলে ধরতে পেরেছিলেন যে সব জায়গায় গৃহীত হয়েছে। কিন্তু অনেক আগেই শুরু হয়েছিল এটা। আমি বলব লতিন আমেরিকায় আসা কনকুইজিটরদের সঙ্গেই জাদুবাস্তবতার শুরু। রাজা কিংবা স্পেনে লেখা চিঠিতে তারা তারুণ্যের ফোয়ারাঅলা এক মহাদেশের কথা লিখেছে, যেখানে জমিন থেকে সোনা বা হীরে কুড়োনো যায়, লোকের কাছে ইউনিকর্ন আছে কিংবা তাদের একটা পা এত বড় যে সিয়েস্তার সময় ছায়ার জন্য প্যারাসলের মতো মাথার উপরে তুলে দেয়। মানে— আমি এসব বানিয়ে বলছি না। কনকুইজিটরদের চিঠিপত্রেই আছে এসব। তো লাতিন আমেরিকা ও স্পেনের একসঙ্গে জাদুময় সূচনার মুহূর্তেই এ বাস্তবতার সৃষ্টি হয়েছিল। এবং একজন মহান কিউবান লেখক সবার আগে এ দুটি শব্দকে জুড়েছেন। তার পর গার্সিয়া মার্কেস একে জনপ্রিয় করে তুলেছেন। তবে এটা— জার্মানিতে এর শুরু হয়েছিল বলা হয়ে থাকে, জাদুবাস্তবতাকে একসঙ্গে জুড়ে ছিলেন যে মানুষটি, তিনি জার্মানিতে ছিলেন।

হুয়ান গনসালেস: বেশ, ইসাবেল, কেবল নিজ পরিবারে বেড়ে ওঠাই নয়, বরং কুখ্যাত লা ভায়োলেন্সিয়ার আমল থেকে শুরু করে, যখন গৃহযুদ্ধে তিন লাখের বেশি মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল, পরবর্তীতে কলোম্বিয়ার মাদক যুদ্ধ, কলম্বীয় সমাজের ব্যাপক স্থানচ্যুতি পর্যন্ত তার বেড়ে ওঠার কলম্বিয়ার রাজনৈতিক পরিবেশের নিঃসন্দেহে তার জীবনে অন্যতম বিশাল প্রভাব ছিল। তার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং বিকাশের পাশাপাশি কীভাবে সাহিত্যে সেটা তুলে ধরেছেন বলুন।
ইসাবেল আয়েন্দে: বরাবরই বামপন্থী ছিলেন তিনি। কিউবার বিপ্লবের সময় বেশ গোড়ার দিকেই ফিদেল কাস্ত্রোর সঙ্গে তার বন্ধুত্ব হয়। ওখানে বেশ সম্মান করা হতো তাকে, ওখানে থেকেছেন, বেশ কয়েকবার বেড়াতেও গেছেন। হাভানায় তৈরি করেছেন ফিল্ম ইনস্টিটিউট। এবং তার দৃষ্টিভঙ্গি, বামপন্থী দৃষ্টিভঙ্গি কলম্বিয়ায় প্রচুর ঝামেলায় ফেলেছে তাকে। প্রাণের হুমকির কারণে মাঝখানে কিছু সময় কলম্বিয়ায় থাকতে পারেননি। মেক্সিকোয় ছিলেন। আরো বহু জায়গায় ছিলেন। এবং আসলে মেক্সিকোতেই মারা গেছেন। তো, তিনি একা নন, কারণ আমাদের সময়ের বহু লেখকই নির্বাসনে জীবন কাটিয়েছেন, নির্বাসিত থেকেই লেখালেখি করেছেন। নিজ দেশে থাকা অনিরাপদ হওয়ায় ইউরোপ এবং অন্যান্য জায়গায় থেকেছেন। চিলিতেও একই ঘটনা ঘটেছে। সামরিক অভ্যুত্থানের পর চিলির লেখকদের একটা জোয়ার বিদায় নিয়েছেন এবং নির্বাসিত অবস্থায় লিখেছেন।
এমি গোল্ডম্যান: আমি আবার প্রামাণ্যচিত্র গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস: আ উইচ রাইটিং লিটারেচার থেকে নেয়া এই ক্লিপে ফিরে যেতে চাই, যেখানে আমরা নির্বাসন নিয়ে কথা বলার সময় প্যারিসে নিজের অবস্থানের সময়ের কথা বলেছেন তিনি— পঞ্চাশের দশকের কথা সেটা, কলম্বিয়া থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন তিনি— এবং দেশে স্বৈরাচারের মুখে পড়ে লাতিন আমেরিকার তার কয়জন সতীর্থ লেখক প্যারিসে ছিলেন।
গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস: প্যারিসে লাতিন আমেরিকায় পাওয়া দৃষ্টিভঙ্গি আমার পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ছিল, কারণ লাতিন আমেরিকায় আমি স্রেফ একজন কলম্বীয়, ক্যারিবীয় ছিলাম এবং আমি গভীরভাবে ক্যারিবীয়, কিন্তু প্যারিসে নিজের সংস্কৃতি এবং ক্যারিবীয় সংস্কৃতি খাপ খেয়ে যায়, এমন আরো সাধারণ সংস্কৃতি সম্পর্কে সচেতন ক্যারিবীয়তে পরিণত হয়েছিলাম আমি। নিয়মিতভাবে আর্জেন্টীয়, মধ্য আমেরিকা থেকে আসা লোকজন, মেক্সিকান, বিভিন্ন দেশ থেকে আসা ক্যারিবীয়দের সঙ্গে আমার দেখা হতো।
স্বৈরাচারীদের আমল ছিল এটা। কলম্বিয়ায় ছিল রোজাস পিনিল্লা, ভেনিজুয়েলায় পেরেস জিমিনেস, পেরুতে ওদ্রিয়া, সান্তো দোমিঙ্গোতে ত্রুজিল্লো। আর্জেন্টিয়ায় পেরোন। বলতে গেলে সব জায়গায়ই ছিল স্বৈরাচারী। কিউবায় ছিল বাতিস্তা।
ঠিক লাতিন মহল্লায় কুজাস স্ট্রিটের একটা পেনশনে থাকতাম আমি। আমার উল্টোদিকে একটা পেনশনে থাকতেন কবি নিকোলাস গিলিয়েন। তার ওখানে যাওয়া আমাদের কাছে তীর্থযাত্রার মতো ছিল। আমাদের সবাই তার মুখে তার দেশের খবর শুনতে চাইতাম। একদিন যথারীতি খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে জানালা দিয়ে সামনে ঝুঁকে চিত্কার করে বলে উঠেছিলেন, ‘পতন হয়েছে তার?’ সবাই ধরে নিয়েছিল দেশের স্বৈরাচারের কথা বলেছেন তিনি।
এমি গোল্ডম্যান: ইসাবেল আয়েন্দে, আপনি এই প্রসঙ্গেই কথা বলছিলেন, সেই সঙ্গে কি তাকে প্রভাবিত করেছিল তাও: আপনার স্বদেশ, আপনার চাচাতো ভাই, পিনোশের হাতে ক্ষমতাচ্যুত অন্য এক ১১ সেপ্টেম্বরে, ১১ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৩-এ প্রাসাদে নিহত চিলির প্রেসিডেন্ট সালভাদোর আয়েন্দে।
ইসাবেল আয়েন্দে: হ্যাঁ, গার্সিয়া মার্কেস এ নিয়ে লিখেছিলেন। স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে দারুণ সক্রিয় ছিলেন তিনি। ওই সময় চিলি যেন পৃথিবীর সবচেয়ে দৃশ্যমান সামরিক অভ্যুত্থান ও স্বৈরাচারের দেশ ছিল। চিলির দিকে সারা দুনিয়া প্রচুর মনোযোগ দিয়েছে। কিন্তু গোটা লাতিন আমেরিকায় স্বৈরাচাররা ছিল। অচিরেই আর্জেন্টিনায় নোংরা লড়াই শুরু হয়েছিল। তার পর উরুগুয়ায়। উরুগুয়ার পরিস্থিতি ছিল ভয়াবহ। ব্রাজিলে, বহু জায়গায়, যাওয়ার মতো কোনো জায়গা ছিল না। অগুনতি মানুষ নিজ দেশ ছেড়ে অন্য কোথাও আশ্রয়ের খোঁজ করছিল। তার পর সেখানেও স্বৈরাচার দেখা দিয়েছে। আর্জেন্টিনায় যাওয়া বহু চিলিবাসীর কপালে ঘটেছে এমন, ওখানেই মারা গেছে তারা। তো, গার্সিয়া মার্কেস যেহেতু এসব জানতেন, নিজের দেশে তরুণ বয়সে এই অবস্থায় ছিলেন, এবং নিপীড়ক সরকারের কবল থেকে পালাতে প্যারিসে বাস করছিলেন, এ নিয়ে লিখেছিলেন তিনি এবং তার দ্য অটাম অব দ্য প্যাট্রিয়ার্ক-এ লাতিন আমেরিকার এক মহান উপমায় স্বৈরাচারী, সরকারের আতঙ্ক, অজ্ঞতা, নিপীড়ন এবং শোষণ ও হত্যার সারমর্ম টেনেছেন। আমার মনে হয় বইটা ওইসব স্বৈরাচারীর প্রতিনিধিত্ব করে।
হুয়ান গনসালেস: বেশ, আমি বলতে চেয়েছিলাম যে, ইসাবেলা আয়েন্দে যেমন বলেছিলেন, গার্সিয়া মার্কেস তার লেখার ভেতর দিয়ে এখনো আমাদের সঙ্গে আছেন। বহু বছর ধরে আমরা যারা তার বই পড়েছি, তাদের সবারই নিজস্ব পছন্দের এবং তাড়া করা বিভিন্ন অনুচ্ছেদ রয়েছে। আমাদের সঙ্গে বছরের পর পর বছর রয়ে গেছে সেগুলো। আমি দ্য জেনারেল ইন হিজ ল্যাবিরিন্থ থেকে পড়তে চাই।
ইসাবেল আয়েন্দে: ওটা সিমন বলিভারকে নিয়ে লেখা।
হুয়ান গনসালেস: ঠিক। মহান মুক্তিদাতা সিমন বলিভারের শেষ দিনগুলো। এবং বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, এখানে মুক্তির যুদ্ধে জীবন ব্যয় করা লাতিন আমেরিকাজুড়ে পরিচিত এক ব্যক্তিত্ব বলিভারকে তার শেষ দিনগুলোয় পাচ্ছেন আপনি এবং মার্কেসের একটা অনুচ্ছেদ রয়েছে, যেখানে সাহিত্য নিয়ে বলিভারের মনোভাব সম্পর্কে বলছেন তিনি এবং যেখানে বই পড়ে শোনাতে তার সচিব রয়েছে। এবং বলিভার এখানে মৃত্যুপথযাগ্রী এবং মার্কেস লিখছেন:
‘এটাই তার সবটুকু পড়া শেষ বই ছিল। লড়াই এবং ভালোবাসার পর বিরতির সময়গুলোয় গোগ্রাসে গেলার মতো পাঠক ছিলেন তিনি, তবে কোনো রকম শৃঙ্খলা বা কৌশলহীন পাঠক। যেকোনো সময় পড়তেন তিনি, যতটুকু আলো মিলত, অনেক সময় গাছের নিচে পায়চারী করে, কখনো বা বিষুব মণ্ডলীর সূর্যের নিচে ঘোড়ার পিঠে সওয়ার হয়ে, অনেক সময় নুড়ি বিছানো পথে হেলেদুলে চলা ম্লান আলোকিত কোচে, অনেক সময় চিঠি শ্রুতলিপি দেয়ার সময় হ্যামকে দোল খেয়ে। লিমার এক বই বিক্রেতা একটা সাধারণ ক্যাটালগ থেকে তার বাছাই করা গ্রিক দার্শনিক থেকে শুরু করে মায় রসায়নের ওপর লেখা নিবন্ধের প্রাচুর্য ও বৈচিত্র্যে হতবাক হয়ে গিয়েছিল। ছোটবেলায় শিক্ষক সিমন রদরিগুয়েসের প্রভাবে রোমান্টিক উপন্যাস পড়তেন তিনি। যেন নিজের আদর্শবাদী, প্রবল মেজাজ এবং নিজের সম্পর্কেই পড়ছেন এমনভাবে সেসব পড়া চালিয়ে গেছেন তিনি। নিবিড় পাঠ ছিল সেসব, বাকি জীবনের জন্য তাকে চিহ্নিত করে দিয়েছিল। শেষে হাতের কাছে যা পেয়েছেন, তাই পড়েছেন। বিশেষ কোনো প্রিয় লেখক ছিল না তার, বরং বিভিন্ন সময়ে প্রিয় অসংখ্য লেখক ছিল। যেসব বাড়িতে তিনি থেকেছেন, সেখানকার বইয়ের আলমিরাগুলো সবসময় ঠাসাঠাসি থাকত, শোয়ার ঘর ও হলঘরগুলো খাড়া বইয়ের ঢিবি এবং পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সময় ফুলে ফেঁপে ওঠা এবং মহাফেজখানার শান্তির খোঁজে নির্দয়ভাবে তাড়া করা দলিল-দস্তাবেজের পাহাড়ে সংকীর্ণ হয়ে যেত। নিজের সব বই কখনই পড়ে উঠতে পারেননি তিনি। ভিন্ন কোনো শহরে যাওয়ার সময় সেগুলো বন্ধুদের হাওলা করে দিতেন, যদিও সেসবের কথা পরে আর কখনো জানতে পারেননি। এবং তার যুদ্ধের জীবন বলিভিয়া থেকে ভেনিজুয়েলা পর্যন্ত ৪০০ মাইলের বেশি এলাকাজুড়ে বইয়ের চিহ্ন রেখে আসতে বাধ্য করেছে।
এমনকি চোখজোড়া নষ্ট হতে শুরু করার সময়ও তার সচিব তাকে পড়ে শোনাত, তার পর চশমার বিরক্তির কারণে অন্যভাবে আর পড়েননি। কিন্তু একই সঙ্গে পড়ার বিষয়ে আগ্রহ কমে আসছিল এবং এর জন্য সবসময় নিয়ন্ত্রণের অতীত কারণকেই দায়ী করেছেন তিনি।
‘আসলে ভালো বইয়ের সংখ্যা ক্রমেই কমে আসছে,’ বলবেন তিনি।
এমি গোল্ডম্যান: কোত্থেকে পড়া ওটা?
হুয়ান গনসালেস: দ্য জেনারেল ইন হিজ ল্যাবিরিন্থ থেকে। আমার কাছে জীবনভর লড়াই করা কিন্তু সবসময় বিরাট বইয়ের দঙ্গল নিয়ে চলা এবং কোনোভাবে হাতের কাছে যা পাচ্ছেন, তাই পড়ার চেষ্টা করা এক যোদ্ধার ইমেজ, ধ্রুপদী গার্সিয়া মার্কেস।
এমা গোল্ডম্যান: আমি গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেসের নিজস্ব বক্তব্যে ফিরে যেতে চাই, হুয়ান যেমন পড়ল এবং সেই সঙ্গে তার বই থেকেও। এখানে সাংবাদিক হিসেবে নিজের কথা বলছেন তিনি, এটা আমাকে তোমার কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে, ইসাবেল। পঞ্চাশের দশকের গোড়ার দিকে সাংবাদিক হিসেবে শুরু করেছিলেন তিনি, উপন্যাসিক হিসেবে পেশা কাটানোর সময় বারবার সাময়িকভাবে ফিরে গেছেন। এটা কিংবদন্তি লেখক পাবলো নেরুদাকে দেয়া ১৯৭১ সালের সাক্ষাত্কারের একটা অংশ।
গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস: সবার আগে সাংবাদিক হতে সাংবাদিকতায় ফিরে যেতে চাই, কারণ আমার ধারণা সাহিত্যে সামনে এগোতে গিয়ে বাস্তবতার কিছুটা ছোঁয়া খোয়াতে হয়। অন্যদিকে সাংবাদিকের কাজে প্রতিটি দিন নিকট বাস্তবতার কাছাকাছি থাকার সুবিধা রয়েছে।
এমি গোল্ডম্যান: ১৯৯৮ সালের প্রামাণ্যচিত্র গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস: আ উইচ রাইটিং লিটারেচার থেকে নেয়া এই ক্লিপে গার্সিয়া মার্কেস তার সাংবাদিক হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন।
গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস: আমি সাংবাদিকতা বেছে নিয়েছিলাম তার কারণ আমার চোখে সাহিত্যের চেয়ে বাস্তব বিষয় নিয়ে কথা বলতে পারাই বেশি কৌতূহলোদ্দীপক। এদিক থেকে সাংবাদিকতাকে, বিশেষ করে রিপোর্টাজকে অবশ্যই সাহিত্যের একটা ঘরানা হিসেবে দেখতে হবে। আমি সবসময়ই এর পক্ষে ছিলাম, কারণ এমনকি সাংবাদিকরাও রিপোর্টাজকে সাহিত্যিক ঘরানা বলে মানতে অস্বীকার করেন। আসলে একে তার খাটো করে দেখেন। আমার কাছে রিপোর্টাজ পুরোপুরি বাস্তবে প্রোথিত একটি ছোটগল্প। যদিও ছোটগল্পও বাস্তবতা থেকেই অনুপ্রাণিত হয়ে থাকে, তেমনি উপন্যাসও। কোনো উপন্যাসই এ পর্যন্ত বানানো হয়নি। সবসময়ই তা অভিজ্ঞতাভিত্তিক। আমার সাংবাদিকতায় আসার ধরনটা এই প্রক্রিয়ারই অংশ বলে বুঝতে পেরেছি। আমার সাহিত্যিক সংস্কৃতি পাওয়ার বেলায় নয়, তবে আমার সত্যিকার পেশা নির্মাণে স্রেফ ভিন্ন একটা পর্যায় এটা: গল্প বলা।
এমি গোল্ডম্যান: ইসাবেল আয়েন্দে, সাংবাদিকতা ও উপন্যাস সম্পর্কে মতামত রাখা গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস সম্পর্কে আপনার মত? আপনিও সাংবাদিক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন এবং—
ইসাবেল আয়েন্দে: বহু লাতিন আমেরিকান উপন্যাসিকই সাংবাদিক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছেন। এমনকি উপন্যাসিক হওয়ার পরেও সাংবাদিক হিসেবে কাজ করে গেছেন। আমার মনে হয় সাংবাদিকতা হাজারো ধারণা জোগায়। বাস্তবতার কাছাকাছি রাখে আপনাকে। মানুষের কথা শুনে তাদের কাছাকাছি থাকতে পারেন আপনি। আমার বেলায় সাংবাদিক হিসেবেই শুরু করেছিলাম আমি, কিন্তু জঘন্য সাংবাদিক ছিলাম, কখনই সত্যি আঁকড়ে থাকতে পারিনি, কিংবা বস্তুনিষ্ঠ হতে পারিনি।
হুয়ান গনসালেস: বেশির ভাগ সাংবাদিকই সেটা পারে না।
ইসাবেল আয়েন্দে: হ্যাঁ, আমি কখনই বস্তুনিষ্ঠ থাকতে পারিনি। আমি নিশ্চিত তিনিও, মানে গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেসও থাকতে পারেননি।
এমি গোল্ডম্যান: কিন্তু আমাদের প্রথম চালানো ক্লিপটার কথা আপনি জানেন, যেখানে পাবলো নেরুদার সঙ্গে রয়েছেন তিনি এবং যেসব তরুণ দেখছে, শুনছে বা আগামী দিনে পড়বে এবং যারা পাবলো নেরুদা কে ছিলেন বা তার গুরুত্বটুকু কি জানে না, তাদের জন্য, তবে মৃত্যুর অল্প কদিন আগে পাবলো নেরুদার সঙ্গে আপনার সাক্ষাত্কারও সাংবাদিকতা নিয়ে কথা বলেছেন?
ইসাবেল আয়েন্দে: বেশ, পাবলো নেরুদা কবিতায় নোবেল পুরস্কার পাওয়া আমাদের দ্বিতীয় কবি। প্রথম জন গাব্রিয়েলা মিস্ত্রেল। সারা দুনিয়াই তাকে চিনত। সারা দুনিয়ায় তার কবিতা অনূদিত হয়েছে। নোবেল পুরস্কার জিতে নিয়েছিলেন তিনি। যখন অসুস্থ হয়ে পড়লেন, চিলির ইসা নায়াগ্রায় ফিরে গেছেন, কারণ ইসা নায়াগ্রায় নিজের বাড়িতে মরণ ও কবর হোক চেয়েছিলেন তিনি। এখন সেখানেই তার সমাধি। একটা পাথর আছে ওখানে, ওই পাথরের নিচে তিনি ও তার স্ত্রী সমাহিত আছেন।
১৯৭৩ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের অল্প আগে ইসা নায়াগ্রায় তার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম। তার পক্ষে চমত্কার দিন ছিল সেটা। একটা পঞ্চো গায়ে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন। একসঙ্গে লাঞ্চ করেছি আমরা আর দারুণ করভিনা: এক ধরনের চিলিয় মাছ আর হোয়াইট ওয়াইন। তার পর আমি বলেছিলাম, ‘এবার কি সাক্ষাত্কারটা নিতে পারি, দোন পাবলো, দেরি হয়ে যাচ্ছে, আমাকে সান্তিয়াগো ফিরতে হবে?’ তিনি বলেছিলেন, ‘কিসের সাক্ষাত্কার?’ ‘ইয়ে, আমি আপনার সাক্ষাত্কার নিতেই তো এসেছি।’ তিনি বললেন, ‘প্রশ্নই ওঠে না। আমি কখনই তোমাকে সাক্ষাত্কার দেব না। দেশের জঘন্য সাংবাদিক তুমি। সারাক্ষণ মিথ্যা কথা বলো। কোনো দিনই সত্যি কথা বলতে পারবে না। নিজেকে সবকিছুর ভেতর নিয়ে যাও তুমি। কখনই বস্তুনিষ্ঠ হতে পারবে না। এবং আমি নিশ্চিত তোমার কাছে কোনো খবর না থাকলে নির্ঘাত্ সেটা বানিয়ে নেবে। সাহিত্যে চলে যাও না কেন, যেখানে এইসব দোষই আসলে গুণ?’
এমি গোল্ডম্যান: এটা ছিল পাবলো নেরুদার আপনার সঙ্গে আলাপ। এবার সাক্ষাত্কারের শেষ পর্যায়ে গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস সম্পর্কে আপনার চূড়ান্ত মন্তব্য শুনতে চাইব?
ইসাবেল আয়েন্দে: আগেই যেমন বলেছি, আমার হূদয় আর্তনাদ করছে, কিন্তু আমার মন নয়। এক দিন থেকে, দারুণ শোক অনুভব করছি আমি, কারণ তিনি বিদায় নিয়েছেন। কিন্তু অনেক বছর হয় তিনি বিদায় নিয়েছেন। বহু বছর ধরে লিখছিলেন না তিনি। কিন্তু বইগুলো অমর, সবসময়ই আমাদের সঙ্গে থাকবে। আমি বারবার পড়ব এগুলো। তো তিনি সবসময়ই থাকবেন আমাদের সঙ্গে।
এমি গোল্ডম্যান: সময় দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ জানাতে চাই, ইসাবেল—
ইসাবেল আয়েন্দে: আমি আনন্দিত।
এমি গোল্ডম্যান: কয়েকটা দিন নিউইয়র্কে থেকে আমাদের সঙ্গে সকাল কাটানোর জন্য।
ইসাবেল আয়েন্দে, চিলির মহান লেখক, লাতিন আমেরিকার অন্যতম বিখ্যাত লেখক, এখন ক্যালিফোর্নিয়ার বে এরিয়ায় থাকেন। মায়া’জ নোটবুক, হাউজ অব দ্য স্পিরিট, পলা, ডটার অব ফরচুনসহ প্রায় ২০টি বইয়ের রচয়িতা। তার অতি সাম্প্রতিক বইয়ের নাম রিপার। পেরুতে জন্মগ্রহণ করেছেন তিনি।





