১৬৯০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর আমেরিকার বোস্টন শহরে একটি সংবাদপত্র প্রকাশ হয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছিল। আমেরিকা মহাদেশের প্রথম পত্রিকা। কিন্তু Publick Occurrences Both Forreign and Domestick নামের পত্রিকাটির সরকারবিরোধী অবস্থান সহ্য করেনি ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ সরকার। জন্মের অল্পদিন পরই পত্রিকাটির জীবনাবসান ঘটে। পরবর্তী ১৪ বছর আমেরিকায় আর কোনো পত্রিকা প্রকাশের সাহস করেনি কেউ। ১৭৮০ সালে কলকাতায়ও সে রকম একটি ঘটনা ঘটেছিল। ভারতবর্ষের প্রথম পত্রিকা ‘Hickey’s Bengal Gagette’ নিষিদ্ধ হয়েছিল ওয়ারেন হেস্টিংসের নির্দেশে। শক্ত অবস্থান নিয়ে টিকে থাকার মতো পত্রিকা প্রকাশ হওয়ার জন্য আমেরিকাকে আরো ১০০ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছিল।

আমেরিকান সংবাদপত্রের প্রাথমিক যাত্রা হয়েছিল রাজনৈতিক মুখপত্র হিসেবে। বলা হয়, আমেরিকার স্বাধীনতা আন্দোলন ও সংবাদপত্র প্রকাশের সূচনাপর্ব গভীরভাবে সম্পৃক্ত। সে কারণে স্বাধীন হওয়ার পর সংবিধানে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ব্যাপারটা সবার আগে নিশ্চিত করা হয়েছিল। শুধু তা-ই নয়, ১৭৯২ সালে প্রবর্তিত পোস্টাল সার্ভিস অ্যাক্টে সংবাদপত্রের জন্য বিশেষ ভর্তুকির ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ১০০ মাইলের মধ্যে ১ পেনি দামের যেকোনো সংবাদপত্র ডেলিভারি খরচ দেড় সেন্ট রাখা হয়েছিল। যেখানে অন্যান্য জিনিসের পোস্টাল খরচ ছিল ৬-২৫ সেন্ট পর্যন্ত।

আঠারো শতকে শুরু হওয়া সে যাত্রাটা উনিশ শতকে এসে অনেক দূর বিস্তৃতি লাভ করেছিল। উনিশ শতকে সংবাদপত্র শিল্প লাভজনক একটা ব্যবসা হিসেবে বেড়ে উঠেছিল। বিশ শতকে এসে প্রযুক্তির উন্নতির ফলে সংবাদপত্র প্রকাশনায় একটা বিপ্লব ঘটে গিয়েছিল। টেলিভিশনের মতো শক্তিশালী গণমাধ্যম আবিষ্কৃত হওয়ার পরও পত্রিকার প্রতি মানুষের আগ্রহ কমেনি। প্রত্যেক আমেরিকান গড়ে দুটি দৈনিক পত্রিকা পাঠ করত।

সংবাদপত্রপ্রিয় আমেরিকায় উনিশ শতকে প্রকাশিত কিছু পত্রিকা শতবর্ষ পেরিয়ে একুশ শতকে এসেও রাজত্ব করছে। সে পত্রিকাগুলো থেকে প্রধান চারটি পত্রিকার সংক্ষিপ্ত ইতিবৃত্ত।

দ্য নিউইয়র্ক টাইমস

আমেরিকার সংবাদপত্র জগতের সবচেয়ে খ্যাতিমান নামটা বলতে গেলে The New York Times পত্রিকার দিকেই আঙুল তুলবে অধিকাংশ মানুষ। ১৮৫১ সালে প্রথম প্রকাশের সময় পত্রিকাটির নাম ছিল New-York Daily Times, ১৮৫৭ সালে নামটা একটু সংক্ষেপিত হয়ে New-York Times এবং ১৮৯৬ সালে হাইফেন বাদ দিয়ে শুধু New York Times নামে প্রকাশ হতে শুরু করে। প্রকাশের সময় এ পত্রিকা তার নীতি হিসেবে ঘোষণা করেছিল:

We shall be Conservative, in all cases where we think Conservatism essential to the public good; and we shall be Radical in everything which may seem to us to require radical treatment and radical reform. We do not believe that everything in Society is either exactly right or exactly wrong; what is good we desire to preserve and improve; what is evil, to exterminate, or reform.

১৮৬৯ সালে রেমন্ডের মৃত্যুর পর সহপ্রতিষ্ঠাতা জর্জ জোনস পত্রিকার প্রকাশক হিসেবে দায়িত্ব নেন। ১৮৭০-৭১ সালে পত্রিকাটির প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে, বিশেষ করে এক ডেমোক্র্যাট নেতার কেলেঙ্কারির ঘটনা ফাঁস করে দেয়ার পর। যেটাকে ধামাচাপা দেয়ার জন্য উইলিয়াম টুইড নামের নেতা পত্রিকাটিকে ৫ লাখ ডলার ঘুস দিতে চেয়েছিল। কিন্তু পত্রিকা সেটা প্রত্যাখ্যান করেছিল। ১৮৮০ দশকে পত্রিকাটি রিপাবলিকানের বদলে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের দিকে ঝুঁকে পড়েছিল। সেই সময় পত্রিকার অবস্থা খারাপের দিকে চলে যায়। রিপাবলিকান পাঠকরা মুখ ফিরিয়ে নিলে পত্রিকার আয় কমে এক-তৃতীয়াংশে নেমে আসে।

১৮৯১ সালে জর্জ জোনসের মৃত্যুর পর পত্রিকাটি অর্থ সংকটে পড়ে। তখন এডলফ ওচেস নামের এক প্রকাশক ৭৫ হাজার ডলার দিয়ে পত্রিকাটি কিনে নেন। তিনি পত্রিকার দায়িত্ব নেয়ার পর All The News That’s Fit To Print, স্লোগানটি ১৮৯৬ সালে পত্রিকার শীর্ষদেশে ছাপানো হতো। এখন পর্যন্ত সেই স্লোগান নিয়েই প্রকাশ হয় পত্রিকাটি। মূলত ওই সময় থেকে নিউইয়র্ক টাইমস বিশ্বজুড়ে খ্যাতি অর্জন করতে শুরু করে। এটা ছিল অনেকটা পুনর্জন্মের মতো। ১৮৯৬ সালে পত্রিকার সার্কুলেশন ছিল নয় হাজার কপি, যেটা ১৯৩৪ সালে ৭ লাখ ৮০ হাজার কপিতে পৌঁছে যায়।

১৯০৪ সালে রাশিয়া-জাপান যুদ্ধের সময় আন্তর্জাতিক সংবাদ কাভারেজের মধ্যে নেতৃস্থানীয় ভূমিকা পালন করেছিল পত্রিকাটি। তারপর ১৯১৯ সালে একবার বেলুনে চড়ে লন্ডনে পত্রিকা ডেলিভারি হয়ে ইতিহাসের অংশ হয়ে গিয়েছে। এমন অনেক ঘটনার নজির আছে পত্রিকাটির। তবে বিশ শতকের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ছিল ১৯৭১ সালে ‘পেন্টাগন পেপারস’ নামে প্রকাশ হওয়া এক ধারাবাহিক প্রতিবেদন, যেখানে ভিয়েতনাম যুদ্ধে আমেরিকার জড়িত হওয়ার ব্যাপারে গোপন তথ্যগুলো ফাঁস করা হয়েছিল। এ প্রতিবেদন নিক্সন সরকারের জনপ্রিয়তায় রীতিমত ধস নামিয়ে দিয়েছিল।

দ্য নিউইয়র্ক টাইমস বিশ্বে সর্বাধিকসংখ্যক ১৩২টি পুলিত্জার পুরস্কার পেয়েছে। বিক্রির হিসাবে পত্রিকাটি বিশ্বের মধ্যে ১৮তম এবং আমেরিকায় তৃতীয় অবস্থানে। বর্তমানে এটি নিউইয়র্ক টাইমস কোম্পানির নামে পরিচালিত।

দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল

The Wall Street Journal ডাও জোনস অ্যান্ড কোম্পানির একটি প্রকাশনা। ডাও জোনস অ্যান্ড কোম্পানির প্রকাশনার সূত্রপাতটা ছিল মজার। ১৮৮০ দশকের শুরুতে স্টক এক্সচেঞ্জের বিনিয়োগকারীদের জন্য ‘ফিল্মসিজ’ নামে ছোট ছোট সংবাদ বুলেটিন বিতরণ করা হতো দিনব্যাপী। পরে সেই বুলেটিনগুলোকে সমন্বিত করে ‘কাস্টমারস আফটারনুন লেটার’ নামে একটা দৈনিক পত্র প্রকাশ করতে থাকেন এর প্রতিষ্ঠাতা তিন বন্ধু চার্লস ডাউ, এডওয়ার্ড জোনস ও চার্লস বার্গস্ট্রেসার। সেই পত্রটিকে ১৮৮৯ সালের ৮ জুলাই ‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ নামে প্রথমবারের মতো সংবাদপত্রের কায়দায় প্রকাশ করা হয়।

১৮৯৬ সালে নিউইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জে ডাও জোনস ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ (DJI) অফিশিয়ালি প্রকাশের সূচনা হয়। এটি ছিল স্টক এক্সচেঞ্জের প্রথম কয়েকটি সূচকের একটি। শুরু থেকেই ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের রিভিউ ও আউটলুক কলাম লিখতেন স্বয়ং চার্লস ডাও। ভিন্ন কলমে সেই কলাম দুটো এখনো লেখা হয়।

১৯০২ সালে পত্রিকার মালিকানায় একটা পরিবর্তন আসে। ক্লেরেন্স ব্যারন ১ লাখ ৩০ হাজার ডলার দিয়ে কোম্পানির নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেন। তার দক্ষ পরিচালনায় পত্রিকার দ্রুত উন্নতি হয়। ১৯২০ সালে প্রচার সংখ্যা সাত হাজার থেকে উন্নীত হয়ে ৫০ হাজারে দাঁড়িয়েছিল। ব্যারনের উত্তরসূরিরাই কোম্পানি পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন ২০০৭ পর্যন্ত।

তবে পত্রিকাটি বর্তমান চেহারায় আসে গত শতকের চল্লিশ দশক থেকে, যখন পত্রিকার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন বার্নার্ড কিলগোর। পরে ১৯৪৫ সালে তিনি কোম্পানির সিইও পদে উন্নীত হয়েছিলেন। তার ২৫ বছর দীর্ঘ ক্যারিয়ার শেষ করেন পত্রিকার প্রধান কর্তা হিসেবে। ১৯৬৭ সালে কিলগোর যখন মারা যান, তখন পত্রিকার সার্কুলেশন ১১ লাখ। তার আমলে ১৯৪৭ সালে পত্রিকাটি প্রথম পুলিত্জার পুরস্কার লাভ করেছিল।

১৯৬৭ সালের পর থেকে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল আমেরিকার সীমানা ছাড়িয়ে ইউরোপ, এশিয়া ও আফ্রিকা মহাদেশে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। একুশ শতকে এটা শুধু বাণিজ্যিক পত্রিকায় সীমাবদ্ধ না থেকে আরো নানা খাতে শাখা-প্রশাখা বিস্তার করতে শুরু করে।

দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বর্তমানে দৈনিক ২৮ লাখ কপি বিক্রি হয়, যার মধ্যে ১৮ লাখ ডিজিটাল। এ পত্রিকা এখন পর্যন্ত ৩৮টি পুলিত্জার পুরস্কার পেয়েছে, যার মধ্যে সর্বশেষটি ২০১৯ সালে।

দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট

The Washington Post মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রভাবশালী পত্রিকা। ওয়াশিংটন ডিসি থেকে প্রকাশিত সর্বাধিক প্রচারিত একটি দৈনিক। ১৮৭৭ সালে প্রথম প্রকাশিত পত্রিকাটি ১৫০ বছর ধরে টিকে আছে। পত্রিকাটি ৬৫টি পুলিত্জার পুরস্কার অর্জন করেছে, যেটা সংবাদপত্রের জগতে দ্বিতীয়। ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকার উদ্যোক্তা ছিলেন স্টিলসন হাচিনস। তিনি ১৮৭৭ সালে ওয়াশিংটন ইউনিয়ন নামে আরেকটি প্রতিযোগী পত্রিকা কিনে নেন এবং দুই পত্রিকা একত্র করে প্রকাশ করতে শুরু করেন। তখন পত্রিকার মোট সার্কুলেশন ছিল ১৩ হাজার। কিন্তু ১০ বছর পরেই হাচিনস পত্রিকাটি বিক্রি করে দেন ফ্র্যাংক হ্যাটন ও বেরিয়াহ উইলকিনসের কাছে। তাদের একজন ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্তা, অন্যজন রাজনীতিবিদ। ১৮৯৪ সালে হ্যাটনের মৃত্যুর পর তার শেয়ার কিনে নেন উইলকিনস। উইলকিনসের মৃত্যুর পর তার পুত্রেরা কয়েক বছর পত্রিকাটি চালানোর পর ১৯০৫ সালে বিক্রি করে দেন জন ম্যাকলিনের কাছে।

জন ম্যাকলিনের মৃত্যুর পর পত্রিকাটি বেশ বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়। তার নেশাড়ু পুত্র এডওয়ার্ড ম্যাকনিল পত্রিকা চালানোর মতো উপযুক্ত ছিলেন না। ম্যাকলিন এটা আগে থেকেই জানতেন বলে তিনি পত্রিকাটি একটা ট্রাস্টের হাতে দিয়ে গিয়েছিলেন। ১৯১৬ সালে তার মৃত্যুর পর পরিচালনার দায়িত্বে এডওয়ার্ড থাকলেও পত্রিকাটির আসল কর্তৃত্ব ছিল ট্রাস্টের হাতে। এডওয়ার্ড তাতে বাগড়া দিতে চাইলেও আইনি বাধার কারণে ব্যর্থ হন। অন্যদিকে পত্রিকাটি কিনে নেয়ার গোপন চেষ্টাও করতে থাকেন কেউ কেউ।

১৯৩৩ সালে দেউলিয়া হলে নিলামে মাত্র ৮ লাখ ডলারে পত্রিকাটি কিনে নেয়ার সুযোগ পান ধনকুবের ইউজিন মেয়ার। তিনি পত্রিকা চালানোর ব্যাপারে যোগ্য লোক ছিলেন। তার হাতে মালিকানা যাওয়ার পর বিপর্যয় কাটিয়ে পত্রিকাটির দ্রুত উন্নতি হতে থাকে। ১৯৪৬ সালে পত্রিকার মালিক হন তার জামাতা ফিলিপ গ্রাহাম। ফিলিপ ওয়াশিংটন পোস্টকে পাবলিক কোম্পানিতে রূপান্তর করেন ১৯৭১ সালে। সেই সময় নিউইয়র্ক টাইমসের মতো ওয়াশিংটন পোস্টও সরকারের বিরুদ্ধে বেশকিছু প্রতিবেদন প্রকাশ করে বিশ্বব্যাপী তোলপাড় করেছিল। নিক্সন সরকারের বিরুদ্ধে করা সাহসী প্রতিবেদনের কারণে পুলিত্জার পুরস্কার পায় ওয়াশিংটন পোস্ট।

১৯৭৯ সালে তার পুত্র ডোনাল্ড গ্রাহাম পত্রিকার মালিক হন। ডোনাল্ড দক্ষতার সঙ্গে পত্রিকার আধুনিকায়ন করতে থাকেন এবং বিশ শতকের শেষ নাগাদ আমেরিকার প্রধান পাঁচটি প্রভাবশালী পত্রিকার একটি হয়ে ওঠে ওয়াশিংটন পোস্ট। ২০১৩ সালে গ্রাহাম পরিবার থেকে ২৫০ মিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে পত্রিকাটি কিনে নেয় বিশ্বের শীর্ষ ধনী জেফ বেজোসের প্রতিষ্ঠান ন্যাশ হোল্ডিংস।

দ্য লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস

The Los Angeles Times প্রথম প্রকাশ হয় ১৮৮১ সালে। এটি আমেরিকার পশ্চিম উপকূলের সবচেয়ে বড় পত্রিকা।

১৮৮১ সালের ৪ ডিসেম্বর যাত্রা করেছিল Los Angeles Daily Times নামে। প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন নাথান কোল জুনিয়র ও থমাস গার্ডেনিয়ার। কিন্তু দুর্ভাগ্য পত্রিকা চালানোর মতো সক্ষমতা ছিল না তাদের। বছরখানেকের মধ্যে পত্রিকার মালিকানা বদল হয়। ১৮৮২ সালে পত্রিকাটি কিনে নেন হ্যারিসন গ্রে ওটিস। তিনি ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে যোগসূত্র রেখে পত্রিকা চালানোর ব্যাপারে খুব দক্ষ ছিলেন। তার গৃহীত নীতিমালার কারণে পত্রিকাটি উন্নতি লাভ করতে থাকে।

ওটিসের আমলে পত্রিকার জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হওয়ার বিপরীতে শত্রুরও জন্ম হয়েছিল। বিশ শতকের শুরুতে লস অ্যাঞ্জেলেসে একটা শ্রমিক আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছিল। ওটিস ছিলেন ট্রেড ইউনিয়নবিরোধী সম্পাদক। তিনি পত্রিকায় ট্রেড ইউনিয়নবিরোধী প্রচারণা চালিয়ে শ্রমিক নেতাদের চক্ষুশূলে পরিণত হন। আন্দোলন তখন সহিংসতার পথে নেমে গিয়েছে। নানা কলকারখানায় সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটতে শুরু করেছিল। পত্রিকা হলেও লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমসও সেই আক্রমণ থেকে বাদ পড়ে না। ১৯১০ সালের সে রকম এক ভয়াবহ ডিনামাইট হামলায় লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমসের তিনতলা অফিস ভবন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল। নিহত হন ২১ জন, আহত শতাধিক। বিশ্বের সংবাদপত্রের ইতিহাসে এখনো কলঙ্কজনক অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে ওই ঘটনাটি।

১৯১৭ সালে ওটিসের মৃত্যুর পর তার জামাতা হ্যারি শ্যান্ডলার পত্রিকার দায়িত্ব নেন। পত্রিকার প্রভাব ও জনপ্রিয়তার ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত থাকে। চার প্রজন্ম পরে ১৯৬০-৭০ সময়ে সমান দাপটের সঙ্গে পত্রিকা চালু থাকে। চতুর্থ প্রজন্মের প্রতিনিধির নামও ওটিস। ওটিস শ্যান্ডলারের নেতৃত্বে পত্রিকাটি নতুন রূপে নিউইয়র্ক টাইমস ও ওয়াশিংটন পোস্টের মতো প্রভাবশালী পত্রিকার পাশাপাশি প্রকাশ হতে শুরু করে। শ্যান্ডলার পরিবারের হাত ধরে থলিতে অন্তত ৪০টি পুলিত্জার পুরস্কার নিয়ে বর্তমানে আমেরিকার পশ্চিম উপকূলের সবচেয়ে প্রভাবশালী পত্রিকা লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস।

***

তিন শতকে আমেরিকার দৈনিক পত্রিকার মোট সংখ্যা বারোশর কম নয়। আমেরিকার গণমাধ্যমকে পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি স্বাধীন বলে ধরা হয়। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে এসব গণমাধ্যম প্রায়ই রাষ্ট্রের তৃতীয় শক্তি হিসেবে নিজেদের শক্তিশালী অবস্থান জানান দেয়।

 

হারুন রশীদ: সভ্যতা ও ইতিহাস অনুসন্ধানী লেখক