নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি ইয়াং এন্টারপ্রেনিউরস সোসাইটি (এনএসইউ ওয়াইইএস) সফলভাবে এন্টারপ্রেট সিজন থ্রি-এর তৃতীয় রাউন্ড ‘এলিভেট’ শীর্ষক একটি বিজনেস প্রোটোটাইপ শোকেস রাউন্ড আয়োজন করেছে। এ পর্বে ২৪টি সেমিফাইনালিস্ট দল নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি (এনএসইউ) প্রাঙ্গণে তাদের উদ্যোক্তা উদ্যোগ উপস্থাপন করে প্রোটোটাইপ, সার্ভিস মডেল ও কনসেপ্টয়াল বিজনেস ডেমোনস্ট্রেশনের মাধ্যমে।
অনুষ্ঠানটি এনএসইউ ওয়াইইএসের আয়োজনে এবং সাউথইস্ট ব্যাংক পিএলসির উপস্থাপনায় অনুষ্ঠিত হয়। সহ-স্পন্সর ছিল গোল্ড কিনেন। এ ছাড়া কৃষিবিদ গ্রুপ ছিল পাওয়ার্ড বাই পার্টনার, এআইএ ভেঞ্চারস এর ড্রিভেন বাই পার্টনার এবং নূর ইউনিক বিল্ডার্স সহযোগী হিসেবে যুক্ত ছিল।
একটি ওপেন উদ্যোক্তা মেলা হিসেবে পরিকল্পিত এ এলিভেট রাউন্ডে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও দর্শনার্থীরা অংশগ্রহণকারী দলগুলোর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ পান। শোকেসটিতে অংশ নেন ছাত্র উদ্যোক্তা, যুব নেতৃত্বাধীন প্রতিষ্ঠাতা ও টেকসই ব্যবসায়িক ধারণাসম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা। অংশগ্রহণকারীদের অনেকেই তাদের ধারণাকে বাস্তবসম্মত উদ্যোগে রূপ দেয়ার প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছেন। হ্যান্ডস-অন ডেমোনস্ট্রেশনের মাধ্যমে দলগুলো তাদের ধারণার কীভাবে কার্যকর, স্কেলযোগ্য এবং বাস্তব জীবনে প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে তা তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. আবদুল হান্নান চৌধুরী। তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ উদ্যোক্তা তৈরিতে অভিজ্ঞতাভিত্তিক ও প্র্যাকটিস-ভিত্তিক শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। তার মতে, এন্টারপ্রেটের মতো প্ল্যাটফর্ম শিক্ষার্থীদের তাত্ত্বিক জ্ঞানের গণ্ডি ছাড়িয়ে বাস্তব প্রয়োগের মাধ্যমে নিজেদের ধারণা যাচাইয়ের সুযোগ দেয়, যা উদ্ভাবন, সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা ও দায়িত্বশীল উদ্যোক্তা মানসিকতা গড়ে তুলতে সহায়তা করে। একই সঙ্গে এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের বাজারের বাস্তবতা মোকাবেলায় দৃঢ়তা, নৈতিকতা ও কার্যকর এক্সিকিউশন-মাইন্ডসেট তৈরি করে।
নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির প্রো ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক নাসির উদ্দিন আহমেদ বলেন, এলিভেটের মতো উদ্যোক্তা শোকেস শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসায়িক পরিবেশের জন্য প্রস্তুত হতে সহায়তা করে। তিনি অংশগ্রহণকারীদের তাদের ধারণাগুলো আরও পরিমার্জন ও উন্নয়নের আহ্বান জানান।
এ পর্যায়ে উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় দক্ষতা প্রসঙ্গে এনএসইউ ওয়াইইএসের ফ্যাকাল্টি অ্যাডভাইজর ও সিনিয়র লেকচারার মির্জা এম. ফেরদৌস বলেন, ইনোভেশন ও ইমপ্যাক্টের পাশাপাশি আর্থিক স্বচ্ছতা যেকোনো ব্যবসায়িক উদ্যোগের মূল ভিত্তি। তিনি বলেন, একটি ধারণা যতই উদ্ভাবনী হোক না কেন, সুস্পষ্ট আর্থিক কাঠামো ছাড়া তা বড় পরিসরে বিস্তৃত করা কঠিন। উদ্যোক্তার মানসিকতার বিষয়ে তিনি স্থায়িত্ব ও অধ্যবসায়কে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গুণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
মোট ৫ লাখ টাকা পুরস্কারমূল্য নিয়ে এন্টারপ্রেট সিজন থ্রি প্রতিশ্রুতিশীল তরুণ উদ্যোক্তাদের চিহ্নিত ও বিকাশের একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে। এলিভেট রাউন্ড সম্পন্ন হওয়ার পর প্রতিযোগিতাটি এখন চূড়ান্ত পর্বে প্রবেশ করেছে। আগামী ২৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় গ্র্যান্ড ফিনালে পর্বে ফাইনালিস্ট দলগুলো বিচারক ও ইন্ডাস্ট্রি লিডারদের সামনে তাদের উদ্যোগ উপস্থাপন করবে।










