ইন্টারন্যাশনাল প্ল্যানড প্যারেন্টহুড ফেডারেশনের (আইপিপিএফ) নতুন মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন মারিয়া অ্যান্টোনিয়েটা আলকালডে কাস্ত্রো। অ্যালভারো বর্মেজোর স্থলাভিষিক্ত হলেন তিনি। ২০২৬ সালের ১ মার্চ থেকে চার বছরের জন্য তার এ দায়িত্ব কার্যকর হয়েছে।

তার দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য ও অধিকার আন্দোলনের জন্য একটি নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশ্বজুড়ে এ ক্ষেত্রের অন্যতম প্রভাবশালী সংগঠন হিসেবে কাজ করে ইন্টারন্যাশনাল প্ল্যানড প্যারেন্টহুড ফেডারেশন।

২০১৮ সাল থেকে সংগঠনটির নেতৃত্ব দিয়েছেন অ্যালভারো বর্মেজো। তার সময়ে ফেডারেশন একটি বড় রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যায়। তার নেতৃত্বে সংগঠনটি শাসন কাঠামো শক্তিশালী করে, বৈশ্বিক অংশীদারত্ব বাড়ায় এবং যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য, অধিকার ও ন্যায়বিচারের প্রশ্নে আরো দৃঢ় অবস্থান নেয়। তার সময়ে সংগঠনটি আরো স্থিতিশীল, সংহত ও বৈশ্বিকভাবে কৌশলগতভাবে সুসংগঠিত হয়ে ওঠে।

মারিয়া অ্যান্টোনিয়েটা তিন দশকের বেশি সময় ধরে যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য ও অধিকার আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত। তিনি একজন যুব কর্মী হিসেবে তার যাত্রা শুরু করেন। পরে স্থানীয়, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পর্যায়ে নারী অধিকার ও মানবাধিকারভিত্তিক নীতিমালা ও কর্মসূচি উন্নয়নে কাজ করেন।

তার নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে ন্যায়বিচার ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উদ্যোগে প্রভাব রাখা। পাশাপাশি আন্তঃসরকারি প্রক্রিয়া ও জাতিসংঘের আলোচনায় তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। নীতিনির্ধারণে প্রভাব সৃষ্টি, অংশীদারত্ব গঠন ও আঞ্চলিক আন্দোলন শক্তিশালী করার ক্ষেত্রেও তার কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে। স্থানীয় কার্যক্রমকে বৈশ্বিক নীতিনির্ধারণের সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়েও তিনি দৃঢ় অঙ্গীকারের কথা জানিয়েছেন।

মারিয়ার নিয়োগ একটি কঠোর, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও স্বাধীন আন্তর্জাতিক অনুসন্ধান প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। এ প্রক্রিয়া পরিচালনায় সহায়তা করেছে পেরেট ল্যাভার নামের একটি সংস্থা। বিশ্বজুড়ে প্রতিযোগিতামূলক প্রার্থীদের মধ্য থেকে পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা একমত হয়ে তাকে নির্বাচিত করেন।

মারিয়া এমন এক সময়ে সংগঠনটির নেতৃত্ব গ্রহণ করেছেন যখন অর্থায়নের অনিশ্চয়তা, সীমিত নাগরিক পরিসর ও বাড়তে থাকা মতাদর্শগত বাধা বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। এ অবস্থায় স্থানীয়ভাবে শক্তিশালী ও বৈশ্বিকভাবে সংযুক্ত সদস্য সংগঠনগুলোর ভূমিকা আরো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

তার নেতৃত্বে আঞ্চলিক পর্যায়ে দক্ষিণের নেতৃত্ব ও ন্যায়বিচারভিত্তিক নারীবাদী নেতৃত্বকে আরো শক্তিশালী করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি অংশীদারত্ব ও জোট সম্প্রসারণ, বৈশ্বিক স্বাস্থ্য ও উন্নয়ন আলোচনায় সংগঠনটির নীতিগত প্রভাব বাড়ানো এবং যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য কর্মসূচি ও অর্থায়নে নতুন উদ্যোগ বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেয়া হবে।

২০২৬ সালের ১ মার্চ থেকে দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে সংগঠনটি আবারো তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য, অধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য সবার জন্য কাজ করার লক্ষ্য পুনরায় ঘোষণা করা হয়েছে। বিশেষ করে নারী, কন্যা, তরুণ ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষায় কাজ অব্যাহত রাখার কথাও জানানো হয়েছে।

—বিজ্ঞপ্তি