আমাদের কার্ড পোর্টফোলিওতে রয়েছে ক্ল্যাসিক, গোল্ড ও প্লাটিনাম ক্যাটাগরির আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের কার্ড। নিত্যপণ্য, ফ্যাশনপণ্যসহ দেশের সব ধরনের আউটলেটের স্থাপিত পয়েন্ট অব সেলস (পস) মেশিনে এনআরবিসি ব্যাংকের কার্ড সহজে লেনদেন করা যায়। আমরা ক্রেডিট কার্ডের বাজার সম্প্রসারণে ভবিষ্যতে গ্রাহকের জীবনযাত্রা ও ব্যয়ের ধরন বিশ্লেষণ করে আরো সেগমেন্টভিত্তিক কার্ড চালুর পরিকল্পনা করছি।
কার্ডের লেনদেনকে আমরা হাতের মুঠোয় নিয়ে এসেছি। ক্রেডিট কার্ডের পাশাপাশি ডেবিট কার্ডের লেনদেন এনআরবিসি ব্যাংকে ‘প্ল্যানেট অ্যাপ’ থেকে সম্পন্ন করা যায়। ‘বাংলা কিউআর’ স্ক্যান করে অ্যাপের মাধ্যমে সহজেই কেনাকাটার বিল পরিশোধ করতে পারছেন গ্রাহকরা। এ অ্যাপভিত্তিক লেনদেন দ্রুত জনপ্রিয় হচ্ছে। কারণ এতে পকেটে কার্ড বহনের প্রয়োজন পড়ছে না। স্মার্ট তরুণ প্রজন্ম কন্ট্রাকলেস, ইনস্ট্রুমেন্টলেস, ক্যাশলেস পদ্ধতিগুলো সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে।
কোন কোন বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে এনআরবিসি ব্যাংক কার্ড অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কার্ডের তুলনায় স্বতন্ত্র?
আমাদের কার্ডের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো প্রতিযোগিতামূলক চার্জ স্ট্রাকচার, আকর্ষণীয় রিওয়ার্ড পয়েন্ট, সহজ কিস্তি (ইএমআই) সুবিধা এবং বিস্তৃত মার্চেন্ট নেটওয়ার্ক। গ্রাহকবান্ধব ক্রেডিট লিমিট, দ্রুত কার্ড ইস্যু, ইএমআই কনভার্সন সুবিধা এবং ২৪/৭ কাস্টমার সাপোর্ট আমাদের সেবাকে আলাদা করেছে। এছাড়া উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ইএমভি চিপ, ওটিপি ভেরিফিকেশন ও রিয়েল-টাইম ট্রানজ্যাকশন অ্যালার্ট গ্রাহকের আস্থা বাড়িয়েছে।
দেশে ডিজিটাল পেমেন্ট ইকোসিস্টেমের কোন কোন বিষয় কার্ডভিত্তিক পেমেন্ট ব্যবস্থা সম্প্রসারণের পথে অন্তরায়?
এটা সত্য যে ডিজিটাল লেনদেনের জনপ্রিয়তা ক্রমে বাড়ছে। কিন্তু শতভাগ ডিজিটাল লেনদেন অবকাঠামো ও ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়নি। প্রথমত, অনেক ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীর কাছে এখনো পর্যাপ্ত পস টার্মিনাল নেই। দ্বিতীয়ত, ডিজিটাল লেনদেন সম্পর্কে সচেতনতার ঘাটতি রয়েছে। তৃতীয়ত, কিছু ক্ষেত্রে লেনদেন চার্জ ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা ব্যবসায়ীদের নিরুৎসাহিত করে। অনেক গ্রাহক নানা কারণে ডিজিটাল লেনদেনে অভ্যস্ত হওয়ার পরিবর্তে নগদ লেনদেনের ওপর নির্ভরশীল রয়েছেন। এছাড়া সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে ভীতি ও নগদ টাকার প্রতি প্রচলিত নির্ভরশীলতাও একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
বাংলাদেশে জনসাধারণের মধ্যে কেনাকাটায় কার্ড ব্যবহারকে আরো জনপ্রিয় করতে আপনাদের উদ্যোগগুলো কী কী?
আমরা গ্রাহক সচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন ক্যাম্পেইন পরিচালনা করছি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, করপোরেট অফিস ও প্রবাসী পরিবারের মধ্যে কার্ড ব্যবহারের সুবিধা তুলে ধরা হচ্ছে। মার্চেন্ট নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, সহজ শর্তে কার্ড ইস্যু এবং ডিজিটাল অ্যাপের মাধ্যমে ব্যয় ব্যবস্থাপনা টুল যুক্ত করেছি। পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে লক্ষ্য করে ক্যাশলেস জীবনযাপন প্রচারে কাজ করছি। কার্ডের ফিচারেও নতুনত্ব আনা হচ্ছে।
ডিজিটাল লেনদেন বৃদ্ধিতে সরকার কী ধরনের উদ্যোগ নিতে পারে?
ডিজিটাল পেমেন্ট ইকোসিস্টেম সর্বক্ষেত্রে নিশ্চিত করতে সরকারকে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ছোট লেনদেনও যেন ব্যাংকিং চ্যানেলে সম্পন্ন করা হয়, সেজন্য প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করতে হবে। এতে অর্থনৈতিক লেনদেন স্বচ্ছতার আওতায় আসবে। পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক অর্থনীতির আকার বাড়বে। সরকার চাইলে ডিজিটাল পেমেন্টে প্রণোদনা, কর-সুবিধা এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য ভর্তুকিযুক্ত পস মেশিন সরবরাহের উদ্যোগ নিতে পারে। পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ে আর্থিক সাক্ষরতা কর্মসূচি ও সাইবার নিরাপত্তা জোরদার করা প্রয়োজন। নীতিগত সহায়তা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিশ্চিত হলে দেশে কার্ডভিত্তিক লেনদেন আরো দ্রুত সম্প্রসারণ হবে বলে বিশ্বাস করি।










