৫০টির বেশি দেশী ও আন্তর্জাতিক হোটেল এবং রেস্তোরাঁয় ইফতার ও ডিনারে বাই ওয়ান গেট ওয়ান ও বিশেষ ডিসকাউন্ট সুবিধা দেয়া হচ্ছে। এছাড়া একটি খাবারের মূল্য পরিশোধ করে চারজনের (ইফতার কাম ডিনার) বুফে উপভোগের সুযোগ রয়েছে। লাইফস্টাইল ব্র্যান্ড আউটলেট ও অনলাইন শপে কেনাকাটায় সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যছাড় দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি আমাদের ক্রেডিট কার্ড থেকে বিকাশ, নগদ ও এমবিএল রেইনবো অ্যাপে অ্যাড মানি সম্পূর্ণ ফ্রি রাখা হয়েছে। এসব অফার গ্রাহকদের উৎসবকালীন কেনাকাটাকে আরো সাশ্রয়ী ও আনন্দময় করে তুলছে।
কেনাকাটায় কার্ড ব্যবহারকে আরো জনপ্রিয় করতে আপনাদের উদ্যোগগুলো কী কী?
আমরা নিয়মিত ক্যাশব্যাক, রিওয়ার্ড পয়েন্ট, বিনা সুদে ইএমআই সুবিধা ও উৎসবভিত্তিক বিশেষ অফার চালু করছি। সহজ অনলাইন আবেদন ও দ্রুত কার্ড ইস্যু সিস্টেম চালু করা হয়েছে, যাতে গ্রাহকরা স্বল্প সময়ে কার্ড হাতে পান। ২৪/৭ কাস্টমার সার্ভিস ও সচেতনতামূলক প্রচারণার মাধ্যমে কার্ড ব্যবহারের সুবিধা তুলে ধরা হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন মার্চেন্ট পার্টনারের সঙ্গে যৌথ ক্যাম্পেইন পরিচালনার মাধ্যমে নিয়মিত ছাড় ও অফার দেয়া হচ্ছে, যা গ্রাহকদের ডিজিটাল পেমেন্টে আরো উৎসাহিত করছে।
গ্রাহকদের জন্য বাজারে আপনাদের কত ধরনের ক্রেডিট কার্ড রয়েছে?
মার্কেন্টাইল ব্যাংক পিএলসি গ্রাহকদের বহুমাত্রিক চাহিদা বিবেচনায় বিভিন্ন ধরনের ক্রেডিট কার্ড বাজারে এনেছে। বর্তমানে আমাদের ভিসা গোল্ড, প্লাটিনাম ও সিগনেচার ক্রেডিট কার্ড রয়েছে। পাশাপাশি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং সেবা গ্রহণে আগ্রহীদের জন্য তাকওয়া ক্রেডিট কার্ড চালু রয়েছে। ২০২৫ সালে আমরা সফলভাবে মাস্টারকার্ড কার্ড চালু করেছি। মাস্টারকার্ড প্লাটফর্মে বর্তমানে টাইটানিয়াম ক্রেডিট কার্ড ও ওয়ার্ল্ড ক্রেডিট কার্ড প্রদান করা হচ্ছে। এছাড়া আমাদের কার্ড পোর্টফোলিওতে ডেবিট, গোল্ড ডেবিট ও প্রিপেইড সেগমেন্ট রয়েছে, যা গ্রাহকদের স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক লেনদেনে আরো বিস্তৃত সুবিধা দিচ্ছে।
আপনাদের কার্ডের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যগুলো কী কী?
আমাদের কার্ডের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো বাজারের সর্বনিম্ন ফান্ড ট্রান্সফার প্রসেসিং ফি, যা মাত্র দশমিক ৭৫ শতাংশ। গ্রাহকরা মার্কেন্টাইল ব্যাংকের এমবিএল রেইনবো অ্যাপ, কার্ড চেক অথবা কন্টাক্ট সেন্টারে (১৬২২৫) অনুরোধের মাধ্যমে সহজেই ফান্ড ট্রান্সফার করে অনুমোদিত অর্থ ব্যবহার করতে পারেন। প্রথম দুই বছর বার্ষিক ফি সম্পূর্ণ মওকুফ, যা নতুন গ্রাহকদের জন্য বিশেষভাবে উপকারী। এছাড়া আমাদের কার্ডে রয়েছে নির্দিষ্ট মার্চেন্টে শূন্য শতাংশ ইএমআই সুবিধা, আকর্ষণীয় ক্যাশব্যাক ও রিওয়ার্ড পয়েন্ট প্রোগ্রাম এবং বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিশেষ ডিসকাউন্ট অফার। প্রিমিয়াম কার্ডধারীরা দেশ-বিদেশে ভ্রমণের ক্ষেত্রে একাধিক সুবিধা উপভোগ করেন, যেমন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বলাকা এক্সিকিউটিভ লাউঞ্জে প্রবেশাধিকার এবং বিশ্বব্যাপী ১ হাজার ৬০০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক এয়ারপোর্ট লাউঞ্জে অ্যাকসেস। পাশাপাশি নির্বাচিত সেগমেন্টে এয়ারপোর্ট মিট অ্যান্ড গ্রিট সার্ভিসও দেয়া হয়ে থাকে।
আমাদের কার্ড থেকে বিকাশ, নগদ ও অন্যান্য এমএফএসে অ্যাড মানি সেবা সম্পূর্ণ ফ্রি, যা গ্রাহকদের দৈনন্দিন ডিজিটাল লেনদেনকে আরো সহজ ও সাশ্রয়ী করেছে। এছাড়া ফ্রি সাপ্লিমেন্টারি কার্ড সুবিধা থাকায় পরিবার-পরিজনদের জন্য অতিরিক্ত কার্ড নেয়াও সহজ। উৎসব ও বিশেষ সময়ের পাশাপাশি সারা বছরই আমরা নির্বাচিত হোটেল ও রেস্তোরাঁয় আকর্ষণীয় বাই ওয়ান গেট ওয়ান এবং নির্দিষ্ট পার্টনারে পে ওয়ান ইট ফোর অফার দিয়ে থাকি। ফলে গ্রাহকরা একটি মিলের মূল্য পরিশোধ করে একাধিক মিল উপভোগের সুযোগ পান, যা তাদের ডাইনিং অভিজ্ঞতাকে আরো সাশ্রয়ী, আনন্দময় ও মূল্য সংযোজিত করে তোলে। আধুনিক ইএমভি চিপ ও কন্ট্যাক্টলেস প্রযুক্তি, শক্তিশালী সাইবার সিকিউরিটি ব্যবস্থা এবং দ্রুত অ্যাপ্রুভাল প্রক্রিয়ার সমন্বয়ে আমাদের কার্ড একটি নিরাপদ, সময়োপযোগী ও বিশ্বস্ত পেমেন্ট সমাধান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
কোন কোন বিষয় কার্ডভিত্তিক পেমেন্ট ব্যবস্থা সম্প্রসারণের পথে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে?
দেশে কার্ডভিত্তিক পেমেন্ট ব্যবস্থার সম্প্রসারণে চ্যালেঞ্জগুলোকে আমরা কেবল অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার মধ্যে সীমিত দেখি না। এটি মূলত একটি সমন্বিত ইকোসিস্টেম ইস্যু। প্রথমত, ডিজিটাল অবকাঠামোর বৈষম্য এখনো একটি বড় বাধা। শহরকেন্দ্রিক পিওএস নেটওয়ার্ক তুলনামূলকভাবে উন্নত হলেও গ্রামীণ ও আধা-শহর এলাকায় পর্যাপ্ত পিওএস মেশিন, স্থিতিশীল ব্রডব্যান্ড সংযোগ এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের ঘাটতি রয়েছে। ফলে কার্ড গ্রহণের সক্ষমতা সমানভাবে বিস্তৃত হয়নি। দ্বিতীয়ত, মার্চেন্ট ইকোনমিকস একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অনেক ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট (এমডিআর), সেটলমেন্ট সময়, ভ্যাট ও কর কাঠামো নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকেন। তাদের কাছে কার্ড গ্রহণের খরচ ও প্রশাসনিক জটিলতা কখনো কখনো সুবিধার তুলনায় বেশি মনে হয়।
তৃতীয়ত, আচরণগত ও সাংস্কৃতিক অভ্যাস একটি বড় ফ্যাক্টর। বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে নগদ লেনদেনের ওপর নির্ভরশীলতা তৈরি হয়েছে। অনেক ভোক্তা এখনো তাৎক্ষণিক নগদ পেমেন্টকে বেশি স্বস্তিদায়ক মনে করেন এবং ডিজিটাল ট্রানজেকশনের স্বচ্ছতা নিয়ে দ্বিধায় থাকেন। চতুর্থত, সাইবার নিরাপত্তা ও ডেটা প্রাইভেসি নিয়ে উদ্বেগ গ্রাহকদের আস্থায় প্রভাব ফেলে। যদিও ব্যাংক ও পেমেন্ট নেটওয়ার্কগুলো শক্তিশালী সিকিউরিটি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, তবু প্রতারণা-সংক্রান্ত বিচ্ছিন্ন ঘটনার কারণে সাধারণ মানুষের মাঝে এক ধরনের শঙ্কা কাজ করে। পঞ্চমত, আর্থিক সাক্ষরতা ও ডিজিটাল লিটারেসির ঘাটতি একটি মৌলিক চ্যালেঞ্জ। অনেক গ্রাহক কার্ডের সঠিক ব্যবহার, বিল পরিশোধের সময়সীমা, সুদ গণনার পদ্ধতি বা নিরাপদ অনলাইন লেনদেন সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান রাখেন না। সব মিলিয়ে কার্ডভিত্তিক পেমেন্ট সম্প্রসারণ কেবল প্রযুক্তিগত নয়; এটি অবকাঠামো উন্নয়ন, নীতিগত সহায়তা, মার্চেন্ট প্রণোদনা, গ্রাহক সচেতনতা এবং আস্থা বৃদ্ধির একটি সমন্বিত প্রক্রিয়া। এই ইকোসিস্টেমভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করলেই টেকসইভাবে কার্ড পেমেন্টের বিস্তার সম্ভব হবে।
ডিজিটাল লেনদেন বৃদ্ধিতে সরকার কী ধরনের উদ্যোগ নিতে পারে?
ডিজিটাল লেনদেন বৃদ্ধিতে সরকারের ভূমিকা কৌশলগত ও বহুমাত্রিক হওয়া প্রয়োজন। কেবল অবকাঠামো উন্নয়ন নয়, বরং একটি সমন্বিত ও টেকসই ডিজিটাল ইকোসিস্টেম গড়ে তোলাই এখানে মুখ্য বিষয়। সারা দেশে উচ্চগতির ইন্টারনেট সংযোগ, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং সাশ্রয়ী পিওএস ও কিউআর-ভিত্তিক পেমেন্ট অবকাঠামো সম্প্রসারণ জরুরি, বিশেষ করে গ্রামীণ ও প্রান্তিক অঞ্চলে। একই সঙ্গে ব্যাংক, এমএফএস, ফিনটেক ও কার্ড নেটওয়ার্কগুলোর মধ্যে পূর্ণ ইন্টারঅপারেবিলিটি নিশ্চিত করলে লেনদেন আরো সহজ ও নির্বিঘ্ন হবে।
নীতিগতভাবে ডিজিটাল লেনদেনকে উৎসাহিত করতে কর প্রণোদনা, ভ্যাট রেয়াত বা নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত ডিজিটাল ট্রানজেকশনে ট্যাক্স সুবিধা দেয়া যেতে পারে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের জন্য মার্চেন্ট চার্জ সহনীয় পর্যায়ে রাখতে সহায়ক নীতিমালা প্রণয়নও গুরুত্বপূর্ণ, যাতে তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কার্ড ও ডিজিটাল পেমেন্ট গ্রহণে আগ্রহী হন। ডেটা প্রাইভেসি ও সাইবার নিরাপত্তা কাঠামোকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করে তার কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। দ্রুত প্রতারণা শনাক্তকরণ ও প্রতিকার ব্যবস্থা থাকলে গ্রাহকের আস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। এছাড়া ডিজিটাল ফাইন্যান্সিয়াল লিটারেসি কর্মসূচিকে জাতীয় পর্যায়ে সম্প্রসারণ করা জরুরি, যাতে সাধারণ মানুষ নিরাপদ কার্ড ব্যবহার, অনলাইন পেমেন্ট এবং ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থার সুবিধা ও ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন হয়।
সরকারি সেবাগুলো যেমন কর প্রদান, ফি, ইউটিলিটি বিল ও ভাতা বিতরণ ইত্যাদি সম্পূর্ণভাবে ডিজিটাল প্লাটফর্মে নিয়ে আসা হলে একটি ‘ডিজিটাল-ফার্স্ট’ সংস্কৃতি তৈরি হবে। এভাবে নীতিগত সহায়তা, প্রযুক্তিগত অবকাঠামো এবং সচেতনতার সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও নিরাপদ ক্যাশলেস অর্থনীতি গড়ে তোলা সম্ভব।










