বাংলাদেশের আবাসন ও স্থাপত্য খাতে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় উল্লেখযোগ্য এক পরিবর্তন পরিলক্ষিত হচ্ছে। প্রথাগত গৃহনির্মাণ ও সাজসজ্জার ধারণা থেকে বেরিয়ে এসে আধুনিক গৃহমালিক এবং স্থপতিরা এখন প্রাধান্য দিচ্ছেন নান্দনিকতা, দীর্ঘস্থায়িত্ব ও নিখুঁত ফিনিশিংকে। এ পরিবর্তনের অংশ হিসেবে ঘরের ‘দরজা’ নির্বাচনের ক্ষেত্রেও এসেছে নতুন মাত্রা। আকিজ বশির গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান আকিজ পার্টিকল বোর্ড মিলস লিমিটেডের অধীনে পরিচালিত ‘আকিজ ডোর’ ২০১৬ সাল থেকে দেশীয় বাজারে প্রকৌশলনির্ভর নানাবিধ দরজা সরবরাহ করে আসছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে শিল্প উৎপাদন ও পরিবেশবান্ধব প্রক্রিয়ার সমন্বয়ে নির্মিত এসব পণ্য দেশের অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা শিল্পে একটি নতুন ধারা তৈরি করেছে।
আকিজ ডোরের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এর স্থায়িত্ব, নকশার বৈচিত্র্য ও মানসম্মত উৎপাদন প্রক্রিয়া। দরজাগুলো সঠিকভাবে সিজনিং করা কাঠ ও উন্নতমানের কাঁচামাল ব্যবহার করে তৈরি করা হয়। অত্যাধুনিক উৎপাদন সুবিধার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন আকার ও মাপ কাস্টমাইজ করারও সুযোগ রয়েছে। নকশা ও ব্যবহারের ক্ষেত্রেও রয়েছে বৈচিত্র্য, যা বিভিন্ন ধরনের স্থাপত্য ও ইন্টেরিয়রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। একই সঙ্গে ক্ষতিকর রাসায়নিক এড়িয়ে উৎপাদনের বিষয়টিও গুরুত্ব দেয়া হয়। ফলে স্থায়িত্ব, ব্যবহারিকতা ও নান্দনিকতার সমন্বয়ে দরজাগুলো তৈরি করা হয়।
টেকসই নগরায়ণের একটি প্রধান দিক হলো টেকসই ও পরিবেশবান্ধব উপকরণের ব্যবহার। বাংলাদেশে বর্ষা ও গ্রীষ্মের সময় আবহাওয়ার আর্দ্রতার ব্যাপক তারতম্য ঘটে, ফলে সাধারণ কাঠের দরজা প্রায়ই বাঁকা হয়ে যায় কিংবা স্বাভাবিক আকৃতি হারায়। আকিজ ডোর এ সমস্যার সমাধানে উন্নত ইউরোপীয় প্রযুক্তি ও প্রযুক্তিভিত্তিক সিজনিং ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। তাদের উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত হাই-ফ্রিকোয়েন্সি ভ্যাকুয়াম ড্রায়ার এবং কিলন ড্রায়ার প্রযুক্তির মাধ্যমে কাঠের অভ্যন্তরীণ আর্দ্রতার পরিমাণ সুনির্দিষ্টভাবে ১০-১২ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়। বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে আর্দ্রতার এ সুনিয়ন্ত্রিত মাত্রা আবহাওয়ার যেকোনো পরিবর্তনের মুখেও দরজার কাঠামোগত স্থিতিশীলতা ও দৃঢ়তা অক্ষুণ্ন রাখতে সহায়তা করে।
ব্যবহারিক চাহিদা ও নান্দনিক রুচির কথা বিবেচনা করে আকিজ ডোর তাদের পণ্যে রেখেছে ব্যাপক বৈচিত্র্য। নকশার ক্ষেত্রে কাঠের স্বাভাবিক সৌন্দর্যকে সামনে রাখছে উড ভিনিয়ার্ড ডোর। বাছাই করা কাঠের ভিনিয়ার ব্যবহারের ফলে প্রতিটি দরজায় কাঠের গ্রেইন বা শিরার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ফুটে ওঠে। এর সঙ্গে কাস্টমাইজড ডিজাইনের সুযোগ থাকায় প্রচলিত নকশার বাইরে ব্যক্তিগত পছন্দ অনুযায়ী দরজা তৈরির সুযোগও রয়েছে।
অন্যদিকে সলিড উডেন ডোরে মেহগনি ও চট্টগ্রামের সেগুন কাঠ ব্যবহার করা হয়। কাঠের প্রাকৃতিক রঙ ও টেক্সচার ধরে রাখতে বিভিন্ন ধরনের ল্যাকার ও পলিশের ব্যবস্থা রয়েছে, যা ঐতিহ্যবাহী ও আধুনিক উভয় স্থাপত্যরীতির সঙ্গেই মানানসই। বড় প্রবেশপথ বা প্রশস্ত স্থানের জন্য ডাবল ডোরও এ শ্রেণীর একটি বিকল্প।
আধুনিক ইন্টেরিয়রে এইচপিএল দরজার ব্যবহারও ক্রমে বাড়ছে। এর দুপাশে এইচপিএল সারফেস থাকায় পরিচ্ছন্ন ও অভিন্ন একটি লুক পাওয়া যায়। নকশাভেদে প্লেইন ও ডিজাইন দুই ধরনের এইচপিএল দরজাই তৈরি হয়। আর্দ্রতা, আঁচড়, দাগ ও তাপমাত্রার পরিবর্তনের মতো দৈনন্দিন ব্যবহারের বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে এসব দরজা তৈরি করা হয়।
বর্তমানে কাচ ব্যবহারের প্রবণতাও দরজার নকশায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। গ্লাস পাঞ্চড ডোরে টেম্পারড গ্লাস ব্যবহারের ফলে আলো প্রবেশের সুযোগ তৈরি হয় এবং ঘরের ভেতরে তুলনামূলক খোলামেলা অনুভূতি আসে। আর যেসব জায়গায় বায়ু চলাচল প্রয়োজন, সেখানে লুভার ডোর একটি কার্যকর বিকল্প। কাঠ ও মাইল্ড স্টিল দুই ধরনের লুভারই পাওয়া যায়। অনুভূমিক স্ল্যাটের কারণে বাতাস চলাচলের পাশাপাশি কিছুটা গোপনীয়তাও বজায় থাকে এ ধরনের দরজায়। সাধারণত স্টোররুম, বাথরুম, ক্লোজেট বা লন্ড্রি এরিয়ার মতো স্থানে এ ধরনের দরজা ব্যবহার হয়।
একটি দরজার স্থায়িত্ব ও সঠিক কার্যকারিতা এর কাঠামোর পাশাপাশি ফ্রেম বা চৌকাঠের ওপরও সমানভাবে নির্ভর করে। আকিজ ডোর ফ্রেমে ব্যবহৃত রাসায়নিকভাবে প্রক্রিয়াজাত সলিড কাঠ উইপোকা ও অন্যান্য ক্ষতিকর পোকার আক্রমণ থেকে দীর্ঘস্থায়ী সুরক্ষা দিতে সহায়তা করে।
স্মার্ট সিটি মানে কেবল বড় বড় অবকাঠামো নয়, বরং প্রতিটি আবাসনের স্থায়িত্ব, প্রাকৃতিক সম্পদের সঠিক ব্যবহার ও নান্দনিকতার সমন্বয়। আকিজ ডোর তাদের আন্তর্জাতিক মানের প্রযুক্তি, দীর্ঘস্থায়ী কাঁচামাল এবং পরিবেশবান্ধব ভাবনার মাধ্যমে নির্মাণ খাতের অপচয় কমিয়ে আনছে।









