বর্তমান দ্রুত পরিবর্তনশীল ডিজিটাল যুগে ব্যাংক খাত প্রযুক্তিগত রূপান্তরের অগ্রভাগে অবস্থান করছে, যেখানে অনলাইন ও মোবাইল ব্যাংকিং, অটোমেশন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-নির্ভর সেবাগুলো ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। এ পরিবর্তনের ফলে ব্যাংক খাতে ডিজিটাল নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ কৌশলগত অগ্রাধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে ঢাকা ব্যাংক পিএলসি গ্রাহকের আস্থা এবং তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। আমাদের প্রায় ১৫ লক্ষাধিক গ্রাহক রয়েছেন, যাদের অধিকাংশই কোনো না কোনোভাবে ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ করছেন। তারা ঢাকা ব্যাংক গো প্লাস মোবাইল অ্যাপ, ইন্টারনেট ব্যাংকিং, ন্যানো-ডিপিএস, সি-সলিউশন, বিলস টু ক্যাশ, ইজেডওয়াই ব্যাংকিং, টিউশন পে, সেলফ-ব্যাংকিং, ই-ঋণ (eRin), বাংলা কিউআর এবং কার্ড সার্ভিসের মাধ্যমে প্রতিদিনের লেনদেন সম্পন্ন করছেন। এসব লেনদেন দ্রুত, সহজ ও নিরাপদভাবে হচ্ছে। গ্রাহকসেবার ধারাবাহিক উন্নয়নের অংশ হিসেবে ব্যাংক সম্প্রতি চালু করেছে ‘এআই-ড্রাইভেন ই-ঋণ ডিভাইস ফাইন্যান্সিং সার্ভিস’, যা তরুণ প্রজন্ম এবং প্রযুক্তিনির্ভর গ্রাহকদের ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি আরো ত্বরান্বিত করবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।
ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের বিস্তার ও জটিলতার সঙ্গে সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তার হুমকিও দিন দিন বেড়ে চলেছে। এ হুমকি শুধু আর্থিক সম্পদ নয়, বরং গ্রাহকের আস্থা এবং ব্যক্তিগত তথ্যকেও ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে। ফিশিং, রÅvনসমওয়্যার, ডাটা ব্রিচ ও সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো সাইবার হামলা ব্যাংকিং কার্যক্রমে বড় ধরনের হুমকি সৃষ্টি করছে। ফলে তথ্যের গোপনীয়তা, অখণ্ডতা এবং প্রাপ্যতা—এই তিনটি মৌলিক নীতির গুরুত্ব অত্যন্ত সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এ প্রেক্ষাপটে ঢাকা ব্যাংক দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে ডিজিটাল নিরাপত্তা শুধু প্রযুক্তিগত বিষয় নয়, এটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি স্তরের সম্মিলিত দায়িত্ব। গ্রাহকের তথ্য সুরক্ষা এবং নিরাপদ ডিজিটাল লেনদেন নিশ্চিত করতে ব্যাংক নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ব্যাংক নিয়মিত সিস্টেম আপগ্রেডেশন, বহুস্তরীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের আইসিটি নিরাপত্তা নির্দেশিকা কঠোরভাবে অনুসরণ করে আসছে।
ডিজিটাল স্থিতিস্থাপকতা আরো শক্তিশালী করতে ঢাকা ব্যাংক পিএলসি গ্রহণ করেছে জিরো ট্রাস্ট সিকিউরিটি মডেল এবং ডিফেন্স ইন-ডেপথ স্ট্র্যাটেজি। যেখানে উন্নত নেক্সট জেনারেশন ফায়ারওয়াল, আইপিএস, আইডিএস, ইন্টারনেট সিকিউরিটি গেটওয়ে ও নেটওয়ার্ক সেগমেন্টেশনের মাধ্যমে একটি সুরক্ষিত নেটওয়ার্ক অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। গ্রাহকের তথ্য ও অ্যাপ্লিকেশনের নিরাপত্তার স্বার্থে ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন ফায়ারওয়াল এবং ডাটাবেজ ফায়ারওয়াল স্থাপন করা হয়েছে। এটি এসকিউএল ইনজেকশন, ক্রস-সাইট স্ক্রিপটিং ও ডিস্ট্রিবিউটেড ডেনিয়াল অব সার্ভিস (ডিডিওএস) অ্যাটাকের মতো সাইবার আক্রমণ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা পালন করছে। পাশাপাশি এন্ড পয়েন্ট সিকিউরিটি ও ই-মেইল সিকিউরিটি সলিউশনের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের ডিভাইস ও যোগাযোগকে নিরাপদ রাখা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাকআপ সমাধান এবং রিয়েল টাইম ডাটা রেপ্লিকেশনের (ডিসি ও ডিআর) মাধ্যমে ব্যাংক নিজের ডাটার সুরক্ষা নিশ্চিত করছে। এটি রÅvনসমওয়্যারসহ নানা ধরনের সাইবার হুমকি প্রতিরোধে সক্ষম।
এছাড়া আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন প্রতিষ্ঠান দ্বারা ব্যাংকের আইটি অবকাঠামোর ওপর নিয়মিতভাবে অডিট, দুর্বলতা মূল্যায়ন এবং পেনেট্রেশন টেস্টিং সম্পন্ন করা হচ্ছে। এসব কার্যক্রম আমাদের কাছে এখন একটি চলমান প্রক্রিয়ায় পরিণত হয়েছে। সিকিউরিটি অপারেশন সেন্টার (এসওসি) দ্বারা নিরবচ্ছিন্ন রিয়েলটাইম থ্রেট মনিটরিং ব্যবস্থার মাধ্যমে ঢাকা ব্যাংক তার সিস্টেম, অ্যাপ্লিকেশন ও নেটওয়ার্কের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নিয়মিত সাইবার নিরাপত্তা সচেতনতা ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনা করা হচ্ছে। একইভাবে গ্রাহকদেরও বিভিন্ন মাধ্যমে প্রতিনিয়ত সাইবার নিরাপত্তা সচেতনতা ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব কার্যক্রম সাইবার ঝুঁকি কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।
নিরবচ্ছিন্ন ও নির্ভরযোগ্য আইটি সেবা এবং সুদৃঢ় সাইবার নিরাপত্তা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ঢাকা ব্যাংক এরই মধ্যে সফলভাবে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন একাধিক সার্টিফিকেশন অর্জন করেছে, যার মধ্যে রয়েছে ইনফরমেশন সিকিউরিটি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (আইএসও ২৭০০১), পেমেন্ট কার্ড ইন্ডাস্ট্রি ডাটা সিকিউরিটি স্ট্যান্ডার্ড (পিসিআই-ডিএসএস), সাইবার সিকিউরিটি ফ্রেমওয়ার্ক ফর ইন্টারনেট সিকিউরিটি (আইএসও ২৭০৩২) এবং ডাটা সেন্টার সার্টিফিকেশন (টিআইএ-৯৪২)। ডিজিটাল রূপান্তরের এ ধারায় ঢাকা ব্যাংক একটি নিরাপদ, বিশ্বাসযোগ্য ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং পরিবেশ বজায় রাখার প্রতি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং গ্রাহক, অংশীদার ও স্টেকহোল্ডারদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সচেতনতা, দক্ষতা ও উদ্ভাবনের সমন্বয়ে একটি সুরক্ষিত ডিজিটাল ভবিষ্যৎ গড়ে তোলায় বদ্ধপরিকর। ব্যাংক আধুনিক প্রযুক্তি গ্রহণ ও নিত্যনতুন ডিজিটাল সেবা চালু করে গ্রাহকের জীবনকে সহজতর করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ক্রমাগত উদ্ভাবন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতির মাধ্যমে ব্যাংক ডিজিটাল অর্থনীতির অগ্রগামী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। নিরাপদ লেনদেন নিশ্চিত করতে ব্যাংক সর্বোচ্চ প্রযুক্তিগত মান বজায় রাখার পাশাপাশি গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষায় সচেতন ও প্রোঅ্যাকটিভ পদক্ষেপ নিচ্ছে। গ্রাহকের আস্থা ও সন্তুষ্টি ব্যাংকের মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এবং তাই প্রতিটি স্তরে নিরাপত্তার সর্বোচ্চ মান নিশ্চিত করতে ব্যাংক কাজ করছে। ডিজিটাল ঝুঁকি মোকাবেলায় ব্যাংক সর্বদা প্রাসঙ্গিক আইন ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা প্রটোকল মেনে চলার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো জোরদার করছে এবং গ্রাহকের তথ্য সুরক্ষায় আধুনিক সাইবার সিকিউরিটি টুলস ও কৌশল ব্যবহার করছে।










