ফলে অর্জন ও লক্ষ্যমাত্রার মাঝে ফারাকটা রয়েই গেছে। আইইইএফএর পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছর শেষে আগের অর্থবছরের মতোই বিদ্যুৎ উৎপাদনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অবদান ২ দশমিক ৩ শতাংশের মতো। অথচ বৈশ্বিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন প্রায় ৩৪ শতাংশ অবদান রাখছে। এ অবস্থায় সম্প্রতি অনুমোদন পাওয়া নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের কৌশলপত্র বাস্তবায়নে যথেষ্ট সফলতা পেলে এ খাতে আমূল পরিবর্তন আসতে পারে।
২০৩০ সাল নাগাদ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদনে বাংলাদেশ সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে ১০ হাজার ৪৫০ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতা যোগ করার পরিকল্পনা নিয়েছে। যৌক্তিক কারণেই কৌশলপত্রে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতে দেয়া হয়েছে সর্বোচ্চ গুরুত্ব। এর আগে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের যন্ত্রাংশে আমদানি শুল্ক কমানো হয়েছে। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে ৫ শতাংশ করছাড় প্রণোদনা হিসেবে দেয়া হয়েছে। কিন্তু শর্তসাপেক্ষে শুল্ক হ্রাস করার ফলে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ বাস্তবায়ন করে সবাই এ সুবিধা পাবে না। আবার মূল্য সংযোজন কর ১৫ শতাংশ বলবৎ থাকায় ১৭ শতাংশ আমদানি শুল্ক প্রযোজ্য হবে। এতে যন্ত্রাংশের খরচ খুব বেশি কমবে না। ফলে আগামী চার বছর পাঁচ মাসে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ খাতে ৫ হাজার ৫০০ মেগাওয়াটের নতুন সক্ষমতা স্থাপন কঠিন হতে পারে।
জমির সংকুলান যেহেতু গ্রিড-স্কেল সৌরবিদ্যুতের একটি বড় প্রতিবন্ধকতা, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) আওতায় সরকারি অব্যবহৃত জমি প্রদানের উদ্যোগ এ সমস্যার সমাধান দিতে পারে।
শিল্প-কারখানাগুলো তাদের কার্বন নির্গমন হ্রাসে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের পাশাপাশি জ্বালানি দক্ষতা বাড়াতে কাজ করছে। তথাপি তাদের কার্বন নির্গমন সীমিতকরণের লক্ষ্যে পৌঁছতে হলে মার্চেন্ট পাওয়ার নীতিমালার আওতায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি ক্রয় করতে হবে। এক্ষেত্রে দ্রুততার সঙ্গে হুইলিং চার্জ ও অন্যান্য খরচ নির্ধারণ করা প্রয়োজন। বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে হলে হুইলিং চার্জ ও অন্যান্য খরচ কম রাখাটাই শ্রেয় হবে।
এ কথা অনস্বীকার্য যে বাংলাদেশ সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে তার লক্ষ্য এবং পথরেখা স্পষ্ট করেছে। তবে এখন মনোযোগ দিতে হবে বাস্তবায়ন ও অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে। আমদানি শুল্ক, মূল্য সংযোজন কর ও অন্যান্য বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশীজনদের যে শঙ্কা রয়েছে তা দূর করা প্রয়োজন।
শফিকুল আলম: ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের (আইইইএফএ) বাংলাদেশের জ্বালানি খাতবিষয়ক প্রধান বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত










