সরকারি সহযোগিতা ও জ্বালানি নিরাপত্তার রূপরেখা হতে পারে—প্রথমত, জ্বালানি তেল সংরক্ষণের সুবিধা (ফুয়েল স্টোরেজ) অবশ্যই বৃদ্ধি করতে হবে, যাতে আন্তর্জাতিক বাজারে যখন দাম কম থাকে, তখন প্রাথমিক জ্বালানি আমদানি করে মজুদ করা যায়। দ্বিতীয়ত, এ প্রক্রিয়াকে আরো গতিশীল করতে বেসরকারি কোম্পানিগুলোকে তেল ও গ্যাস আমদানির অনুমতি দেয়া উচিত। তৃতীয়ত, অভ্যন্তরীণভাবে আমাদের প্রচলিত জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এইচএফও-ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো চালাতে হবে। পাশাপাশি জোরালোভাবে গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম বাড়াতে হবে। চতুর্থত, সম্প্রতি বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রীর কথামতো বিতরণ ও সঞ্চালন খাতে বেসরকারি বিনিয়োগকে স্বাগত জানানো উচিত।
নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিদ্যমান প্রজেক্টগুলোয় নজর দেয়া উচিত। যেমন কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ প্রজেক্টে আধুনিক জেনারেটর বসিয়ে উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো।
নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি করার জন্য প্রয়োজনীয় অভ্যন্তরীণ সীমাবদ্ধতাগুলো উত্তরণে আঞ্চলিক সহযোগিতার কথা ভাবা। যেমন, সামিট গাজীপুরে ২৬ একর জমিতে ৪৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করছি কিন্তু এ একই পরিমাণ সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করতে প্রায় ১ হাজার ৫০০ একর জমির প্রয়োজন। আমাদের জমির সীমাবদ্ধতার কথা বিবেচনায় রেখে আমরা পার্শ্ববর্তী দেশগুলো থেকে জল ও সৌরবিদ্যুৎ আমদানি করতে পারি। সেই সঙ্গে আন্তঃদেশীয় বিদ্যমান বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন রয়েছে, সেটার সদ্ব্যবহার করতে পারি। নেপালের জলবিদ্যুৎ সক্ষমতা ৪২ হাজার মেগাওয়াট কিন্তু তাদের চাহিদা মাত্র চার হাজার মেগাওয়াট। অন্যদিকে ভুটানের সক্ষমতা ৩২ হাজার মেগাওয়াট হলেও চাহিদা মাত্র তিন হাজার মেগাওয়াট। সুতরাং এ দুই দেশ থেকেও জলবিদ্যুৎ আমদানি করা যেতে পারে।
পাশাপাশি উপকূলবর্তী বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্পে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনাকে বাস্তবায়ন করা উচিত।
মেজর জেনারেল (অব.) ড. মনিরুল ইসলাম আখন্দ: ব্যবস্থাপনা পরিচালক, সামিট পাওয়ার লিমিটেড (এসপিএল)










