অবকাঠামোগত উন্নয়ন, দেশব্যাপী বিদ্যুৎ সংযোগ এবং মানুষের জীবনযাপনে পরিবর্তনের ফলে প্রতিনিয়ত গৃহস্থালির কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের হোম অ্যাপ্লায়েন্স। একসময় যেটি ছিল নিতান্ত শখের পণ্য, বর্তমানে ব্যস্ত জীবনে সেটি প্রয়োজনীয় অনুষঙ্গ। ফলে প্রাত্যহিক জীবনে এসব হোম অ্যাপ্লায়েন্সের ব্যবহার দিন দিন এ শিল্পকে বিকশিত করছে। আর এ খাতে যমুনা ইলেকট্রনিকসের পণ্যের চাহিদা বাজারে সবসময়ই বেশি।
যমুনা ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড অটোমোবাইলস লিমিটেড যমুনা গ্রুপের একটি সিস্টার কনসার্ন, যার প্রতিষ্ঠাতা গ্রুপের প্রয়াত চেয়ারম্যান মো. নুরুল ইসলাম। যমুনা ফ্যান অ্যান্ড কেবলস ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড নামে ১৯৭৪ সালে ইলেকট্রনিকসের ব্যবসায় নামে যমুনা গ্রুপ। এরপর ২০১৪ সালে গাজীপুরে প্রায় ১০০ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠা করা হয় নিজস্ব কারখানা। কারখানা প্রতিষ্ঠার দেড় দশক আগে থেকেই দেশীয় বাজারে রেফ্রিজারেটর ও হোম অ্যাপ্লায়েন্স ব্যবসা পরিচালনা করছে যমুনা গ্রুপের কোম্পানিগুলো। কিন্তু ভালো মানের পণ্যের সরবরাহের ঘাটতি থেকেই প্রয়াত চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম মনে করলেন যে ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে গ্রাহকের কাছে সেরা পণ্যটি পৌঁছে দিতে হবে। সেই ইচ্ছা থেকেই যাত্রা শুরু হয় যমুনা ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড অটোমোবাইলস লিমিটেডের। বর্তমানে যমুনা ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড অটোমোবাইলস লিমিটেড (জেইএএল) বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম ইলেকট্রনিক পণ্য প্রস্তুতকারক ও খুচরা বিক্রেতা। সূচনার পর থেকেই যমুনা বিভিন্ন বৈদ্যুতিক পণ্য যেমন রেফ্রিজারেটর, ফ্রিজার, এয়ারকন্ডিশনার, এলইডি টেলিভিশন, ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওয়েভ ওভেন, মোটরসাইকেলসহ সব আকারের গৃহস্থালি ও রান্নাঘরের যন্ত্রপাতি তৈরি করছে।
২০১৪ সালে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় প্রায় ১০০ একর জমির বিশাল এলাকাজুড়ে যমুনা ইলেকট্রনিকসের কারখানা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার, চমৎকার প্রযুক্তি, দক্ষ জনশক্তি, কাঁচামালের নির্ভরযোগ্য উৎস এবং ক্রমাগত গবেষণা ও উন্নয়নের মাধ্যমে এ কারখানায় উচ্চ মানের পণ্য উৎপাদন করা হয়। যমুনা ইলেকট্রনিকস তার গুণমান ও স্থায়িত্বের জন্য পরিচিত।
যমুনা ইলেকট্রনিকসের কারখানায় উৎপাদন প্রক্রিয়ায় যে কাঁচামাল, স্মার্ট উদ্ভাবনী আইডিয়া ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয় তা বাংলাদেশে অনন্য। এ কারখানার সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রায় দুই হাজার মানুষ জড়িত। কারখানাটি একগুচ্ছ দক্ষ প্রকৌশলী, টেকনিশিয়ান ও শ্রমিকদের দ্বারা পরিচালিত হয়, যাদের কেউ কেউ বিশেষ করে প্রকৌশলীরা বিদেশ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে এসেছেন। নিজেদের কর্মীদের কাজের ক্ষেত্রে সুস্থ ও কর্মবান্ধব পরিবেশ প্রদানের লক্ষ্যে যমুনা নিয়মিত প্রশিক্ষণ আয়োজন, টিম বিল্ডিং সেশন আয়োজন, উৎসাহমূলক সেশন এবং আনুষঙ্গিক ভাতাসহ ভালো বেতন প্রদান করে আসছে। যমুনা ইলেকট্রনিকসের গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগে (আরঅ্যান্ডডি) দক্ষ প্রকৌশলীরা কাজ করছেন, যারা ছোট আকারের আলাদা উৎপাদন ব্যবস্থাসহ একটি বিশ্বমানের ল্যাব তৈরি করে তাতে নতুন উদ্ভাবন ও পণ্যের উন্নতি নিয়ে গবেষণা করেন। কারখানার আধুনিক নির্মাণশৈলীর সবচেয়ে জনপ্রিয় উদাহরণ যমুনার এয়ারকন্ডিশনার পণ্য।
বর্তমান বাজারে প্রায় তিন শতাধিক বাহারি রং ও ডিজাইনের ফ্রিজ সরবরাহ করছে যমুনা। কোম্পানিটির উৎপাদন যাত্রা ফ্রিজ দিয়ে শুরু হলেও পরে তাদের নির্মিত এসি বাজারে যথেষ্ট জনপ্রিয়তা পায়। কিছু পণ্য বিদেশ থেকে দেশে এনে অ্যাসেম্বল করলেও ফ্রিজ, রেফ্রিজারেটর, এসি, গ্যাস স্টোভ, রাইসকুকারের মতো অনেক পণ্য শতভাগ নিজেদের কারখানায় উৎপাদন করছে যমুনা।
উৎপাদনের পর পণ্য গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দেয়ার জন্য যমুনার রয়েছে নিজস্ব বিক্রয় ও বিপণন টিম। গ্রাহকদের তাৎক্ষণিক মানসম্পন্ন সেবা প্রদানের জন্য সারা দেশে যমুনার বিক্রয়-পরবর্তী সেবা ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। এছাড়া দেশজুড়ে\যমুনার ১৫০টিরও বেশি প্লাজা আউটলেট এবং সাড়ে চারশর বেশি ডিলার আউটলেট রয়েছে।
যমুনা ইলেকট্রনিকস প্রতিবেশী দেশ ভারত, নেপাল, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে ইলেকট্রনিক পণ্য রফতানি করছে। আগামীতে আফ্রিকার বাজার ধরারও লক্ষ্য আছে কোম্পানিটির। নিত্যনতুন চাহিদা ও ক্রেতা সন্তুষ্টির কথা মাথায় রেখে যমুনা ইলেকট্রনিকস অবিরত কাজ করছে।





