দেশের আসবাবপত্র ও দৈনন্দিন জীবনের সহযোগী পণ্যের বাজারে আকিজ পার্টিকেল বোর্ড মিলস লিমিটেড (এপিবিএমএল) যাত্রা করে ২০০১ সালে। মানিকগঞ্জে প্রথম কারখানা স্থাপনের পর সে বছর তাদের প্রথম ব্র্যান্ড ‘আকিজ বোর্ড’ বাজারে আসে, যা বাংলাদেশে বোর্ড উৎপাদনের একটি নতুন যুগের সূচনা করে। উন্নত বিশ্বে সাধারণত পার্টিকেল বোর্ড কারখানা অটোমেশনের মাধ্যমে পরিচালিত হয়, যেখানে সম্পূর্ণ বোর্ড শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একটি বিশাল মেশিনের মাধ্যমে কন্টিনিউয়াস রোল পদ্ধতিতে তৈরি হয়। দেশে অত্যাধুনিক এ প্রযুক্তি নিয়ে শুরু থেকেই কাজ করছে আকিজ বশির গ্রুপ। পাশাপাশি শতভাগ বাংলাদেশী কর্মী ও প্রকৌশলীদের দিয়ে কারখানা ও ব্যবসা পরিচালনার লক্ষ্য নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে তারা।
পণ্যের মানোন্নয়নে কারখানার যন্ত্রপাতি আপগ্রেড ও নতুন কারখানা স্থাপনের জন্য ২০১৫ সালে ব্যাংক থেকে ৪৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঋণ নিয়েছিল এপিবিএমএল। পরবর্তী সময়ে ২০১৭ সালে পার্টিকেল বোর্ড কারখানার দ্বিতীয় ইউনিটটি চালু করা হয় ময়মনসিংহের ত্রিশালে। এটি দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় বোর্ড কারখানা, যা তৈরিতে খরচ হয়েছে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা। কারখানাটিতে বিশ্বের সর্বাধুনিক সিম্পলক্যাম্প-অষ্টম জেনারেশনের প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে। বোর্ড তৈরির জন্য অনুসরণ করা হচ্ছে প্রেসিং পদ্ধতির বদলে অত্যাধুনিক কন্টিনিউয়াস রোল পদ্ধতি। এখানে প্রতিদিন ১০০০ মিটার কিউব পার্টিকেল বোর্ড এবং ৫০০ মিটার কিউব এমডিএফ বোর্ড উৎপাদন করা হয়। এর পাশাপাশি তৈরি হচ্ছে প্লাইউড।
কারখানায় উৎপাদিত বোর্ডগুলোর মাঝে যথেষ্ট বৈচিত্র্য রয়েছে। বিভিন্ন গুণ ও ডিজাইনসম্পন্ন বোর্ডের পাশাপাশি বেয়ার বোর্ড বা প্লেইন পার্টিকেল বোর্ডও উৎপাদন এবং বিপণন করে আকিজ বশির, যা পরবর্তী সময়ে ব্যবহৃত হয় বিভিন্ন ছোট-বড় আসবাব তৈরির ওয়ার্কশপে। আকিজের কারখানায় আরো তৈরি হয় মেলামাইন ফেস বোর্ড ও ২০২৩ সালে বাজারে পরিচিত হওয়া তাদের সবচেয়ে নতুন পণ্য এমডিএফ বোর্ড (মিডিয়াম ডেনসিটি ফাইবার বোর্ড)। এমডিএফ তৈরি হচ্ছে সিম্পলক্যাম্প প্রযুক্তির একটি ভ্যারিয়েশনে, যেখানে সম্পূর্ণ বোর্ড একটানা কোনো গ্যাপ, প্রেসিং বা কাটছাঁট ছাড়াই মেশিনের মধ্যে তৈরি করা সম্ভব যেকোনো আকারে। আকিজের এমডিএফ ই ২ গ্রেডের ইঞ্জিনিয়ারড কাঠ। এর উৎপাদন প্রক্রিয়ায় জার্মানির অত্যাধুনিক সিম্পেলক্যাম্প প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়, যা মসৃণ তল, নির্ভেজাল কাঠামো এবং দীর্ঘস্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। এ বোর্ড উৎপাদনে প্রসেসড কোরবিশিষ্ট শক্ত কাঠ ব্যবহার করা হয়, যা গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলের শক্ত কাঠের বিকল্প হিসেবে ব্যবহারযোগ্য। অভিন্ন ঘনত্ববিশিষ্ট ফাইবার ও মসৃণতার জন্য এ বোর্ড যেকোনো ধরনের সিএনসি ডিজাইনিংয়ে ব্যবহার উপযোগী। আকিজ বশিরের কারখানায় বর্তমানে এমডিএফ বোর্ড উৎপাদন সক্ষমতা দেশের সর্বোচ্চ।
এমডিএফ বোর্ডকে মেলামাইন বোর্ড বা ইউভি বা হাইগ্লাস বোর্ড হিসেবেও তৈরি করা সম্ভব। ইউভি বোর্ড মূলত উচ্চ তাপ ও আলো সহনশীল বোর্ড, যা রান্নাঘরে ব্যবহারের জন্য তৈরি। দেশীয় ডিজাইনাররা রান্নাঘরে অনেক ধরনের বোর্ড ব্যবহার করেন, যার মাঝে এইচপিএল বা অ্যাক্রেলিক বোর্ডের কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। একটা নির্দিষ্ট সময় পর এইচপিএল বা অ্যাক্রেলিক বোর্ডের শিট উঠে যায় বা অতি ব্যবহারের ফলে হলদে ভাব চলে আসে। ইউভি বা হাইগ্লাস বোর্ডে এ সমস্যা থাকে না। ফলে আজকাল রুচিশীল ভোক্তারা ইউভি বোর্ডের প্রতি বেশি আগ্রহী হচ্ছেন। তবে আকিজ বশির অ্যাক্রেলিক, হাইগ্লাস ও এইচপিএল—এ তিন ধরনের বোর্ডই উৎপাদন করে এবং গ্রাহক তার প্রয়োজনমতো যেকোনো ধরনের বোর্ডই বাজারে অ্যাভেইলেবল পাবেন।
পার্টিকেল বোর্ড শুরুর সময় থেকেই আধুনিক জীবনযাপনের আরেকটি অন্যতম অনুষঙ্গ দরজা নিয়ে কাজ করছিল আকিজ বশির গ্রুপ। যার ফলে প্রায় একই সময় যাত্রা করে ‘আকিজ ডোর’, যা মূলত আকিজ পার্টিকেল বোর্ড মিলস লিমিটেডের (এপিবিএমএল) অধীন একটি দরজা ব্র্যান্ড। ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে কোম্পানিটি ধারাবাহিকভাবে শীর্ষস্থানীয় সরবরাহকারীদের একজন হিসেবে দেশজুড়ে দরজা সরবরাহ করে আসছে। আকিজ ডোরের বিভিন্ন দরজার মাঝে রয়েছে কাঠের ভেনিয়ার্ড দরজা (প্লেইন ও ডিজাইনসম্পন্ন উভয়ই), পিইউ লেকারের দরজা, এইচপিএল দরজা, গ্লাস পাঞ্চড দরজা, কাঠের দরজা, লুভার প্যানেল সম্পন্ন কাঠের দরজা, ল্যাকারড দরজা, দরজার ফ্রেম এবং আরো অনেকগুলো পণ্য। আকিজ ডোরের পণ্য তৈরিতে ইউরোপ থেকে আমদানি করা সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয়, যা ভোক্তা, স্থপতি এবং বাড়ির মালিকদের রুচিশীল চাহিদার জন্য সর্বোত্তম ডিজাইন ও মানসম্পন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করে।
পণ্যের বৈচিত্র্যের ওপর নিরলসভাবে ফোকাস করে বাস্তবতা ও কল্পনার বুনটে তাদের প্রতিটি বোর্ড তৈরি করছে আকিজ বশির। ভবিষ্যৎ বর্তমানের সঙ্গে কীভাবে জড়িত এবং আজকের উদ্ভাবন আগামীর বিশ্বকে কীভাবে সাজিয়ে তোলে তা দেখানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে আকিজ পার্টিকেল বোর্ড প্রতিনিয়ত।





